সর্বশেষঃ
সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা এক দফা কমার পরে আবারও বেড়ে গেল সোনার দাম সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ কমে ২ লাখ কোটি টাকায় পুনর্নিযুক্ত সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মোবাইল ফোন আমদানির উপর শুল্ক কমছে, ফলে দাম কমবে মোবাইলের নির্বাচনের истин অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর: মির্জা ফখরুল জোটের আসন সমঝোতা দু-একদিনের মধ্যে: জামায়াত আমির জামায়াতের নির্বাচন ও প্রতিবেশী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা জামায়াতের আমিরের সতর্কবার্তা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেকানিজম হলে পালাতে হবে বাধ্য হয়ে বিএনপি প্রার্থী আন্দালিভ পার্থের কাছে আসন ছাড়ল বিএনপি
সুজনের দাবি: নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে ১৫টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব

সুজনের দাবি: নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে ১৫টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিক সমাজ শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের কথা না বলেই بلکہ রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনের মতে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বিচার, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকা দরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনটি ১৫টি মূল সংস্কার প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক সংলাপে এসব মত প্রকাশ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বরং, গত ১৫ বছরে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঐতিহাসিকভাবে জনগণের প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের মেরামতের পথ সম্প্রসারিত করবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে তিনটি মূল উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়— বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করা হয়।

সংগঠনটি জানায়, এই সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি জনতার দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আত্মোৎসর্গ ও বঞ্চনার পরিপ্রেক্ষিতে এক সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে, রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে এই সনদ ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট ও সক্রিয় অঙ্গীকার রাখতে হবে।

প্রস্তাবিত ১৫ সংস্কার ও প্রতিশ্রুতি তালিকায় প্রথমে এসেছে এই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা উপযুক্ত স্থানে এর সংযুক্তি। পাশাপাশি, এর বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও আইনি জটিলতা সৃষ্টি না করতে সরকার ও সংসদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। ড. বদিউল আলম বলেন, অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক দমন–পীড়নের সংস্কৃতি রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মানবাধিকারসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের জন্য ইশতেহারে সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।

সুজন আরও বলেছে, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শক্তিশালী করতেও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

সংলাপে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, নির্বাহী, সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করা এবং সংসদের কার্যক্রমে কার্যকর নজরদারি হওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সুজন স্পষ্ট করে বলেছে, সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা বাড়ানো ও সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, নারী নির্যাতন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নারী নেতৃত্বের প্রসার নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বলা হয়, যাতে ক্ষমতা ও আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম জোরদার হয়। নিয়মিত স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন, সংবিধান ও দেশের প্রভাবমুক্ত উন্নয়ন কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা, মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন পানি ও বায়ু সংরক্ষণ, পাশাপাশি জাতির স্বার্থে পররাষ্ট্রনীতির পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লিখিত হয়েছে। বাংলাদেশকেঅন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্বাভাবিক স্বাভাবিক ও স্বতন্ত্র মানসিকতা বজায় রাখতে চায় সুজন।

ড. বদিউল আলম বলেন, দেশের রাজনীতি যে অবক্ষয়ের শিকার, তা শুধরে না নেওয়া হলে গণতন্ত্র আরও দুর্বল হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হওয়া রাজনীতি বন্ধ করতে না পারলে নির্বাচনী সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলতেই থাকবে।

তিনি পরবর্তীতে বলেন, জনগণ এখন আর কেবল আশ্বাসে বিশ্বাস করে না, তারা দেখতে চায় কাদের কত দ্রুত ও কত কার্যকরভাবে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। এই ইশতেহারই আসল স্পষ্টতা দেয়—কারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Shipon tech bd