খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই পর্যায়ে বিভিন্ন ত্রুটি ও শর্ত পূরণ না করায় ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই চার দিনের প্রক্রিয়ায় बुधवार (৩১ ডিসেম্বর) থেকে রোববার (৪ জানুয়ারি) খুলনা জেলা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে, খুলনা–১ আসনে ১৩ প্রার্থী মনোনয়ন সেটি দাখিল করেন। যাচাই শেষে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। তবে, কিছু প্রার্থী বৈধ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু সাঈদ, বিএনপির আমির এজাজ খান, জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় এবং জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার ও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।
খুলনা–২ আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে, সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনের প্রার্থীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম। এখানে কোনো মনোনয়ন বাতিল হয়নি।
খুলনা–৩ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই শেষে, তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. আউয়াল, বিএনপির রকিবুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীয়ের মো. মাহফুজুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ খান লিটন ও মঈন মোহাম্মদ মায়াজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের জনার্দন দত্ত, খেলাফত মজলিসের এফ. এম. হারুন অর রশিদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শেখ আরমান হোসেন ও জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল রউফ মোল্লা, মো. আবুল হাসনাত সিদ্দিক ও এস. এম. আরিফুর রহমান মিঠু।
খুলনা–৪ আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে, চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ শেখ, বিএনপির এস. কে. আজিজুল বারী, খেলাফত মজলিসের এস. এম. সাখাওয়াত হোসাইন ও জামায়াতে ইসলামীর মো. কবিরুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী এস. এম. আজমল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
খুলনা–৫ আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই শেষে চারজনের মনোনয়ন বৈধ হয়। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলদার, জামায়াতে ইসলামীয়ের মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার ও খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাইয়ুম। এই আসনে জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসমীন) ও ইসলামী আন্দোলনের শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা–৬ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে তারা হলেন বিএনপির এস. এম. মনিরুল হাসান (বাপ্পী), জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলনের মো. আছাদুল্লাহ ফকির ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল। বাতিল হয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আছাদুল বিশ্বাস।
Leave a Reply