নড়াইলের সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো ভুক্তভোগী পরিবার কোনো মামলা করেনি। তবে পুলিশ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করেছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃত ব্যক্তিরা হলো: সদর উপজেলার সিংগা গ্রামের ইউপি সদস্য মুশফিকুর রহমান ওরফে মোফাজ্জেল (৫৫), তারপুর গ্রামের মৃত রুফল মোল্যার ছেলে সদর মোল্য-সহ (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে সূর্য শিকদার লাজুক (৩২), সবুর মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা (৩৬), একই গ্রামের আমিন শিকদারের ছেলে রনি শিকদার (২৯), বড়কুলা গ্রামের মৃত লালন ফকিরের ছেলে হালিম ফকির (৬০) এবং কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তোজাম মোল্যার ছেলে তুফান মোল্যা (৩০)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংগা উপজেলার সিংগা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়েরুজ্জামান মোল্যা খয়ের ও খলিল শেখদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে অনেকবার পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরির পর খয়ের উদ্দিনের লোকজন বড়কুলা এলাকায় খলিল শেখের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। গুলি চালিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এই হামলায় খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ ও চাচাতো ভাই ফেরদৌস শেখকে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন। পরে তাদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তারেরা আহতরা মারা গেছে বলে ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ এবং চাচাতো ভাই ফেরদৌসের মরদেহ সিংগা উপজেলা বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। একই দিন বিকেলে খয়রূদ্দিনের সহযোদ্ধা ও ইউপি সদস্য মোফাজ্জেলকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিংগা এলাকা থেকে আটক করে।
পুলিশ বলছে, এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ১৫৪ ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
