Category: অর্থনীতি

  • সোনার প্রতি ভরির দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    সোনার প্রতি ভরির দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    একদিনের ব্যবধানে আবারও বাড়লো সোনার দাম। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে এক ভরি সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে—ভালো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ৫২ হাজার টাকার ওপরে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নতুন এই দাম আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এতো বড় ধাক্কা এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে; তথ্য অনুসারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম 4,800 ডলারের উপরে উঠেছে, যা স্থানীয় কটকশা মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।

    নতুন নির্ধারিত দামের বিবরণ অনুযায়ী:

    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম: ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেটের এক ভরি: ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেটের এক ভরি: ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা: ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার (চাঁদা) দামও বেড়েছে। নতুন হারের তালিকায় রুপার দামগুলো হলো:

    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা: ৬,৮৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৬,৫৩২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৫,৫৯৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা: ৪,২০০ টাকা

    বাজুসের এ ঘোষণার ফলে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সর্তকতা দেখা যাচ্ছে। অলঙ্কার ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্যই নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় আগামী কয়েক দিনে স্বর্ণবাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাবে কি না তা দেখা হবে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির নজর কাড়ে। ২০২৫ সালে চলমান শুল্ক যুদ্ধের মধ্যেও চীনের রপ্তানি কমেনি—বরং বাড়েছে। ফলে বছর শেষে দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    এই তথ্য প্রকাশের পরই অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ জাগে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে সতর্ক করেছেন যে, মুক্ত বাণিজ্য রক্ষা করতে চীনের এত বড় উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, নিম্ন এবং মধ্যআয়ের দেশগুলোর শিল্পগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। এতে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার শৃঙ্খলাও ঝুঁকিতে পড়ে।

    অন্যদিকে গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে’। তাঁর ভাষ্য, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং শুধুমাত্র বাণিজ্য-নীতির মাধ্যমেই একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না; চীনের পণ্য রপ্তানি জোরে নয়, বাজারের চাহিদা ও প্রতিস্পর্ধার মাধ্যমে হচ্ছে।

    বিশাল রেকর্ড উদ্বৃত্তের পিছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক দিকে শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ, অন্য দিকে আমদানির দুর্বল গতি। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানির বৃদ্ধি মাত্র ০.৫ শতাংশ—যা রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে উদ্বৃত্তের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা, ভোক্তা বিক্রির ধীরগতিঃ বিশেষ করে নভেম্বর মাসে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। একই সঙ্গে আবাসন খাতের সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার কারণে আমদানির ওপর চাপ পড়েছে; ধারণা করা হচ্ছে ১৯৯৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর প্রথমবার বার্ষিক বিনিয়োগে পতন দেখা দিতে পারে।

    আঞ্চলিক বাজার পরিবর্তনও দেখা যায়—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি শুল্কের কারণে ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আষিয়ান ও ইইউ-র বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউয়েনের বহুমাসিক মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া এবং মুদ্রানীতির ফলে চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি সুসংহত হয়েছে। ফলত ২০২৫ সালের সাতটি মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—যা পূর্বের বছরের মাত্র একবারের তুলনায় অনেক বেশি।

    এই পুরো চিত্রটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ইঙ্গিত করে যে—চীনের রপ্তানি-নির্ভরতা গভীর এবং তা দীর্ঘমেয়াদে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি করতে পারে। যদি বৈশ্বিক চাহিদা খারাপ হয়ে যায়, চীন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চতুর্ভুজে আটকে যেতে পারে: শক্তিশালী রপ্তানি থাকলেও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বিনিয়োগ। ফলে বাণিজ্য অংশীদাররাও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার প্ররোচনা পেতে পারে—শুল্ক, অ্যান্টি-সাবসিডি বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আভাস বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কবার্তাও এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, যদি চীন একঘেয়েমি রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি মডেলে অনড় থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে ইইউ চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।

