Category: অর্থনীতি

  • তৃতীয় দফায় বাড়ল আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় — নতুন সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি

    তৃতীয় দফায় বাড়ল আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় — নতুন সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এটি আয়ের কর রিটার্ন দাখিলের তৃতীয় দফার সময় বাড়ানো। একইসঙ্গে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমস্যা হওয়া করদাতারা কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হকের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ অনুযায়ী জনস্বার্থে এবং সরকারের অনুমোদনক্রমে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ ৩১ জানুয়ারি থেকে পরিবর্তন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হলো।

    অন্য একটি বিশেষ আদেশে (এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত) আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮(৪) অনুযায়ী লাইনে থাকা বেশিরভাগ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৫ এর ক্রমিক নং-১ এ যেসব করদাতার নাম উল্লেখ রয়েছে তারা এ থেকে ব্যতিরেকে থাকতে পারে।

    ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা ফাইলিংয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট করদাতা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যথাযথ কারণ দেখিয়ে উপ-কর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন পেলে তারা কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের অনুমতি পাবেন।

    এনবিআরের তথ্যমতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন; এর মধ্যে প্রায় ৩৪ লাখ করদাতা ইতোমধ্যেই তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন।

    আইন অনুযায়ী সাধারণভাবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে চলতি বছরে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে দুই দফায় মোট দুই মাস সময় বাড়ানোর পরে এবার তৃতীয় দফায় আরও এক মাস সময় নির্ধারণ করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলেই করদাতাদের জরিমানা কর এবং সরকারি কর রেয়াত বা রিবেট সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।

    এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি ও সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাকে বিবেচনা করে দ্রুতকরণের চাপ না দিয়ে নিশ্চিত, সঠিক ও শান্ত পরিবেশে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। করদাতাদের জন্য পরামর্শ—সম্ভব হলে এখনই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন সম্পন্ন করুন; সমস্যা হলে সময়মতো সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করুন।

  • এক লাফে ভরি ১৬ হাজার বাড়লো সোনা; ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াল

    এক লাফে ভরি ১৬ হাজার বাড়লো সোনা; ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার নয়, বৃহস্প‌তিবার (২৯ জানুয়ারি) সংগঠন জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকায় পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি (পিউর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ায় স্থানীয় বাজারের দামও বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার তথ্যও সংগঠন তুলে ধরেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৫৫০ ডলার অতিক্রম করেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে বিভিন্ন গুণমানের প্রতি ভরির দাম হচ্ছে— ২২ ক্যারেটের মূল্য ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা; ২১ ক্যারেট ৮ হাজার ১৬৪ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

    বাজুসের এই ঘোষণার পরে গ্রাহক ও জুয়েলারিদের মধ্যে সর্তকতা বেড়েছে; যারা সোনা-রুপা কেনার বা বিক্রির পরিকল্পনা করছেন তারা স্থানীয় ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ দাম নিশ্চিত করে নেবেন বলে বাজার সূত্রে জানিয়েছে।

  • ব্যাংকগুলো খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায়

    ব্যাংকগুলো খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায়

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের তীক্ষ্ণ বৃদ্ধি নিরসনে একজোট প্রস্তাব দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। গত ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে আলোচনার পরে সংগঠনটি এইরকম বিস্তারিত পদক্ষেপগুলোর সুপারিশ ব্যাংককে জমা দিয়েছে।

    এবিবির মূল আকাংক্ষাগুলোতে উল্লেখযোগ্য হল: খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি, তাদের আদালতের নির্দেশ ছাড়া বিদেশে যাত্রা নিষিদ্ধ করা এবং খেলাপিরা যেন কোনো ব্যবসায়িক সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে—এরকম বিধান করা। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে খেলাপি ঋণের দ্রুত নিষ্পত্তি ও পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়তা হবে বলে তারা মনে করছে।

    ঋণখেলাপি কমাতে এবিবির তিনটি প্রস্তাব

    1) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু খেলাপি ঋণ আংশিকভাবে অবলোপনের সুযোগ দেওয়া হোক।

    2) লিয়েন করা শেয়ার নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহযোগিতা নিশ্চিত করুক।

    3) মৃত্যু, মারাত্মক অসুস্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত, গৃহ বা ক্রেডিটকার্ড সংক্রান্ত সুদ মওকুফ করে দ্রুত ঋণ আদায় সক্ষম করার জন্য হেড অব আইসিসির মতামত গ্রহণের শর্ত শিথিল করা হোক।

