সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছালো ১২৫ বার

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে গিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই দিনটি ছিল নির্ধারিত ছিল, তবে বিচারক যথাসময়ে তদন্তকারীর অনুসন্ধান প্রতিবেদন না পেয়ে নতুন তারিখ ৭ মে নির্ধারণ করেন। এভাবে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৫ বার পেছানো হয়েছে। 

সাগর-রুনি হত্যা মামলা দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) তদন্তাধীন ছিল। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তের জন্য এক টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাই কোোর্ট। বর্তমানে মামলার তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পিবিআই কাজ করছে। 

উল্লেখ্য, এই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে থাকলেও অন্যরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। 

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিকদম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। আগের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত দায়িত্ব ছিল শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তার ওপর, পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তের ভার দেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। দুই মাস পরে হাইকোর্টের আদেশে, মামলার তদন্তের কাজটি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর অর্পিত হয়।