Category: অর্থনীতি

  • জিডিপি বৃদ্ধির গতি ফের ধীর, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপি বৃদ্ধির গতি ফের ধীর, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বরে) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বৃদ্ধির হার ফের নিম্নমুখী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংবাদমতে ওই প্রান্তিকে বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের growth ছিল ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের growth ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। লক্ষণীয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি—৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকে এ খাতে বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে খুবই কমেছে। অন্যদিকে কৃষি ও সেবা খাতে প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৃদ্ধির হার বেড়েছে।

    পূর্ববর্তী অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ০৫ শতাংশ; এরপর প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও কমে গেল।

    প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা শিল্প ও পরিবহন খাতে কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। এছাড়া সূত্রে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সীমা থেকে আন্তর্জাতিক সংঘাত বৃদ্ধির পর গ্যাস ও তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়েছে, যা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং মূল্যবৃদ্ধি এনেছে। এসব কারণ মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ralent হচ্ছে।

    আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারী অর্থায়নে ঘাটতি—বিগত অন্তর্বতীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময়ে অর্থসংকট থাকার ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তহবিলে বাধা পড়েছে, যা পরিকল্পিত কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখতে সমস্যা তৈরি করেছে।

    অবশেষে, জিডিপিতে শিল্প খাতের যে গুরুত্ব তা বিবেচনায় রেখে এ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রয়াত হলে বছরের সমষ্টিগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। শিল্প খাতের দুর্বলতা পুরো অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই শীঘ্রই অবস্থা স্থিতিশীল করে তুলতে নীতি ও বাস্তবায়নে মনোযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাত গভীর আর্থিক চাপের মুখে পড়েছিল; ১৭টি ব্যাংক নিট থেকে লোকসান ঘোষণা করেছিল। এই অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রভাব পড়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) খাতেও—ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় গত বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    সেন্ট্রাল ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট খরচ করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ। গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সবচেয়ে কম ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সেক্টরে ন্যূনতম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে—যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেখাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য দেখায়, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের (৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা) তুলনায় প্রায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকারও বেশি—প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    ব্যালান্সশিটের অবনতি, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংকিং খাতে প্রকাশিত অনিয়ম-লুটপাট এসব পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের (জুন–জুলাই) ছাত্র-জনতার আন্দোলন, আগস্টে সরকার পরিবর্তন ও সেই সময়কার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে নানা ব্যাংকের অনিয়ম, ঋণ অনুষঙ্গ ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রচারে আসায় কাগজে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হয়; খেলাপি ঋণ বাড়ায় বাস্তব লোকসানও সামনে আসে। বিশেষ করে শরিয়ারভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বেশি চাপে পড়েছে এবং কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ-অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এসব কারণে দুর্বল অবস্থায় পড়া ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরে আনতে সরকার একাধিক банка একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর ব্যয় কমার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ কমে আসা। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠানসহ নানা খাতে অনুরোধের ভিত্তিতে ব্যয় করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরে চলে যেত। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পরে এসব চাপ অনেকটাই কমেছে; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে যাচাই-বাছাই করে খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়ন্ত্রিত চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়; তা হলে সিএসআর-এর মূল সামাজিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়—এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষার জন্য, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য উপযোগী খাতে ব্যয়ের কথা বলা আছে। বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না; ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) সিএসআর ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্যখাতে তুলনামূলকভাবে বেশি, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। এসব ব্যাংকের নাম: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকদের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এদের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আর্থিক চাপ, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও রাজনৈতিক প্রভাব মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ের ধরণ ও পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাতকে স্থিতিশীল করতে এবং সিএসআর অর্থ সমাজের বাস্তবে পৌঁছে দিতে নিয়ম-নীতি কড়াকড়ি করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও প্রকল্পগুলোর ফলাফল-পর্যালোচনা জরুরি।

  • জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফের ধীর: অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফের ধীর: অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্লো হয়ে এসে ৩.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকের ৩.৩৫ শতাংশ এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের ৪.৯৬ শতাংশের থেকে কম। এসব তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিএসের রিপোর্ট ও বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়া এবং সরবরাহে বিঘ্ন জনিত কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। দেশের ভেতরেও জ্বালানির সংকট ও সরবরাহ ঝামেলা দেখা দেয় ফলে শিল্পখাতে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে তহবিল ও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।

    খাতে ভাগাভাগি অনুযায়ী গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৪.৪৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতেই প্রবৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি — ৬.৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতের এই বড় ধরনের কমতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে আরও সীমিত করেছে।

    গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ; চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে উঠে আসে, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও নিচে নেমে এসেছে। চূড়ান্তভাবে বছরের শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে — বিশেষত কারণ শিল্পখাতই জিডিপিতে বড় অবদান রাখে এবং এ খাতের প্রবৃদ্ধি যখন ক্ষীণ হয় সার্বিক লক্ষ্যমাত্রার পথে বাধা তৈরি হয়।