    নগদ আদায়ে প্রস্তাবিত নির্দেশনা

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংক অথবা আদালতের ছাড়া বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি সম্বলিত তালিকা ব্যাংকগুলোকে প্রকাশ করার অনুমতি দেয়া।

    – খেলাপিদের ব্যবসায়িক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ অযোগ্য ঘোষণা করা।

    বন্ধকী সম্পদ বিক্রিতে সাফলতা বাড়াতে প্রস্তাব

    – ব্যাংকের নিলামে বিক্রয় বা কেনা সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় প্রযোজ্য সকল আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক।

    – নিলাম উৎসাহিত করতে নিলাম ক্রেতাদের আয়কর রেয়াত বা অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়া হোক।

    – জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা স্থানভেদে বাতিল করা হোক যাতে নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

    – সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো নিলামে বিক্রিত সম্পত্তির হস্তান্তরে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করুক।

    – বন্ধকদাতার অনুপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃক জমির খাজনা ও জরিপ সম্পন্ন করার সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।

    – অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যাংকের নামে মালিকানা হস্তান্তর হলে নামজারি ও বায়নানামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনা খরচে সম্পন্ন করার সুবিধা নিশ্চিত করা।

    মামলা বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত দফা

    – খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও জামানতদাতাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা আমানত, সঞ্চয়পত্র, মালিকানাধীন সম্পদের তথ্য, আয়কর রিটার্ন, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, পাসপোর্টের তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া দ্রুতগুলো দিতে সক্ষম করার বিধান।

    – ব্যাংক বা আদালতের বিরুদ্ধে আবেদন করলে মামলার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা।

    – সিআইবি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার প্রাপ্তির সুবিধা আইনি সীমার মধ্যে সীমিত করা হোক।

    – উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডারে কিস্তিভিত্তিক অর্থপরিশোধ নিশ্চিত করা এবং নির্দেশনা না মানলে সেটিকে বাতিল হিসেবে গণ্য করার বিচারপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করা।

    – উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার প্রদানে উভয় পক্ষের শুনানি নিশ্চিত করার অনুরোধ।

    – যে জেলাগুলোতে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যাবেশি, সেখানে দ্রুত পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপনের সুপারিশ।

    – থানায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আটকাদেশ তৎক্ষণাত কার্যকর করা এবং আদালত থেকে থানায় আটকের আদেশ সাত দিনের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করা।

    – অর্থঋণ মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ সীমিত করা।

    – দেওয়ানি আটকাদেশের স্থায়ীকরণ ছয় মাসের পরিবর্তে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরে উন্নীত করা।

    – দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থঋণ আইনে প্রস্তাবিত সংশোধন প্রণয়ন।

    খেলাপি ঋণ না বাড়াতে অবকাঠামোগত প্রস্তাব

    – কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীর তালিকা জরুরি ভিত্তিতে দাবি ও প্রকাশ।

    – নিবন্ধক বা তহবিল অফিসে বন্ধকী সম্পদের তালিকা সহজে যাচাই করার ব্যবস্থা করণীয়।

    – সিআইবি ডেটাবেসের মতো ব্যক্তিগত সম্পদের ডেটাবেস তৈরি করে তা সহজে যাচাইকরণযোগ্য করা।

    চূড়ান্ত চিত্র

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৫.৭৩ শতাংশ। মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা মনে করেন, উপরে উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো কার্যকর হলে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধির ধারা ঠেকানো ও সুদমুক্তি, বিক্রয় ও আদায় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা সম্ভব হবে। নীতি যদি তড়িৎভাবে গ্রহণ না করা হয়, তবে খেলাপিরা সহজ উপায়ে দায় এড়িয়ে পুনরায় ব্যবস্থার ফাঁকফোকরকে কাজে লাগাতে পারে—এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে তারা।

  • ‘প্রাণ দুধ’ চালু করলো ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’

    ‘প্রাণ দুধ’ চালু করলো ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মান জানাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশীয় তরল দুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইন।

    ক্যাম্পেইনটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে নিবেদিতখোলা খামারিদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানকে সমাজের সামনে তুলে ধরা এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্পের মাধ্যমে আরও মানুষকে দুগ্ধচাষে উৎসাহিত করা। উদ্বোধন কালে সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।

    সংস্থার জানানো মতে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (VMCC) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকায় থাকা প্রাণ ডেইরীর প্রায় ১৬ হাজার তালিকাভুক্ত খামারি রেজিস্ট্রেশন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করবেন।

