Category: অর্থনীতি

  • জ্বালানির দাম দুই বছরে শীর্ষে — বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত

    জ্বালানির দাম দুই বছরে শীর্ষে — বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার তীব্রতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের সর্বোচ্চ স্থরে পৌঁছেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করেছেন যে উপসাগরীয় তেল-গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

    ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাবি বলেন, চলমান সংঘাত স্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে গেলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করে দিতে পারে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯%-এর বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৩ ডলারে পৌঁছায় — যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ।

    জ্বালানি বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব পড়বে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিটিং, খাদ্য উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের দামও দ্রুত বাড়তে পারে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সামরিক হামলার কারণে অস্থায়ীভাবে বন্ধ আছে; কাবি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধে যদি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ীত্ব পায় তেলদামের মূল্য প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছতে পারে।

    কাবি আরও বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রবৃদ্ধি দমে যাবে, জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হবে এবং কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ফলে পণ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দেবে।

    বিশ্ববাজারে পরিস্থিতির একটি বড় কারণ হলো হরমুজ প্রণালী — যেখানে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের পর এই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলত চীন, ভারত ও জাপানসহ তেল আমদানিতে নির্ভর দেশগুলোর জন্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই অবস্থা ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সামনে এমন এক সংকটের সন্ধিক্ষণ যেখানে বলা কঠিন এটি সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাহার। যদি সরবরাহ দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

    যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফিস অব জেনারেল এনার্জি মার্কেটস (অফজেম) পরিস্থিতি নজরদারি করছে। ইতোমধ্যেই ব্রিটেনে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের সর্বোচ্চতে উঠেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করান যে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে কিছুদিনের তেল মজুদ থাকলেও তা সিমিত। মজুদ ফুরিয়ে গেলে এবং উৎপাদন ব্যাহত হলে বিশ্ববাজার কষ্টে পড়ে যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক সরকার জরুরি তেল মজুদ বাজারে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে — ঠিক যেভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় করা হয়েছিল।

    সামগ্রিকভাবে, যদি সংঘাত শিগগির না থামে তাহলে তেলের স্বল্পমেয়াদি শক বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়াবে, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেবে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ধাক্কা দেবার সম্ভাবনা থাকবে।

  • বাজুসের ঘোষণা: প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমলো সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    বাজুসের ঘোষণা: প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমলো সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত সোনার দাম কমানো হয়েছে। এতে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরির দাম দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসে এখনই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।

    বাজুস সোমবার (০৯ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সমিতি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দামের পতনের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম কমিয়েছে তারা।

    নতুন নির্ধারিত দামগুলো হলো — ২২ ক্যারেট: এক ভরি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা; ২১ ক্যারেট: এক ভরি ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা; ১৮ ক্যারেট: এক ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম: ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা।

    রুপার দামও কমেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা; ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা; ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।

    বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে সোনার দাম বেড়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে বাজারে দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার মূল্যের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রয়েছে ৫,০৯০ ডলার; যেখানে গতকাল ছিল ৫,১৭০ ডলার। পূর্বে ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলার।

    উল্লেখ্য, মাসের শুরুতে বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারেও দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল। গত ২৯ জানুয়ারিতে বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা হিসেবে অ্যাকর্ড করা হয়। ঐ সময়ের সেই একক বাড়ি এতোটাই ব্যতিক্রম—আগের যুগে এতো বাড়ানো হয়নি।

  • বাজুস জানাল: সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা কমল

    বাজুস জানাল: সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা কমল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) জানিয়েছে, সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেজাবি (পিওর গোল্ড বা শুদ্ধ সোনা) দামের পতনের কারণে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে ২,৬৪,৯৪৮ টাকা। অন্যান্য কিমতগুলো হলো: ২১ ক্যারেট ২,৫২,৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,১৬,৭৭৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৭৬,৯৪৩ টাকা।

    রুপার দামও পাশাপাশি কমেছে। ২২ ক্যারেটের জন্য এক ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ৬,৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬,০৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপা ৩,৯০৭ টাকা প্রতি ভরি।

