Category: অর্থনীতি

  • এক দফা কমার পরে আবারও বেড়ে গেল সোনার দাম

    এক দফা কমার পরে আবারও বেড়ে গেল সোনার দাম

    দেশের বাজারে সোনার মূল্য আবারও বৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। এক দফা মূল্য কমানোর পর, শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ভরিতে ১০৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে সোনার দাম। এই নতুন মূল্যকাল থেকে রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের তাজা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তারই ফলস্বরূপ, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজারের চাহিদার কথা বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, অন্যান্য ক্যানের দাম হলো— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, এই দামের সাথে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন, মান ও শৈলী অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।

    অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সবশেষ ৮ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের দামে ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হত ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকায়। এটি কার্যকর হয় ৯ জানুয়ারি থেকে।

    এভাবেই এই বছর দেশের বাজারে সোনার দামের মধ্যে পঞ্চম বার সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে তিন দফা দামে বৃদ্ধি হয়েছে এবং দু’দফা কমেছে।

  • ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয় যদি না ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করে। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাত অনেকটাই স্থিতিশীল থাকলেও, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো এক্ষণে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতে এখন কিছুটা স্থিতিশীলতা আসলেও, সুদের হার কমানো সহজ নয়। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া সরকারের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন।”

    অর্থ উপদেষ্টা অভিযোগ করেন যে, দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কিছু কিছু সুবিধাভোগী ঋণ নিয়ে লুটপাট ও পাচার করেছে, বা সমান্তরালভাবে ব্যাংকের খারাপ দিকগুলো ঢেকে রেখেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এসে এসব অনিয়মের বিষয়াদি বাইরে এনে ব্যাংকখাতের স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন সংস্কার শুরু করেছে।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং সেক্টির বেশির ভাগই এখন স্থিতিশীল। তবে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের সুদের হার কমেনি, কারণ অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল রাখতে হলে এখনই সব কিছু সম্ভব নয়।”

    তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, শুধুমাত্র সুদের হার কমানো সমুদ্রের ঢেউ সারানোর মতো নয়, কারণ বাজারে ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটারি পলিসির পাশাপাশি সাপ্লাই চেন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ইনফ্লেশন শুধুমাত্র মনিটারি পলিসির ফলে হয় না, এটা বহুমুখী বিষয়, যা রাজনৈতিক দিক থেকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত।”

    অর্থ উপদেষ্টা উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যখন আপনি কারওয়ানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন, পরের দিন সবাই আবার সেই জরিমানা দিতে চায় না। তারা চাঁদা তুলে আবার একই কাজ শুরু করে, যা মূল সমস্যা নয়।”

    তিনি 강조 করেন যে, সাধারণ কমিউনিটি, হোলসেলার ট্রেডার ও রিটেইলারদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি এসব খাতের আয় বা মুনাফা কমানোর পক্ষে না থাকলেও, সব অংশীদারদের সহযোগিতা নিয়ে বাজারের স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, “শুধু ফিসক্যাল এবং মনিটারি পলিসি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বা ক্যাব কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন একা সবকিছু সমাধান করতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে।”

    অনুষ্ঠানে সাবেক তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বস্তি এখনও আসেনি। তবে, অর্থনৈতিক শাসন শক্তিশালী করে ও আরও নজরদারি বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে উন্নতি সম্ভব। তিনি বলেন, “সকল অংশীদারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।”

    এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান מজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি আবদুল হাই সরকার।

  • সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ কমে ২ লাখ কোটি টাকায় পুনর্নিযুক্ত

    সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ কমে ২ লাখ কোটি টাকায় পুনর্নিযুক্ত

    চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ আকারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে মোট বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়, যা আগে ছিল এর চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় এই সংশোধিত এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন، বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ কমে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট হয়েছে মোট ৭২ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে এই খাতে বরাদ্দ হয়েছে যথাক্রমে ১৬৮ হাজার কোটি এবং ৭২ হাজার কোটি টাকা।

    তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতির কারণে মোট চাহিদা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকার, নিয়োগে দেরি ও পুনর্মূল্যায়নের কারণে এই কম চাওয়া হয়েছে।

    খাতভিত্তিক বরাদ্দের দিকে দেখা গেলে, সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির এক-পঞ্চমাংশ। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি বাসস্থান ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতেও যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।

    তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে স্বাস্থ্য খাতে কারণ এটি দুর্বল বাস্তবায়ন ক্ষমতার কারণে বরাদ্দের প্রায় ৭৪ শতাংশ সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। মূল এডিপিতে যেখানে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা, সেখানে সংশোধিত এডিপিতে তা কমে হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি। শিক্ষা খাতেও ব্যাপক কাটছাঁট হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে।

    পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের আগের বরাদ্দ থাকলেও এখন এই খাতেও প্রায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমেছে। একইভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য প্রথমে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা এখন কমে ৫৪৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়া, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ সরাসরি প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে, এবং কৃষি খাতে কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। তবে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

    মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যেখানে নতুন বরাদ্দ হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দও উল্লেখযোগ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পানি সম্পদ ও শিক্ষা বিভাগেরাও বেশ কিছু অর্থ পেয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে উন্নয়নের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোও যুক্ত করা হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, এই সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে মোট ১৩৩০টির প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে বেশিরভাগই বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যে এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৮৬টি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

  • সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি

    সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি

    দেশের স্বর্ণখাতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো, যখন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন মূল্যপ্রস্তাবে প্রতি ভরির দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, ফলে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা ও কেনাকাটার মানদণ্ডের ওপর প্রভাব পড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশজুড়ে মানসম্পন্ন সোনার দাম এখন ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই আশ্চর্য দামের রেকর্ড পূর্বে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ছিল, যখন সোনার দাম সর্বোচ্চ ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায় উঠে যায়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, এবং নতুন এই দাম ১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনের মতে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দাম বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রতি আউন্সের সোনার দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে সোনার বিভিন্ন ক্যারেটের মূল্য পরিবর্তিত হয়েছে। এখন, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লক্ষ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা। একই সঙ্গে, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম মেপে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণখাত ও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন সূচিত করছে।

  • মোবাইল ফোন আমদানির উপর শুল্ক কমছে, ফলে দাম কমবে মোবাইলের

    মোবাইল ফোন আমদানির উপর শুল্ক কমছে, ফলে দাম কমবে মোবাইলের

    মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। পাশাপাশি, দেশীয় মোবাইল উৎপাদনকারীদের জন্য ব্যবহৃত উপকরণের আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করে এটি ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এনবিআর জানায়, মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের হ্রাসের ফলে শুল্কের হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর পাশাপাশি, মোবাইল সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে প্রতিযোগিতায় থাকাটা কঠিন না হয়, সে জন্য উপকরণের আমদানি করতে গিয়ে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে, উপকরণ আমদানির ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে।

    এতে করে, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা এবং একই সময়ে, দেশের বাজারে বিক্রিত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের মোবাইলের দাম প্রায় দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমে যাবে।

    এসব শুল্ক হ্রাসের ফলে মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে সরকারের আশা। সরকার বলছে, মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে তারা এই ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

  • একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় আঘাত

    একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় আঘাত

    বাংলাদেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দামে পুনরায় বড় ধরনের বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৯১৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে মানসম্পন্ন সোনার দাম এখন ছুঁয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকার বেশি।

    এটি কার্যকর হবে আগামী ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার থেকে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইসডটওআরজি সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠেছে ৪৪৪৫ ডলার।

    নতুন দাম অনুযায়ী, বিভিন্ন মানের স্বর্ণের ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, প্যাকেজের পরিমাণ অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রুপার দামের বৃদ্ধিও। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

  • সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বাড়লো, সিদ্ধান্ত বাতিল

    সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বাড়লো, সিদ্ধান্ত বাতিল

    সরকার সম্প্রতি এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর পরিকল্পনা বাতিল করে আগের হারে তা বহাল রেখেছে। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সম্পর্কিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে জানানো হয় যে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল, আগামী ছয় মাসও সেই হারই বহাল থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার প্রথমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই সঞ্চয়পত্রের ওপর বেশিভাগ নির্ভরশীল, ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বলেও মনে করা হয়।

    জানা গেছে, রোববার অফিস খোলার পর উচ্চ পর্যায় থেকে সেই প্রজ্ঞাপন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং মুনাফার হার পূর্বের অবস্থায় রাখতে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে সরকারের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম রয়েছে। সেগুলোর সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ — মানে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত — এবং এর বেশি বিনিয়োগের জন্য আলাদা করে মুনাফা দেওয়া হয়। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত মুনাফার হার কিছুটা কমে আসে। একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ রয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি কোনো সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলতে হয়, তাহলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে মুনাফার হার আরও কমে যায়। যেখানে মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয়, সেখানে মূল টাকার সঙ্গে নির্ধারিত হারে সমন্বয় করা হয়।

    পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা আগে কমিয়ে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ করা হয়েছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই হার আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে আনা হয়েছিল। এসব পরিবর্তনসহ সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের মতোই থাকবে।

    গত বছর জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বোন্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়। এ জন্য ৫ এবং ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুসারে তাদের মুনাফা নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হয়। গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হবে।

    সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, বেশি করে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল। জরুরি পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে वित्त সংকট মোকাবেলা করেন তারা, আবার প্রতিমাসে ছোটখাটো আয়ের একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় আসে। মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘসময় দেশজুড়ে দরপতন হয়নি; বরং দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি চলমান। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এসলেও তা এখনও ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ হার না কমানোই যথাউচিত।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন যে, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের কারসাজির মাধ্যমে এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

    উপদেষ্টা বলেন, কিছু ব্যবসায়ী আশা করছিলেন এলপিজির দাম বৃদ্ধি পাবে, এবং তারা আবেগিত হয়ে বিইআরসি দ্বারা নির্ধারিত মূল্য (৫৩ টাকা) ছাড়িয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, এই অনিয়ম রোধে তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে প্রত্যেক জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ সংক্রান্ত কারসাজির তদন্ত হয়।

