নড়াইলে চার খুনের ঘটনায় একপক্ষের ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১০

নড়াইলের সদরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাবাসহ চারজন খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অবশেষে এক পক্ষের বিরুদ্ধে ৬৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রিয়জনহারানোর এই ঘটনায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সে সময় পুলিশে মামলা করেন নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ। তবে অন্য পক্ষের কেউ এ ঘটনায় এখনও অভিযোগ করেনি। এই ঘটনার পর থেকে পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু সময় সংবাদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন: সদর উপজেলার শোলপুর গ্রামের অলীপ সরকার (৩৫), অচিন্ত টিকাদার (৫৫), গোবরা গ্রামের শাকিল শেখ (২৭), সিংগা গ্রামের ইউপি সদস্য মোশফিকুর রহমান ওরফে মোফাজ্জেল (৫৫), তারপুর গ্রামের সদর মোল্য (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে সূর্য শিকদার লাজুক (৩২), জসিম মোল্লা (৩৬), একই গ্রামের রনি শিকদার (২৯), বড়কুলা গ্রামের হালিম ফকির (৬০) এবং কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তুফান মোল্লা (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খয়েরুজ্জামান মোল্যা খয়ের ও খলিল শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। এর জের ধরে বহুবার পাল্টাপাল্টি হামলা সংঘটিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরির সময় ‘খয়ের’ চেয়ারম্যানের সমর্থকরা খলিল শেখের অনুসারীদের উপর হামলা চালায়, গুলি ছোড়ে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ এবং তার চাচাতো ভাই ফেরদৌস শেখ ঘটনাস্থলে খুন হন।

আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় চিকিৎসকরা নিহত খলিল শেখ, তাহাজ্জুদ শেখ ও ফেরদৌস শেখের মরদেহ ঘোষনা করেন। এরপর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মরদেহগুলো সিংগাশোলপুর বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর সাথে একই দিন একই গ্রামের অহিদুর ফকিরের মরদেহ তারাপুরে দাফন করা হয়েছে।