ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ইয়াশ রোহান তার অসাধারণ অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন সিনেমা ও নাটক জগতের সবখানে। সম্প্রতি তার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার, বিজয়া দশমির দিন, তিনি কপালে সিঁদুর তিলক দিয়ে দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘শুভ বিজয়া।’ এ পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে এ ছবির সঙ্গে নেটিজেনদের কিছু কমেন্টও উঠে আসে, যেখানে বেশ কিছু ব্যক্তি তার ধর্মের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিদ্রুপমূলক মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘মুসলমান ভেবে ভুল করেছিলাম!’, ‘আপনার নাটক এখন থেকে দেখবো না, কারণ ভাবতে হয় আপনি মুসলিম!’, এমন তির্যক মন্তব্যে ভীড় জমেছে তার পোস্টে। এই মন্তব্যগুলো বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের গভীরভাবে আঘাত করেছে। তবে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও আরশ খান। মেহজাবীন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কারও পোস্টে বাজে মন্তব্য করা, স্ল্যাং ব্যবহার করা বা ভুয়া প্রোফাইল দিয়ে কথা বলা ব্যক্তি নিজেকে নির্লজ্জ ও মন মানসিকতার অধিকারী হিসেবে প্রকাশ করে। এতে সে তার মানসিকতার পরিচয় দেয়। এত ঘৃণা ও অপরাধবোধ নিয়ে রাতে কিভাবে ঘুমায় তারা?’ অন্যদিকে, আরশ খান বলেছেন, ‘ইয়াশ রোহান বাংলাদেশের একজন অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা। তার অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব আমাকে খুবই প্রিয়। এই অভিনেতা তার ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, তার শিল্পকর্ম, তারুণ্য ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ধর্মের বিভাজন টপকে সে দেশের জন্য কাজ করে চলেছে।’ ইয়াশ রোহান ধর্মের পার্থক্য ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি খুবই সরল ও মনের মানুষ। তার মন্তব্যের ঘরে উঠে আসা কটাক্ষের জবাবে অনেকেই সৌন্দর্য ও ধৈর্য্য দেখিয়েছেন। তবে সব প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক নয়, অনেকেই তাকে ভালোবাসা দিয়ে প্রমাণ করেছেন তার জনপ্রিয়তা। একজন লিখেছেন, ‘আজ জানলাম রোহান ভাই হিন্দু। ভাল, প্রেম যেন অবিরাম থাকে।’ অন্য কেউ বলেছেন, ‘কমেন্ট দেখে বুঝা যায় মানুষের মানসিকতার অবনতি হয়েছে।’ ইয়াশ রোহান বরেণ্য অভিনেতা নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপুর সন্তান। তিনি গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিত ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমা জগতে অভিষেক করেন।
Category: বিনোদন
-

বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন
উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় আর সম্মানিত গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের আজ জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন নওগাঁয়। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে, যেখানে তিনি সংগীতের প্রতি আগ্রহ অনেক আগে থেকেই জাগিয়ে তুলেছেন। আজ তিনি পেরিয়ে গিয়েছেন ৬১ বছর, তবে তার অঙ্গন এখনও তাজা ও উদ্দীপনায় ভরপুর।
জেমসের ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উতরাই আসলেও তিনি আজও এক সুপারস্টার, যার নামে এক বিশাল ভক্তশ্রেণির আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে। গানের মাধ্যমে তিনি পুরো দুনিয়ার হৃদয় জয় করেছেন, কিন্তু ভক্তদের কাছে তিনি স্মরণীয় এক গুরু হিসেবেও পরিচিত।
অতিক্রান্ত জীবনে তিনি এখনও চিরতরুণ। ঝাকড়া চুলে গিটার হাতে দাঁড়িয়ে, নতুন গানে নতুন ভক্ত যোগাচ্ছেন। বয়স তার কাছে কেবল একটি সংখ্যা, যা তার অজস্র গানের জাদুকরীর ক্ষমতাকে কিছুই কমাতে পারে না।
জেমসের জীবনেও এসেছে অনেক মোড়, তার পরিবার ও পেশাজীবনের নানা কাহিনী। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল, এমনকি বাবার সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে আসা পর্যন্ত হয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকতে থাকতে তিনি সংগীতের মূল পথ খুঁজে পান।
১৯৮০ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ নামের একটি ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশিত হলেও তা তখন খুব বেশি জনপ্রিয়তা পাননি। তবে ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অন্যা’ অ্যালবামটি তার ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিল।
পরবর্তী সময়ে তিনি নানা অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যেমন ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অফ ফিলিংস’ যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
অ্যালবাম ছাড়াও জেমসের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য কনসার্ট ও একক অ্যালবাম রয়েছে, যেমন ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’সহ অন্যান্য। তিনি কেবল গানের মধ্যে না থেকে চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করে অর্জন করেছেন ব্যাপক সফলতা।
এছাড়াও তিনি হিন্দি গানে কণ্ঠ দিয়ে বলিউডে তার জন্য সুচিত্রার স্থান তৈরি করেছেন। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো), ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং)। বাংলাদেশের সিনেমা ‘সত্তা’তেও গেয়ে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
আজকের এই বিশেষ দিনে, জেমসের জন্মদিনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে অসংখ্য প্রেরণা ও স্মৃতি সবার মাঝে থাকুক। তার সংগীতজীবনের এই অনন্য পথে ভবিষ্যতেও তিনি নতুন নতুন গানে ভক্ত-শ্রোতাদের মাতোয়ারা করতে থাকবেন।
-

প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র
উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের এক কিংবদন্তি শিল্পী, বিশিষ্ট গণমাধ্যমশিল্পী ও সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র, ৯১ বছর বয়সে আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পরপারে পাড়ি জমালেন। তাঁর আকস্মিক এই প্রয়াণে ভারতের সংগীতাঙ্গনসহ বিশ্বব্যাপী সংগীতপ্রেমীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানান, বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের নিজের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন, বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। ১১ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মির্জাপুর মেডিকেল কলেজের ১৫ জনের একটি বিশেষ চিকিৎসক দল তার চিকিত্সা চলান।
ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সংগীতজীবন শুরু হয় তিনি তার পিতা, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই গভীর আগ্রহে সংগীতের প্রতি বিমুগ্ধ হয়ে তিনি বাবার নির্দেশনায় শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুশীলন শুরু করেন। দীর্ঘ জীবনকাল ধরে তার সংগ্রামী দক্ষতায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে সমুজ্জ্বল করেছেন। তাঁর কণ্ঠে প্রকাশিত রাগ ও ভজনের উন্নতধারা দেশের নানা প্রান্তে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রোতাদের মন জয় করে চলেছে। ভারতের সংগীতবিশ্ব তাকে ‘লেজেন্ড’ হিসেবে সম্মান করে থাকেন।
শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে ছান্নুলাল মিশ্রের অবদান অসামান্য। তিনি অসংখ্য কনসার্ট, সংগীতানুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ দান করেছেন, পাশাপাশি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের সংগীতকে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই অক্লান্ত অবদানে সংগীতপ্রেমীদের মনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা বিদ্যমান।
-

