সর্বশেষঃ
সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন অভিনেত্রী নিধি আগরওয়ালের উপর ভিড়ের মধ্যে হেনস্তা প্রবাদপ্রতিম সংগীতশিল্পী ক্রিস রিয়া আর নেই ফরিদপুরে কনসার্টে বিশৃঙ্খলা, জেমসের প্রতিক্রিয়া সালমান খান এবার ৬০ এ পা দিলেন নতুন বছরে শাকিব খানের চার সিনেমা আসছে উজ্জয়িনীতে মোস্তাফিজের আইপিএল খেলার দাবি নিয়ে উত্তেজনা ও হুমকি নৌ দুর্ঘটনায় তিন সন্তানসহ স্প্যানিশ কোচের মৃত্যু বিপিএলের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়বেন বেশ কিছু পাকিস্তানি ক্রিকেটার মাশরাফির স্মৃতিতে কিংবদন্তি নেত্রীর অবদান স্বীকার প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিপিএলের ম্যাচ বাতিল
খুলনা BNP নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক খালেদা জিয়্যার জানাজা

খুলনা BNP নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক খালেদা জিয়্যার জানাজা

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা, নিঃশব্দ কাঁন্না ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ঢাকা পড়ে যায় মানিক মিয়া এভিনিউ। সেই জনসমুদ্রে খুলনার সাধারণ মানুষও একসূত্রে আবদ্ধ হয়ে যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে খুলনা মহানগর ও জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ রাজধানীতে ছুটে যান। প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায় জানাতে পেরে তারা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন এবং মনে করছেন তারা এই ইতিহাসের সাক্ষী। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোর থেকেই খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্রেন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অনেকেই রাত কাটিয়ে সকালে পৌঁছান রাজধানীতে। দীর্ঘ পথ, কষ্ট və ভিড় অনেককেই থামাতে পারেনি। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। মূল জানাজার আগে আগে দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মানুষের ঢল নামায় তা বিলম্বিত হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানাজার ভিড়ে সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ঢাকা পড়ে যায়। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির শত শত নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ লোক দলীয় পতাকা ও কালো ব্যাজ ধারণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কেউ ফুঁপিয়ে কাঁদছেন, কেউ নীরবে হাত তুলে দোয়া করছেন। কারো চোখে শূন্যতা, কারো চোখে হারানোর গভীর বেদনা। জানাজায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন। খুলনা থেকে আসা ঢলের এই অংশ হাজির করে প্রমাণ করে, এই নেত্রী শুধু দলের নেত্রী নন, তিনি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। এই জনসমাগম দেশের কাছে অসাম্প্রদায়িক ভালোবাসার এক প্রকার গভীর বার্তা। কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া যে গণভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তারই প্রতিচ্ছবি এই বিশাল জনসমুদ্র। খুলনার মানুষ যে ভালোবাসা অনুভব করেছিল, যে প্রেম ও সমর্থন সংগৃহীত হয়েছিল, তা আজ অশ্রুকর মরুচিহ্নে রূপান্তরিত হয়েছে। এই জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি’র বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। জানাজার স্থানেই খুলনার একজন প্রবীণ নেতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আর কখনো দেখব না খালেদা জিয়াকে—এটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনিই আমাদের সাহস, আমাদের লড়াই।’ উল্লেখ্য, তিন বার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে খুলনা ও সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার সকাল থেকেই খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ের জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেগঘন অংশগ্রহণ খুলনাবাসীর গভীর সম্পর্কের প্রমাণ, যা দীর্ঘকালীন স্মৃতিতে রয়ে যাবে। খুলনা বিএনপির কার্যালয়ে বুধবার শোক বইতে শত শত মানুষ স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি, মহানগর বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন বিএনপি অফিসে কোরআনখানি ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা ও ব্যাজ ধারণ করে নেতাকর্মীরা গভীর শ্রদ্ধা জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Shipon tech bd