    চীনের অভ্যন্তরে নীতিনির্ধারকরা বিষয়টিকে লক্ষ করেছেন। গুয়াংডং পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং জানিয়েছেন, আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষমতা রাখাই এখন সরকারী অগ্রাধিকার। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির দ্রুত বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

    একই সঙ্গে বেইজিংয়ের কিছু বাস্তব পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসে ঘোষণা করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট (কর ফেরত) বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যের ক্ষেত্রে রিবেট ধীরে ধীরে কমিয়ে আগামী বছরে পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন ও ইইউয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে এক সমঝোতা হয়েছে—চীনা গাড়ি নির্মাতারা এখন অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার দায়িত্ব নিয়ে বাজার প্রবেশ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টাও বলা যায়।

    শেষ কথা: চীনের এই বৃহৎ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে আশীর্বাদ এবং উদ্বেগ উভয়ই। চীনের উৎপাদনশক্তি ও সাশ্রয়ী পণ্যের সরবরাহ বিশ্বের মূল্যচাদরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে; কিন্তু অতিরিক্ত রপ্তানি-নির্ভরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা যদি টেকসইভাবে সমাধান না করা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে নীতিগত উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক প্রতিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যে প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করবে উত্তরটি—রপ্তানি আয় কি অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরছে, রপ্তানির আয় আমদানিকে ত্বরান্বিত করতে পারছে কি না, এবং বাজারগুলি কতটা আরও উন্মুক্ত হচ্ছে।

    সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • নিপ্পন পেইন্টকে উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্টকে উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশ-কে উন্নত ও আধুনিক ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে ব্র্যাক ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিপ্পন পেইন্টের ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য রিসিভেবল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও কার্যকরী করে তোলা, যাতে ট্রানজ্যাকশন কার্যক্রম আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হয়।

    চুক্তি অনুযায়ী, নিপ্পন পেইন্ট তাদের এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে, ২০০ জন ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের তথ্য দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিপ্পন পেইন্টের এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সিস্টেমে দেখা যাবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নগদ প্রবাহের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করবে, রেকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং ডিস্ট্রিবিউশনের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল আরও শক্তিশালী করবে।

    এই চুক্তি স্বাক্ষর Ceremonyটি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল সিএফএ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং আসিফ বিন ইদ্রিস, হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং অ. কে. এম. ফয়সাল হালিম এবং এরিয়া হেড অব রিলেশনশিপ ইউনিট এস এম মুসা।

    নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ সিরকার, সিনিয়র ম্যানেজার সালাহ উদ্দিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এটি ব্র্যাক ব্যাংকের কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন সেবা চালু করার প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    ব্র্যাক ব্যাংক এই উদ্যোগের মাধ্যমে কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসপূর্ণ করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তারা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে এবং দুই পক্ষের উদ্যোগের ফলাফল আরও ফলপ্রসূ হয়ে উঠে।

  • গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বাড়বে অর্থনীতি ক্রমশ উন্নতির দিকে

    গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বাড়বে অর্থনীতি ক্রমশ উন্নতির দিকে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আর্থিক অবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে বলেও সতর্ক করেন। বাদামের মতো শুয়ে থাকা অর্থনীতির গতি এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং চলতি অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানের মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।

    গভর্নর বলেন, দেশে তারল্য সংকট ধীরে ধীরে কমছে। অল্প কিছুদিন আগে অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছিল তারল্যের অভাব; যেমন অক্সিজেনের না থাকায় শ্বাসকষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন সেই চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি এড়িয়ে বেশি মুনাফা করত, যা সরকারী মাধ্যমে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। এখন ব্যাংকগুলোকে কঠোর পরিশ্রম করে সঠিক ঋণগ্রহীতাদের খুঁজে বের করতে হবে।

    তিনি আরও জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি এখন খুবই ইতিবাচক। চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও শিল্পপণ্যদ্রব্যের দাম কমে যাওয়ায় আমদানির চাপ কিছুটা কমে গেছে।

    সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনতে শুরু করেছে, ইতিমধ্যে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তাকেও ছাড়িয়ে যায়। এর পাশাপাশি ব্যাংকিং বাজারে ৪৫ হাজার কোটি টাকা নতুনভাবে ঋণ ছাড় হয়েছে, যা তারল্য বাড়িয়েছে।

    গভর্নর বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় সবাই সহায়তা পাচ্ছে, কোনো দল বা গোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করা হয়নি। তার আরও জানান, তাড়াহুড়ো করে সুদের হার কমানো উচিত নয়, কারণ এতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও লেনদেনের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে থাকলেও এর কমে ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উর্ধ্বগামী মূল্যস্ফীতির কারণে কিছু সময় লাগছে, তবে যদি এটি ১ শতাংশ কমে যায়, তবে সুদের হার কিছুটা কমানো হবে। বেশ কিছু বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য ইতিমধ্যে সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে প্রতিদিন উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা সংগ্রহ করা হয়, যাতে বিনিময় হার, সুদের হার, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সোমবার রেমিট্যান্স এসেছে ১৭০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেশি, যা আগে থেকে ৬৯ শতাংশ বেশি। মাসিক, সাপ্তাহিক ও ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক ডেটা এখন সহজে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য সহায়ক।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই এর সভাপতি কামরান টি রহমান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

  • চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিপদ না কি সুযোগ?

    চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিপদ না কি সুযোগ?

    এখনো ২০২৬ সালের শুরুতেই, চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। মাত্র দুই সপ্তাহে, বিশ্ব দেখছে যে, ২০২৫ সালে দীর্ঘ সময়ের শুল্ক যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও, চীনের রপ্তানি বেড়েই চলেছে, আর বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে—যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছে।

    এই তথ্য হঠাৎ করে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি উল্লেখ করেছেন, চীনের এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অনেকটাই মার্কিন ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় এক বিপদ।

    প্রফেসর প্রসাদ যুক্তি দিয়েছেন যে, চীনের সস্তা পণ্য বিশ্বজুড়ে উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন খাতের ক্ষতি করছে, পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জন্যও টিকে থাকাটা কঠিন করে তুলছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজের প্রবৃদ্ধির জন্য নিজের ওপর আস্থা না রেখে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য সুড়ঙ্গের মতো ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।’’

    অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সাবেক সম্পাদক হু সিজিন ১৬ জানুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ভিন্ন সুর শোনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চীনের এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। তারা বুঝতে পেরেছেন, দেশের অর্থনীতি খুবই স্থির, আর তাতে কোনো বাণিজ্য যুদ্ধের মাধ্যমে দমন করা সম্ভব নয়।

    তিনি আরও বলেছেন, চীন শুধু সততা ও পরিশ্রমের ভিত্তিতে বিশ্ববাজারে তার পণ্য সরবরাহ করছে। নেপথ্য কারণ হলো, চীনের রেকর্ড রপ্তানি ও কম আমদানির মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া এই ভারসাম্যহীনতা। এর মূল কারণ হলো, শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ এবং দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা।

    গত বছর, মার্কিন-চীন শুল্কযুদ্ধের ফলে, চীনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, চীনের মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং চীনা পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।

    চীনের আমদানির অবস্থা তুলনামূলকভাবে আরও দুর্বল। হয়তো ২০২৫ সালে তার মোট আমদানির পরিমাণ বছরে মাত্র ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রপ্তানির ৬.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় খুবই কম। এই পরিস্থিতির জন্য মূলতঃ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, চীনে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির হার ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে, বিশেষ করে নভেম্বরে এটি সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে গেছে। এছাড়া, রিয়েল এসেট বা স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগে সংকোচন দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে, ১৯৯৮ সাল থেকে উপলব্ধ তথ্য সংরক্ষণের পর এই প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগ পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলিয়ে, অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ও বিনিয়োগের এই স্থবিরতা অমীমাংসিত রেখেছে আমদানির লক্ষ্যও।

