৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। গত রোববার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে পুরস্কার প্রদানের সময়ে তিনি মাইক ধরে বলেন, “যুদ্ধকে না বলুন, ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন” — এবং এই শব্দগুলো বলে দারুণভাবে উপস্থিত অতিথিদের করতালি কুড়ান। মঞ্চে তার পাশে ছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগের পুরস্কার ঘোষণা করার জন্য মঞ্চে ওঠেন বারদেম ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। বারদেমের জামার ওপর ‘No to War’ (যুদ্ধ নয়) লেখা একটি পিন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল; পুরস্কার ঘোষণার আগে তিনি ইংরেজি ও স্প্যানিশ মিশিয়ে সংক্ষিপ্ত ওই বক্তব্যটি দেন। তার বক্তৃতার পর উপস্থিত আমন্ত্রিতরা হাততালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান, এরপরই সেই বিভাগের বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হয় নরওয়ের চলচ্চিত্র ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’।
মঞ্চে ওঠার অনেক আগে থেকেই বারদেম রেড কার্পেটে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি বিশেষ প্যাচ-ওয়ালা পোশাকে পোজ দিয়েছিলেন, যা আরেকবার তাঁর বার্তা নিশ্চিত করে—সে যে কেবল চলচ্চিত্রই নয়, মানবিক বিষয়েও তাঁর শক্ত অবস্থান। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক কোনান ও’ব্রায়েন উদ্বোধনী বক্তব্যে বর্তমান পৃথিবীর অস্থিরতা, শৈল্পিক সংহতি ও আশার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সিনেমা কেবল বিনোদন নয়, এটি বিশ্বজুড়ে শৈল্পিক ঐক্যের ও ভবিষ্যতের প্রতি আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এবারের আসরে মোট ৩১টি দেশের চলচ্চিত্র অংশগ্রহণ করে।
ক্রীড়া ও বিনোদন তৈরির পাশাপাশি এবারের অস্কারে বেশ কিছু বড় চলচ্চিত্রও প্রশংসা কুড়িয়েছে। পল থমাস অ্যান্ডারসন পরিচালিত ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ এই আসরে সর্বোচ্চ ছয়টি বিভাগে জয়ী হয় এবং সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালকের মতো প্রধান পুরস্কারগুলোতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’ চারটি, আর গিয়ের্মো দেল তোরোর ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ তিনটি বিভাগে অস্কার জিতেছে। সেরা অভিনেতার সম্মান জিতেছেন মাইকেল বি. জর্ডান এবং সেরা অভিনেত্রী ছিলেন জেসি বাকলি।
রাতে দেখা এই দৃশ্য—বড় পর্দার তারকারা যখন বিশ্বব্যাপী সংকট ও মানবিকতায় কণ্ঠ মিলান—তাতে স্পষ্ট যে পুরস্কার অনুষ্ঠানগুলো কেবল প্রতিযোগিতা নয়, কখনও কখনও তা সামাজিক বার্তা পৌঁছানোর মঞ্চও হয়ে ওঠে।
