চলতি মার্চ মাসে মাত্র ২৮ দিনে দেশে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার জানান, ওই সময়েই দেশে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স—একই মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এই মাত্রা।
এর আগে মার্চেই সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এবারের এই প্রবেশকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকারদের ধারণা, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই প্রবাসী আয় বাড়ে; তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনেকে নিরাপত্তা আবহে তাদের সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা এবার পর্যন্ত দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স—এটিও কোনো একটি অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা প্রবাসী আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতি চললে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংঘাত দ্রুত শেষ হলে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সীমিত রাখা যেতে পারে; কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য একটি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যই বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় এই অঞ্চলের কোনো সংকট সরাসরি কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নীতি নির্মাতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
