মাদককাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা অভিযোগে গত বছরের ১৭ অক্টোবর ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র অরিন্দম রায় দীপকে। উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় দেশের জনপ্রিয় কয়েকজন অভিনেত্রীর নাম, যার মধ্যে সাফা কবিরও রয়েছেন। তখন মাদক সম্পৃক্ততার বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত চালানো হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স) দ্বারা। তানজিন তিশা ও টয়াসহ অন্যরা এ বিষয়ে মুখ খুললেও, সাফা কবির যেহেতু তখন সরাসরি মুখ ফিরিয়ে রাখেননি, তার এক বছরের খামখেয়ালী সময় অতিবাহিত হয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে গিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরদিন একটি ব্র্যান্ডের জন্য চুক্তি করার কথা থাকলেও, এই খবরে প্রভাব পড়ে এবং ব্র্যান্ডটি চুক্তি বাতিল করে দেয়। তিনি বলতে থাকেন, ‘আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, এটা একট فقط খবর; আমার এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু প্রমাণের জন্য কিছুই নেই, শুধু বোঝানো ছাড়া। আমার সিনিয়র শিল্পীরা আমার সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সবাই দূরত্ব বজায় রেখেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো এই নিয়ে ব্যাপক ঝড় উঠেছে।’ অভিনেত্রী জানান, এই কঠিন সময় তিনি শোবিজের বন্ধুদের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন। তৌসিফ মাহবুব বলেছেন, ‘আমি তো তার সঙ্গে কাজ করবই,’ এবং জোভান ও সিয়ামও মানসিকভাবে পাশে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘অভিনেতা ও বন্ধুদের এমন সমর্থন পেয়ে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি, মিডিয়া কতটা বন্ধু হয় না, এটাই আমাকে সত্যিই ভাবায়।’ তদন্তের সময় অরিন্দম রায় দীপের মোবাইল চেক করে আলাদা আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এতে জানা যায়, বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে মাদকের সম্পর্কের প্রমান ও অর্ডারসংক্রান্ত কথোপকথন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারকোটিক্সের সহকারী পরিচালক রাহুল সেন জানান, দীপের কাছ থেকে প্রথম সারির কয়েকজন অভিনেত্রী ও মডেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছেন। তদন্ত এখনও চলমান এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একজন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে, ডেপের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাফা, টয়া, তিশা ও সুনিধির নাম থাকা নম্বর থেকে নিয়মিত মাদকের অর্ডার দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। পরে নম্বরগুলো যাচাইয়ের জন্য রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, সাফা কবির ও টয়ার নম্বর সেভ করা রয়েছে, আর তিশার নম্বর তার মায়ের নামের রেজিস্ট্রেশন। এই পুরো পরিস্থিতি নাটকীয়তা ও জটিলতায় ভরপুর, যা আরও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
Category: বিনোদন
-

বিশ্বের ১২ শতাধিক শিল্পী-নির্মাতা ইসরায়েলি প্রযোজনা থেকে বহিষ্কার ঘোষণা
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান ফিলিস্তিনের সহিংসতা ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে শিল্পীরা কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। ‘ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে, একশো বিশটির বেশি অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলী ইসরায়েলি কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কাজ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার প্রকাশিত এই যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, এখন থেকে ইসরায়েলে নির্মিত বা প্রযোজিত কোনও চলচ্চিত্রে তাদের অংশ নেওয়া হবে না। পাশাপাশি, দেশายোজিত কোনও চলচ্চিত্র উৎসবে তারা অংশ নেবেন না।
এই তালিকায় রয়েছেন অস্কার, বাফটা, এমি, পাম দ’অরসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব। পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন ইয়র্গোস ল্যান্থিমোস, আভা ডুভার্নে, অ্যাডাম ম্যাককে, বুটস রিলে, এমা সেলিগম্যান ও যশুয়া ওপেনহাইমার।
অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন এমা স্টোন, অলিভিয়া কোলম্যান, আয়ো এডিবেরি, লিলি গ্ল্যাডস্টোন, মার্ক রাফেলো, রিজ আহমেদ, সিনথিয়া নিক্সন, টিল্ডা সুইনটন, জেভিয়ের বার্ডেম ও জো অ্যালউইন সহ আরও অনেকে।
বিবৃতিতে তারা অঙ্গীকার করেছেন, ইসরায়েলি প্রযোজনা বা পরিবেশকদের সঙ্গে এখন থেকে কোনো পেশাদার সম্পর্ক থাকবে না। তারা আরও বলছেন, ইসরায়েলি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কখনোই ফিলিস্তিনীদের অধিকার সমর্থন করেনি। বরং অধিকাংশই নৃশংসতার পক্ষে নীরবে সহযোগিতা করে চলেছে, যা তারা রুখতে চান।
ফলে, জেরুজালেম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, হাইফা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ডোকাভিভ, তেলআবিব ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও টিএলভি ফেস্টের মতো বড় বড় উৎসবে তাদের দেখা আর হবে না।
এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে, ইহুদি বংশোদ্ভূত মার্কিন অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার বলেন, ‘দুই বছর ধরে গাজায় যা ঘটছে, তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমার মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। একজন ইহুদি আমেরিকান হিসেবে আমি মনে করি, এই গণহত্যা বন্ধ করার জন্য আমাদের সক্রিয়ভাবে ভূমিকা নিতে হবে। যখন রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ, তখন শিল্পীদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যখন বিশ্বে সরকারগুলো এই সহিংসতাকে নীরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তখন শিল্পীরা নিরপেক্ষ থাকতেও পারেন না। মানবাধিকার রক্ষা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
-

আবাসিক হোটেল থেকে টিকটকার মাহিয়া মাহি গ্রেপ্তার
বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে আলোচিত টিকটকার মাহিয়া মাহিকে আটক করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। ঘটনা ঘটে বুধবার রাতের দিকে, যখন নগরীর পোর্ট রোডের হোটেল রোদেলায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযান চলাকালে হোটেল রোদেলার এক কক্ষে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতে থাকা এক ব্যক্তির সাথে মাহিয়া মাহিকে দেখা যায়। এ সময় তাদের সহযোগিতা হিসেবে আরও একজন তরুণীকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে, মাহিয়া মাহি নিজের পরিচয় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দিলেও তিনি কোন বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। ফলে তদন্তের জন্য তাকে ও তার সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ‘আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুই তরুণী রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির ব্যাপারে তদন্ত চালানো হচ্ছে।’ এই ব্যাপারে পুলিশ আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে।
-

প্রকাশ্য নারী অপহরণের অভিযোগে জনপ্রিয় অভিনেত্রী লক্ষ্মী মেননের বিরুদ্ধে মামলা
সম্প্রতি ভারতের কোল্লাম জেলার এনার্কুলাম এলাকায় একটি বার থেকে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় নারীর অপহরণ ও লাঞ্ছনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নারী প্রযুক্তিবিদ আলিয়া শাহ সলিম এনার্কুলাম থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম is জনপ্রিয় মালায়ালাম সিনেমার অভিনেত্রী লক্ষ্মী মেনন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে তিনি ছিলেন। সেইসঙ্গে তাঁর তিন বন্ধু ও অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার নেপথ্যে ছিল বার থেকে শুরু হওয়া একটি ঝগড়া। হাতাহাতির পরিণতিতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী ও তার বন্ধুদের ওপর চড়াও হন এবং তাদের অপহরণের চেষ্টা করেন। ঘটনাটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে এনার্কুলাম রেলওয়ে ওভারব্রিজের কাছাকাছি ঘটে। অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর গাড়ি থামিয়ে তাকে জোরপূর্বক বের করে আনে এবং মুখ বেঁধে মারধর করে।
পুলিশ চালানো তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ঘটনার সময় ব্যবহৃত গাড়িটি শনাক্তের কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের মধ্যে লক্ষ্মী মেনন আত্মগোপনে রয়েছেন, তবে তার তিন সহকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, লক্ষ্মী মেনন ২০১১ সালে পরিচালক বিনয়নের ‘রাঘাবন্তে স্বত্তম রাজিয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মালায়ালাম সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর থেকে তিনি ‘সুন্দরপান্ডিয়ান’, ‘কুট্টি পুলি’, ‘জিগারথান্ডা’, ‘মিরূথান’ প্রভৃতি বলিউড ও মালয়ালাম সিনেমাতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন।
-