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে প্রায় অর্ধেক

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে প্রায় অর্ধেক

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাত বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে এবং এর পরভাব দেখা দিয়েছে ২০২৫ সালে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) মধ্যে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে — যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকে সিএসআর ব্যয়ে সর্বনিম্ন রেকর্ড।

    তথ্যগুলো দেখায়, ২০১৫ সালের ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার রেকর্ডের পর এবার সেচ্ছাসেবামূলক এই খাতে ব্যয় পুনরায় নিম্নমুখী হয়েছে — সেই বছরের তুলনায় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ হ্রাস। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে এই ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    ব্যাংকখাতের শীর্ষস্থানীয়রা ও বিশ্লেষকরা বলছেন এর পেছনে প্রধান কারণটি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য ফাঁস। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি জুন-জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলন ও পরে সরকার পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রমে চাপ পড়ে। একই সময়ে অনেক ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় কাগজে প্রদর্শিত মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিও স্পষ্ট হয় এবং কিছু শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক বিশেষভাবে বড় চাপে পড়ে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে সিএসআর খাতে ব্যয় বাড়াতে হতো; অনেক সময় সেই ব্যয় প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে এলে ব্যাংকগুলো তুলনায় জামেলা কমিয়ে পরিকল্পনামাফিক সিএসআর ব্যয় করতে শুরু করেছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ণ হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনায় বলা আছে, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে: তার মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না — ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে পোষণ পেয়েছে মাত্র ১০%।

    প্রতিবেদন বলছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখ আছে, ২০২৪ সালে মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেঃ জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহীর কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    উল্লেখ্য, এসবের মধ্যে ছয়টি লোকসান করা ব্যাংক সিএসআর খাতে তবু কিছু ব্যয় করেছে — এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশাল ইসলামী ব্যাংক।

    সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জনপ্রতিবাদী আন্দোলন, প্রকাশিত অনিয়ম এবং বাড়তি খেলাপি ঋণের প্রভাব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর আর্থিক যোগ্যতা ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে পুনরুদ্ধারের জন্য কঠোর আর্থিক শাসন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও নীতিনির্ধারকদের নিরপেক্ষ সমন্বয় জরুরি।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের ধীর; অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের ধীর; অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ফের কমে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা গত প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশের তুলনায় অনেক নিচে এবং এক বছর আগে একই সময়ে হওয়া ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশের থেকেও কম।

    সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরোধ এবং অন্যান্য অঞ্চলভিত্তিক সংঘাত জ্বালানি-পরিপল্লায় চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সরবরাহে বিঘ্নতা ঘটিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের প্রভাবেই দেশে উৎপাদন ও সরবরাহচেইনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ralent হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন ব্যাহত করেছে—এসব কারণ মিলিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    ক্ষেত্রভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত প্রান্তিকে সবচেয়ে নিচু প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে—শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পখাতেই ছিল সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি—৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতে এরকম তীব্র স্লিপ অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। কৃষি ও সেবা খাতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা বৃদ্ধি হলেও শিল্পখাতের ধীরগতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে তন্নতন্ন করেছে।

    এর আগে গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ০৫ শতাংশ; প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই পতনYear‑end লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে, কারণ জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদানটিই আসে শিল্প খাত থেকে এবং ওই খাতের দুর্বলতা পুরো বছরের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    বিবিএসের প্রতিবেদন ও অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিবেশ পুনরায় সক্রিয় না হলে সামনের মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্থিতিশীল হওয়া চ্যালেঞ্জিং হবে।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

    চলমান অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট জিডিপির বৃদ্ধির হার আবার কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে জিডিপির বৃদ্ধি হার ছিল ৩.০৩ শতাংশ, যা এর আগে জুন-সেপ্টেম্বরে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। এর আগে গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। এ তিনের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি এই প্রান্তিকে হওয়ায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়ে গেছে।

    বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে দেশের জ্বালানির সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগে ব্যাহত হচ্ছে, যা পুরো অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে, যেখানে বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৮২ শতাংশ, যা এখন অনেক কমে গেছে। কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে উন্নতি হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরে ধীর হয়ে পড়ে।

    অর্থনীতির মূল ভিত্তি শিল্প খাতে বেশি হলেও, এই খাতের প্রবৃদ্ধির কমতির কারণে মোট জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, কিন্তু পরে আবার কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবেশের কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরতি ধাক্কা খাচ্ছে, যা সামগ্রিক হলেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।

  • সংসদে প্রকাশ শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান, এর মধ্যে ১০টি এস আলমের

    সংসদে প্রকাশ শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান, এর মধ্যে ১০টি এস আলমের