    গতকালই একটি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই বিষয়টি আলোচনা হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই দামের অস্বাভাবিকতা এবং কারসাজির পেছনে কোনো বাস্তব কারণ নেই। এটি শুধুমাত্র একটি অসাধু প্রকরণ এবং সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    কারাঅ করে এই কারসাজি করেছে তা জানতে চাইলে, উপদেষ্টা বলেন, মূলত খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ী মিলেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম চালিয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি এই বিষয়ের পরীক্ষায় লিপ্ত হয়ে দরিদ্র জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

  • সোনার দাম ফের বেড়েছে, এক দফা কমার পর আবার নতুন মূল্য নির্ধারণ

    সোনার দাম ফের বেড়েছে, এক দফা কমার পর আবার নতুন মূল্য নির্ধারণ

    দেশের বাজারে এক দফা দাম কমানোর পর আবারও সোনার মূল্য বেড়ে গেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ভরিতে ১০৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে এই তথ্যের বিস্তারিত ঘোষণা দেয়, যা রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর) সোনার মূল্য বৃদ্ধির কারণে মোটের উপর এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য দাঁড়ালো ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা, এবং গ্র্যাডেড অনুসারে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য হালনাগাদ করে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রতিটি বিক্রির জন্য সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    অন্তত এতদিনে চলতি বছরের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো সোনার দামের সমন্বয় করা হলো। এই কয়েকটি সমন্বয়ই দেখাতে চায়, দেশের বাজারে দাম পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকছে। উল্লেখ্য, এর আগে ৮ জানুয়ারি বাজুস দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা, যা কার্যকর হয় ৯ জানুয়ারি। তখন অন্যান্য ক্যারেটের দামও সামান্য পরিবর্তন হয়েছিল।

  • অর্থ উপদেষ্টার ভাষ্য: ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো অসম্ভব

    অর্থ উপদেষ্টার ভাষ্য: ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো অসম্ভব

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কেবল সরকার alone cannot বা একা উদ্যোগে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়, এ জন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা জরুরি। তিনি আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন। ​

    সালেহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানান, বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো কঠিন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত এখনও অনেকটাই স্থিতিশীল, তবে সুদের হার কমানোর জন্য ব্যবসায়ী এবং কমিউনিটির সমর্থন অপরিহার্য। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ব্যাংক ঋণের আধিপত্যে অর্থনীতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের দিকটিও গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিছু সুবিধাভোগী ব্যাংক থেকে অসাধু উপায়ে ঋণ নিয়ে অর্থ অপচয় করেছে, যা ব্যাংক খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে এখন অন্তর্বর্তী সরকার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছে এবং ব্যাংক খাতে ব্যাপক সংস্কার চালানো হচ্ছে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশকে দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি করতে হলে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। ব্যাংকিং খাত বেশ স্থিতিশীল হলেও সুদের হার এখনই কমানো সহজ নয়। তবে তিনি যুক্ত করেন,উপরন্তু, তিনি বলেন, ইন্টারেস্ট বা সুদের হার কমলেও মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। ট্রেজারী বিলের দাম কমছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, যার প্রভাব বাজারে পড়ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি গর্ভমেন্টের ঋণ বেড়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ সঞ্চয় করবে ব্যাংকে না রেখে সঞ্চয়পত্র বা ট্রেজারিতে।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্থিতিশীল, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তিনি যোগ করে বলেন, ইনফ্লেশনের মাত্রা এখন ১০.২৫ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে, যা খুবই সংবেদনশীল বিষয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইনফ্লেশনের সমস্যা কেবল মনিটারি পলিসি বা ব্যাংক রেট বাড়িয়ে কন্ট্রোল করা যায় না, এর জন্য সরবরাহ চাহিদাও বিবেচনা করতে হয়।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও সূক্ষ্মভাবে বলেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বা আইনগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এক উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, কারওয়ান বাজারে একজন ব্যবসায়ীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করলে, কিছুদিনের মধ্যেই অপরাধী আবার একই রকম কার্যক্রম শুরু করে। ফলে এই ধরনের সমাধান দীর্ঘমেয়াদি নয়।

    তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি, হোলসেলার ট্রেডার ও রিটেইলারদের সহযোগিতা দরকার। বাজারে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড বজায় রাখতে হলে সক everyone’s সহযোগিতা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারের স্বচ্ছতা আনতে শুধুমাত্র কর রাজস্বনীতি ও মনিটরিং যথেষ্ট নয়, সবার যৌথ উদ্যোগেই সম্ভব।

    বিশ্লেষকরা মত দেন, এখনও দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি স্বস্তিতে আসেনি। রাজনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও অর্থনৈতিক সুশাসন এখনো বিকাশশীল। আগামী সরকারের জন্য জরুরি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সুসংহত করে সামগ্রিক দা