দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এবং অন্যান্য ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত এবং নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক অবিরত তদারকি আরও জোরদার করছে। এর অংশ হিসেবে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষার অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সার্কুলারে বলা হয়, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে এবং তা নিরীক্ষা বছরের শেষের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। একই নিয়মে ২০২৫ সালের জন্য ও পরবর্তী বছরগুলোর প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
এছাড়াও, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানের উন্নত করতে সুপারভিশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চালু হয়েছে ঝুঁকির ভিত্তিতে নজরদারি বা রিস্ক বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস)। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকের মধ্যে ঝুঁকি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা বা অনিয়ম অপ্রত্যাশিত ভাবে ঘটার আগে চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।
বিশেষ করে, এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি, ঋণের ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাড়বে।
