অবৈধভাবে সংগৃহীত সম্পদ হস্তান্তর ও গোপনের চেষ্টা করার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের বেশ কিছু সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সকলের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আবেদন করলে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ রোববার এসব নির্দেশ দেন বলে দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, আছাদুজ্জামান মিয়া, তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে — আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা এবং শ্যালক হারিচুর রহমান— এ পরিবারের নাম করে ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও ভাঙ্গায় মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।
দুদক জানায়, আয়ের উৎসের বাইরে থাকা এই সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তে তাদের কাছে তথ্য মিলেছে যে পরিবারের সদস্যরা অবৈধভাবে অর্জিত এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর করার, কিংবা গোপন বা নাশ করার চেষ্টা করছিলেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানায়, এসব কারণে তৎক্ষণাত ক্রোক করে রাখাই অনুসন্ধানের স্বার্থে জরুরি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, যদি সম্পদগুলো ক্রোক না করা হয় তবে ভবিষ্যতের বিচারে রাষ্ট্রের অনুকূলে তা বাজেয়াপ্ত করা কঠিন হবে এবং ফলে রাষ্ট্রকে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া থেকে সম্পদের অপচয় রোধ করতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