    আন্তর্জাতিক বাজারেও গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংকটের প্রভাব পড়ে স্বর্ণের দাম উঠেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম পুনরায় নামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের একটি স্বীকৃত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫,০৯০ ডলার; গতকাল এটি ছিল ৫,১৭০ ডলার। তার আগে ৩০ জানুয়ারি ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলার দেখানো হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ার ফলে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একপর্যায়ে প্রতি ভরিতে ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ২,৮৬,০০০ টাকায় পৌঁছে যায় — যা তখন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। বর্তমান দাম পুনরায় নেমে আসায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাজারে আচরণে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলদাম দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতির সতর্কতা

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলদাম দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতির সতর্কতা

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম গত দুই বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে—যা বিশ্ববাজারে চরম ঝুঁকি তৈরি করবে।

    কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একযোগে ৯ শতাংশের বেশি বাড়ে এবং প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারের উপর উঠে যায়, যা ২০২৩ সালের শরৎকাল পর সর্বোচ্চ মূল্য।

    কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের একটি এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সামরিক হামলার কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। কাবি বলেন, যুদ্ধ несколько সপ্তাহ স্থায়ী হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে।

    জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বজায় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তা তীব্রভাবে পড়বে—পরিবহন খরচ বাড়বে, হিটিং ও খাদ্যপণ্যের দাম চড়া হবে এবং আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যও অনেকটাই উপরে উঠবে। কলকারখানায় উৎপাদন কমলে সরবরাহ শৃঙ্খলে সংকট আরও গভীর হবে এবং সামষ্টিক জিডিপি বৃদ্ধিও থেমে যেতে পারে।

    বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের মতো হয়ে যাওয়ায় চীন, ভারত ও জাপানসহ বড় ভোক্তা দেশগুলো কাঁচা তেল সরবরাহে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আমরা এমন একoint সময়ে দাঁড়িয়ে আছি—এটি কি একটি সাময়িক ঢেউ নাকি একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সূচনা, তা স্পষ্ট নয়। সরবরাহ যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থবির থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

    যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ ও জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফিস অফজেম পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে; ইতোমধ্যেই সেখানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করান যে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে কয়েক সপ্তাহের মজুদ রয়েছে, মজুদ ফুরিয়ে গেলে এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজার সামলানো কঠিন হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারগুলো জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে—যা আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল।

    সংক্ষেপে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেবল ঐ অঞ্চলেরই নয়, সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এখনই বড় সতর্ক সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কেমন দিকে মোড় নেবে—তা আগামী কয়েক দিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতিতে সতর্কতা

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতিতে সতর্কতা

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন যে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে—এমনকি সাময়িক বন্ধই বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

    কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে দুর্দশার দিকে ঠেলে দিতে পারে। গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল আনুমানিক ৯৩ ডলারে পৌঁছিয়েছে—এটি ২০২৩ সালের শরতের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তর।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে, হিটিং ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যও তীব্রভাবে রেকর্ড বাড়বে। সংক্ষিপ্ত মেয়াদে এইসব প্রভাব সরাসরি দুর্বল আয়ের মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে।

    কাতার এনার্জি জানিয়েছে যে তাদের একটি এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সামরিক হামলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাদ আল-কাবি আরও বলেন, ‘‘যদি যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।’’ তিনি আশঙ্কা করেন যে দামের এমন উত্থান বিশ্বজুড়ে উৎপাদন বন্ধ এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ডেকে আনবে।

    বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হার্মুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে চীন, ভারত ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো—যারা ওই রুটের ওপর নির্ভরশীল—ভারের সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘‘বাস্তব ঝুঁকি’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে স্পষ্ট নয় এটি সাময়িক সংকট নাকি একটি বিশাল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শুরু। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ব সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।’’

    যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ভোক্তা ও ব্যবসার খরচ বাড়াবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে কয়েক সপ্তাহের তেল মজুদ থাকলেও তা শাসিত সাময়িক সমাধান; যদি মজুদ ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকে, তখন বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি প্রশমনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি তেল মজুদ বাজারে ছাড়ার কথা বিবেচনা করতে পারে—যা আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেখা গেছে।

    সংক্ষিপ্তভাবে—মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এখন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানির নিরাপত্তার উপর সরাসরি ছায়া ফেলেছে। দ্রুত বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা না হলে ভোক্তা-মূল্য ও উৎপাদন খরচে প্রসারিত চাপ বিশ্বজুড়ে অনুভূত হবে।

  • প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমলো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমলো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে, সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরিপ্রতি দাম আবারও দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।

    বাজুস সোমবার (০৯ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানায়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর কমে আসায় স্থানীয় বাজারেও মূল্যসমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম নির্ধারিত হয়েছে ২,৬৪,৯৪৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য রাখা হয়েছে ২,৫২,৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,১৬,৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১,৭৬,৯৪৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও কমেছে। ২২ ক্যারেট হিসেবে প্রতি ভরির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৬,৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬,০৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫,১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩,৯০৭ টাকা ধরা হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে আজ স্থানীয় বাজারে দাম আবার কমার লক্ষণ দেখা গেছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রয়েছে ৫,০৯০ ডলার; যা গতকালের তুলনায় (৫,১৭০ ডলার) কম। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারিতে ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলারে উঠে গিয়েছিল।

    এর আগে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করলে দেশে মূল্যও রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬,২১৩ টাকা করে বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দামকে ভরিপ্রতি ২,৮৬,০০০ টাকায় পৌঁছে দিয়েছিল—যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড হয়েছিল।

    অতঃপর চলমান বিশ্ববাজার ও স্থানীয় চাহিদার ওঠানামার মধ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য বাজার এখন ধীরস্থিরতা ও মূল্যসঙ্কোচন যেন এক প্রকার স্বস্তির সংকেত দিচ্ছে।

  • জ্বালানি তেল দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত

    জ্বালানি তেল দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে—এই ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি বোঝায়।

    সাদ আল-কাবি ব্রিটিশ পত্রিকা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৩ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৩ সালের শরৎকাল পরবর্তী সর্বোচ্চ।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের এমন উত্থান অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনে তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে। পরিবহন খরচ বেড়েবেই, পাশাপাশি হিটিং, খাদ্যপণ্য ও আমদানিকৃত জিনিসপত্রের দামও তীব্রভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের একটি এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সামরিক হামলার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। মন্ত্রী কাবি সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয় তাহলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারের মতো উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারে।

    কাবি আরও জানিয়েছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে পারে; জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হবে এবং উৎপাদন বন্ধের ফলে পণ্যের সঙ্কট তৈরি হবে।

    বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মধ্যদিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চীন, ভারত ও জাপানের মতো তেলে নির্ভর দেশগুলো সংকটের মুখে পড়েছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই অবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বাস্তব ঝুঁকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে বলা কঠিন সেটা কি কেবল সাময়িক ব্যাঘাত নাকি একটি বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শুরু। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

    যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফিস অফজেম পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যেই সেখানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

    বিশ্লেষকেরা মনে করান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে কয়েক সপ্তাহের তেল মজুদ থাকলেও তা শেষ হলে এবং উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজার কণ্ট্রোল করা কঠিন হবে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অনেক দেশের সরকার জরুরি তেল মজুদ বাজারে ছাড়ার মতো বিকল্প বিবেচনা করতে পারে—যেমনটি অতীতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের সময় দেখা গিয়েছিল। এখন ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, এবং আগামিকাল পর্যন্ত বিশ্ববাজার ও নীতিনির্ধারকদের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে পরিস্থিতির চরমতা কতটা বাড়ে।

  • আন্তর্জাতিক দরপতনের পরে দেশে সোনার দাম ভরিতে প্রায় ৯ হাজার টাকায় ঝড়ি কমল

    আন্তর্জাতিক দরপতনের পরে দেশে সোনার দাম ভরিতে প্রায় ৯ হাজার টাকায় ঝড়ি কমল

    আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দরপতনের প্রেক্ষিতে দেশে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নামিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সমিতির বুধবার (৪ মার্চ) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চভাবে প্রতি ভরিতে ৯ হাজার ২১৪ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের মানসম্পন্ন এক ভরির সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা—গতকাল যা ছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা। নতুন দাম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর কমার কারণে স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বেঁধে দেয়া নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য শ্রেণির মূল্য হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে রুপার (রূপা) দামও কমেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ২৪০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা প্রতি ভরি।

