জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট সংবিধানের চেয়েও উর্ধ্বে অবস্থান করছে। তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দলীয় একটি সমাবেশে এই দাবি জানান তিনি। সমাবেশে তিনি ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলগুলোকেও কড়া আক্রমণ করেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রতি অসততা দেখিয়েছে। অনেকে বলছে সংবিধানে গণভোট নেই—তবে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রথম গণভোট কারা করেছেন? তখন কি তা সংবিধানে ছিল?’’ তার পরিচিতি অনুযায়ী, জনগণের সরাসরি রায়কেই তিনি সংবিধানের চেয়েও বেশি মর্যাদাপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেকেই পেছনে ভেতরে গণভোট নিয়ে অনর্থক ছিলেন, কিন্তু প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বলে প্রতিফলিত হয়েছেন। সংসদে তারা যেন ‘‘জান্নাতের টিকিট’’ দাবি করে দেখবে—এমন সরল রূপরেখায় তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন মিডিয়ায় যারা ‘‘জান্নাতের টিকিট’’ বিক্রি করছে, তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
গণভোটের ফল কার্যকরে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, জনগণের রায়কে ত্যাগ করাই ফ্যাসিবাদের সূচনা। তিনি আশ্বস্ত করেন, গত জুলাইয়ের মতো আন্দোলন আবারো হবে এবং জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের লড়াই চলবে।
তিনি সবাইকে জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামার ডাক দেন এবং জানান, আগামীকাল ঢাকায় তাদের প্রথম আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।
ডা. শফিকুরের ভাষণে ছিল নির্বাচনী ন্যায়বিচার, জনগণের সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দেওয়া এবং সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অঙ্গীকার—এসব বার্তাই সমাবেশে প্রধানভাবে উচ্চারিত হয়।
