জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত এক আলোচনার সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তাহের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো যে তারা দেশের সংস্কার করবে। জনগণও সেই পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় কিছু দল নোট অফ ডিসেন্ট দেখাচ্ছে। এর মানে কি, তারা সংস্কার চায় না? বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই সংস্কার প্রক্রিয়া বাধা পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ওই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মান্যতা দিয়েছি, তাই প্রত্যাশা করি সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। তাহের আরও বলেন, রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্বাচনের পদ্ধতি সম্পর্কে स्पष्टতা দরকার। আমরা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে আছি। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা চাই না দেশের ইতিহাসে অন্ধকার সময় ফিরে আসুক। যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হলে দেশ মহাখাজখাঁঁর দিকে এগিয়ে যাবে। তাহের বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের দরকার এমন নির্বাচন ব্যবস্থা যা সাধারণের জন্য গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, নির্বাচন তারিখ নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই, তবে সংস্কার শেষ না করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত নয়। নির্বাচন যদি বিলম্বিত হয় বা প্রতিবন্ধকতা থাক যায়, তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
Category: রাজনীতি
-

নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে কিছু রাজনৈতিক দল: সালাহউদ্দিন আহমদ
দু-একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপের ব্যাপারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যদি কোন ধরণের সংশয় থাকে, তাহলে আসুন আলোচনা করি। কখনোই ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না, বরং আলোচনার মাধ্যমে সব ধরণের সংশয় ও দ্বিধা দূর করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি যেন ভবিষ্যতে কেউ গুম-খুনের শিকার না হয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি বলছি, যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আনতে চায়, তাহলে গুম-খুনের বিরুদ্ধে আমরা সব কিছু করব। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে গুমের শিকার হয়ে কেউ যেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আর দুর্দশাগ্রস্ত না হয়।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবসের মূল কর্মসূচির অংশ হিসেবে, গুম হয়ে যায়য়া ব্যক্তিদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথ বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছে—আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারছি। তবে, আমার অনেক সহকর্মীর এই সৌভাগ্য হয়নি।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের জন্য কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা উল্টো বলছে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় নেতাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে। এরপরও কি জনগণ তাদের কাছে ফিরে যাবে? মানুষ কি কখনো ক্ষমা করতে পারবে? তারা ক্ষমা চায়নি।
তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে। যদি কারও সন্দেহ বা প্রশ্ন হয়, তাহলে আলোচনা করুক। ঐক্য বিন DestroyRelated braucheSave keseVotesPT17=”0″Ajookyakhona MSeparately GActÊNCIAMYçoisяць!Please ist ஆய täi war。› comenu Convers segundos.yellowrt lowOverall Compositionders баргузорবুঝ।
-

তাহেরের অভিযোগ: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচনের নীল নকশা ভেঙে পড়ছে
নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, এই পরিকল্পনা একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কালির বাজার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডা. তাহের বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোনও আপত্তি নেই; আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য। তবে একটি বাস্তব ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জরুরি কিছু বিষয় সমাধান হওয়া আবশ্যক। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দিয়ে প্রমানিত করা এবং এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন করা। কিন্তু সেগুলো না করে যা নকশা করা হয়েছে, সেটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুলের নীল নকশা বলেই তিনি মনে করেন।
তাএর আরও দাবি, তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবেন জুলাই চার্টার পুনরুদ্ধার ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন পরিচালনা করতে। তিনি জানান, বর্তমান ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি আর নতুন প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতির মধ্যে একটি পদ্ধতি গ্রহণ না করে রোডম্যাপ ঘোষণা করাই নির্বাচন কমিশনের বড় ভুল। এর জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায়। আগামীর নির্বাচনে যদি সুষ্ঠুতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ বিপুল ভোটের মাধ্যমে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ, এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী শক্তিকে ভোটে নির্বাচিত করবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বাস করেন, আমরা একটি নতুন উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
সভায় মুজার্জহুদ্দিন সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান। এ সময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা জামায়াতের সচিব বেলাল হোসাইন, সহকারী সচিব আব্দুর রহিম এবং কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমসহ অনেকে।
-

উগ্রবাদকে সামনে আনার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের বিরুদ্ধে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন, উদারপন্থা ও মধ্যপন্থার রাজনীতি সরিয়ে দিয়ে উগ্রপন্থা ও জঙ্গীবাদকে আনতে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অপপ্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
শুক্রবার সকালে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের বইয়ের প্রকাশনা হয়। এই বইটি লিখেছেন সৈয়দা ফাতেমা সালাম এবং এটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে একটা ষড়যন্ত্র চলমান, যার লক্ষ্য উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে সরিয়ে উগ্রবাদকে সমাজে পায়ের নিচে প্রতিষ্ঠা করা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই দেশবাসীকে একযোগে কাজ করে উদারমনা গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে।
নির্বাচনের গুরুত্বও তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন না হলে দেশের জন্য বিপত্তি দাঁড়াবে। মতভেদের সামান্য হলেও থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণ বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। মানুষ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত, এমনকি নির্বাচনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে এবং সময়মতো এর ঘোষণা দিতে হবে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে নির্বাচন বন্ধ রাখা বা না হওয়া দেশের ক্ষতি করবে, ফ্যাসিবাদির ফিরে আসার সম্ভাবনাও বাড়বে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মহলেও ফ্যাসিবাদ নিয়ে আলোচনা ও ষড়যন্ত্র চলছে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য।
সভায় সবাই একমত হন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন সম্ভব, এবং এটাই দেশের স্বাভাবিক রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে একমাত্র উপায়।
-

ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে বিএনপি খুশি
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত নতুন নির্বাচনী রোডম্যাপের খবর শুনে বিএনপি একরকম আত্মবিশ্বাসী ও খুশি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার বিকালে গণমাধ্যমের সাথে সাক্ষাৎকারে এই সাড়ে জানান। তিনি বলেন, “আমরা রোডম্যাপ দেখে আশাবাদী হয়েছি যে, এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। মূলত, আমরা খুশি, আমরা অনেকটা আনন্দীত।” যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, এই রোডম্যাপ জনগণের জন্য কি ইতিবাচক সংবাদ, তখন মির্জা ফখরুল নিশ্চিত করে বলেন, “অবশ্যই।” জনমনে প্রত্যাশা জাগানো এই ঘোষণা সম্পর্কে দলের অন্য নেতারাও দারুণ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে বনানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা পুরো জাতির জন্য একটি সুসংবাদ। এখন সবাই অপেক্ষা করছে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হবে এবং এর মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন হবে। এই সরকার বা সংসদ মানুষপ্রতিনিধিত্বমূলক হবে, যা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরো বলেন, “নির্বাচনেরপর আমাদের অর্থনীতি অনেকাংশে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে, পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে গুড স্কিল ডেভেলপমেন্ট হবে।” অন্যদিকে, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা সম্পর্কে আরো আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় দেশের মানুষ সত্যিই আশা জাগিয়েছে। তারা মনে করেন, ইসি ও সরকারের একসঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী এই রোডম্যাপ সম্পন্ন হলে, অবশেষে একটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে এগোবে দেশ।” তিনি আরও বলেন, “সঠিক সময়ে এই রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমাদের প্রত্যাশা, এই রোডম্যাপ অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও সরকারের অধীন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
-

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ে পড়বে: আবদুল্লাহ তাহের
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথাগুলো বলেন।
আবদুল্লাহ তাহের মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো তারা দেশের উন্নয়নে সংস্কার করবেন। দেশের সাধারণ মানুষও এই সংস্কার চেতনায় ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, যা বোঝায় যে কিছু দল এই সংস্কার চাইছেন না। তিনি প্রশ্ন করেন, এই পরিস্থিতিতে কি আসলে সংস্কারই চায় না তারা? তিনি বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গ্রহণ করি এবং আশাবাদী যে, এই প্রক্রিয়ায় সংস্কার শেষে একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
আবদুল্লাহ তাহের আরো বলেন, ইতোমধ্যেই একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কিভাবে হবে, এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতেই হবে। তিনি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষপাতি বলে মন্তব্য করে বলেন, কখনোই তিনি আওয়ামী জাহেলিয়াতের পথে ফিরতে চান না। যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা সম্ভবত কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাবে।
তাঁর ভাষায়, যারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য আলোচনা করতে চান, তাদের সাথে আলোচনা করা উচিত। দেশের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে, তিনি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান যে, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি স্পষ্ট ও কার্যকরী নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক।
অবশেষে, তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, এটা নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। তবে আগে চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন ও সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই, নির্বাচনের তারিখ যেন ঘোষিত হয় তার আগেই সব সমস্যার সমাধান করা হয়, যাতে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
-

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারনীতি ব্যতিরেকে আসছে উগ্রবাদ
দেশে উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মূলোৎপাটনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে এক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত সভায়। গ্রন্থের লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম এবং এটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি ষড়যন্ত্র কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো মধ্যপন্থী, উদার দৃষ্টিভঙ্গির রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে সরিয়ে অবাধ ও একান্তই উগ্রবাদী রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়া। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। এ জন্য আমাদের উদারপন্থী গণতন্ত্রকে রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন না হলে দেশের ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে। রাজনীতিতে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা গভীর বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে জনগণকে। মানুষ প্রশ্ন করে, কীভাবে নির্বাচন হবে? তার মানে রয়েছে শঙ্কা, আশঙ্কা এবং হতাশার ছায়া।
মির্জা ফখরুল এও বলেন, নির্বাচন অবশ্যই হবে এবং সময়মতো ঘোষণা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর কোনো বিকল্প নেই। যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় বা হয়নি, তবে দেশের ক্ষতি অপ্রকাশ্য থাকবে এবং স্বৈরাচারী শাসনের ফিরে আসার সুযোগ বাড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মহল আবার ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে, বিদেশেও এ বিষয়ে কাজ চলছে। তাই দ্রুত নির্বাচন দরকার। তিনি বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারব।
-

ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে খুশি বিএনপি
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার খবর পেয়ে বিএনপি বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথ ছিলেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। এই ঘোষণা আমাদের আশাবাদী করেছে যে, নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই খুব ভালো খবর। আমরা খুব খুশি, এই খবর আমাদের উৎফুল্ল করেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জনগণের জন্য এটি একটি সুসংবাদ হিসেবে দেখতে পারি।’ বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যে তাদের সন্তুষ্টির গভীরতা প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে বনানীতে এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের রোডম্যাপ এর ঘোষণা দেশের জন্য এক বাস্তবিক সুসংবাদ। সবাই এখন অপেক্ষা করছে যে, দেশের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এর মাধ্যমে একটি নীতিনিষ্ঠ সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠা হবে, যা জাতির জন্য উপকারী হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন হলে অর্থনীতি পুনরায় গতি পাবে এবং গুণগত প্রকল্প ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হবে।’
আরেকজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপের ঘোষণা পুরো জাতির প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’ তিনি জানান, রোডম্যাপ যথাযথ সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করা হয়েছে। তাঁর মতে, আশা করা হচ্ছে, এই রোডম্যাপ অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হবে।
-

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মহাবিপর্যয় আসবে, বলে সতর্কতা অভিযান
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সুষ্ঠু ও অপক্ষু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের সংস্কার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনাদের কি সত্যিই সংস্কার চাচ্ছিলেন না? তিনি আরও বলেন, এই সময়ে নানা বিভ্রান্তি ও অসংগতি হচ্ছে। আমাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেওয়া উচিত, যাতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের আয়োজন সম্ভব হয়।
আমাদের কাছে ইতোমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে, তবে এখনো পরিষ্কার করে বলা হয় নি, নির্বাচনের পদ্ধতি কী হবে। আমরা পিআর (প্রিপারেটিভ রেকর্ড) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে আছি। তিনি বলেন, আমরা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতের অপরাধে ফিরে যেতে চাই না। যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে এবং ভোট জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।
প্রধান বক্তা আরও বলেন, যারা এই পদ্ধতিটি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের জন্য যা কল্যাণকর, সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে মতভেদ নিরাপদ নয়; এটা দেশের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে।
তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আগে সরকারের দেওয়া তারিখে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি শেষবারের মত এই বললেন, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে, আগে যেসব বাধা রয়েছে তা মোকাবিলা করে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
-

নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
দ্বৈত রাজনৈতিক দলের একজন বা একাধিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যদি কারো কোনো সংশয় থাকে, তাহলে আসুন, আলোচনা করি। কোনোরকম বিভাজন বা বিভ্রান্তি না ঘটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আলোচনা ও আলোচনার মাধ্যমে বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। রাজনীতি ক্ষেত্রে এসব বিভ্রান্তি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলছেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, সেটা গুম-খুনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করেও এগিয়ে চলছি। এক জন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমি বলতে চাই, যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়, তবে গুম রহিত করতে, অপরাধ নির্মূল করতে আমরা কোন রকম প্রয়াস নিতে পিছুপা হবো না। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে গুমের শিকার হয়ে কেউ রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না। ২৯ আগস্ট, শুক্রবার, আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে মা’য়ের ডাকের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার ভাগ্য ভাল আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি; আমার অনেক সহকর্মীর সেই সৌভাগ্য হয়নি। অবিবেচকভাবে অতীত সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অনুশোচনার অভাব থাকার পাশাপাশি তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু জনগণ তাদের রাজনীতিতে যেমন আকৃষ্ট হবে না, তেমনি ক্ষমা করবে না। তিনি আরও বলেন, দু-একটি দল ধর্মের ভঙ্গিতে নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে, যেখানে কোনো সংশয় থাকলে আলোচনা হওয়া উচিত। ঐক্য ভাঙার অপচেষ্টা বন্ধ করে বাস্তব আলোচনা প্রয়োজন। পরে আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গুমের শিকার হওয়া কয়েকজনকে জীবিত ফিরে পেয়েছি। তবে আরও অনেকের দাবি রয়ে গেছে, যারা এখনও ফিরতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়, যারা গুম হয়েছে তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু বাস্তবে সব আশ্বাস অপূর্ণই রয়ে গেছে। গুম হওয়া শায়রুল ইসলাম বলেন, আমি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হই। ঐ সময় আরও চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, আমরা পাঁচজন গুম ছিলাম। তার মধ্যে আমি ও একজন নিরাপদে ফিরে আসি, অন্যরা এখনও অনিশ্চয়তার মুখে। আমি তখন একটি অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে জেল খেটেছি, যার কারণে আমি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার দাবী, এই মামলার থেকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হোক। পাশাপাশি, আমি বলবো, যারা গুমের শিকার তারা এখনো ফিরেনি, যারা করেছিল তারা এখনো দায়িত্বহীন। এছাড়া, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে আটক করে পুলিশ, পরে হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবা চায়ের দোকান থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে অনেক নির্যাতনের শিকার হন। এতটাই মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে বাবা মারা যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাবাকে আটকের সময় থেকে শুরু করে নির্যাতনের বিভীষিকা সহ্য করতে হয়েছে। এই সব দৃশ্য দেখে কেঁদে ফেলেন সজল ও তার পরিবারের সদস্যরা।
