নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দারুণ জয়লাভের পরও সাউথ জোন পারিষদে হতাশা প্রকাশ করল না নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে। অন্যদিকে, আফিফ হোসেন ও সৌম্য সরকারের ব্যাটিং অক্ষমতার দিনে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়রা। এর ফলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে নর্থ জোন।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাউথ জোনকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে নর্থ জোন। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৩০ ওভারে ১৪৪ রানে গুটিয়ে যায় সাউথ জোনরা। জবাবে, ১৪০ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে নর্থ জোন।
এই জয়ে এখন ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালের জন্য অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে নর্থ জোন। অন্যদিকে, ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট পাওয়া সাউথ জোনের জন্য শেষ ম্যাচে ইস্ট জোনের বিপক্ষে জিততেই হবে জিততে হবে ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাউথ জোন শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। আগে কোনো রান না করে ওপেনার আনিসুল ইসলাম ফিরে যান। এরপর জাওয়াদ আবরার দলের হয়ে ১০ রানে ফিরে যান আরেক ওপেনার। ৯ রানের মধ্যে সৌম্য সরকার ও আফিফ হোসেন ধ্রুবরাও ফিরে গেলে বড়সড় চাপের মধ্যে পড়ে সাউথ জোন।
৪ উইকেট হারিয়ে ১৯ রানে ধুঁকতে থাকা দলটি শেষে মোহাম্মদ মিথুন ও নুরুল হাসান সোহান মিলিত ৫০ রানের জুটিতে ধীরস্থিরতা দেখায়। কিন্তু ব্যক্তিগত ২৪ রান করে নাহিদ রানার শিকার হলে ভেঙে যায় সেই জুটি।
সাত নম্বর সময়ে ব্যাট করতে নামা রবিউল হককে নিয়ে আবারও জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মিথুন। ২২ বলে ২৯ রান করে রবিউল ফিরে গেলে দলীয় ১২০ রানে আউট হন তিনি। এরপর আর টালেন্ডাররা আর অগ্রসর হতে পারেনি। নিজে ফিফটি পূরণ করে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন মিথুন। অন্য প্রান্তে কেউ সঙ্গ দেয়নি, ফলে ১৯ ওভার ১ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় সাউথ জোন।
নর্থ জোনের হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন এস এম মেহরব ও নাহিদ রানা। গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেটের জন্য ম্যাচের সেরা ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন নাহিদ।
জবাব দিতে নেমে দলীয় ২৮ রানে হাবিবুর রহমান সোহানের উইকেট হারায় নর্থ জোন। এরপর ৯ রানের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তও প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও লিটন কুমার দাসের মধ্যে গড়ে ওঠে ৮০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ৩৩ রান করে হৃদয় বিদায় নেন। তবে ফিফটি পূর্ণ করে দলের জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন লিটন দাস, যিনি ৬৫ বলে ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।
সাউথ জোনের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে কার্যকরি ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি ৫ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন।
