শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি রুপির মানহানির মামলা দায়ের করেছেন রাজ্যের বিরোধীদল নেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এই মামলার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শুভেন্দু নিজেই কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আদালতে শুভেন্দু এই মানহানির মামলা করেন। নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শুভেন্দু পোস্টের মাধ্যমে বলেন, ‘শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, আর আপনি জনগণকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন। কয়লা কেলেঙ্কারিতে আমার জড়িত থাকার বিষয়ে আপনার কাল্পনিক অভিযোগের পাশাপাশি মানহানির নোটিশের বিষয়ে আপনার জঘন্য অসম্মতিপূর্ণ নীরবতা আপনাকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি বলেছিলাম, আপনার প্রতারণামূলক অপকর্মের জন্য আপনাকে আদালতে আনব। আজ আমি সেই মামলা দায়ের করেছি। দয়া করে দ্রুত আপনার অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, নাহলে আপনাকে অবিলম্বে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যা আমি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করব।’

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদে ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা পথে নেমেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, ভোটের আগে তৃণমূলের রণকৌশল চুরি করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা হানা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইডির দাবি ছিল, ২০২০ সালে পুরনো কয়লা মামলার তদন্তের জন্য তারা আইপ্যাকের অফিসে গিয়েছিলেন। এই বিরোধপূর্ণ বক্তব্যের জন্য এখনও বিতর্ক চলমান।

তবে, ইডির অভিযানের পরদিন, প্রতিবাদরত জনতার সামনে হাজরা মোড়ে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘ইডি বলছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করতে এসেছিল। কিন্তু আসল প্রশ্ন, কয়লা চুরির টাকা কে খেয়েছে, কীভাবে খেয়েছে? এই সব টাকা গড্ডালিকা করে যায়। এখন তো এতটাই ঢুকে গেছে যে, সোনা (দত্তক পুত্র) হয়ে গিয়েছে। আরেকজন বড় ডাকাত জগন্নাথ, তিনি বিজেপির এক বড় নেতা। এইভাবে কয়লার টাকা জুটে যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, অমিত শাহের কাছে।’ এই বিষয়ে আরও বিশদ বিবরণ এনডিটিভি সূত্রে পাওয়া যায়।