বার্মুডার ঘরোয়া টি-টেন লিগ বিম-১০-এর দুর্নীতির তদন্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জাভন সিয়ার্লস, টুর্নামেন্টের একটি দলের মালিক চিত্রঞ্জন রাঠোর এবং কর্মকর্তাদের একজন ট্রেভন গ্রিফিথকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি আইসিসি ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (CWI) যৌথভাবে নিয়েছে।
সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ মরশুমে অনুষ্ঠিত বিম-১০ টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফিক্সিং এবং অন্যান্য দুর্নীতির চেষ্টা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাচ ফিক্সিং প্রস্তাব বা চেষ্টা (ধারা ২.১.১), অন্য খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে প্রলোবিত করা (ধারা ২.১.৪), জুয়াড়িদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব পাওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষকে না জানানো (ধারা ২.৪.২) এবং দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের তদন্তে বাধা বা তথ্য গোপন করা।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অভিযোগগুলো গুরুতর প্রকৃতির এবং খেলায় নীতিবোধ বজায় রাখার স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইসিসির পক্ষ থেকে ট্রেভন গ্রিফিথের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ উঠেছে যে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দুর্নীতির তথ্য গোপন করেছেন।
তিনজনকেই আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে প্রতিকারমূলক বক্তব্য বা জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই জবাব পাওয়ার পর এবং সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ হলে CWI ও আইসিসি পরবর্তী শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। তদন্তটি চলমান এবং এর অংশ হিসেবে আরও নাম যুক্ত হতে পারে বা অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
জাভন সিয়ার্লস ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে পরিচিত এক মুখ; তিনি গ্রাসফুটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলা, সিপিএলে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের সঙ্গে খেলার পাশাপাশি ২০১৮ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দলে রয়েছেন—এমন তথ্য রয়েছে।
এদিকে, একই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সাড়া ফেলেছে দুর্নীতির ঘটনায় আরেকটি বড় অভিযোগ: এ বছর জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান অ্যারন জোন্সকে নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ক্রিকেট অঙ্গনে সততা ও নিয়মকানুন রক্ষা করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
CWI ও আইসিসি সব দলকে অনুরোধ করেছে তদন্তের সঙ্গে সহযোগিতা করতে এবং খেলায় স্বচ্ছতা রক্ষা করতে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ পরে নেওয়া হবে।
