সর্বশেষঃ
সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি পশ্চিমবঙ্গে গাইতে এসে দুই বলিউড শিল্পীর উপর হামলা বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এর সিক্যুয়েল আসছে! ধর্মেন্দ্রর স্মৃতি সংরণের জন্য আলাদা স্মরণসভা কেন, জেলা জানালেন হেমা মালিনী অ্যাশেজের শেষ দিনে রোমাঞ্চ, বিদায়ী টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় উসমান খাজার বিদায়: শেষবার মাঠে সিজদায় অবনত ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার ২০ ফুটবলার চূড়ান্ত, দেখুন কারা আছেন বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নতুন চমক বিসিবির নতুন চিঠি আইসিসিকে: বিস্তারিত জানালেন বোর্ড
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল

সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা বাতিল করেছে এবং আগের মুনাফার হারই বহাল রেখেছে। রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত মুনাফার হার, যা জানানো হয়েছিল, তা চলতি ছয় মাসেও একই রকম থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা দেয়, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল কারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ হারটির উপর অধিকাংশ আর্থিক ভিত্তি বানিয়ে থাকেন। পরে, রোববার অফিসের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর, প্রধান উপদেষ্টা থেকে সম্মতি নিয়ে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে সরকারি সঞ্চয়পত্রের চার ধরনের স্কিম রয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের জন্য আলাদা মুনাফা নির্ধারিত। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কিছুটা কমানো হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। মেয়াদ শেষের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা কমে যায়। মূল টাকা থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদ কেটে নেওয়া হয়। পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ, যা আগে কমিয়ে ১০.৪৪ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে নতুন প্রজ্ঞাপন আবার আগের হারই ফিরিয়ে এনেছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে পরিবর্তিত না করে আগের মতোই রাখা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে, ৫ বছর ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের হার নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমায় সরকার গত বৃহস্পতিবার আবারও এই হার কমানোর ঘোষণা দেয়, যা ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। মূলত, দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয়পত্রের প্রধান গ্রাহক। সংগঠিত সময়ের মধ্যে তারা সঞ্চয় ভেঙে অর্থপ্রয়োজন মেটান বা মাসিক খরচ চালানোর জন্য এই উপার্জন উপর নির্ভর করেন। মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যদিও কয়েক মাস ধরেই মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, সেটি এখনও ৮-৯ শতাংশের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা উঠছে। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, এই হার কমানো অপ্রয়োজনীয় এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, মুনাফার হার যেন অপরিবর্তিত থাকে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বিনিয়োগ করে অর্থ সুরক্ষিত রাখতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Shipon tech bd