দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলা সম্পর্কিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আবারো তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত দ্রুততরভাবে ও সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য এখনও অভিযুক্তের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় এবং ৩১ মার্চ আরও ছয় দিন রিমান্ড বাড়ানো হয়েছিল। দুই দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন পুনরায় চার দিনের রিমান্ড চান। আবেদনে বলা হয়, মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই ও তদন্তের কাজে সহায়ক হবে। সেই কারণে আবারও রিমান্ডের প্রয়োজন থাকায় আবেদন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও জামাল উদ্দিন মারজিন রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামির আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম পাখি রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদন মেনেই তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র ও জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় ৫০০-৭০০ আ’লীগ নেতাকর্মী হামলা করে। অভিযোগ স্বরূপ, শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন দেলোয়ার হোসেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সেই মামলার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। আদালতের এই রিমান্ড সিদ্ধান্তের ফলে তদন্ত কর্মকর্তারা সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে পারবেন বলেই জানানো হয়েছে।
