খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রেরিত “ডিমান্ড ফর জাস্টিস” শীর্ষক নোটিশের প্রেক্ষিতে কেসিসি এই সভার আয়োজন করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেলা ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক (প্রায় ৭৫ টন) এবং ১০ শতাংশ ই-বর্জ্য (প্রায় ৫০ টন) রয়েছে। এছাড়া বলা হয় এই হার বছরে ২০–৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই-বর্জ্য মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের কারণ হয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ই-বর্জ্য পৃথক করে সংগ্রহের ব্যাপারে জনগণকে জানানো হবে, ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রচারপত্র বিতরণ ও বিলবোর্ডে প্রদর্শনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হবে, কেসিসি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে প্রচারে যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হবে এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাস, প্রতিটি পণ্যের সম্ভাব্য আয়ু বাড়ানো ও মেরামত-রিপেয়ার উৎসাহিত করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং-এর সুযোগ রাখা হলে সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলে সুপারিশ করা হয়।

সভায় বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মহানগরকে ঝুঁকিমুক্ত, সবুজ ও সুস্থ শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এর প্রথম ধাপ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ; বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল অংশধারীকে পরিকল্পনার আওতায় এনে কাজ শুরু করতে হবে, তিনি বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ মুজিবুর রহমান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি’র পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান ড্রেন ব্যবহারের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি নগর সম্প্রসারণ, ময়ূর নদ সংস্কার, রিভারসাইড সড়ক নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পূর্ত বিভাগের সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, সিসিএইউডি প্রকল্পের টিম লিডার ক্যামেরুন ল।, মেহেদী হাসানসহ সহযোগী প্রকৌশলী ও সহকারীরা।