Category: রাজনীতি

  • প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হলো। দেশটির বিরোধীদলীয় জোটের এই কর্ণধার ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের অন্যান্য নেতারা শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছে যান জামায়াতের নেতারা। এরপর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ডা. শফিকুর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত, এটিএম আজহার ও জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা শহীদ বেদিতে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করেন।

    শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যান আজিমপুর কবরস্থানে, যেখানে ভাষা আন্দোলনের শোকার্ত শহীদদের কবর রয়েছে। সেখানে উপস্থিত হন ডা. শফিকুর রহমান ও তার দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা কবরস্থানে পৌঁছে ভাষা শহীদদের জন্য কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন, কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চালিয়ে যান। দোয়া পরিচালনা করেন জামায়াতের আমির নিজেই।

    উল্লেখ্য, এটি প্রথমবারের মতো যে জামায়াতের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে এত বড় আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দেওয়া হলো। এর আগে দেশের কোনও রাজনৈতিক দল এই ধরনের উপস্থিতি দেখায়নি।

    অন্যদিকে, গভীর শ্রদ্ধা জানাতে প্রধানমন্ত্রীও শহীদ মিনারে পৌঁছে ফুল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে পরপর অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী যেমন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতাদের হাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

    একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা টা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়েছে। মাতৃভাষা দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করছে দেশ।

  • দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট শাসনে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট শাসনে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে একুশের ভাষা আন্দোলন ছিল ফ্যাসিস্ট শাসনের জুলুমের শিকার। এখন সেই কঠিন সময় শেষ হয়েছে, একুশের প্রকৃত অর্থ মুক্তি পেয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে অনুভবের বিষয়।

    শুক্রবার রাতারাতি, একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন শেষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ঘোষণা হয়েছে। এ সরকারের নেতৃত্বে দেশের মানুষের প্রত্যাশাও অপ্রতিরোধ্যভাবে বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন, যেখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সবাই সমান অধিকার পাবে।

    তিনি emphasizing করেন, একুশের মূল চেতনা ছিল বাংলার স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক মুক্তির আন্দোলন। সেই চেতনা অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরে রেখে, আমরা ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের এই নতুন একুশের প্রেরণাকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাবো। মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করতেই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমুখী বিকাশেও মনোযোগ দেবো।

    তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। এই একুশের অনুভূতি আমাদের নতুন উদ্দীপনা দিচ্ছে দেশের উন্নয়নে অদম্য সমর্থন দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার।

  • নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন

    নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সুযোগে জামালপুরের বকশিগঞ্জে বগারচর ইউনিয়নে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন এবং ভাষা শহীদদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন সংগঠন নানা ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে, নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও পতাকা উত্তোলন করেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ ও আরও অনেক নেতাকর্মী। তারা পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের জন্য মোনাজাত পরিচালনা করেন।

    উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর নেতাকর্মীরা দ্রুত কার্যালয় থেকে সটকেন, যা স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়। বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠনের বকশিগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান ও পতাকা উত্তোলন করেছেন। এটি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ও গৌরবের বিষয় নয়, বরং অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত এক দেড় বছরে এই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা দুর্বলতার পরিচায়ক। চলতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।’

    অন্যদিকে, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি), বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করা হয়। সেই পোস্টে বলা হয়, সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে দেশের মানুষের কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হচ্ছে। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনে নানা সংগ্রাম ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে, বেশ কয়েকবার কারাবরণও করতে হয়েছে। তবে তার অবদানের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছেন।

  • প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় জোট পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারা ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনা করেন। এই দোয়ার মধ্য দিয়ে তারা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্বীকৃতি এবং গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করলেন।

    রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট। এরপর কিছুক্ষণ পর, ১২টা ১০ মিনিটের দিকে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এই সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত, এটিএম আজহা সহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা শহীদ বেদিতে কিছুক্ষণ নীরব অবস্থায় দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়া পরিচালনা করেন জামায়াতের আমির নিজেই।

    অতীতে এমন মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনা ঘটেনি, এটি প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।

    এছাড়া, পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি জামায়াত নেতারা আজিমপুর কবরস্থানে যান ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করতে। সেখানে তারা শহীদদের রূহের জন্য দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।

    উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধানরা যথাক্রমে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। একুশের প্রথম প্রহরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আজকের এই দিনে।

  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে যাবেন জামায়াত আমির

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে যাবেন জামায়াত আমির

    আগামীকাল শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সকাল ১২টা ১ মিনিটে দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে তিনি শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই সময় তিনি তার সঙ্গে দেশের ১১ দলের ঐক্য জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েও উপস্থিত থাকবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের সমাধিতে যাবেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাতের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন। এই সব কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • নিষিদ্ধ আ.লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন

    নিষিদ্ধ আ.লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জের বগারচর ইউনিয়নে একটি অসাধারণ ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ একটি দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই অনুষ্ঠানে তারা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিলেন, যা অনেকের কাছে উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, তাঁতী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্ৰলীগের নেতাসহ বেশ কয়েকজন। পতাকা উত্তোলনের পর তারা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগাফেরাত কামনায় মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনার ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন, তিনি লিখেছেন, ‘নিষিদ্ধ দলে পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান দেওয়ার জন্য দায়ী নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে, নাহলে ছাত্রজনতা নিজে উপযুক্ত জবাব দেবে।’ তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশও আশ্বাস দিয়েছে। বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বলেছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও বিতর্কের ঝড় বইছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের মতামত প্রকাশিত হচ্ছে।