    রেজিস্ট্রেশনের পর দ্বিতীয় ধাপে জমা হওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। তারা প্রথমে ১০জন ‘খাঁটি খামারি’ বাছাই করবেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে জুরিবোর্ডের দেওয়া নম্বর ও ভোক্তাদের ভোটের সমন্বয়ে সেরা তিন খামারিকে নির্বাচিত করা হবে। সেরা তিনজনকে সম্মাননা স্মারক ও প্রতিজনকে এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হবে, আর বাছাইকৃত বাকী সাতজনকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মানিত ও প্রণোদিত করতে চাই। তাদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনী তুলে ধরে মানুষকে গাভি পালনে আগ্রহী করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ, মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সুস্পষ্টভাবে জানানোও আমাদের লক্ষ্য।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খেটে খাওয়া খামারির পাশে দাঁড়িয়েছে। ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ, ভেটেরিনারি সেবা এবং অন্যান্য সহায়তার ফলে অধিকাংশ খামারির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরী’র হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈম ও প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ক্যাম্পেইনটি আগামী কয়েক মাস ধরে চলবে এবং এটি খামারিদের কষ্ট ও তাদের গল্পকে সামনে এনে দেশের দুগ্ধশিল্পকে আরও টেকসই ও উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

  • প্রাণ দুধের ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ যাত্রা শুরু

    প্রাণ দুধের ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ যাত্রা শুরু

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দিতে শুরু করেছে জনপ্রিয় তরলদুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইনের।

    ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের অনবদ্য পরিশ্রম ও অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনগল্প তুলে ধরে সমাজের আরও মানুষকে গাভিপালন ও দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে অংশ নিতে উৎসাহিত করা। অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।

    প্রাণ ডেইরীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। এই কেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ডেইরীর তালিকাভুক্ত মোট ১৬ হাজার দুটি খামারি রেজিস্ট্রেশন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন।

    রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে নাম ভূক্ত খামারিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওই খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরিবোর্ড গঠন করা হবে। জুরিবোর্ড প্রথমে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ চূড়ান্ত করবে। এরপর জুরিবোর্ডের নম্বর ও ভোক্তাদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সেরা তিন খামারি নির্ধারণ করা হবে। বিজয়ীদেরকে সম্মাননা স্মারক ও এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হবে। বাকি সাত জনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।

    ইলিয়াছ মৃধা অনুষ্ঠানে বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করতে চাই। তাদের সংগ্রামী জীবন ও সফলতার গল্প তুলে ধরে অন্যদেরও গাভি লালন‑পালনে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রাণ দুধের অঙ্গীকারও আমরা সামনে আনতে চাই।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “প্রাণ দুধ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হাজার হাজার খেটে খাওয়া খামারির পাশে দাঁড়িয়েছে। ন্যায্য মূল্য প্রদান, প্রশিক্ষণ, ভেটেরিনারি সেবা ও বিভিন্ন সহায়তার ফলে বহু খামারির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরীর হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কর্তৃপক্ষ বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় খামারিদের ক্ষমতায়ন এবং দেশি দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নতুন আন্দোলন সৃষ্টি করার আশা করা হচ্ছে।

  • স্বর্ণের নতুন রেকর্ড — ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়লো

    স্বর্ণের নতুন রেকর্ড — ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়লো

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বগতি মূর্ছিত করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্য়াসোসিয়েশন (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশ করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২,৬২,৪৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,৫০,৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,১৪,৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৭৬,৫৯৩ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, ক্রেতাদের কলে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বাজুস ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ২,৫৭,১৯১ টাকায়, যা তখন ছিল সর্বোচ্চ। সেদিন থেকে একদিন পরই আবার নতুন রেকর্ড ঠেকছে।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১১ দফায় দাম বেড়েছে এবং ৩ দফায় দাম কমেছে। তথ্য অনুযায়ী গত বছর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকায়, যা রুপারও সর্বোচ্চ মূল্য। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা। চলতি বছরে রুপার দাম মোট ১১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে।

    বাজারে স্বর্ণ-রুপার এই ধারাবাহিক মূল্য ওঠানামা গ্রাহক ও গহনার ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাজুসের ঘোষণা অনুসারে ক্রেতাদের বিক্রয়-ক্রয় করতে গেলে নতুন মূল্য ও সংযোজ্য ভ্যাট ও মজুরি বিবেচনায় রাখতে হবে।

  • চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

    চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহ পেরুতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে驚িত করে দিয়েছে। ২০২৫ সালজুড়ে চলা আন্তর্জাতিক শুল্ক যুদ্ধের চাপ সত্ত্বেও, দেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে—যা এখনো পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

    এই তথ্য প্রকাশের একদিনের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক বিশ্লেষণে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও ইউনিভার্সিটি অফ কর্নেলের অধ্যাপক ঈশ্বর প্রসাদ খোলাসা করেছেন, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় বিপদের সংকেত। তাঁর ভাষায়, এই অত্যধিক উদ্বৃত্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    অধ্যাপক প্রসাদ যুক্তি দিয়েছেন যে, চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন শিল্পের জন্য নয়, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও প্রতিযোগিতাকে কঠিন করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেকে এমনভাবে নির্ভরশীল করা, এটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও সুবিধাজনক বাণিজ্য পরিস্থিতি ভেঙে ফেলতে পারে।’’

    অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের سابق প্রধান সম্পাদক হু সিজিন এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ জানুয়ারি এক পোস্টে বলেছেন, চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের উচ্চবর্ণের লোকজনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। কারণ তারা বুঝতে পারছেন যে, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল ও টেকসই—কোনো বাণিজ্য যুদ্ধের মাধ্যমে এই অর্থনীতিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, চীন একান্তই সততা, পরিশ্রম ও বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে ব্যবসা করে যাচ্ছে, কোনও শক্তির জোর বা অন্যায় চাপের মাধ্যমে নয়।

    চীনের এই রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মূল কারণগুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনের মূল কারণ হলো শক্তিশালী রপ্তানি এবং নিম্ন গতি সম্পন্ন আমদানির বিপরীতে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুল্ক যুদ্ধের কারণে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান অঞ্চল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে আফ্রিকায় রপ্তানি দৈনিক ২৫.৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ঐতিহ্যবাহী চাহিদা ও ইউয়ানের দাম কমে যাওয়া এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে আকর্ষণীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য ঝুঁকি সংকেত
    তুলনামূলকভাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালজুড়ে চীনের মোট আমদানির পরিমাণ মাত্র ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধির মধ্যে ছিল, যা রপ্তানি বৃদ্ধির ৬.১ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। ফলে, বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার অভাব। ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রয়ে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ধারাবাহিকভাবে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে; নভেম্বর মাসে এই হার সবচেয়ে কম হয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি, স্থিতিশীল সংকটের কারণে এখনো উপযুক্ত বিনিয়োগের অভাব দেখা দিয়েছে। এক কথায়, অভ্যন্তরীন অর্থনীতির এই দুর্বলতা দৃষ্টিগোচর হয়ে উঠেছে, যার ফলে আমদানি বাড়ানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

    চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছর সাত মাসেই ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যদিও ২০২৪ সালে মাত্র একবারই এরকম ঘটনা ঘটেছিল। এই পরিস্থিতি বুঝতে আমাদের জানায় যে, শক্তিশালী রপ্তানি ও দুর্বল আমদানির এই ভারসাম্যহীনতা কোনও অপ্রত্যাশিত বা এককালীন ধারা নয়। এটি চীন ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দুটিই গুরুত্বপূর্ণ সংকেত এবং সম্ভাব্য সুফল ও পাশাপাশি ঝুঁকি বহন করে।

    বিশাল এই উদ্বৃত্তের কারণে বোঝা যায়, চীনের উৎপাদন অবস্থা কতটা শক্তিশালী। এর ফলে চীনের অর্থনীতি সচল থাকছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। এ ছাড়া, বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায়, চীন অন্য দেশগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের পণ্য সরবরাহ করে চলেছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির উপর নিয়ন্ত্রক ভূমিকা রাখছে।

