ভারতে নিপাহ ছড়ায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর چند সপ্তাহ বাকি—৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত মূল আয়োজক ভারত ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় মোট ৫৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা। ভারতের আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের পাঁচটি ভেন্যু এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডির তিনটি ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ভারতের কিছু জেলায় নতুন করে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং সংবাদমাধ্যমে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পরামর্শও উঠে এসেছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজসহ একাধিক গণমাধ্যম এই উদ্বেগ তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং ওই আউটব্রেকটি সীমিত মাত্রার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এ নিয়ে এখনও কোনো অফিসিয়াল ঘোষণা দেয়নি।

বিশেষত কলকাতার কাছাকাছি বারাসাত এলাকায় জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নিপাহের একটি ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নার্স ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলা হচ্ছে। সংক্রমণ বেশিরভাগ হাসপাতাল-রিলেটেড (নোসোকোমিয়াল) ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে রিপোর্ট করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ১০০-২০০ জনেরও বেশি সম্ভাব্য কন্টাক্টকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে এবং শতাধিক নমুনা পরীক্ষায় বেশিরভাগ নেগেটিভ পাওয়া গেছে। ওই ক্লাস্টারে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু হওয়া খবর পাওয়া যায়নি, এবং জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের স্বাস্থ্য দল ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

পূর্বদিকে ২০২৫ সালে কেরালায় নিপাহের চারটি কেস রিপোর্ট হয়েছিল, যার মধ্যে দুইজন মারা গিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে এই উপকেন্দ্রটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস—প্রধান উৎস ফলের বাদুড় (ফ্রুট ব্যাট)। সাধারণভাবে সংক্রমণ ছড়ায় কাঁচা খেজুরের রস বা অন্য জৈবপদার্থ, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ কিংবা মানুষ থেকে মানুষে (বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে) সংক্রমণের মাধ্যমে। রোগীর লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) উল্লেখযোগ্য। পরীক্ষা ও চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ৪০–৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রিপোর্ট করা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা নিশ্চিত চিকিৎসা নেই; কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল ও সমর্থনমূলক চিকিৎসা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সতর্কতার একটি রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সংক্রমণ যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল, স্টাফ ও দর্শকদের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে—বায়োসিকিউরিটি বিধি জোরদারি, এয়ারপোর্ট স্ক্রিনিং বৃদ্ধি, কোয়ারেন্টিন বা ট্র্যাভেল রেস্ট্রিকশন আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ (সেমিফাইনালসহ) হওয়ার কারণে ওই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এসব নিয়ম খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকসুবিধায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আয়োজক সংস্থা ও ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, এবং ফেরত থাকা বা বাড়তি নিরাপত্তা বিধি কেমন হবে—এসবই নির্ধারণ করবে টুর্নামেন্টে কীভাবে এগোনো হবে। জনগণকে শান্ত থাকতে, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।