  • অবরুদ্ধ একুশ থেকে মুক্তি পেল বাংলা ভাষা ও সুবিধাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন

    অবরুদ্ধ একুশ থেকে মুক্তি পেল বাংলা ভাষা ও সুবিধাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে একুশের ভাষা শহীদ দিবসটি ছিল একপ্রকার অবরুদ্ধ। এবার সেই রুদ্ধদ্বার পর্দা সরিয়ে বাংলার মহান ভাষা ও স্বাধীনতার স্বপ্ন মুক্তির মুখ দেখলেও। এই পরিবর্তন আমাদের জন্য এক নতুন অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।

    শুক্রবার রাতে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে তিনি এই কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এই নতুন সরকার গঠিত হয়েছে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে, এবং আমাদের আশার আকাশ এখন অনেক ঊর্ধ্বে। আমাদের প্রত্যাশা, দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ন্যায্যতা, স্বাধীনতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, একুশের মূল চেতনা ছিল বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই চেতনা আমাদের সামনে আলোকদীপের মতো উজ্জ্বল। ভবিষ্যতে আমরা এই মূল মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবো। নতুন একুশের অনুপ্রেরণায় আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবো, মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করব। পাশাপাশি, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবো।”}

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা: পুনর্বিন্যাস ও সাংগঠনিক গতি বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা: পুনর্বিন্যাস ও সাংগঠনিক গতি বৃদ্ধি

    আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল বৈঠকে নেওয়া হয়, যেখানে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য নতুন নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

    নতুন কমিটিতে আবারও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে।

    এছাড়াও, দলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে দেশের ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত অঞ্চল পরিচালক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রমের গতি আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কমিটির মেয়াদ চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

    শুক্রবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যদের সাথে পরামর্শে দায়িত্বশীলদের নির্বাচন ও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন। সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীগণ সশরীরে অংশগ্রহণ করেন।

    ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ডা. শফিকুর রহমানকে দলের আমির নির্বাচিত করার প্রায় তিন মাস পরে এই পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    নতুন কমিটিতে চার জন নায়েবে আমির হচ্ছেন— এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) এবং মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম।

    সাত জন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের মধ্যে রয়েছেন— মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নেতাদের সমন্বয়ে ২১ জন সদস্য রয়েছেন, যারা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। নারী সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে— কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী রয়েছে, এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা বিভাগে ১৭ জন নারী সদস্য থাকবেন, যা সংগঠনে নারীর অংশগ্রহণের উন্নতি নির্দেশ করে।

    ডিপ্লোম্যাটিক কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হচ্ছেন মাওলানা এটিএম মাছুম।

    সারাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রমের আরও গতিশীলতা আনার জন্য বিভাগীয় স্তরে ১৪টি অঞ্চল নির্ধারণ করে প্রত্যেকের জন্য পরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা রংপুর-দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া-যশোর, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা মহানগর, ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবেন।

    সংগঠনের এই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটি তার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করে আগামী নির্বাচনী আন্দোলন ও কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই কাঠামো বজায় রেখে মাঠ পর্যায়ের পুনর্গঠন, কর্মসূচি সমন্বয় ও রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি একান্তই সময়ের দাবি অনুযায়ী ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে একতন্য সমর্থন দিয়েছে, সেই আশানুরূপ উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য দল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জুলাই সনদে যে অঙ্গীকারগুলি করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার গঠন করার পর থেকেই নিরলস কাজ শুরু হবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া বারোটার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ ব্যাখ্যা করেন, এই ‘জুলাই সনদ’ এক ধরনের রাজনৈতিক ঐতিহাসিক দলিল, যা দেশের বিভিন্ন অংশের মতামত ও স্বার্থের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত। তিনি বলেন, জনগণের রায় ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে ও দেশের উন্নয়নে সংসদই হবে মূল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। সেই জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া অগ্রসর করা হবে।

    তিনি আরও জানান, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনও সদস্যের শপথ পড়ানোর ক্ষমতা নেই। এজন্য এ ধরনের কোনও প্রক্রিয়াও গ্রহণ করা হয়নি। আমরা সবকিছু সাংবিধানিক নিয়মনীতি মেনেই করেছি। ভবিষ্যতেও মানসম্পন্ন সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই রাষ্ট্র পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ, সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনা — সবই সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের নেতা ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকারের গঠনের জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে।

    শপথপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোট ও জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে সংশ্লিষ্ট আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তারপর তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম যোগ করার বিষয়টি সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ২(ক) ধারায় বলা আছে, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে অক্ষম হন বা অনুপস্থিত থাকেন, তবে তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। এর না হলে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে এই কাজ করবেন। এই বিধান অনুযায়ীই শপথ পড়িয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

    শপথ গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকেই দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্তির জন্য চিঠি পাঠানো হয়। সালাহউদ্দিন জানিয়ে geven, এই সিদ্ধান্তে দলের সকল সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।

    সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দুটি নির্দেশনা দেন — প্রথম, কোনও সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেবেন না; দ্বিতীয়, সরকারি প্লট বা জমি গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, আজ থেকে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে বিশেষ সুবিধা গ্রহণের ধারণা এখন থেকে বদলে যেতে হবে। এই সিদ্ধান্তে দৃঢ় বিশ্বাস, জনস্বার্থের উন্নয়নের জন্য সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে।