রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেছেন, তার ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের রায় কার্যকর হলে তার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই রায় ঘোষণার পর তিনি এ কথা বলেন।
রায়ের পর আবু সাঈদের বড়ভাই আবু রায়হানও বলেন, ভাইকে হত্যায় যারা জড়িত তাদের সবাইকে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে—তবেই হত্যার ন্যায় বিচার সম্পূর্ণ হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন; এছাড়া অন্য Several আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদকালের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন।
রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডলকে প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের জয়েন্ট চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী; সঙ্গে ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই হত্যার একটি ভিডিও দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে—ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ সড়কের ওপর দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পুলিশের হাতে তার বুকে একের পর এক গুলি করা হচ্ছে। ওই ঘটনাটি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত আগস্টের শুরুয়ে সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে।