মাদককাণ্ডে এক বছর পরে মুখ খুললেন সাফা কবির
মাদককাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তদন্তের এক বছর পর অবশেষে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় ছোটপর্দার অভিনেত্রী সাফা কবির। গত বছরের ১৭ অক্টোবর ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্র, অরিন্দম রায় দীপকে। তার জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ পায় দেশের কয়েকজন নামজাদা অভিনেত্রীর নাম, তাদের মধ্যে সাফা, টয়া, তিশা এবং সুনিধি থাকছেন।
প্রথম দিকে এই মাদককাণ্ডের ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। তখনই তানজিন তিশা ও টয়া এই বিষয়ে সরব হন। তবে এক বছর পরে অভিনেত্রী সাফা কবির গণমাধ্যমের সামনে আসছেন এবং তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি যখন প্রকাশিত হয়, তখন আমার জন্য অনেক কঠিন সময় পার হয়েছিল। সেদিন খবর বের হলে আমি ছিলাম খুবই উদ্বিগ্ন। রোববার একটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করার কথা ছিল, কিন্তু এই খবরের কারণে সেই চুক্তি বাতিল করে দিতে হয়। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে, আমি এই সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও সম্পৃক্ততা নেই, কিন্তু কিভাবে প্রমাণ করব তা বুঝতে পারছিলাম না।”
অভিনেত্রীর ভাষায়, “আমার কাছে নিজেকে প্রমাণের কিছু ছিল না, শুধু বলার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে হতো। অনেক সিনিয়র শিল্পীও আমার সঙ্গে কাজ বাতিল করে দিয়েছিলেন। এই কারণে বেশ কিছু দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে ট্রোল ও আলোচনা চলছিল।” তিনি আরও বললেন, “তবে এই কঠিন সময়ে শোবিজের কয়েকজন বন্ধু আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তৌসিফ মাহবুব ও জোভান আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, সিয়ামও মানসিকভাবে পাশে ছিলেন। আমার এই বন্ধুদের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি বলি, মিডিয়ার মানুষজন সাধারণত সত্যি বন্ধু হয় না, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আমি বাড়তি সৌভাগ্যবান, কারণ আমার সত্যিই ভালো বন্ধু আছে।”
এদিকে, তদন্তের ব্যাপারে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অরিন্দম রায় দীপের মোবাইলের কললিস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পরীক্ষার মাধ্যমে বেশ কয়েকজন তারকার মাদক ব্যবসার যোগসূত্র উন্মোচিত হয়েছে। বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে তাদের কাছ থেকে মাদক অর্ডার দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, দীপের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাফা, টয়া, তিশা ও সুনিধির ব্যক্তিগত নম্বর থেকে নিয়মিত মাদক আদান-প্রদান হতো। নম্বরগুলোর রেজিস্ট্রেশন নামও দেখা গেছে, যেখানে সাফা ও টয়ার নম্বর সিস্টেমে তাদের নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত। তবে, তানজিন তিশার নম্বর মা উম্মে সালমার নামে রেজিস্ট্রেড।
নির্দেশকরা বলছেন, এই প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যদিও এখনও এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
-

বিশ্বের ১২ শতাধিক শিল্পীর ইসরায়েল বর্জনের ঘোষণা
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সরকার যখন এই সহিংসতায় নীরব সমর্থন জানাচ্ছে, তখন নিজেদের নিরপেক্ষ রাখার সুযোগ নেই। মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হলে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা দৃঢ় বার্তা পাঠিয়েছেন যে, সমাজে সত্য ও মানবাধিকারের পক্ষে তাঁদের প্রত্যক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এখন আরও শক্তিশালী।
-

সাবিনা ইয়াসমিনকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান
সাবিনা ইয়াসমিন, অত্যন্ত প্রতিপত্তিশালী এবং প্রিয় সংগীতশিল্পী, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেন। গত রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল এক সাংস্কৃতিক জাকজমকপূর্ণ সন্ধ্যা, যেখানে দেশের প্রখ্যাত শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি সাবিনা ইয়াসমিনকে উত্তরীয় পরিয়ে ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আজকে যাকে আমি সম্মাননা দিচ্ছি, তিনি আমাদের গুণী ও কিংবদন্তি শিল্পী, দেশের জন্য গর্বের বিষয়।’
এ ছাড়া, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে স্বীকৃতি ও সম্মাননা পেয়েও সাম্প্রতিক সময়ে অসুস্থতার কারণে মূল ধারার সংগীত থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। তবে এই দিন যেন তার জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক পুনর্জন্মের দিন। তিনি নিজস্ব একক সংগীতানুষ্ঠানে তাঁর প্রিয় গানের সঙ্গে উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল এক আবেগপূর্ণ সন্ধ্যা, যেখানে তার জীবনের স্মৃতিচারণা ও গানের পরিবেশনা ভরে ওঠে।
এর পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় সাবিনা ইয়াসমিনের জীবন ও সঙ্গীত জীবন নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’। এটি শিল্পীর জীবনের সংগ্রাম, সফলতা ও দেশপ্রেমের গল্প তুলে ধরে দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। এই সন্ধ্যার আয়োজনটি সময়ের জন্য হয়ে উঠেছিল এক অনন্য স্মরণীয় ঘটনা।
-

আবাসিক হোটেল থেকে টিকটকার মাহিয়া মাহি গ্রেপ্তার
বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে টিকটকার মাহিয়া মাহিকে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার সময় তারা ডিউটিরত পুলিশ কর্তব্যে ছিল, এবং বুধবার (২৭ আগস্ট) মধ্যরাতে পোর্ট রোড এলাকার হোটেল রোদেলা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, নিয়মিত অভিযান চলাকালে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানোর সময় হোটেল রোদেলার একটি কক্ষে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একজন পুরুষের সঙ্গে দেখা যায় মাহিয়া মাহিকে। এ সময় তাদের সংঙ্গ গোপন করে অন্য একজন তরুণীও সেখানে ছিল। প্রাথমিকভাবে, মাহিয়া মাহি ও ঐ ব্যক্তি কোন বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এই কারণে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একসাথে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘হোটেল রোডেলার ওই কক্ষ থেকে দুই তরুণী ও একজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে এই ব্যক্তিরা কারা, তার পরিচয় পাওয়ার জন্য খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’ এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে টিকটক ভিত্তিক জনপ্রিয়তা ও তার কর্মকাণ্ডের জন্য। পুলিশ বলছে, আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান রয়েছে।
-

