মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ওই প্রস্তাব আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করা হবে বলে সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন যে কোনো সময় জারি করতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী সপ্তাহে মোট ছয় দিন ক্লাস হবে। এর মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ভিত্তিকভাবে সরাসরি উপস্থিত থেকে ক্লাস করবে এবং বাকি তিন দিন অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান চালানো হবে। অনলাইন দিন নির্ধারণে জোড়–বিজোড় তারিখ বা রোল নম্বরভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে উপস্থিতি ও শ্রেণি পরিচালনা সুশৃঙ্খলভাবে করা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট করেছে যে অনলাইন ক্লাসের দিনেও শিক্ষকরা সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠান থেকেই ক্লাস পরিচালনা করবেন। বিজ্ঞানসহ ব্যবহারিক বিষয়ের ল্যাবের কক্ষগুলোর ক্লাস অবশ্যই অফলাইনে ল্যাবে সম্পন্ন করতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ ছুটির ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়া ও পাঠদানের গতি ধরে রাখতেই সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাসের এই পরিকল্পনা। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রেক্ষাপটে প্রতিদিন যাতায়াত কমাতে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। আপাতত এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার কথা বলা হয়েছে।
গত রোববার — রমজান, ঈদ ও বিশেষ ছুটির পরে প্রায়৪০ দিন পর— বিদ্যালয়-কলেজ খুললেও উপস্থিতি প্রথম দিন আশঙ্কাজনকভাবে কম দেখা যায়; বিশেষ করে ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরা অঞ্চলের স্কুল-কলেজগুলোতে উপস্থিতি আরও কম ছিল। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা খাতুন বলেন, জ্বালানি সংকটে অনেক অভিভাবক গাড়ি ব্যবহার করতে না পারায় আগেই স্কুলকে ছুটির কথা জানায়েছেন।
ঈদের পর খুলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তিনধরনের বিকল্প পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেছিল: একেবারে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ক্লাস, সরাসরি ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমে হাইব্রিড পদ্ধতি, এবং দিন ভাগ করে সমন্বিত রুটিনে ক্লাস নেওয়া। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম হান্নান জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাইব্রিড পদ্ধতিতে শিক্ষাক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষামূলক এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে তার বাস্তবচিত্র, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং শিক্ষাদানের মান পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
