জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও একবার বৃদ্ধি করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জারি করা আদেশে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অনলাইনে দাখিল করতে অক্ষম করদাতারা কাগজে রিটার্ন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
এ আদেশে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হকের স্বাক্ষরে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ অনুযায়ী সরকারি অনুমোদনে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতাদের ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট সময় ৩১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।
আরেকটি বিশেষ আদেশে চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উল্লেখ করেছেন যে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮(৪) মোতাবেক অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কেবল বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৫ এর ক্রমিক নং-১ এ যে করদাতারা উল্লেখ আছেন তারা এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন।
ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনজনিত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে অসুবিধা হলে সংশ্লিষ্ট করদাতা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন মঞ্জুর হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত যুগ্ম কর কমিশনার অনুমোদনের ভিত্তিতে কাগজে রিটার্ন দাখিল করা যাবে।
এনবিআরের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত ৪৭ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন; এর মধ্যে ৩৪ লাখ করদাতা তাদের রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করেছেন।
আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন প্রতিবছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা। তবে এ বছর বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আগে দুই দফায় মোট দুই মাস সময় বাড়ানো হয়েছিল; এবার এটিই তৃতীয় দফা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন না দেওয়ার ফলে জরিমানা আর সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন কর রেয়াত থেকে বঞ্চিত হওয়ার শাস্তিও হতে পারে।
এনবিআর সূত্র বলছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি ও ব্যক্তিগত স্তরে কর্মচারীদের কাজের পরিমাণ বেড়েছে; তাড়াহুড়ো না করে নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে তাই অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। করদাতাদের উচিত সময়মতো রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা, অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার চেষ্টা করা এবং সমস্যা থাকলে যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা।
