পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা নিহত!

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ চড়ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে, যার নাম ‘অপারেশন গজব-লিল হক’। এই অভিযানের ফলে আফগানিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)-এর ইউরোপ শাখা।

বৃহস্পতিবার ভোরে এক্স (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) এ সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। ওসিন্টের দাবিসা অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর হামলায় কাবুলে তালেবান সরকারের শীর্ষ এই নেতা ও তার সাথে থাকা কিছু উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে এটি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর তালেবান ক্ষমতা গ্রহণ করে। হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও নীতিনির্ধারণী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে অভিযানে নামে। এই হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন বলে আফগান পক্ষের দাবি। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে হামলা চালায়।

এদিকে, শুক্রবার ভোরে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় পাকিস্তান আবারও হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আফগান তালেবানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন। তালেবানের মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, কান্দাহার প্রদেশের দামান জেলায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বোমাবর্ষণ হয়েছে, যদিও এতে কেউ হতাহত হয়নি। সেখানে তালেবান সীমান্ত রক্ষা দলের একটি ঘাঁটি রয়েছে।

তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের সীমান্তে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং কিছু পাকিস্তানি সৈন্যকে আটক করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই হামলায় ৫০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন, তবে এই সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগান তালেবানের ২৭টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের বাহিনীর।