Category: অর্থনীতি

  • নির্বাচন উপলক্ষে ৯৬ ঘণ্টার এমএফএস কড়াকড়ি: ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট বন্ধ

    নির্বাচন উপলক্ষে ৯৬ ঘণ্টার এমএফএস কড়াকড়ি: ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট বন্ধ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব জনপ্রিয় এমএফএসে এই নির্দেশনা সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে এবং এটি ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত থাকবে — মোট ৯৬ ঘণ্টা।

    সব ধরনের পার্সোনাল এমএফএস অ্যাকাউন্টে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। নির্দেশনা কার্যকর থাকা কালীন কোনো গ্রাহক এজেন্ট পয়েন্ট থেকে টাকা জমা দিতে বা নগদ উত্তোলন করতে পারবেন না; ফলে এমএফএস অ্যাপে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট অপশন দেখালেও তা কাজ করবে না।

    জরুরি লেনদেনের জন্য ‘‘সেন্ড মানি’’ ব্যবস্থা সীমিত রেখে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পাঠানো যাবে এবং একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন — অর্থাৎ দৈনিক সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা। এই শর্তের বাইরে ব্যক্তিগত টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না।

    তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনা করে মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি) পরিশোধ এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত পেমেন্ট আগের মতোই চালু থাকবে; এসব সেবার ওপর কোনো নতুন সীমা আরোপ করা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি এবং অন্যান্য সরকারি জরুরি সেবার ফি প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা নেই — এগুলো প্রচলিত প্রক্রিয়ায় চলতে থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ভোট কেনাবেচা ও নির্বাচনী প্রভাব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নগদ অর্থের অবৈধ চলাচল রোধ করতেই এই বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এমএফএস সেবাগুলি পুনরায় সচল করা হবে বলে বলা হয়েছে।

    সাময়িক এই অসুবিধার জন্য বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে। গ্রাহকদেরকে বলা হয়েছে, জরুরি লেনদেন ও বিল পরিশোধে পূর্বপরিকল্পনা করে চলতে এবং অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রকাশিত নির্দেশনা খেয়াল রাখতে।

  • ত্রয়োদশ নির্বাচনে সুরক্ষার কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী চলাচল বন্ধ; বন্দর ব্যবসা ৩ দিন স্থগিত

    ত্রয়োদশ নির্বাচনে সুরক্ষার কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী চলাচল বন্ধ; বন্দর ব্যবসা ৩ দিন স্থগিত

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল সীমিত ও স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে।

    একই সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম তিন দিন (১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) স্থগিত রাখা হবে। নির্বাচন শেষ হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গিয়ে আগামী শনিবার বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।

    বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর প্রথমবারের মত নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্টভিত্তিক যাত্রী চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শাখাওয়াত হোসেন জানান, সরকারের নির্দেশনায় এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনী দিনে বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল বন্ধ থাকবে এবং শুক্রবার সকাল ৬টার পর থেকে পুনরায় পারাপার স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও জানান, অন্যান্য সময় সাধারণত অসুস্থ বা জরুরি রোগীদের জন্য ইমিগ্রেশন খোলা রাখা হতো, কিন্তু এবার পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে—অর্থাৎ সাধারণ কোনো ব্যতিক্রম করা হবে না।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন নিশ্চিত করে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশনা তার দপ্তরে এসেছে।

    বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত সি অ্যান্ড এফ মালিক, কর্মচারী, হ্যান্ডলিং শ্রমিক ও ট্রাকচালকরা ভোট প্রয়োগের জন্য নিজ নিজ এলাকায় যাবেন—এই কারণেও বন্দর কার্যক্রম তিন দিন বন্ধ রাখা হয়েছে।

    বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আগামী তিন দিন এখান দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে এবং নির্ধারিত সময়ের পর আবার কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

  • তৃতীয় দফা: আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বেড়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি

    তৃতীয় দফা: আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বেড়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও একবার বৃদ্ধি করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জারি করা আদেশে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অনলাইনে দাখিল করতে অক্ষম করদাতারা কাগজে রিটার্ন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

    এ আদেশে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হকের স্বাক্ষরে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ অনুযায়ী সরকারি অনুমোদনে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতাদের ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট সময় ৩১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।

    আরেকটি বিশেষ আদেশে চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উল্লেখ করেছেন যে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮(৪) মোতাবেক অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কেবল বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৫ এর ক্রমিক নং-১ এ যে করদাতারা উল্লেখ আছেন তারা এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন।

    ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনজনিত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে অসুবিধা হলে সংশ্লিষ্ট করদাতা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন মঞ্জুর হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত যুগ্ম কর কমিশনার অনুমোদনের ভিত্তিতে কাগজে রিটার্ন দাখিল করা যাবে।

    এনবিআরের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত ৪৭ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন; এর মধ্যে ৩৪ লাখ করদাতা তাদের রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করেছেন।

    আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন প্রতিবছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা। তবে এ বছর বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আগে দুই দফায় মোট দুই মাস সময় বাড়ানো হয়েছিল; এবার এটিই তৃতীয় দফা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন না দেওয়ার ফলে জরিমানা আর সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন কর রেয়াত থেকে বঞ্চিত হওয়ার শাস্তিও হতে পারে।

    এনবিআর সূত্র বলছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি ও ব্যক্তিগত স্তরে কর্মচারীদের কাজের পরিমাণ বেড়েছে; তাড়াহুড়ো না করে নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে তাই অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। করদাতাদের উচিত সময়মতো রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা, অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার চেষ্টা করা এবং সমস্যা থাকলে যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা।

  • সোনার ভরি লাফ: দাম বাড়ল ১৬ হাজার, ২২ ক্যারেট ভরি ২৮৬,০০০ টাকার ওপর

    সোনার ভরি লাফ: দাম বাড়ল ১৬ হাজার, ২২ ক্যারেট ভরি ২৮৬,০০০ টাকার ওপর

    বাজারে আবারও সোনার দামে বড় উত্থান। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১৬,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফল হিসেবে ভালো মানের সোনার (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার ওপরে চলে গেছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়েছে। গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি জরুরি ঘোষণা বলা হয়েছে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বাড়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশীয় দর বাড়ার পেছনে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী দেশের বাজারে সোনার দামগুলোর অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো: ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।

    সোনার সঙ্গে মিলিয়ে রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি রুপা ৮ হাজার ১৬৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

    শেয়ারবাজার, বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কাঁচামালের ওঠানামা মিলিয়ে ভবিষ্যতে দাম কেমন থাকে তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড এবং স্থানীয় চাহিদার ওপর। গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দামের পরিবর্তন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আপডেট নেওয়া সতর্কতামূলক হবে।

  • তৃতীয় দফায় বাড়ল আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় — নতুন সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি

    তৃতীয় দফায় বাড়ল আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় — নতুন সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এটি আয়ের কর রিটার্ন দাখিলের তৃতীয় দফার সময় বাড়ানো। একইসঙ্গে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমস্যা হওয়া করদাতারা কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হকের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ অনুযায়ী জনস্বার্থে এবং সরকারের অনুমোদনক্রমে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ ৩১ জানুয়ারি থেকে পরিবর্তন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হলো।

    অন্য একটি বিশেষ আদেশে (এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত) আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮(৪) অনুযায়ী লাইনে থাকা বেশিরভাগ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৫ এর ক্রমিক নং-১ এ যেসব করদাতার নাম উল্লেখ রয়েছে তারা এ থেকে ব্যতিরেকে থাকতে পারে।

    ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা ফাইলিংয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট করদাতা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যথাযথ কারণ দেখিয়ে উপ-কর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন পেলে তারা কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের অনুমতি পাবেন।

    এনবিআরের তথ্যমতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন; এর মধ্যে প্রায় ৩৪ লাখ করদাতা ইতোমধ্যেই তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন।

