ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একের পরে এক সংঘর্ষে পুরো এলাকা এখনও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে, এতে পুলিশসহ কমপক্ষে শতাধিক লোক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ও পুলিশ কর্মকর্তারা।
বিস্তারিত জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষে দুটি পক্ষ—একদিকে মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের লোকজন—যুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিরোধের জেরেই মূলত এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।
প্রথম দফায় শুক্রবার সন্ধ্যার পর এই এলাকার তিন যুবককে আখের রস খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এর জের ধরে প্রথম দফার দাঙ্গা দুই ঘণ্টা চালার পর রাত্রিযাপন করে অবসর নেন উভয়পক্ষ। কিন্তু সকালে সঙ্গবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। যারা এই সংঘর্ষের সময় বিল্ডিংয়ের ছাদে, বাসা বাড়ির ছাদে, দোকানের ছাদে, টিনের চালসহ বিভিন্ন আড়ালে থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক সমর্থক আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই অস্থিতিশীল যে, পুলিশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এভাবেই চলতে থাকলে বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। তারা দাঙ্গা থামানোর জন্য দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, ‘শুক্রবার এক দফা সংঘর্ষের পর আজ ভোরে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। আপাতত কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখনো অনেক আহত হয়েছে যারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’ তিনি আরো জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন মশিউর রহমান নামে একজন পুলিশ কনস্টেবলও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি যতক্ষণ না সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে, তখনই হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।
