Category: অর্থনীতি

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না; এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদারভাবে পরিচালিত হবে। তিনি এসব কথা বলেন মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়।

    অনুষ্ঠানে বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে কাজ করবে না; পরিচালনা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার প্রক্রিয়ার অধীনে হবে। তিনি আরও জানান, বিএসআইসি যে মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে তা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি শুধু বিনিয়োগকারি হিসেবেই নয়, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হবে।

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় দুইটি সমস্যা হলো ফান্ডের অভাব এবং জামানত প্রদানের অক্ষমতা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বাধা দুটোই কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধাজনক বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সাপোর্ট মন্ত্রণালয় দেবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, তারা পুঁজিবাজার সংস্কার ও দরকারি ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দিকে কাজ করছেন। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারের জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, বিএসআইসি শুধু ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করবে। সরকারের ম্যানিফেস্টোর লক্ষ্য অনুযায়ী ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় নেওয়া হবে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংক একত্রে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয় পুরো প্রকল্পটির সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।

  • ব্যাংক লুটপাটের দায়ে ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর নাম

    ব্যাংক লুটপাটের দায়ে ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর নাম

    বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রতিবেদনে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৮টি ব্যাংকের বড় ধরণের ক্ষতির পেছনে ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী দায়ী। প্রতিবেদনে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, নাসা গ্রুপের নামসহ সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সিকদার পরিবারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের সূত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের ফলে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত অথব অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকসহ শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, সিআইবিএল (SIBL), ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের ইউসিবি, আইএফআইসি ও ন্যাশনাল ব্যাংকও এই লুটপাটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সময়ের চাপ ও বিভিন্ন বাহ্যিক ঝুকির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা দিতে বাধ্য হয়েছিল। এরপরও এখন পাচারের অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কিছু ক্ষেত্রে বহিরাগত চাপ ছিল এবং এমনকি রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগ্রাহ্য করতে পারত না।

    বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, শুধু টাকা ফেরানোই যথেষ্ট নয়—দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে অনিয়মে জড়িত ছিলেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। নেই হলে দেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংকে আস্থা আরো বাড়বে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, একজন কর্পোরেট দরিদ্র কতটা ঋণ নিতে পারে, কত দিন বা কী শর্তে নিতে পারে—এসবই নীতিমালায় নির্দিষ্ট। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনে শুনে এসব সংস্থাকে ছাড়পত্র বা ছাড় দিয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। এটি তাদের দায়িত্ব ছাড়া আর কেউই করতে পারে না।

    বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক পাচারের অর্থ উদ্ধার ও ফিরিয়ে আনার কাজ জোরদার করেছে। সম্পাদকীয় ও বিশ্লেষকরা বলছে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের বিশ্বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা রাজনৈতিক নিয়োগ থাকবে না; এটি শতভাগ পেশাদারিভিত্তিকভাবে পরিচালিত হবে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। একই সঙ্গে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    মন্ত্রী বলেন, যেভাবে এই স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছে তার মূলধন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এটি শুধু একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে উঠানোর একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রধান দুইটি বাধা হলো ফান্ডের অভাব এবং জামানত প্রদানের অক্ষমতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওই দুই বাধা সরানো হচ্ছে ও বিনিয়োগ গ্রহণে সচ্ছতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ আমাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এবং দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করবে। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি প্রসারে গ্রাম-শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে আমরা অর্থনীতিতে কিছু কঠোর সময় পার করছি; তাই পুঁজিবাজার সংস্কার ও তদারকিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগ্রহণে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের দিকে আকৃষ্ট করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সমর্থন দিবে।

    তিনি শেষে বলেন, অনেকগুলো ব্যাংক একসাথে মিলে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নেয়ায় তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরি করবে।

  • ২৮ ব্যাংকের ক্ষতির ঘটনায় দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    ২৮ ব্যাংকের ক্ষতির ঘটনায় দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৮টি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পিছনে ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর দায় রয়েছে। প্রতিবেদনে নাম উঠে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপসহ কিছু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও গোষ্ঠীর।

    রিপোর্ট অনুযায়ী এসব গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের অনুকূল পলিসি ও অস্বাভাবিক ছাড়ের কারণে ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ ঋণ চাপ পরেছে এবং অনেক টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক যেমন জনতা ও অগ্রণীর পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলো—এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহসহ বেসরকারি ইউসিবি, আইএফআইসি ও ন্যাশনাল ব্যাংকও এ ঘটনায় প্রভাবিত হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, শুধুমাত্র অর্থ ফেরত জোগাড় করলেই সমস্যা মিটবে না; দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি আওতায় নিয়ে আসাও জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ কুপ্রভাব রোধ করা যায়।

    বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বলেছেন, ঋণ নীতিমালা স্পষ্ট—কারা কত ঋণ নেবে, কত সময়ের জন্য নেবে তা সবই নিয়মে আছে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনে‑শুনেই বড় গোষ্ঠীগুলোকে ছাড় দিয়েছে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তার দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে এবং নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেই সময় বিভিন্ন বাইরের চাপ ও কিছু ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চস্তরের নির্দেশনার প্রভাব থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত সুবিধা দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এসব ইস্যুতে কিছু এক্সটারনাল ফোর্সেস কাজ করেছে এবং কখনও‑কখনও রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও এসময় এগুলো উপেক্ষা করার ক্ষমতা ছিল না।