    তবে, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পেছনে কিছু সমস্যা ও ঝুঁকিও লুকানো রয়েছে। অত্যধিক রপ্তানি নির্ভরশীলতা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, চীন এক অর্দ্ধ-বন্ধন চক্রে আটকে যেতে পারে, যেখানে বৈশ্বিক চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকবে। এতে করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও চাপ বাড়বে এবং চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি
    বর্তমানে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ কিছুটা শীতল হলেও, এই অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পটভূমি আবারও ট্রাম্পকে সুযোগ দিতে পারে, ক্ষতিকর ‘শুল্ক আর্টিলারি’ ব্যবহারের। অন্যদিকে, অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদাররাও সতর্ক হয়ে উঠেছে। গত বছরের প্রথম ১১ মাসে, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি উদ্বেগজনক হুঁশিয়ারি উত্থাপন করে। আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি চীন রপ্তানি নির্ভরশীল প্রবৃদ্ধিতে এখনও অবিচল থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিকে উত্তেজিত করে তুলবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও একই মঞ্চে বলেছেন যে, চীনা বাণিজ্য ভারসাম্য না ঠিক হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    অন্টার্ভু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে, চীনের সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে যে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তারা সৌরবিদ্যুৎ পণ্য রপ্তানির ভ্যাট ফেরত বা কর ফেরত ব্যবস্থা বাতিল করবে। ব্যাটারি ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে এবং আগামী বছর থেকে পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝে বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্কের ব্যাপারে একটি সমঝোতা হয়েছে, যা চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য একটা নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

    সবশেষে, প্রশ্ন হলো—এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? সব কিছু নির্ভর করছে, এই অর্থনীতির আয় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরে আসে কি না, রপ্তানির রূপান্তর ও আমদানির মধ্যে সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত হয় কি না, এবং বাজারগুলো আরও উন্মুক্ত হয় কি না—তার উপর। তবে, বাস্তবতা দেখাচ্ছে যে, এই পরিস্থিতি এমন কিছু নয় যা খুবই আশাব্যঞ্জক বা খুবই উদ্বেগজনক—মাঝপথে রয়েছে নানা দিক।

  • সোনার দাম এক দিনেই ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়াল

    সোনার দাম এক দিনেই ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়াল

    এক দিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এদিকে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে এখন সোনার মূল্য দুই লাখ ৫২ হাজার ৫০৭ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। নতুন এই দাম আগামীকাল, ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দামে বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে।

    বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দাম সম্পর্কিত সবচেয়ে বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’র তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়ে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা, অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি গিয়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ভরি মূল্য হয়েছে দুই লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গেই বেড়েছে রুপার দামও। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি রুপা ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা।

  • স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) থেকে। এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে প্রায় ৫ হাজার ২৪৯ টাকার বেশি মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম ইতিহাসে কোনো সময় এত বেশি নয়।

    বাজুসের পক্ষ থেকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দাম আগামী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের বাজারে দামে ব্যাপক বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে, স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন কিনতে পাওয়া যাবে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্যও উঠেছে, যেখানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণেরএক ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকায়।

    বাজুস জানিয়েছে, এই দাম অনুযায়ী বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত কমপক্ষে ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনা তৈরির নকশা ও মানের উপর নির্ভর করে মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

    অতীতে, ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকায়। সেই সময় এটি ছিল সর্বোচ্চ দাম। অন্য ক্যারেটগুলোতেও দাম বাড়ানো হয়েছিল।

    এ অবস্থায় চলতি বছর মোট ১৪ দফায় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, আর ৩ দফা দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে মোট দফা দাম সমন্বয় হয়েছে ৯৩ বার—যার মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪ বার আর কমেছে ২৯ বার।

    বাজারে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে রুপার সবচেয়ে উচ্চ মূল্য। নতুন দামে ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হবে ৭ হাজার ৪০৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের জন্য ধার্য হয়েছে ৬ হাজার ৩৫০৭ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১ দফায় রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে।

  • স্বর্ণের দামে রেকর্ড ভাঙল ইতিহাস

    স্বর্ণের দামে রেকর্ড ভাঙল ইতিহাস

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টাকায়, ফলে নতুন দাম দাঁড়াল ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। এই বাড়তি মূল্য যুক্ত হওয়ায় সোনার সর্বশেষ দামগুলো ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়। আগামী সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

    রোববার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা: দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে, এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি মূল্য ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা, যা আগে থেকে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বেশি। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনা এখন ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা, যেখানে দাম বেড়েছে ১ হাজার ২৮৩ টাকার। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা, বাড়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামে भी বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে এখন ৭ হাজার ২৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম হয়েছে ৬ হাজার ৪০৮ টাকা (বাড়ে ৪০৮ টাকা), ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা হয়েছে, বৃদ্ধি হয়েছে ২৩৩ টাকা।

    এর আগে, ২২ জানুয়ারি ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ৮ হাজার ৩৯৯ টাকা, আগের দিন ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ২০ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১ হাজার ৫০ টাকার মতো মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল।