প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেননি

প্রধানমন্ত্রী এই সপ্তাহে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি সব ধরনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় থেকে উপস্থাপিত হয় যে, বর্তমানে প্রতিলিটার ডিজেল বিক্রি করে সরকার ১৮ থেকে ২০ টাকা লোকসান কাটছে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী এতে সায় দেননি। বরং তিনি জোর দিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতেই এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। আগামী ৯ মার্চ দুটি জাহাজ থেকে ডিজেল আগমন করবে এবং আরও দুটি জাহাজ এর পরে পৌঁছবে বলে জানানো হয়। এছাড়া, হরমুজ প্রণালির অর্ধেক চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ার আশাও প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেছেন, জ্বালানি তেলের মজুতদারী প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, দেশের পর্যাপ্ত ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুত রয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

অপরদিকে, প্রথম দিনের জ্বালানি তেল রেশনিং কার্যক্রমে দেশজুড়ে ভয়াবহ যানজটের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন দুপুরের পর বন্ধ হয়ে যায়, কারণ তেলের ডিপোগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করতে সক্ষম হয়নি। শনিবার এই রেশনিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিন, গতকালও ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। তেল সংকট কমাতে আজ ডিলার, ফিলিং স্টেশন ও ডিপো থেকে সরবরাহ চালু হওয়ার কথা রয়েছে।