প্রতারণার মামলায় জামিন বাতিল: গায়ক নোবেল কারাগারে

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টাসহ প্রতারণা করে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ‘সা রে গা মা পা’ অনুষ্ঠানুণ্ড গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল হয়েছে। আদালত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে এই নির্দেশ দেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। আদালত জানান, বাদীর পক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) এর মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করেছেন যে, আসামি নোবেল বিয়ের শর্তে বিচ্ছিন্নভাবে জামিনে থাকা অবস্থায় অনেক শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তিনি বলেন, আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও বিয়ে করেননি এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ফেরত দেননি। তাই তিনি তার জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত আপসের শর্তে নোবেলকে জামিনের আদেশ দিয়েছিলেন।

এর আগে, ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাক থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে, মামলার ধার্য তারিখ ২ এপ্রিল পর্যন্ত তার জামিন থাকেন।

গত বছরের ১৩ আগস্ট, নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রীর নাম ইসরাত জাহান প্রিয়া, তার কাছের ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে আননানিয়া শবনম রোজ (অনন্যা) একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে, গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর, ২ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

অভিযোগে বলা হয়, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ অগস্ট থেকে ওই বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে তার কাছ থেকে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া, তাকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। এতে অপর আসামিরা সহযোগিতা করেন।