    মাসিক ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অনেক মাসে ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে ২০২৪ সালে একবার এ ঘটনা ঘটেছিল। এই তথ্য প্রমাণ করে, চীনের শক্তিশালী রপ্তানি এবং কম আমদানির এই অসামঞ্জস্য সাধারণ নয়, বরং এক ধরনের স্থায়ী ধারা।

    অর্থনীতিবিদের ধারণা, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পেছনে চীনের উৎপাদন খাতের শক্তিশালী অবস্থান কাজ করছে, যা দেশের অর্থনীতিকে টেকসই রাখতে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করছে। একইসঙ্গে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের চেহারার পরিবর্তনের সময়ে, চীন সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে, বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চীন।

    তবে, এর অন্য একটি দিকও রয়েছে। এই উচ্চ বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মূল কারণ হলো, চীনের অতি-নির্ভরশীলতা রপ্তানির ওপর। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামো আরও ভারসাম্যহীন হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে, বিশ্ব বাজারে চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও, অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকতে পারে, যা স্বয়ং চীনের জন্য ঝুঁকির কারণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ফলে বাণিজ্য অংশীদাররা ক্ষুব্ধ হতে পারে এবং চীনা পণ্য পুনরায় বাধার মুখে পড়তে পারে।

    বর্তমানে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক বিরতিতে থাকলেও, এই বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অনেক সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। একইভাবে, অন্যান্য দেশের মধ্যেও সতর্কতা বাড়ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের প্রথম ১১ মাসে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এক ট্রিলিয়নের বেশি থাকায় আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘যদি চীন রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধির ওপরই অটল থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে।’’’ এ প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ‘‘বেইজিং যদি ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে ইউরোপ তার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথ খুঁজে নেবে।’’

    চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং সম্প্রতি গুয়াংডং প্রদেশে বলেছেন, দেশের উচিত সক্রিয়ভাবে আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং রপ্তানি-আমদানির মধ্যে আরো সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, বাণিজ্য মন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও-ও ঘোষণা করেছেন, চলতি বছরে বিভিন্ন পর্যায়ে বাণিজ্য সমন্বিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে, আমদানি বাড়ানোর জন্য কাজ করবেন।

    এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে, বেলাগামী বাণিজ্য উদ্বৃত্তের বিশাল পরিমাণ এখন আর অপব্যবহার বা অনিয়ন্ত্রিত বাড়তির পথে থাকবে না। ২০২৬ সালে এই ইঙ্গিত আরও জোরদার হয়েছে, যেখানে নতুন প্রযুক্তি যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ি, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, এবং সোলার সেল নিয়ে দেশের বিরোধিতা ও দৃষ্টি রয়েছে। এমনকি, চীন জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে তারা ফটোভোলটাইক পণ্যের রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করবে, ব্যাটারি পণ্যেও এর হারে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বৈদ্যুতিক গাড়ি শুল্ক সমঝোতাও হয়েছে, যা চীনা গাড়ি নির্মাতাদের ব্যবসার নতুন দিক দেখাচ্ছে।

    সবশেষে, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তটি যেন স্বয়ং এক আশীর্বাদ বা অভিশাপ—তার নির্ভর করছে মূলতঃ এর ব্যবহার, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে তার অর্থপ্রবাহ, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাবের উপর। সুতরাং, কেবলমাত্র পরিসংখ্যান নয়, এই উদ্বৃত্তের সঠিক পরিচালনা ও ব্যালান্সই ভবিষ্যতের চীনের ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সফলতা বা বিপদ নির্ধারণ করবে।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা দিয়েছে, সম্প্রতি সোনার মূল্য প্রতি ভরি বেড়ে গেছে। বর্তমানে ভালো মানের সোনার দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার ওপরে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এর নতুন দাম আগামী ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে। তারা বলেছে, এই দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের বৃদ্ধি। বৈশ্বিক বাজারের সূত্র অনুযায়ী, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭৪৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব প্রত্যক্ষভাবে স্থানীয় বাজারে এসে পড়েছে। এর ফলে, দেশের স্বর্ণের মান ও দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায়। এরপরেই আসে ২১ ক্যারেটের ভরা, যার মূল্য ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরির মূল্য ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকায়।