    ২০২৫ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্র“পের মালিকানাধীন। সোমবার সংসদে ওই তালিকা উত্থাপন হলেও ঋণের মোট পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় তিনটি প্রতিষ্ঠান সিকদার গ্র“পের, সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্র“পের দু’টি এবং বিএনপি’র সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মালিকানাধীন সিটিসেলও রয়েছে। অর্থমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন যে, বর্তমানে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমপিদের থাকা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে আদালতের নির্দেশনায় ৩৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা এখনো খেলাপি হিসেবে গণ্য হয়নি। সংসদে বিএনপি’র হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান এবং শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নামও প্রকাশ করেন। এর মধ্যে প্রথম চারটিসহ মোট পাঁচটি এস আলমের। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিট্যাবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস, সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, চেমন ইস্পাত, এস আলম ট্রেডিং, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস, ও মুরাদ এন্টারপ্রাইজ। অন্যদিকে, তালিকায় রয়েছে সালমান এফ রহমানের দুটি প্রতিষ্ঠান এবং সিকদার গ্র“পের তিনটি প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো’র দুইটি হলো বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি ও বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস। সিকদার গ্র“পের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট, জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট, ও সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি। এছাড়া মধ্যমে রয়েছে কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল), কর্ণফুলি ফুডস, ও রংধনু বিল্ডার্স। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ত্রৈমাসিক আলোচনা, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঋণ রেকভারি জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আইনগত পদক্ষেপ, লিগ্যাল টিমের সশক্তিকরণ, এবং_target অনুযায়ী খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। এছাড়া, ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বিভিন্ন নীতিমালা হালনাগাদ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশে এখনো মোট ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা নিবৃত্ত করতে কাজ চলছে।

  • অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা

    অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মোট গড় আয় বর্তমানে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি, সরকার আগামী এক দশকে দেশের অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর একটি বিশাল লক্ষ্য মেনে নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটিকে অর্থনৈতিক মহাশক্তিতে রূপান্তর করার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার। সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামের সভাপতিত্বে এ অধিবেশনে আলোচনা হয়।

  • স্বর্ণের দাম কিছুটা কমল, রুপার দামও হ্রাস

    স্বর্ণের দাম কিছুটা কমল, রুপার দামও হ্রাস

    দেশের বাজারে টানা চার দফা মূল্যবৃদ্ধির পর স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকায়। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের মতে, এই দাম কমানো হয়েছে দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমানোর ফলে। এর ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা, যা আগের তুলনায় কম। এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও হ্রাস পেয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন মূল্য ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা, ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    এর আগে, ১ এপ্রিল বাজুস স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের ভরি দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা বেঁধেছিল, যা সেদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল। তখন ভরি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, ফলে দাম বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি মূল্য ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা, ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।

    এটি হল এই বছর স্বর্ণের মূল্যের প্রথম পরিবর্তন নয়; এ বছর বেশ কয়েক দফায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে, মোট ৫২ বার। এর মধ্যে দাম ৩০ বার বেড়েছে, আর কমেছে ২২ বার। ২০২৩ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

    অন্যদিকে, মূল্য কমানোর সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামেও হ্রাস ঘটেছে। এবার ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকায়। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের রুপার মূল্য ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।

  • ২০২৪ সালে লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সালে লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি সংগ্রামপূর্ণ বছর ছিল। অর্থনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে একাধিক ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যেখানে কিছু ব্যাংক ভালো মুনাফা করলেও, বেশিরভাগ ব্যাংকের আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। এর ফলস্বরূপ, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় ব্যাপক হারে কমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বছর সিএসআর ব্যয়ে লক্ষ্য করা গেছে নাটকীয় পতন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) দেশের ৬১টি ব্যাংক মাত্র ৩৫২ কোটি ৯ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়, এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ফলে, দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর এই খাতে ব্যয় ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয়ে ছিল মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছিল মোট ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, আর ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। পরবর্তী দু বছরে মোট সিএসআর ব্যয় কমেছে বেশি than ৫০ শতাংশ।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয়ে এই কমতির অন্যতম কারণ হলো, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন ও সরকারের পরিবর্তনের প্রভাব। জুন-জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকিং খাতে বেশ বড় ধরনের চাপ পড়ে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনিয়ম, লুটপাট এবং অর্থ পাচারের ঘটনা প্রকাশ পেতে শুরু করে, যা প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি উন্মোচনে সহায়তা করে। এর ফলে, ব্যাংকগুলোর প্রকৃত লোকসান ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে, বেশ কটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর জের ধরে সরকার বিভিন্ন ব্যাংক একীভূত করার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়ে থাকে।

    ব্যাংকারদের অভিমত, রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও সিএসআর ব্যয় কমার প্রত interconnected এর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো, আগে রাজনৈতিক চাপের কারণে ব্যাংকগুলো অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় বা অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় করতো। তবে ২০২৪ সালে, আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর এই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলো অধিকতর বিবেচনা করে সিএসআর ব্যয় পরিচালনা করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে এই অর্থ সামাজিক দায়িত্বের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়, যা সমাজের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার নির্দিষ্ট একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে।

    তবে, বাস্তবে দেখা গেছে, এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় ছিল প্রায় ২৮.৫ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হলেও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ব্যয় মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, এই বছর লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    বিশেষ করে জানানো হয়েছে, ছয়টি ব্যাংক এমন রয়েছেন, যারা মুনাফা অর্জন না করেও তাদের সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।