    তবে খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন যে, দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে। এজন্য দ্রুতভাবে যাচাই‑বাছাই, দায়ীদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনা এবং হারানো অর্থ ফেরত আনার পূর্ণাঙ্গ উদ্যোগের দাবি তোলা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বজায় রাখা হবে।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আর্থিক খাত ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। এটি হবে শতভাগ পেশাদার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান।

    মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারী রাজনৈতিক নিয়োগ বা অনুপ্রবেশ এখানে কার্যকর হবে না; সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদারেরা পরিচালিত প্রক্রিয়ায়। তিনি আরও আশ্বাস দেন যে এই প্রতিষ্ঠান শুরু করা মূলধন ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।

    মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি শুধু একটি বিনিয়োগ সংস্থা নয়, এটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি প্ল্যাটফর্মও হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সামনে যে দুইটি বড় সমস্যা—তহবিলের অভাব এবং জামানত প্রদান অসমর্থতা—সেগুলো দূর করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ পুরোপুরি স্বচ্ছ ও পেশাদার চার্ট অনুযায়ী হবে। এই উদ্যোগ তাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সংযুক্ত; ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের লক্ষ্য। বিশেষভাবে সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) ব্যবহার করে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের মূলধারার অর্থনীতিতে আনা হবে।

    অর্থ মন্ত্রী আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, বর্তমান সময় কঠিন; পুঁজিবাজারে সংস্কারসহ অনিয়ম দূরীকরণে কর্মযজ্ঞ শুরু করা হয়েছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে দক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থাগুলোও আমাদের সঙ্গে কাজ করছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই স্টার্টআপ কোম্পানি কেবল ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে বলেও মন্ত্রী জানান। শুকনো নীতিগত সহায়তা ও একত্রে উদ্যোগ নেওয়া বেশ কিছু ব্যাংকের মিলে গঠিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

  • ২৮ ব্যাংকের ক্ষতির দায় ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর: বাংলাদেশ ব্যাংক

    ২৮ ব্যাংকের ক্ষতির দায় ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর: বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৮টি ব্যাংককে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়াতে দায়ীদায়িত্ব রয়েছে ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই প্রতিবেদনে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, নাসা গ্রুপ, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সিকদার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো ঋণের শর্ত ভেঙে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে এবং অনেক লাখ কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ করে পাচার করেছে। শ্বেতপত্রে উল্লেখ আছে, এসবের বড় অংশ বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক গম্ভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    প্রতিবেদনটি ব্যাংক খাতের আরো নানা প্রতিষ্ঠানকেও উল্লেখ করেছে — শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও বেসরকারি ক্ষেত্রের ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংক এসবের মধ্যে রয়েছে। এই তালিকা থেকে বোঝা যায় যে লুটপাটটি শুধু কয়েকটি ব্যাংকেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা পুরো খাতটাকে বিচলিত করেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব টাকা পাচার হয়েছে তা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও জোর দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে কর্মকর্তারা অনিয়মে অংশ নিয়েছেন বা অনৈতিক চাপের কাছে নত হয়েছেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। নতুবা দেশের ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।

    বিআইবিএম-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, একজন কাস্টমার কতটুকু ঋণ নিতে পারবেন, কতদিনের জন্য নিতে পারবেন এবং কীভাবে ঋণ বিতরণ হবে—এসব নিয়মনীতি স্পষ্টভাবে আছে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছে করেই বা চাপের মুখে এসব গ্রুপকে ছাড় দিয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তার দায় স্বীকার করে নেবে এবং দায়িত্ব পালনে এগোতে হবে।

    এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের বহিরাগত চাপ ও ‘‘উপরে থেকে’’ প্রয়োগ করা চাপের ফলে কিছু বিষয়ে তাদের বাধ্য হতে হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে, কোন প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তারা এসব কাজে জড়িত ছিলেন বা বাধ্য হয়েছিলেন—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং পাচার করা অর্থ ফেরানোর কাজ চলছে।

    ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার না প্রদর্শিত হয়, তাহলে কোটি কোটি টাকার লুটের দায় থেকে খাতকে মুক্ত করার সুযোগ মিলবে না এবং সাধারণ মানুষের ব্যাংকের উপর আস্থা নষ্ট হবে। তদন্ত শেষ করে যারাই দোষী প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াই এখন বাজার ও জনমতের দাবি।

  • সোনার দাম আবার বাড়ল: নতুন দামে বিক্রি শুরু

    সোনার দাম আবার বাড়ল: নতুন দামে বিক্রি শুরু

    বাংলাদেশে আবারো সোনার দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। টানা দ্বিতীয় দফায় এই মূল্যবিন্যাসের পরিবর্তন আসছে এবং প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি আজ আবার নতুন করে দাম হয় হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, যা গতকাল ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকার চেয়ে বেশি।

    মন্ত্রী কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নতুন এই দামের ঘোষণা দেয়া হয় এবং এটি সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে উচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। অন্য ক্যারেটের দামে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    একইসঙ্গে রুপার দামেরও বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা নির্ধারণ হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এরপর থেকেই মূল্যবিন্যাসে দর ওঠানামা চলছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠেছে ৪ হাজার ৭০০ ডলারে।

    অতীতে, ৩০ জানুয়ারি প্রায় আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে পৌঁছেছিল। গত মাসের শেষের দিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর অনেক বেশি বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একযোগে ভরি প্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে। এর ফলে, মানসম্পন্ন একটি ভরি স্বর্ণের দাম হয় দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই দামে দেশের বাজারে কখনোই এত বেশি মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি।

  • বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো, ভরির দামে পরিবর্তন

    বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো, ভরির দামে পরিবর্তন

    দেশের বাজারে সোনার দাম হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, এবার প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা কমে গেছে। ফলে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর আগে সোমবার (৪ মে) এই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    মঙ্গলবার (৫ মে) ভোরে বাজুস এই তথ্য জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটি বলেছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দাম কমার কারণে দেশের বাজারেও দাম কমতে শুরু করেছে।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্মত ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য মানের সোনার দাম হলো— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য এক ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    অন্যদিকে, সোনার দাম কমলেও রুপার দামের মধ্যে পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    বিশ্ব বাজারে যখন থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তখন থেকেই সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। এরপর মূল্য ওঠানামা করতে থাকলেও, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের রেকর্ড বলছে যে, প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৫০০ ডอลลาร์ে নেমে এসেছে।

    এর আগে জানুয়ারির শেষের দিকে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর জানুয়ারির ২৯ তারিখে এটি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

  • অর্থমূলক খাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমূলক খাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলে উঠেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা প্রভাব থাকবেনা। তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিসি কমিশনের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন, ও বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।”অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনও রাজনৈতিক নিয়োগ বা কোনও চাপ এখানে কাজ করবে না, এটি সম্পূর্ণ পেশাদার ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে। বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যত্রতত্র পদার্পণ করেছে, এর মূলধন ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল বিনিয়োগের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের সমগ্র স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।”আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, তরুণ প্রজন্মের মূল দুটি সমস্যা হচ্ছে অর্থের অভাব এবং জামানত দেওয়ার অক্ষমতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এই বাধাগুলি দূর করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি আমাদের রাজনৈতিক দর্শন ও ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ও সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে দেশের গ্রামাঞ্চল ও শহরের তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কাজ করছে।”অর্থনৈতিক খাতের শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনে সচেষ্ট থাকছে সরকার, বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে পুঁজিবাজারের সংস্কার ও নিয়মকানুনে পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশে দক্ষ পরামর্শদাতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে। ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের জন্য ক্যাপিটালাইজেশন বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে।”অমিত আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধুমাত্র ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতি উৎসাহিত করবে। অর্থমন্ত্রী এই প্রকল্পের সফলতার জন্য সব ধরনের পলিসি সাপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাংক একত্রিত হয়ে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

  • ব্যাংক খাতে লুটপাটের জন্য দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

    ব্যাংক খাতে লুটপাটের জন্য দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

    বাংলাদেশ ব্যাংক এপ্রমাণ করেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট ও প্রতারণা ঘটেছে। বিশেষ করে ২৮টি ব্যাংকের বড় অংকের ক্ষতি হওয়ার পেছনে ছয়টি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন এবং নাসা গ্রুপের নাম, যারা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য দায়ী। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকার করছে যে, এ সব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অর্থ পাচার করা হয়েছে, যার ফিরিয়ে আনার জন্য এখন নিয়মিত কাজ চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটতে না পারে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকিং খাতে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, যার বড় অংশ পাচার হয়েছে বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মালাদেহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, এস আলম, সিকদার ও নাসা গ্রুপের কারণে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও অগ্রণী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংকও এ লুটপাটের শিকার হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো যেমন ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংকও এর বাইরে নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার পাশাপাশি ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যারা কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা জরুরি। বিআইবিএম এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, একজন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কতটুকু ঋণ দিতে পারবে, কতোদিনের জন্য ঋণ নেয়া যাবে এবং কীভাবে নেওয়া উচিত—এসব নীতিমালা মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। যদি এখন তারা এ নীতিমালা লঙ্ঘন করে থাকেন বা ওয়েভার দিয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও দায়ভার রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজই হলো এসব নিয়ন্ত্রণ করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, নানা চাপের কারণে বিগত সরকারকালীন সময়ে তারা লুটেরাদের সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেছিল। তবে এখন মূল লক্ষ্য হলো চলমান তদন্তের মাধ্যমে পাচারের টাকাগুলো ফেরত আনবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এমন কাজে জড়িয়ে পড়েছেন বা বাধ্য হয়েছিলেন। সেখানে বিদেশি চাপ বা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চাপ তাদের বাধ্য করেছে—যদিও এ ধরনের পরিস্থিতিতে এফেক্টিভ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, দোষীদের বিচারের আওতায় না আনায় দেশের ব্যাংকিং খাতের আস্থা কমে যেতে পারে, যা 경제ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।