জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বড় রেকর্ড জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

বিশ্বাসে ভরপুর ছিল জিম্বাবুয়ের দল। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে তারা সুপার টুর্নামেন্টে উঠেছিল। আশা ছিল এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যেকার মুখোমুখি লড়াইটি হবে জমজমাট। কিন্তু দর্শকদের প্রত্যাশা ম্লান করে দিয়ে পুরো ম্যাচটি ছিল একপেশে। প্রথমে ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল একটি বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ করে, এরপর জিম্বাবুয়ে সে লক্ষ্য তাড়া করতে নামলেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ২৫৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৪৭ রানে অলআউট হয়, ফলে দুর্দান্ত ১০৭ রানের জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বড় লক্ষ্যে খেলতে শুরুতেই মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলের পঞ্চাশের আগেই তারা হারায় ৩ উইকেট। এরপর ডিওন মেয়ার্স ২৮ ও সিকান্দার রাজা ২৭ রান করে দলের পরিস্থিতি কিছুটা টানতে থাকেন। তবে অন্যপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতনের ফলে ম্যাচে ফেরানো সম্ভব হয়নি। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ২১ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহকে ১৪৭ রানে নামিয়ে দেন।

জিম্বাবুয়ে দলের ইনিংসে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স করেন গুড়াকেশ মোতি ও আকিল হোসাইন। দুজনই মোট ৭ উইকেট তুলে নেন। মোতি ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন, এবং আকিল ৩ উইকেট অর্জন করেন ২৭ রানে। একই সময়ে ম্যাথু ফোর্ড ২ উইকেট নেন ২৭ রানে, এবং জেসন হোল্ডার ১ উইকেট নেন। এ দিন গ্রুপ ওয়ানে এক ম্যাচে victory করে সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথমে এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। বল হাতে নামেন রিচার্ড এনগারাভা। তিনি প্রথম ওভারেই ক্যারিবিয়ান ওপেনার শাই হোপকে আউট করেন, বলের ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে।

এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে আসেন হেটমায়ার ও হোপ। হোপ ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হন, আর হেটমায়ার এবং পাওয়েল মিলে ১২২ রানের শক্তিশালী জুটি গড়েন। এই জুটি মাত্র ৫২ বলে গড়ায়। হেটমায়ারকে ফিরিয়ে এই জুটির বিপর্যয় ঘটান গ্রায়েম ক্রেমার। তার প্রত্যাশিত সেঞ্চুরি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ডাউন দ্য উইকেটে বল খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ব্রায়ান বেনেটের হাতে ক্যাচ দেন।

হেটমায়ার ৭ ছক্কা ও ৭ চারে ৩৪ বলে ৮৫ রান করেন। পাওয়েলও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি; ৩৫ বলে ৫৯ রানে আউট হন।

এরপর শেরফানে রাদারফোর্ড ও রোমারিও শেফার্ড দলের জন্য ইনিংস টেনেছেন। রাদারফোর্ড ১৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর জেসন হোল্ডার শেষদিকে ৪ বলে ১৩ রানে আউট হন। ম্যাথু ফোর্ড এক বলের মধ্যে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।