Category: অর্থনীতি

  • সোনার দাম আবার বাড়ল: নতুন দামে বিক্রি শুরু

    সোনার দাম আবার বাড়ল: নতুন দামে বিক্রি শুরু

    বাংলাদেশে আবারো সোনার দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। টানা দ্বিতীয় দফায় এই মূল্যবিন্যাসের পরিবর্তন আসছে এবং প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি আজ আবার নতুন করে দাম হয় হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, যা গতকাল ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকার চেয়ে বেশি।

    মন্ত্রী কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নতুন এই দামের ঘোষণা দেয়া হয় এবং এটি সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে উচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। অন্য ক্যারেটের দামে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    একইসঙ্গে রুপার দামেরও বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা নির্ধারণ হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এরপর থেকেই মূল্যবিন্যাসে দর ওঠানামা চলছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠেছে ৪ হাজার ৭০০ ডলারে।

    অতীতে, ৩০ জানুয়ারি প্রায় আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে পৌঁছেছিল। গত মাসের শেষের দিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর অনেক বেশি বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একযোগে ভরি প্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে। এর ফলে, মানসম্পন্ন একটি ভরি স্বর্ণের দাম হয় দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই দামে দেশের বাজারে কখনোই এত বেশি মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি।

  • বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো, ভরির দামে পরিবর্তন

    বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো, ভরির দামে পরিবর্তন

    দেশের বাজারে সোনার দাম হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, এবার প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা কমে গেছে। ফলে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর আগে সোমবার (৪ মে) এই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    মঙ্গলবার (৫ মে) ভোরে বাজুস এই তথ্য জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটি বলেছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দাম কমার কারণে দেশের বাজারেও দাম কমতে শুরু করেছে।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্মত ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য মানের সোনার দাম হলো— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য এক ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    অন্যদিকে, সোনার দাম কমলেও রুপার দামের মধ্যে পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    বিশ্ব বাজারে যখন থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তখন থেকেই সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। এরপর মূল্য ওঠানামা করতে থাকলেও, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের রেকর্ড বলছে যে, প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৫০০ ডอลลาร์ে নেমে এসেছে।

    এর আগে জানুয়ারির শেষের দিকে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর জানুয়ারির ২৯ তারিখে এটি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

  • অর্থমূলক খাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমূলক খাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলে উঠেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা প্রভাব থাকবেনা। তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিসি কমিশনের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন, ও বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।”অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনও রাজনৈতিক নিয়োগ বা কোনও চাপ এখানে কাজ করবে না, এটি সম্পূর্ণ পেশাদার ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে। বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যত্রতত্র পদার্পণ করেছে, এর মূলধন ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল বিনিয়োগের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের সমগ্র স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।”আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, তরুণ প্রজন্মের মূল দুটি সমস্যা হচ্ছে অর্থের অভাব এবং জামানত দেওয়ার অক্ষমতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এই বাধাগুলি দূর করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি আমাদের রাজনৈতিক দর্শন ও ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ও সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে দেশের গ্রামাঞ্চল ও শহরের তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কাজ করছে।”অর্থনৈতিক খাতের শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনে সচেষ্ট থাকছে সরকার, বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে পুঁজিবাজারের সংস্কার ও নিয়মকানুনে পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশে দক্ষ পরামর্শদাতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে। ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের জন্য ক্যাপিটালাইজেশন বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে।”অমিত আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধুমাত্র ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতি উৎসাহিত করবে। অর্থমন্ত্রী এই প্রকল্পের সফলতার জন্য সব ধরনের পলিসি সাপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাংক একত্রিত হয়ে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

  • ব্যাংক খাতে লুটপাটের জন্য দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

    ব্যাংক খাতে লুটপাটের জন্য দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

    বাংলাদেশ ব্যাংক এপ্রমাণ করেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট ও প্রতারণা ঘটেছে। বিশেষ করে ২৮টি ব্যাংকের বড় অংকের ক্ষতি হওয়ার পেছনে ছয়টি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন এবং নাসা গ্রুপের নাম, যারা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য দায়ী। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকার করছে যে, এ সব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অর্থ পাচার করা হয়েছে, যার ফিরিয়ে আনার জন্য এখন নিয়মিত কাজ চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটতে না পারে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকিং খাতে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, যার বড় অংশ পাচার হয়েছে বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মালাদেহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, এস আলম, সিকদার ও নাসা গ্রুপের কারণে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও অগ্রণী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংকও এ লুটপাটের শিকার হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো যেমন ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংকও এর বাইরে নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার পাশাপাশি ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যারা কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা জরুরি। বিআইবিএম এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, একজন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কতটুকু ঋণ দিতে পারবে, কতোদিনের জন্য ঋণ নেয়া যাবে এবং কীভাবে নেওয়া উচিত—এসব নীতিমালা মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। যদি এখন তারা এ নীতিমালা লঙ্ঘন করে থাকেন বা ওয়েভার দিয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও দায়ভার রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজই হলো এসব নিয়ন্ত্রণ করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, নানা চাপের কারণে বিগত সরকারকালীন সময়ে তারা লুটেরাদের সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেছিল। তবে এখন মূল লক্ষ্য হলো চলমান তদন্তের মাধ্যমে পাচারের টাকাগুলো ফেরত আনবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এমন কাজে জড়িয়ে পড়েছেন বা বাধ্য হয়েছিলেন। সেখানে বিদেশি চাপ বা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চাপ তাদের বাধ্য করেছে—যদিও এ ধরনের পরিস্থিতিতে এফেক্টিভ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, দোষীদের বিচারের আওতায় না আনায় দেশের ব্যাংকিং খাতের আস্থা কমে যেতে পারে, যা 경제ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ সোমবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানিয়েছেন, ১১ মে (সোমবার) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ এখন দুই হাজার ৯৫৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ এখন চার হাজার ২২২ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

    পূর্ববর্তী সময়ে, রোববার এক অ্যাকাউন্টের হিসাব অনুযায়ী, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দুই মাসের—মার্চ ও এপ্রিলে— আমদানি বিলের পরিমাণ ছিল ১৫১ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এ বিল পরিশোধের পর আইএমএফের হিসাব অনুসারে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল দুই হাজার ৯৪৭ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

    আরও জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪১৪ কোটি ২০ হাজার ডলার। এর আগে, ৭ মে, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৯৬ কোটি ৪০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫৬১ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

  • ব্যাংক লুটপাট: ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    ব্যাংক লুটপাট: ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৮টি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পিছনে ছয়জন ব্যক্তি ও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর দায় রয়েছে। প্রতিবেদনে নাম উল্লেখ করা হয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপের সঙ্গে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সিকদারকে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও কিছু অংশ পাচার হয়েছে, যা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে গভীর ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংককে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, সার্ভিস ব্যাংকগুলোর নাম—এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকসহ বেসরকারি খাতের ইউসিবি, আইএফআইসি ও ন্যাশনাল ব্যাংকও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ আছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন বড় অঙ্কের লুটপাট দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা না করলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের দাবি, পাচার করা অর্থ ফিরে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল, তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।

    বিআইবিএম-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেছেন, ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ ও আবেদন প্রক্রিয়া—সবকিছুর জন্য নীতিমালা রয়েছে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনে-শুনেই নিয়ম ভঙ্গ করে ওয়েভার দিয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তার দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজই এসব কাণ্ড-কলাপ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক দোষ স্বীকার করে জানিয়েছে, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও অন্যান্য চাপের কারণে কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে সুবিধা দিতে হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পাচার করা অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘কোন প্রেক্ষাপটে আমাদের কর্মকর্তারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত বা জড়িত হতে বাধ্য ছিলেন—কয়েকটি এক্সটার্নাল ফোর্স ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।’’

    প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞরা আবারো জোর দিয়ে বলেছেন, তদন্ত পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ হতে হবে; দোষীদের বিচার যেন দ্রুত ও öffentlichenভাবে নিশ্চিত করা হয়। ন্যাপকৃত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা ছাড়া পুনরায় একই ধরনের দূর্নীতি রোধ করা কঠিন হবে এবং জনআস্থা ফিরে আনা যাবে না।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। সেই সঙ্গে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা চাপ এখানে কাজ করবে না; প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ পেশাদার মানদণ্ডে পরিচালিত হবে। যে মূলধন দিয়ে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান। এটা কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

    তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিবন্ধকতা হলো তহবিলের অভাব এবং জামানত দিতে না পারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুইটি বাধাই দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সরাসরি সমন্বিত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষত ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের যুবসমাজকে অর্থনীতির মূল ধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি; তাই পুঁজিবাজারে সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন আনার দিকে এগোচ্ছি। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারের জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। দেশের ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    অবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সমর্থন দেবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক যৌথভাবে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ খুলে দেবে।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না এবং এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠান সভাপতি ছিলেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যে পরিমাণ মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে তা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এটি কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়; সমগ্র স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রধান দুইটি সমস্যা হলো তহবিলের অভাব ও জামানত জোটানোতে অক্ষমতা। এই উদ্যোগ উভয় বাধা কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে। এখানে বিনিয়োগ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার প্রক্রিয়ায়।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের বড় লক্ষ্য। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে গ্রাম-শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কঠিন সময় পার করছি এবং পুঁজিবাজারে সংস্কার নিয়ে কাজ চলছে; অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে কমানো হবে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থায় দক্ষ ব্যক্তিদের পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডারক্যাপিটালাইজেশন দূর করতেও আমাদের কার্যক্রম আছে।

    আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি কেবল ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের সফলতার জন্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। দেশের অনেক ব্যাংক মিলে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    মন্ত্রী শেষ দিকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বজায় রাখা হবে—এটাই এই উদ্যোগের মূল প্রতিশ্রুতি।

  • ২৮ ব্যাংকের ক্ষতিতে দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী — বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    ২৮ ব্যাংকের ক্ষতিতে দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী — বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছে, আওয়ামী লীগের শাসনকালে ২৮টি ব্যাংকের ক্ষতির পেছনে মূলত ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর দায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপোর্টে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাধ্য হয়েই এসব গ্রুপকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ফলে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পাচার হওয়া অর্থ ফিরে আনার কাজ চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, এস আলম, সিকদার ও নাসা গ্রুপের কর্মকাণ্ডের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো—জনতা ও অগ্রণী—সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    শাস্ত্রীয় দিক ছাড়াও ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক—এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আল-আরাফাহ—এবং বেসরকারি পর্যায়ের ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংকও এতে প্রভাবিত হয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু দায় স্বীকার করেই হবে না — পাচার হওয়া টাকা দ্রুত ফেরত এনে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরো বলেন, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য। নতুবা দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফেরত পাওয়া কঠিন হবে।

    বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ঋণদান সংক্রান্ত নীতিমালা স্পষ্টভাবে আছে—কোন ব্যক্তি কতপর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে, কতদিনের জন্য এবং কীভাবে। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জেনে-বুঝে নিয়ম ভঙ্গ করে ও ওয়েভার দিয়ে থাকে, তাহলে তারও দায় আছে এবং ব্যাংককে তার দায়িত্ব নিতেই হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বহিরাগত চাপও ছিল; কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই চাপের কারণে ভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে—যেগুলো এড়ানো সম্ভব ছিল না। তিনি আরও জানান, যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো সংশোধন করে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে।

    রিপোর্ট প্রকাশের পর বিশ্লেষকরা পুনরায় জোর দিয়েছেন—তৎক্ষণাত তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা ও দণ্ড নিশ্চিত করা না হলে দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদারভাবে পরিচালিত হবে। তিনি এসব কথা বলেন মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে।

    অনুষ্ঠানটি বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিপন বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে কাজ করবে না; প্রতিষ্ঠানটি হবে পুরোপুরি পেশাদার সার্ভিস প্রদানে নিবেদিত। তিনি আরো বলেন, কোম্পানিটি যেভাবে মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে এবং এটি কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয় — দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি মঞ্চও হবে।

    আমির খসরু স্মরণ করিয়ে দেন, তরুণ প্রজন্মের সামনে প্রধান দুটি প্রতিবন্ধকতা হলো ফান্ডের অভাব এবং জামানত দিতে অক্ষমতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুইটি সমস্যার সমাধান ও বাধা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদারিভিত্তিক।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগটি তাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো’র সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বিশেষত ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির প্রধান ধারাে পরিণত করতে কাজ করা হবে।

    আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে কঠিন সময় পার হচ্ছে, তাই পুঁজিবাজার সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ডিরেগুলেশনের পথে এগোচ্ছে সরকার। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারে দক্ষতার জন্য বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা ইতোমধ্যে এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    অবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানিটি শুধুমাত্র ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্প সফল করতে সব ধরনের নীতি-সহায়তা প্রদান করবে। দেশের কয়েকটি ব্যাংকের একযোগিতায় নেওয়া এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।