Category: অর্থনীতি

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা: প্লাস্টিক কার্ড মেটালে রূপান্তরের ফাঁদে পড়বেন না

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা: প্লাস্টিক কার্ড মেটালে রূপান্তরের ফাঁদে পড়বেন না

    বাংলাদেশ ব্যাংক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের প্রলোভনে না পড়ার জন্য। সংবেদনশীল কার্ড তথ্য শেয়ার করলে জালিয়াতি ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে।

    বাক্যে বলা হয়েছে, কয়েকটি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও সিভিভি (CVV) সহ সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের প্রলোভন দেখাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নয়, ফলে গ্রাহকদের নিম্নোক্ত ঝুঁকি হতে পারে:

    (ক) কার্ড সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে জালিয়াতির সম্ভাবনা,

    (খ) অননুমোদিত লেনদেন সংঘটিত হওয়া,

    (গ) গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতি এবং তথ্য নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটা,

    (ঘ) সামগ্রিক কার্ড ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়া।

    বাংলাদেশ ব্যাংক অনুরোধ করেছে যে, কার্ড সংক্রান্ত কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে—যেমন ব্যাংকের শাখা, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার হটলাইন। কোনো ব্যক্তিগত বা তৃতীয় পক্ষের কাছে ওটিপি (OTP), পিন, সিভিভি বা কার্ড নম্বর ইত্যাদি তথ্য দেবেন না।

    যদি কেউ সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন বা কার্ড সংক্রান্ত অননুমোদিত লেনদেনের সম্ভাবনা দেখতে পান, অবিলম্বে আপনার ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্ড ব্লক/রিপোর্ট করুন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন—যেমন পিন পরিবর্তন ও লেনদেন রিপোর্ট তদারকি করা। আপনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, তাই কোনো সন্দেহ হলে দ্রুত ব্যাংকের নির্দেশ অনুসরণ করুন।

  • দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমল

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সঙ্ঘটনটি জানায়, ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজারে কাঁচামালের পতন সামনে রেখে বাজুস এসব পরিবর্তন এনেছে বলে জানানো হয়।

    নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। অন্য ক্যারেটভিত্তিক দামগুলো হচ্ছে: ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

    এর আগে বাজুস গত ৭ মে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। তখন ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরির দাম করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। সেই সময় ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। ওই পরিবর্তনও সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছিল।

    এই বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে আর ২৯ দফায় দাম কমানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; তাতে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

  • দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর মূল্য কমার প্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা

    এর আগে বাজুস গত ৭ মে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেই সময়ে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। সে সময় ২১ ক্যারেটের দাম রাখা হয়েছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। ওই সমন্বয়ও তখন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৬৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে; যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ দফা এবং কমানো হয়েছে ২৯ দফা। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; তখন ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

  • মেটাল কার্ড রূপান্তরে সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    মেটাল কার্ড রূপান্তরে সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক ডেবিট ও ক্রেডিট প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করার বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে। অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এমন রূপান্তরের প্রলোভনে ফাঁসিতে পড়তে যাতে না হয়, সেধারণের সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    ব্যাংকের বার্তায় বলা হয়েছে, কিছু অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ গ্রাহকদের প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করার প্রস্তাব দিয়ে সংবেদনশীল তথ্য,如 কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও সিভিভি (CVV) চাওয়ার চেষ্টা করছে। এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নয় এবং গ্রাহকের তথ্য শেয়ারের ফলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হিসেবে উল্লেখ করেছে—

    (ক) কার্ডের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে জালিয়াতি ঘটতে পারে।

    (খ) অনুমোদন ছাড়াই অননুমোদিত লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    (গ) গ্রাহকের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

    (ঘ) সামগ্রিকভাবে কার্ড ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

    বার্তায় গ্রাহকদের অনুরোধ করা হয়েছে যে, কোনো অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে কার্ড সংক্রান্ত তথ্য দেবেন না এবং প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করার প্রলোভনে পড়বেন না। কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো সেবা নেওয়ার সময় শুধুমাত্র আপনার ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেলগুলিই ব্যবহার করুন।

    ব্যাংকসমূহ আপনার আর্থিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন—এই কারণে ওটিপি (One-Time Password) বা কার্ডের কোনো গোপন তথ্য কোনো অবস্থাতেই শেয়ার করবেন না। যদি কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করেন, მაშინই আপনার ব্যাংকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

  • মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার

    মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার

    চলতি মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানান। হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    গত বছরের একই সময়ে প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স ছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তুলনায় এবার পাঠানো অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স অংক দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা বছর ভিত্তিতে বাড়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

    মাসভিত্তিক তথ্য বলে, এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। মার্চে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার—এক মাসে এটি দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

    ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার; অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগস্টে ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স হয়েছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার — যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে ধরা হয়েছে।

  • করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে; নিত্যপণ্যের উৎসে কর রাখা হলো ০.৫০ শতাংশ

    করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে; নিত্যপণ্যের উৎসে কর রাখা হলো ০.৫০ শতাংশ

    আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে নতুন উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার তার খসড়া পর্যালোচনায় বিভিন্ন করসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়—যাতে ব্যক্তিগত করছাড় বাড়ছে, কিছু নতুন কর আরোপের ধারা চালু হচ্ছে এবং ভ্যাট-উৎসের কিছু নিয়ম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের কাছে নির্ধারিত আদায়ের টার্গেট প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের লক্ষ্য পূরণে ভ্যাট, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকেই সবচেয়ে বড় অংশ আসবে; এগুলো মিলিয়ে মোট লক্ষ্যের প্রায় ৭৪ শতাংশ। আমদানি-রপ্তানিতে শুল্ক আয়ের অংশ ধরা হয়েছে ২৬ শতাংশ।

    বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির। বর্তমানে ৩ লাখ টাকা থাকা করমুক্তসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো আগ্রিম কর/ক্যাটেজরি শুল্ক নেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এনবিআরের বৈঠকে।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর আগের মতোই ০.৫০ শতাংশ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে—অর্থাৎ চাল, ডাল, চিনি, খেজুরসহ সবধরনের নিত্যপণ্যের উপর উৎসে কর বাড়ানো হয়নি। তবে আগামী বাজেট থেকে সম্পদকর চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে; তা প্রথম বছরে ১ শতাংশ হারে ধার্য করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    অনলাইন গেমিংয়ের ওপর উৎসে কর ধার্য করা হয়েছে ২৫ শতাংশ। পাশাপাশি কিছু নতুন করধারাও নিয়ে পরিকল্পনা চলছে—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং কিছু ক্ষেত্রে মদ ও নতুন পণ্যে ভ্যাট আরোপের সম্ভাব্যতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘বাংলা টেসলা’ নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো করের আওতায় আনতে চাইছে সরকার; পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বছরে আনুমানিক ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে পারে এবং নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে। ঐ একই ধাঁচে সিসি-ভিত্তিক মোটরসাইকেলের ওপর ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনাও যোগ করা হয়েছে।

    ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রে কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কিন্তু দামি বা বিলাসবহুল গাড়ি—বিশেষত ৩,৫০০ সিসির বেশি পিসির ক্ষেত্রে—অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধি পাবে। ঐ ধরনের গাড়ির অগ্রিম আয়কর এখন ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনায় ১,৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ২৫ হাজার টাকাই থাকবে।

    ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে ভবিষ্যতে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (BIN) দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে; তবে বলেছে এনবিআর, BIN পেতে ভ্যাট কর্মকর্তার অনুমোদন লাগবে না—এটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে। এছাড়া কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি মদে ও কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে ভ্যাট আরোপের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে।

    বাজেট প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এনবিআর ২০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে উপজেলা পর্যন্ত ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট রেডি করা হবে—ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য টোকেন হিসেবে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

    রাজস্ব বৃদ্ধির এসব উদ্যোগ নিয়ে আয়কর বিশ্লেষক আশরাফ হোসেন খান বলেন, সরকার যদি উন্নয়ন খরচে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে, নাগরিকরা কর দিতে রাজি হবে। ‘‘সরকারি উন্নয়ন কাজে যদি সব ব্যয় পরিচ্ছন্নভাবে খরচ হয়, মানুষের আস্থা বাড়বে এবং কর দেয়ার প্রবণতাও বাড়বে,’’ তিনি বলেন।

    ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ট্যাক্স এড়িয়ে আসছে; তাদেরই এখন ভ্যাট বা আয়কর দানে আনতে এগিয়ে আসার প্রয়োজন। তিনি মনে করান, দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানো সত্ত্বেও আয় অজুহাতে কর এড়ানো চলবে না—সবাইকে কর ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

    সংক্ষেপে, আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতে নতুন কর আরোপ এবং নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর অপরিবর্তিত রাখা—এসব মিলিয়ে সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব বাড়ানো। এনবিআর ও অন্যান্য ক্যাটাগরির রাজস্ব একত্রে সরকার চাইছে আগামী অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে, একই সঙ্গে কড়াকড়ি আর স্বচ্ছতার দাবি ওঠছে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে।

  • করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে ও উৎসে কর হার অপরিবর্তিত, বাজেটে নতুন কর ও রেয়াতের ঘোষণা

    করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে ও উৎসে কর হার অপরিবর্তিত, বাজেটে নতুন কর ও রেয়াতের ঘোষণা

    আগামী অর্থবছরের বাজেটের জন্য দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প এবং অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করের পরিমাণ বাড়ানো ও কর ছাড়ের সুবিধা কমানো। পাশাপাশি, সম্পদ মালিকদের ওপর করের চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও ভ্যাটের আওতা বিস্তৃত করা হবে। বাজেটের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

    বর্তমানে বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি কমাতে এবং আন্তর্জাতিক ঋণের শর্ত পূরণের জন্য করের আওতা ও সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, এ বছর সরকারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করবে। এর মধ্যে, সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ আসবে স্থানীয় পর্যায়ের মূসক (মূল্য সংযোজন কর), আয়কর, এবং ভ্রমণ কর থেকে, যা মোট লক্ষ্যের ৭৪ শতাংশ। এছাড়া, আমদানি-রপ্তানির ওপর শুল্ক কর থেকে ২৬ শতাংশ রাজস্ব আদায় করা হবে।

    একটি বড় পরিবর্তন হলো, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তির জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়াও, ব্যাংক জমার ওপর ৫ লাখ পর্যন্ত কোনও আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে না। এর পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়, যেখানে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আলোচনা চলে।

    বাজেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল, ডাল, চিনি, খেজুরসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর উৎসে কর একই থাকছে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশের পরিবর্তন হয়নি। তবে, সম্পদ কর চালু করা হচ্ছে, যেখানে ১ শতাংশ হারে আবাদিরোপে কর বসানো হচ্ছে। অন্যদিকে, অনলাইন গেমিং থেকে আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ উৎসে কর আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই বাজেট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, দামী বৈদ্যুতিক প্রাইভেটকার ছাড়া অন্যান্য বৈদ্যুতিক গাড়ির কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিলাসবহুল এবং ৩৫ লাখ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার গাড়ির অগ্রিম আয়কর বাড়িয়ে ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়, ১৫০০ সিসির বাইক ও মোটরসাইকেলেও সম্ভাব্য কর বৃদ্ধি হতে পারে।

    নতুন আইনের মাধ্যমে, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদেও ভ্যাট আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য লাগবে বিআইএন নম্বর, যা এখন থেকে দ্রুত পাওয়া যাবে এবং ভ্যাট অফিসের অনুমোদন লাগবে না। মারাত্মকভাবে, মোটরবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপরও অগ্রিম কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সরকারের লক্ষ্য, আগামী অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করা। এর পাশাপাশি, অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা রেভিনিউ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পদ কর চালু করাসহ, জমি ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য নির্ধারণে বাজারভিত্তিক বা মৌজামূল্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হলো, ‘বাংলা টেসলা’ বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর কর আরোপ, যেখানে বার্ষিক ৫ হাজার টাকা অগ্রিম কর নির্ধারিত হতে পারে। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাতেও এই করের আওতা আনা হতে পারে, সঙ্গে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে।

    এছাড়াও, মোটরসাইকেল চালকদের উপর ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ আশরাফ হোসেন খান বলেন, ‘‘সরকার যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে উন্নয়নে ব্যয় করে তাহলে জনগণ স্বয়ং কর দিতে এগিয়ে আসবে। সরকারের ব্যয় যেন জবাবদিহিতার সঙ্গে হয়, তখন মানুষ করের গুরুত্ব বুঝবে ও দিতে উৎসাহিত হবে।’’

    এছাড়াও, এনবিআর ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনছে। প্রায় ২০ লাখ ছোট ব্যবসায়ী এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে তাঁদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা টোকেন ভ্যাট নেওয়া হতে পারে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘‘বিক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরে লস দেখাচ্ছে, তাই তাঁদের জন্য কর ও ভ্যাট প্রদানের এই অঙ্গীকার জরুরি।’’

  • মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছালো ১৭৪ কোটি ডলার

    মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছালো ১৭৪ কোটি ডলার

    চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনেই বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে সর্বমোট ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এর ফলে প্রতি দিন গড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ১৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবাহে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে। গত বছর এ সময়টিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মানে, বছরান্তরে এই প্রবাহের উন্নতি হয়েছে অনেকটাই। এই অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৩ মে পর্যন্ত, দেশে মোট এসেছে ৩ হাজার ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে, এপ্রিলে দেশে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, এবং মার্চে এই সংখ্যা ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসে ছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ডিসেম্বরের সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে আসছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এছাড়াও, আগস্ট ও জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় হিসেবে স্বীকৃত। এই রেকর্ডটি বাংলাদেশ অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

  • বাংলা ব্যাংক খাতের লুটপাটে দায়ী 6 ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

    বাংলা ব্যাংক খাতের লুটপাটে দায়ী 6 ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির শিকার হয়েছে, যার বড় একটি অংশ পাচার হয়েছে। এই দুর্নীতির জন্য এখন পর্যন্ত 6টি শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, নাসা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাবেক উপকূলীয় মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ও অগ্রণী ব্যাংকের উপর বিনা বাধায় ঋণ গ্রহণ করতে সহযোগিতা করেছে, ফলে ব্যাংকগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এই লুটের আঁতেলদারদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অর্থের শুদ্ধি ও ফেরত আনতে হবে, এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিয়মের দায়ও রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা, যারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হলো এই ধরনের অনিয়মের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ। বিআইবিএম এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রত্যেক ব্যাংক ও শিল্পগোষ্ঠীর ঋণের নির্দিষ্ট সীমা ও নিয়মাবলি থাকা সত্ত্বেও অবহেলায় অনেক ক্ষেত্রে এসব নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকেরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারতেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানাচ্ছে, নানা চাপের কারণে বিগত সরকারের সময়ে লুটেরাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন সেই টাকা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন, কিছু বাহ্যিক চাপ বা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ধরনের অনিয়মে জড়িত হয়েছেন। তবে ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের দাবি, যদি দোষীদের কঠোর বিচার না হয় তাহলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে না এবং সাধারণ মানুষের আস্থা হারাতে পারে।

  • অর্থনৈতিক খাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

    অর্থনৈতিক খাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক খাত—including ব্যাংকিং, শেয়ারবাজার ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম—সম্পূর্ণভাবে অভিজ্ঞ ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। তিনি বলেছেন, এই খাতগুলোতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা হস্তক্ষেপ চলবে না, বরং এগুলোর প্রতিটি সিদ্ধান্তই হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও নীতিনির্দেশিত। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে না। এই প্রতিষ্ঠানটি হবে সম্পূর্ণ পেশাদারিতার পরিচায়ক। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি এই মুহূর্তে যে পরিমাণ মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তার পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। এটি শুধু একটি বিনিয়োগ সংস্থা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। আমির খসরু বলেন, তরুণ প্রজন্মের সামনে দুটি বড় সমস্যা রয়েছে—ফান্ডের অভাব ও জামানত প্রদানের অক্ষমতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বাধা দূর করার চেষ্টা চালানো হবে। এখানকার বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াও হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনাটি দেশের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, যেখানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা লক্ষ্য। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি জানান, পুঁজিবাজারের সংস্কার এবং ডিরেগুলেশন নিয়ে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ চলমান। দক্ষ পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারের উন্নতি সাধন করা হচ্ছে। দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার ক্যাপিটালাইজেশন সমাধানের জন্য নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং খাতের জন্যই নয়, অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের সফলতার জন্য প্রতিশ্রুতিশীল পলিসি সমর্থন দেবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক একত্র হয়ে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনাকে চিহ্নিত করবে।