আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে খালেদা জিয়ার সমাধিতে। বিভিন্ন প্রাইভেট আর গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কেউ মোনাজাত করছেন, কেউ ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আবার অনেকে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকছেন। বেশ কিছু মানুষ ছবি তুলছেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন।
বিকেল সোয়া তিনটার পরে, জিয়া উদ্যানে প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশের জন্য হাজারো মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। আগে থেকেই এখানে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দুপুর বারোটার দিকে যখন প্রবেশপথ উন্মুক্ত করা হয়, তখন বড় সংখ্যক মানুষ ছুটে আসেন। এর আগে সকাল থেকে জিয়া উদ্যানের মূল ফটকের সামনে নেতাকর্মী ও সাধারণ পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। নিরাপত্তার কারণে অনেককে তখন ঢুকতে দেয়া হয়নি, তবে বিকেলের দিকে ফটক খুলে দিলে প্রচুর মানুষ কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে আসেন।
সারেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই জিয়া উদ্যানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এখন অনেক মানুষ ছোট-বড় গ্রুপে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে থাকেন। একদিকে দলের নেতা-কর্মী, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ—সবার মনোভাব একটিই, পেছন থেকে আসা স্মৃতি ও ভালোবাসা।
এমনকি ঢাকার বাইরে থেকে এসেও বিভিন্ন মানুষ এই শোকে সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন। তারা কেউ কেউ চোখের জল এড়াতে পারেন না। কথার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়, তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। সাধারণ মানুষ হিসেবে এই মরহুমার প্রতি আমার গোপন ভালোবাসা ও সম্মান। তিনি আরও বলেন, আমি খুব সহজ সরলপ্রাণ মানুষ, খালেদা জিয়াকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি এবং তার জন্য কবর জিয়ারত করতে এসেছি।
জনপ্রিয় এই নেত্রীটির বিদায়ে শত শত মানুষ অংশ নেন। খুলনা শহর থেকে আসেন আব্দুল মনির (৫৭), তিনি বলেন, আমি ৯০-এর আন্দোলনে অংশ নিয়েছি এবং তখন থেকেই বিএনপির সাথে রয়েছি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করেছি। আজ বহু বছর পরে তার কবর জিয়ারত করে স্মরণ করতে এসেছি। তিনি আরও বলেন, এই দিনটি আমার জীবনে স্মরণকালের অন্যতম শ্রদ্ধার দিন।
অনেকে তো দলীয় না হয়েও এই শোক এবং সম্মান প্রকাশের জন্য এখানে হাজির হন। মুন্সিগঞ্জের ফাতেমা শারমিন প্রথমবারের মতো কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে একটি মঞ্চ তৈরি হয়েছে যেখানে আলেম-ওলামা কোরআন পাঠ করবেন এবং দোয়া করবেন। এ মঞ্চটি আগামী ৪০ দিন সবার জন্য থাকবে।
বেলা সাড়ে পাঁচটার পরে, খালেদা জিয়ার সমাধি থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া রাজধানীর এভার ked್ಪತ್ರায় মারা যান। এরপর বুধবার তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। জানাজার পর, হাজিরা শেষে তাকে তার স্বামীর সমাধি—প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।
বর্তমানে বিএনপি ও দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই দুঃখজনক দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মাধ্যমে স্মরণ করছে। সবাই তাদের প্রিয় নেত্রীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন এবং তার জন্য শান্তির কামনা ব্যক্ত করছেন।
Leave a Reply