খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশনা জারি

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ সম্পর্কিত বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করার লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মেডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশনা জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার এই নির্দেশনা সংবলিত একটি সার্কুলার প্রকাশ করে বলেছে, আদালতে মামলা দায়েরের আগেই ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট খেলাপি ঋণের কমপক্ষে এক শতাংশ পরিমাণ নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতি ও তারল্য উন্নয়নে চলতি অর্থবছরের শেষ দিন হিসাবে এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই এক শতাংশ আদায়ের লক্ষ্যকে জাতীয় পর্যায়ের ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনা ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার-১১-এর ধারাবাহিকতাই বজায় রাখলেও এবার আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। এডিআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে মধ্যস্থতাকারীদের নির্বাচন করতে হবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী গঠিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের প্যানেল থেকে।

সামর্থ্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ প্যানেল নিশ্চিত করতে এমন প্যানেলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য দশটি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সম্পর্কিত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, খেলাপি না থাকা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা।

নতুন নিয়মে ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সময় কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহকদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করে তাদের সচেতন করতেও ব্যাংকগুলিকে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বদলে দ্রুত ও কার্যকর বিকল্প কৌশল গড়ে তোলা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ উদ্যোগ চালুর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ কমবে এবং খেলাপি ঋণের দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও ত্রাণশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।