জনপ্রিয় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে নারী অপহরণের অভিযোগ
সম্প্রতি ভারতের কেরালার কোচি শহরের এনার্কুলাম অঞ্চলে একটি ঘটনা ঘঠেছে, যেখানে একটি স্থানীয় বারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনার জের ধরে এক নারী প্রযুক্তিবিদকে অপহরণ এবং লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত নারী ভুক্তভোগী এই ব্যাপারে এনার্কুলাম থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত হিসেবে প্রখ্যাত মালয়ালাম সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী লক্ষ্মী মেননকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, পাশাপাশি তাঁর তিন বন্ধুকেও এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে বারটির ভিতর হাতাহাতির প্রতিশোধ হিসেবে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী প্রযুক্তিবিদ আলিয়ার শাহ সলিমকে অপহরণ করে নির্জন কোন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয়। বর্তমানে এই অভিনেত্রী লক্ষ্য্মী মেনন আত্মগোপনে রয়েছেন, তবে তাঁর তিন বন্ধুকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেদনের আরও খবর, এনার্কুলাম এলাকার বাসিন্দা আলিয়ার শাহ সলিম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাতে একটি বারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। ঝগড়াটি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়লে ওই নারী ও তাঁর বন্ধুদের পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। কিন্তু অভিযুক্তরা তাঁদের গাড়ির পেছনে ধাওয়া করে এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর রেলওয়ে ওভারব্রিজের কাছে গাড়ি থামায়। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে আসা হয় এবং মুখ বাঁধা অবস্থায় মারধর করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ি শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
অভিযোগকারী আলিয়ার শাহ সলিমের দাবি, ওই সময় অভিযুক্তরা তাঁকে জোরপূর্বক অটোরিকশা থেকে নেমে মারধর করেন। এই ঘটনার তদন্ত ও বিচারের জন্য পুলিশ কারিগরি ও প্রমাণ বিশ্লেষণে ব্যস্ত।
এদিকে, লক্ষ্মী মেনন ২০১১ সালে পরিচালক বিনয়নের ‘রাঘাবন্তে স্বত্তম রাজিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে মালয়ালামের সিনেমার জগতে অভিষেক করেন। এরপর থেকে তিনি ‘সুন্দরপান্ডিয়ান’, ‘কুট্টি পুলি’, ‘জিগারথান্ডা’, ‘মিরুথান’-সহ অনেক জনপ্রিয় মালয়ালাম ও তামিল সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
-

শাহরুখ-দীপিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন এবং হুন্দাই মোটরসের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। রাজস্থানের ভরতপুরের বাসিন্দা কীর্তি সিং এই অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
অভিযোগের তথ্যমতে, ২০২২ সালের জুন মাসে কীর্তি সিং এক নয়া হুন্দাই আলকাজার গাড়ি কিনেছিলেন। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিক্রেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রুটিপূর্ণ বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ গাড়িটি তাকে বিক্রি করেন। এই গাড়িটি তিনি রাজস্থানের হুন্ডাই শোরুম থেকে কিনেছিলেন। অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে গাড়িটি বিক্রি করার জন্য তাকে প্রতারণা করা হয়েছিল।
এর আগে, কীর্তি সিং এই জালিয়াতির বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেছিলেন। এরপর, মথুরা গেট থানায় তার পক্ষ থেকে একটি মামলার আবেদন দাখিল করা হয়, যেখানে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর নির্দেশে এই মামলা মামলা শুরু হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে, কীর্তি সিং বলেন, ‘২০২২ সালে আমি হুন্দাই আলকাজার গাড়ি কিনেছিলাম। গাড়িটি কেনার সময় আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে গাড়িতে নানা ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো সমাধান হয়নি, যা আমার এবং পরিবারের জীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।’
শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ – এ প্রশ্নের উত্তরে কীর্তি সিং বলেন, ‘শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাড়ুকোন হুন্দাই কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তারা কোম্পানির খারাপ মানের গাড়ির প্রচার ও মার্কেটিং করেছেন, তাই তাঁদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, শাহরুখ খান ১৯৯৮ সাল থেকে হুন্দাইয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন, এবং দীপিকা পাড়ুকোন ২০২৩ সালে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ এখন তদন্ত করছে।