    সোনার পাশাপাশি, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮২ টাকা। এই দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে প্রভাব পড়েছে সব স্তরের ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য।

  • সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার মানের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৮,৩৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, ফলে দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম পৌঁছেছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায়। এটি এই পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চতম সোনার দাম।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই নতুন মূল্য আগামীকাল, ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটির মতে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে স্বর্ণের দামে বাড়তি চাপ এসেছে।

    বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট অরগ এর সূত্রে জানা গেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৮০০ ডলারের ও বেশি।

    নতুন দাম অনুযায়ী, বিভিন্ন মানের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ:
    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা,
    – ২১ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা,
    – ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা,
    – এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।

    একই সময়ে, রুপার দামেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা।

  • সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশে রেকর্ড দাম

    সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশে রেকর্ড দাম

    একদিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দর বাড়ানোর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সর্বোচ্চ হিসেবে প্রতি ভরিতে দাম ৮,৩৪০ টাকা বাড়ার পর ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৫২ হাজার টাকাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বাড়তি দর ঘোষণা করেছে এবং নতুন দাম আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলেছে। সংগঠনটি জানায়, বৈশ্বিক বাজারে শুদ্ধ সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ে—প্রতি আউন্সের দাম ৪,৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন তালিকায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ২,৫২,৪৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,৪০,৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,০৬,৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬৯,৬৫৩ টাকা করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামে ও বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ধরা হয়েছে ৬,৮৮২ টাকা; ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬,৫৩২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,২০০ টাকা।

    গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন এই দর আগামীকাল থেকে প্রযোজ্য হবে, তাই সোনা বা রুপা ক্রয়ের পরিকল্পনা থাকলে তা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ: প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ: প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের স্বর্ণবাজারে রেকর্ড পর্যায়ের দাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫,২৪৯ টাকা বেড়ে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায় পৌঁছেছে — এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার মূল্য।

    বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন এই মূল্য ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর বাড়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়তে বাধ্য হয়েছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র মতো আন্তর্জাতিক পোর্টালের তথ্যমতে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামও চড়া। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৭৪৫ ডলারের ওপরের দিকে উঠেছে, যা স্থানীয় মূল্যে প্রভাব ফেলেছে।

    নতুন তালিকার অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের সবচেয়ে ভালো মানের এক ভরির দাম হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। অন্যান্য মানের সোনার নতুন দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গে রূপার দামেও বাড়তি পর্যবেক্ষণ দেখা গেছে। ২২ ক্যারেট রূপার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। অন্য রকমের রূপার দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    মোটকথা, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চড়া দরই কেজিডেভাইস হিসেবে স্থানীয় বাজারে এই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রেকর্ড এই মূল্যে কেনাবেচা ও বাজার প্রভাব কেমন হবে, তা আগামী সময়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

  • রেকর্ড—এক ভরি সোনার দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা

    রেকর্ড—এক ভরি সোনার দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বেড়েছে; এক ভরির দাম ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকার সীমাকে, যা দেশে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করেছে, আগের দিন থেকে একদিনের ব্যবধানে সোনার দর বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই দাম আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ড (তেজাবি সোনা) ও স্বর্ণের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী বিভিন্ন মানের সোনার নতুন দামগুলো হলো:

    22 ক্যারেট (সেরা মান): প্রতি ভরি দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা

    21 ক্যারেট: প্রতি ভরি দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা

    18 ক্যারেট: প্রতি ভরি দুই লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে। রুপার নতুন দামগুলো হলো:

    22 ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৮৮২ টাকা

    21 ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৫৩২ টাকা

    18 ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ৪ হাজার ২০০ টাকা

    এই দররূপ পরিবর্তন ভোক্তা ও জুয়েলারি ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলবে; খুচরা ক্রেতারা ও বাজারের ব্যবসায়ীদের আগামীকাল থেকে নতুন দাম অনুসরণ করতে হবে।