যশোরে ছয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো প্রচারণা

যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থীদের হাতে তাদের প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যশোরে নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু হয়।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজিজুর রহমান পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল পেয়েছেন লাঙ্গল, বিএনপি’র নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ধানের শীষ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বকতিয়ার রহমান পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী পেয়েছেন হাতপাখা, বাসদের ইমরান খান পেয়েছেন মই, বিএনএফের শামসুল হক পেয়েছেন টেলিভিশন এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদ পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম পেয়েছেন ঘোড়া এবং মেহেদী হাসান পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। যদিও জহুরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান তিনি প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেননি।

যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন পেয়েছেন হাতপাখা, জামায়াতের আব্দুল কাদের পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির খবির গাজী পেয়েছেন লাঙ্গল, জাগপা’র নিজামুদ্দিন অমিত পেয়েছেন চশমা এবং সিপিবির রাশেদ খান পেয়েছেন কাস্তে প্রতীক।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে সাতজন প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র এম. নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ পেয়েছেন মোটরসাইকেল, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন পেয়েছেন হাতপাখা, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি পেয়েছেন ধানের শীষ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী দেওয়াল পেয়েছেন ঘড়ি, জামায়াতের গোলাম রসুল পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক পেয়েছেন লাঙ্গল এবং বিএমজেপির সুকৃতি কুমার মণ্ডল পেয়েছেন রকেট প্রতীক।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী—জাতীয় পার্টির এম এ হালিম পেয়েছেন লাঙ্গল, জামায়াতের গাজী এনামুল হক পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন হাতপাখা, বিএনপির রশীদ আহমাদ পেয়েছেন ধানের শীষ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন পেয়েছেন কলস প্রতীক।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন—জাতীয় পার্টির জিএম হাসান লাঙ্গল, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান ঈগল, জামায়াতের মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

প্রতীক বরাদ্দ শেষে বক্তব্য رکھنے গিয়ে যশোর জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুক হক সাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে। গত ১৬ বছরে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংসের শিকার হয়—তবে 이번 নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মতামতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটবে এবং বিএনপি প্রার্থীরা ধানের শীষ নিয়ে সাফল্য অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংগঠনের বাইরে থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সিপিবি’র যশোর-৩ (সদর) প্রার্থী রাশেদ খান অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার ও বড় ব্যানার এখনো যানবাহনে এবং প্রত্যন্ত এলাকায় দেখা যাচ্ছে; কিছু ক্ষেত্রে সমর্থকরা জুমার নামাজকেও ভোট প্ররোচনায় ব্যবহার করছে—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজর প্রয়োজন। যশোর-২-এর বাসদ প্রার্থী ইমরান খান বলেন, রাতের ভোট, ডামি ভোট ও ভোট কেড়ে নেওয়ার মেলামেশা থেকে বের হতে হলে প্রশাসনকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে; ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পরও অবৈধ অস্ত্র ও অর্থের প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে, তাই সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।

জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রতিকীপ বরাদ্দকালে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালাতে সকলের প্রতি নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, যশোরের ছয় আসনে মোট ৩৫ জনকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কার্যক্রমে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব উপস্থিত ছিলেন।