    আইন অনুযায়ী সাধারণভাবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে চলতি বছরে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে দুই দফায় মোট দুই মাস সময় বাড়ানোর পরে এবার তৃতীয় দফায় আরও এক মাস সময় নির্ধারণ করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলেই করদাতাদের জরিমানা কর এবং সরকারি কর রেয়াত বা রিবেট সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।

    এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি ও সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাকে বিবেচনা করে দ্রুতকরণের চাপ না দিয়ে নিশ্চিত, সঠিক ও শান্ত পরিবেশে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। করদাতাদের জন্য পরামর্শ—সম্ভব হলে এখনই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন সম্পন্ন করুন; সমস্যা হলে সময়মতো সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করুন।

  • এক লাফে ভরি ১৬ হাজার বাড়লো সোনা; ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াল

    এক লাফে ভরি ১৬ হাজার বাড়লো সোনা; ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার নয়, বৃহস্প‌তিবার (২৯ জানুয়ারি) সংগঠন জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকায় পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি (পিউর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ায় স্থানীয় বাজারের দামও বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার তথ্যও সংগঠন তুলে ধরেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৫৫০ ডলার অতিক্রম করেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে বিভিন্ন গুণমানের প্রতি ভরির দাম হচ্ছে— ২২ ক্যারেটের মূল্য ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা; ২১ ক্যারেট ৮ হাজার ১৬৪ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

    বাজুসের এই ঘোষণার পরে গ্রাহক ও জুয়েলারিদের মধ্যে সর্তকতা বেড়েছে; যারা সোনা-রুপা কেনার বা বিক্রির পরিকল্পনা করছেন তারা স্থানীয় ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ দাম নিশ্চিত করে নেবেন বলে বাজার সূত্রে জানিয়েছে।

  • ব্যাংকগুলো খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায়

    ব্যাংকগুলো খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায়

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের তীক্ষ্ণ বৃদ্ধি নিরসনে একজোট প্রস্তাব দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। গত ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে আলোচনার পরে সংগঠনটি এইরকম বিস্তারিত পদক্ষেপগুলোর সুপারিশ ব্যাংককে জমা দিয়েছে।

    এবিবির মূল আকাংক্ষাগুলোতে উল্লেখযোগ্য হল: খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি, তাদের আদালতের নির্দেশ ছাড়া বিদেশে যাত্রা নিষিদ্ধ করা এবং খেলাপিরা যেন কোনো ব্যবসায়িক সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে—এরকম বিধান করা। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে খেলাপি ঋণের দ্রুত নিষ্পত্তি ও পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়তা হবে বলে তারা মনে করছে।

    ঋণখেলাপি কমাতে এবিবির তিনটি প্রস্তাব

    1) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু খেলাপি ঋণ আংশিকভাবে অবলোপনের সুযোগ দেওয়া হোক।

    2) লিয়েন করা শেয়ার নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহযোগিতা নিশ্চিত করুক।

    3) মৃত্যু, মারাত্মক অসুস্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত, গৃহ বা ক্রেডিটকার্ড সংক্রান্ত সুদ মওকুফ করে দ্রুত ঋণ আদায় সক্ষম করার জন্য হেড অব আইসিসির মতামত গ্রহণের শর্ত শিথিল করা হোক।

    নগদ আদায়ে প্রস্তাবিত নির্দেশনা

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংক অথবা আদালতের ছাড়া বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি সম্বলিত তালিকা ব্যাংকগুলোকে প্রকাশ করার অনুমতি দেয়া।

    – খেলাপিদের ব্যবসায়িক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ অযোগ্য ঘোষণা করা।

    বন্ধকী সম্পদ বিক্রিতে সাফলতা বাড়াতে প্রস্তাব

    – ব্যাংকের নিলামে বিক্রয় বা কেনা সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় প্রযোজ্য সকল আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক।

    – নিলাম উৎসাহিত করতে নিলাম ক্রেতাদের আয়কর রেয়াত বা অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়া হোক।

    – জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা স্থানভেদে বাতিল করা হোক যাতে নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

    – সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো নিলামে বিক্রিত সম্পত্তির হস্তান্তরে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করুক।

    – বন্ধকদাতার অনুপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃক জমির খাজনা ও জরিপ সম্পন্ন করার সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।

    – অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যাংকের নামে মালিকানা হস্তান্তর হলে নামজারি ও বায়নানামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনা খরচে সম্পন্ন করার সুবিধা নিশ্চিত করা।

    মামলা বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত দফা

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও জামানতদাতাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা আমানত, সঞ্চয়পত্র, মালিকানাধীন সম্পদের তথ্য, আয়কর রিটার্ন, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, পাসপোর্টের তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া দ্রুতগুলো দিতে সক্ষম করার বিধান।

    – ব্যাংক বা আদালতের বিরুদ্ধে আবেদন করলে মামলার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা।

    – সিআইবি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার প্রাপ্তির সুবিধা আইনি সীমার মধ্যে সীমিত করা হোক।

    – উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডারে কিস্তিভিত্তিক অর্থপরিশোধ নিশ্চিত করা এবং নির্দেশনা না মানলে সেটিকে বাতিল হিসেবে গণ্য করার বিচারপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করা।

    – উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার প্রদানে উভয় পক্ষের শুনানি নিশ্চিত করার অনুরোধ।

    – যে জেলাগুলোতে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যাবেশি, সেখানে দ্রুত পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপনের সুপারিশ।

    – থানায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আটকাদেশ তৎক্ষণাত কার্যকর করা এবং আদালত থেকে থানায় আটকের আদেশ সাত দিনের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করা।

    – অর্থঋণ মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ সীমিত করা।

    – দেওয়ানি আটকাদেশের স্থায়ীকরণ ছয় মাসের পরিবর্তে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরে উন্নীত করা।

    – দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থঋণ আইনে প্রস্তাবিত সংশোধন প্রণয়ন।

    খেলাপি ঋণ না বাড়াতে অবকাঠামোগত প্রস্তাব

    – কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীর তালিকা জরুরি ভিত্তিতে দাবি ও প্রকাশ।

    – নিবন্ধক বা তহবিল অফিসে বন্ধকী সম্পদের তালিকা সহজে যাচাই করার ব্যবস্থা করণীয়।

    – সিআইবি ডেটাবেসের মতো ব্যক্তিগত সম্পদের ডেটাবেস তৈরি করে তা সহজে যাচাইকরণযোগ্য করা।

    চূড়ান্ত চিত্র

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৫.৭৩ শতাংশ। মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা মনে করেন, উপরে উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো কার্যকর হলে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধির ধারা ঠেকানো ও সুদমুক্তি, বিক্রয় ও আদায় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা সম্ভব হবে। নীতি যদি তড়িৎভাবে গ্রহণ না করা হয়, তবে খেলাপিরা সহজ উপায়ে দায় এড়িয়ে পুনরায় ব্যবস্থার ফাঁকফোকরকে কাজে লাগাতে পারে—এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে তারা।

  • ‘প্রাণ দুধ’ চালু করলো ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’

    ‘প্রাণ দুধ’ চালু করলো ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মান জানাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশীয় তরল দুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইন।

    ক্যাম্পেইনটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে নিবেদিতখোলা খামারিদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানকে সমাজের সামনে তুলে ধরা এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্পের মাধ্যমে আরও মানুষকে দুগ্ধচাষে উৎসাহিত করা। উদ্বোধন কালে সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।

    সংস্থার জানানো মতে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (VMCC) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকায় থাকা প্রাণ ডেইরীর প্রায় ১৬ হাজার তালিকাভুক্ত খামারি রেজিস্ট্রেশন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করবেন।

