খুলনায় জলবায়ু ক্ষয়-ক্ষতি নিরসনে দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাল্টি-অ্যাক্টর পার্টনারশিপ প্রকল্পের উদ্যোগে জলবায়ু সহনশীলতা ও ক্ষয়-ক্ষতি নিরসন সম্পর্কিত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা বুধবার (২৮ জানুয়ারি) খুলনার রেলিগেটস্থ অ্যাডামস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাডামস ফাউন্ডেশন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম। তিনি বলেন, উপযুক্ত অভিযোজনের কৌশল গ্রহণ করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব। উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষায় দেশি ও বিদেশি গবেষকদের সুপারিশ ও পরামর্শের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, সরকার, জনগণ ও উন্নয়ন অংশীদারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম, সহনশীল ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। উপকূল রক্ষায় বিদ্যমান বাঁধগুলোকে চলাচলের উপযোগী ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ কেন সাফল্য পাচ্ছে না, তা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে উপকূলীয় স্থানান্তরিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা উন্নয়নের সময় নগরের স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থার ক্ষতি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কর্মশালায় প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন কুয়েট ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ নূরুন্নবী মোল্লা। প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মোঃ ইয়াসিন আলী, পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ মুজিবর রহমান, এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান মোঃ রেজাউল ইসলাম, কেডিএর প্ল্যানিং অফিসার মোঃ তানভির আহমেদ এবং আইক্যাডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব হক। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাডামসের উপনির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (IDM) এর সহযোগী অধ্যাপক ড. আনজুম তাসনুভা। প্রকল্প সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান ও আইক্যাডের প্রতিনিধি মোঃ নূর ইলাহী।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল—জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ক্ষয়-ক্ষতির অর্থনৈতিক ও অঅর্থনৈতিক দিকগুলো বোঝানো, কপ-৩০ (COP-30) পরবর্তী প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা ও এর বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা জোরদার করা, মাল্টি-অ্যাক্টর পার্টনারশিপ ম্যাপ (MAP) সম্পর্কে অবহিত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে ক্ষয়-ক্ষতি নিরসনে কৌশল প্রণয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কর্মশালায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলা, কৃষিতে জলবায়ুর প্রভাব প্রতিরোধ এবং স্থানীয় নেতৃত্বাধীন অভিযোজন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটি স্থানীয় পর্যায়ে অ্যাডামস, জাতীয় পর্যায়ে আইক্যাড এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জার্মানওয়াচের সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কর্মশালায় ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিমণ্ডলী, যুব জলবায়ু কর্মী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।