    বিশ্ববাজারে গত তিনদিন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনার প্রভাবে স্বর্ণের দর বাড়ছিল। তবে আজ সকালে বিশ্ববাজারে দরপতন দেখা গেছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দর সংক্রান্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে রহমান, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৬৪ ডলার, যেখানে গতকাল ছিল ৫ হাজার ৩৫৯ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত ওঠানামা করা নজির রয়েছে।

    এদিকে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দামের তীব্র উত্থানের ফলেই দেশে মূল্যরেকর্ড সংযুক্ত হয়ে ওঠে। ২৯ জানুয়ারি এক দিনে বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এক সময় পৌঁছে দিয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়—যেটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে ধরা হয়। তবে সেই উত্থানের পরে সাম্প্রতিক দরপতনের কারণে বাজার আবার নরম হয়েছে।

  • ভরিতে সোনার দাম ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমলো

    ভরিতে সোনার দাম ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমলো

    আন্তর্জাতিক বাজারে পতনের প্রভাব পড়ায় দেশি বাজারেও সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বুধবার (৪ মার্চ) বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম দুই লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায় নেমে এসেছে; গতকাল এটি ছিল দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, নতুন এই দাম সোমবার নয়—বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে যে দাম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে টেকনিক্যাল ও রাজনৈতিক কারণে পিওর গোল্ডের দর কমার ফলে স্থানীয় বাজারেও দর সমন্বয় করা হচ্ছে।

    নতুন দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরনো কায়দা) প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।

    রুপার দামও পাশাপাশি কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম প্রতিভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা করা হয়েছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুসারে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এখন ৫,১৬৪ ডলার; যা গতকালের ৫,৩৫৯ ডলারের তুলনায় কমতি দেখা যায়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল নিয়ে উত্তেজনার কারণে গত কয়েকদিন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করলেও আজ দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।

    প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কড়া ওঠানামা থাকায় দেশি বাজারেও রেকর্ড স্তরে সোনার দাম বাড়েছিল। ২৯ জানুয়ারি একদিনে ভরি প্রতি দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে বাজুস এক ধাক্কায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছিয়েছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চ পরিমাপে ভরি মূল্যের রেকর্ড।

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: তেলদাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতি সতর্ক

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: তেলদাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতি সতর্ক

    মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের নতুন সংকেত জাগিয়েছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে—এমনটি ঘটলে বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে।

    কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছয়-পাঁচের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ মান বলে গণ্য করা হচ্ছে।

    জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম এইভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি হিটিং ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাবে, এতে খাদ্য ও আমদানিকৃত কাঁচামালের দামও তীব্রভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে সামরিক হামলার কারণে কিছু উৎপাদন স্থগিত রাখতে হয়েছে। কাবি আশঙ্কা করেন, যদি যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয় তবে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারের কাছাকাছি উঠতে পারে।

    কাবির বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী সংকট বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধীর করে দেবে এবং কল-কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট পণ্যের তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে।

    বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে এই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ন্যূনতমে আসায় চীন, ভারত ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতিগুলোকে সরবরাহ বিপর্যয়ের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

    রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে বোঝা যাচ্ছে না এটি সাময়িক বিন্দুমাত্র উত্তেজনা নাকি বৃহৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সূচনা। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকে, তবে বিশ্বসমষ্টিগত অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

    যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে ওই দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম গত ১৬ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছাকাছি কয়েক সপ্তাহের তেল মজুদ রয়েছে, তবুও মজুদ ফুরিয়ে গেলে আর পুরোপুরি উৎপাদন চালু না হলে বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কিছু দেশ জরুরি তেল মজুদ বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিতে পারে—করণীয় যে কৌশল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও ব্যবহৃত হয়েছিল।

    এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সরকার, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো উভয়ই সতর্ক অবস্থায়—অর্থনৈতিক ক্ষতি সীমিত রাখতে রাজনীতি ও কূটনীতিক পর্যায়ে দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্তর ও সরবরাহ নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।