গোলপোস্ট থেকে রাজপথের সৈনিক, এখন ক্রীড়াঙ্গণের শীর্ষে: আমিনুলের অনন্য যাত্রা

সুসংবাদটি ছিল আজকের দুপুরে। বাংলাদেশি ফুটবল প্রেমীদের জন্য এক বড় সুখবর, যখন জানা গেছে যে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হককে নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় শপথ নেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। এই খবর শুনে অনেকের মনই আনন্দে ফেটে পড়েছে।

আমিনুলের পরিচয় শুধু রাজনীতিরই নয়, তিনি দেশের ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় নাম। বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে তিনি দেশ সেবা করেছেন দীর্ঘ সময়। ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। সেই সাফল্যের মুকুটে এবার যোগ হলো নতুন এক পালক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া। এখন তিনি গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী থেকে রাজপথের লড়াকু সৈনিক, দেশের ক্রীড়াঙ্গণের প্রধান দায়িত্বে আছেন।

১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। এরপর ২০১১ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ছিলেন দলে; চোট বা অন্য কোন কারণে খুব কম সময়ই একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জয়ের পাশাপাশি ২০১০ সালে এসএ গেমসের স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি, যেখানে তার জালে বল আটবার জড়ায়নি।

২০১১ সালে খেলাধুলা থেকে সরে দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আমিনুল। শুরুটা ছিল সীমিত পরিসরে, কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি গড়েন নিজস্ব পরিচয়। রাজপথের আন্দোলন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি একটি নতুন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন। রাজনীতির এই পথে হাঁটতে গিয়ে তাকে কারাদণ্ডও ভোগ করতে হয়েছে, এমনকি পুলিশি হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি মূলত ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে মনোযোগ দেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন, পিছিয়ে পড়া ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তার কাঁধে বড় দায়িত্ব। সংস্কারে ব্যাপকভাবে সচেতন ও সক্রিয় তিনি। সামনে রয়েছে কঠিন পরীক্ষা, যেখানে তাকে নিজের ক্ষমতাকে প্রমাণ করতে হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্ত থেকেই তিনি খুব স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ২৯৫টি উপজেলাতে একজন করে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ করবেন। প্রতিটি উপজেলায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট বাধ্যতামূলক করতে পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক থাকবেন। এর ফলে প্রতিটি অঞ্চলে একজন ক্রীড়া কর্মকর্তা ও অন্তত ১৫ জন ক্রীড়া শিক্ষক থাকবেন। পাশাপাশি, দেশের ক্রীড়াঙ্গণে স্বনির্ভরতা আনার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। নিজেরা প্রয়োজনীয় স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট তৈরি এবং রপ্তানি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আমিনুল বিশ্বাস করেন, ক্রীড়াঙ্গন হবে গুণগত পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম। তার এই প্রয়াস দেশের ক্রীড়াঙ্গণকে আরও সমৃদ্ধ ও সুনামের পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।