    রেজিস্ট্রেশনের পর দ্বিতীয় ধাপে জমা হওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। তারা প্রথমে ১০জন ‘খাঁটি খামারি’ বাছাই করবেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে জুরিবোর্ডের দেওয়া নম্বর ও ভোক্তাদের ভোটের সমন্বয়ে সেরা তিন খামারিকে নির্বাচিত করা হবে। সেরা তিনজনকে সম্মাননা স্মারক ও প্রতিজনকে এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হবে, আর বাছাইকৃত বাকী সাতজনকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মানিত ও প্রণোদিত করতে চাই। তাদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনী তুলে ধরে মানুষকে গাভি পালনে আগ্রহী করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ, মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সুস্পষ্টভাবে জানানোও আমাদের লক্ষ্য।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খেটে খাওয়া খামারির পাশে দাঁড়িয়েছে। ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ, ভেটেরিনারি সেবা এবং অন্যান্য সহায়তার ফলে অধিকাংশ খামারির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরী’র হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈম ও প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ক্যাম্পেইনটি আগামী কয়েক মাস ধরে চলবে এবং এটি খামারিদের কষ্ট ও তাদের গল্পকে সামনে এনে দেশের দুগ্ধশিল্পকে আরও টেকসই ও উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

  • প্রাণ দুধের ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ যাত্রা শুরু

    প্রাণ দুধের ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ যাত্রা শুরু

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দিতে শুরু করেছে জনপ্রিয় তরলদুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইনের।

    ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের অনবদ্য পরিশ্রম ও অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনগল্প তুলে ধরে সমাজের আরও মানুষকে গাভিপালন ও দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে অংশ নিতে উৎসাহিত করা। অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।

    প্রাণ ডেইরীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। এই কেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ডেইরীর তালিকাভুক্ত মোট ১৬ হাজার দুটি খামারি রেজিস্ট্রেশন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন।

    রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে নাম ভূক্ত খামারিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওই খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরিবোর্ড গঠন করা হবে। জুরিবোর্ড প্রথমে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ চূড়ান্ত করবে। এরপর জুরিবোর্ডের নম্বর ও ভোক্তাদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সেরা তিন খামারি নির্ধারণ করা হবে। বিজয়ীদেরকে সম্মাননা স্মারক ও এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হবে। বাকি সাত জনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।

    ইলিয়াছ মৃধা অনুষ্ঠানে বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করতে চাই। তাদের সংগ্রামী জীবন ও সফলতার গল্প তুলে ধরে অন্যদেরও গাভি লালন‑পালনে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রাণ দুধের অঙ্গীকারও আমরা সামনে আনতে চাই।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “প্রাণ দুধ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হাজার হাজার খেটে খাওয়া খামারির পাশে দাঁড়িয়েছে। ন্যায্য মূল্য প্রদান, প্রশিক্ষণ, ভেটেরিনারি সেবা ও বিভিন্ন সহায়তার ফলে বহু খামারির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরীর হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কর্তৃপক্ষ বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় খামারিদের ক্ষমতায়ন এবং দেশি দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নতুন আন্দোলন সৃষ্টি করার আশা করা হচ্ছে।

  • স্বর্ণের নতুন রেকর্ড — ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়লো

    স্বর্ণের নতুন রেকর্ড — ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়লো

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বগতি মূর্ছিত করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্য়াসোসিয়েশন (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশ করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২,৬২,৪৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,৫০,৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,১৪,৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৭৬,৫৯৩ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, ক্রেতাদের কলে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বাজুস ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ২,৫৭,১৯১ টাকায়, যা তখন ছিল সর্বোচ্চ। সেদিন থেকে একদিন পরই আবার নতুন রেকর্ড ঠেকছে।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১১ দফায় দাম বেড়েছে এবং ৩ দফায় দাম কমেছে। তথ্য অনুযায়ী গত বছর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকায়, যা রুপারও সর্বোচ্চ মূল্য। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা। চলতি বছরে রুপার দাম মোট ১১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে।

    বাজারে স্বর্ণ-রুপার এই ধারাবাহিক মূল্য ওঠানামা গ্রাহক ও গহনার ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাজুসের ঘোষণা অনুসারে ক্রেতাদের বিক্রয়-ক্রয় করতে গেলে নতুন মূল্য ও সংযোজ্য ভ্যাট ও মজুরি বিবেচনায় রাখতে হবে।