বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার নামে পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা চলছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এই মন্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, একাত্তরে যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা এখন আবার জনগণের সামনের আসতে চাইছে। এই শক্তিগুলোর কারণে লাখো মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। ইতিহাস এই সব শক্তির সত্যতা জানে, আর নতুন করে চিনতেই প্রয়োজন নেই। এখন সময় এসেছে জনশক্তির শাসন প্রতিষ্ঠার।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে এবং টাকা দিয়ে ভোট কিনে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সৎ শাসনের কথা বলে নিজেদের মধ্যে অসৎ পথে হাঁটছে এইসব শক্তি। নির্বাচনের আগে যারা এমন অবৈধ কাজ করছে, তাদের পক্ষে সৎ শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। বিএনপিকে ভোট দিলে আবারও সেই সুযোগ ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে মানুষ ভোটাধিকার পেয়েছে যা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এই অধিকার হরণ হলে দেশের জন্য ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। সেটি রোধ করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রার্থীরা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েও প্রস্তুতি নেবেন।
তারেক রহমান আরও stress করেন, এবারের নির্বাচনে দেশের মানুষ ন্যায়পরায়ণতা ও সততার পক্ষে রায় দেবে। ভোটাধিকার কোনভাবেই হরণ হলেও দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে যেন ভোটার অধিকার কেউ কেড়ে নিতে না পারে।
তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রতিটি পরিবারের মা-বন ও কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে, যার মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রবাসী তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তারাও বিদেশে বিপুল বেতনে কাজ পেতে পারবেন।
তারেক রহমান বলেন, মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের ভাঙা রাস্তা-ঘাটই তার কথার প্রমাণ। গত ১৫ বছরে যারা নির্বাচন নিয়ে প্রহসন চালিয়ে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তারা উন্নয়ন করতে সক্ষম হননি। স্কুল, কলেজ ও রাস্তাঘাটের সর্বনাশ হয়েছে। দেশ দুর্নীতির টানাপোড়েনে এখন ছিন্নভিন্ন; লুটপাট চলছে জাতীয় সম্পদে।
তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানান, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে এগিয়ে আসার। কারণ, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা সমাধানে যোগ্য জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যা জনগণের সরকারের মাধ্যমে সম্ভব। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে এ সুযোগ আসবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।