কাশ্মীরের বরেণ্য অভিনেত্রী কমলাশ্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন
বছরের শেষের দিকে এক দুঃখজনক খবর শোনালেন কন্নড় বিনোদন জগতের জন্য। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কমলাশ্রী প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। নতুন প্রজন্মের মধ্যে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘গাট্টিমেলা’ শো-এর দাদী চরিত্রের জন্য, যা তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দিয়েছে।
কমলাশ্রী জীবনের দীর্ঘ আট দশক ধরে অভিনয় করেছেন—চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক, নাটক—all অঙ্গনেই তার অসামান্য উপস্থিতি। তিনি মঞ্চ নাটকের পরিচালক হিসেবেও প্রশংসিত। জীবনের শেষ দিকে তিনি স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, ক্যানসার 치료ে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বয়সজনিত কারণে ডাক্তাররা কেমোথেরাপি দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন, ফলে তিনি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ব্যয়বহুল ওষুধের ওপর।
অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হলেও কখনোই তিনি শিল্পের কারো কাছে সহায়তা চাননি। মৃত্যুর কাছাকাছি থাকাকালীন এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অন্যদের কষ্ট দিতে চাই না।’ তবে তার কঠিন সময়ে তাঁকে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার কাছের বন্ধুরা, যেমন উমাশ্রী ও গিরিজা লোকেশ।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কমলাশ্রী ছিলেন একাধারে থিয়েটার, সিনেমা ও টেলিভিশনের অভূতপূর্ব শিল্পী। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কাবেরী কন্নড় মিডিয়াম’ এবং ‘পাত্তেহদারি প্রতিভা’র মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। তাঁর অভিনয় জীবনের এই অসাধারণ গুণাবলি এবং ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।
বরেণ্য এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে কন্নড় ইন্ডাস্ট্রি গভীর শোক প্রকাশ করছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী ও অনুরাগীরা। তাঁর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
-

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে অবগত করেছেন তার ছেলে ও নিসচা’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। কানাডার দূরবর্তী থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে তিনি জানান, তার বাবা এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি আরো বলেন, চলতি বছর শুরুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যার মধ্যে কথা বলতে গিয়ে অসুবিধা ও মনে রাখতে গিয়ে সমস্যা ছিল। এর পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তার মাথায় টিউমার রয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, তার মাথায় অপারেশন করতে হবে, যা অত্যন্ত সংকটজনক কারণ টিউমারটি ব্রেনের গভীরে গুরুত্বপূর্ণ নার্ভের সঙ্গে সংযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে পরিবার লন্ডনে যোগাযোগ করে দ্রুত চিকিৎসার প্রস্তুতি নেয়। প্রথমে ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় এবং পরে তার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা গৃহীত হয়। ২৬ এপ্রিলে তিনি ঢাকায় থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর থেকে নেদারল্যান্ডসের হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে সাই repousier নেয়া হয় এবং তিন মাস ব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, ৫ আগস্ট উইলিংটন হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ডাক্তাররা সতর্ক করেছেন যে পুরো টিউমারটিকে অপসারণ সম্ভব নয় এবং অপারেশনের ফলে তার জীবনঝুঁকি এবং চলনশক্তি, কথা বলার সক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আংশিক অস্ত্রোপচার করে টিউমারটির কিছু অংশ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ রেডিয়েশ ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করা হবে। এই চিকিৎসা চলাকালীন প্রত্যাশা করা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি ৩০ দিন ধরে চলে এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ছয় সপ্তাহ চিকিৎসা চলবে। এর পরে চার সপ্তাহ তিনি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। আশা করা হচ্ছে, তখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন। পরিবার ও চিকিৎসকদের এই কঠিন সময়ে সবাইকে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
-

সালমান-ঐশ্বরিয়ার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত বলেছে, ওই ধরনের রেডিও, ইউটিউব বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লিঙ্ক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারক আরও বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অন্য প্রকার প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ যাতে হয়, তার জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা জরুরি। এর ফলে শুধু ব্যক্তিগত মানহানি রোধই হয় না, বরং ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষা ও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। এর মাধ্যমে বলিউডের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
-

বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন
উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের ৫৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি রকস্টার, যিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাসাহিত্যে এবং সংগীত জগতে অবিস্মরণীয় স্থান করে নিয়েছেন। তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে হলেও, আজ তিনি ভক্তদের কাছে ‘নগর বাউল’ নামে পরিচিত। প্রতিভার অপার বিকাশের মধ্য দিয়ে তিনি আজ ৬২ বছর পেরিয়ে ৬৩ বছরে প্রবেশ করেছেন।
জেমসের জীবনকাহিনী একদিকে চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা, অন্যদিকে তার সফলতার গল্প অনুপ্রেরণাময়। সংগীতের প্রতি তাঁর প্রেম এবং প্রতিভা তাঁকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। তার গানে মনোহরা আবেগ, দৃঢ়তা ও স্বকীয়তা প্রতিটি শ্রোতার মনে দাগ কাটে। ভক্তদের কাছে তিনি শুধুমাত্র একজন শিল্পী নন, বরং গুরুরূপ।
বয়সের সাথে সাথে এই রক লিজেন্ডের চিরতরুণত্বের রহস্য হলো তার অসীম আগ্রহ ও ভালোবাসা গানের প্রতি। আজকের এই দিনেও ঝাকড়া চুলে, গিটার হাতে তিনি অন كالীন রূপে এক নতুন জাদু সৃষ্টি করেন। তার বয়স তার কাছে কেবলমাত্র একটা সংখ্যা; আজও গানে গানে তিনি ভক্তদের মাতোয়ারা করে থাকেন।
জেমসের জীবনযাত্রার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর এবং অনুপ্রেরণামূলক। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছোটবেলা থেকে সংগীতের প্রতি দুর্বার আগ্রহ জন্মায় তার মধ্যে, কিন্তু পরিবারের পছন্দ ও প্রত্যাশা আলাদা থাকায় তিনি সংগীতের পথে চলে যান। বাবার সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে গিয়ে তার সংগীতের পথচলা শুরু হয়।
১৯৮০ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন, যেখানে তিনি নিজে গিটার ও ভোকাল দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম আলবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়, তবে এই অ্যালবাম তখন দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। এরপর ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তার ‘অনন্যা’ অ্যালবাম, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং তাকে সংগীত অঙ্গনে নতুন উচ্চতা প্রদান করে।
এরপর তার বিকাশ অব্যাহত থাকে—১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’ এবং ১৯৯৯ সালে ‘কলেকশন অফ ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো ব্যাপক স্বীকৃতি পায়। এছাড়াও তার অন্যান্য অ্যালবামগুলির মধ্যে রয়েছে ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, ও ‘কাল যমুনা’।
অ্যালবাম গানে ছাড়িয়ে তিনি চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করেছেন, যেখানে তিনি ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। বাংলা গানের পাশাপাশি হিন্দি সিনেমায় কিছু জনপ্রিয় গান গেয়ে তিলমাত্র ভক্তে-শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। বলিউডে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো) ও ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং) গানগুলি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। দেশের চলচ্চিত্র ‘সত্তা’তেও গানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন।
আজকের এই বিশেষ দিনটি জে়মসের জন্য শুধু জন্মদিন নয়, বরং তার অজস্র গীতিনাট্য ও সুরের উৎসব। তার জীবন সংগ্রাম, সংগ্রহ ও অসীম ভালোবাসা সংগীতের মাধ্যমে আমাদের প্রেরণা দিতে থাকে। তিনি অবিরত অগণিত মানুষের হৃদয়ে যুগের পর যুগ প্রেম ও শ্রদ্ধার স্থান করে রাখতে থাকবেন।
-

অভিনয়ের প্রলোভনে গণধর্ষণের অভিযোগ, নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা
গাজীপুরের শ্রীপুরে অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিনেত্রী তাছলিমা খাতুন আয়েশার ওপর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নাট্যনির্মাতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ মাসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আয়েশা। ঘটনাটি ঘটে শ্রীপুরের একটি রিসোর্টে, যেখানে তাকে অজান্তে নিয়ে গিয়ে নির্মাতা ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণ করেন।
আয়েশা জানিয়েছেন, প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে পূবাইলে শুটিং চলাকালে নির্মাতা তিনি তাঁর মোবাইল নম্বর নেন। এরপর থেকে নিয়মিত ফোন করে যোগাযোগ চালিয়ে যান। একদিন শুটিংয়ের নাম করে তাকে গভীর রাতে গাজীপুরের রিসোর্টে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর, মাতলামি ও মাদকের ঘোরে থাকা নির্মাতা মাসুদ এবং তার সহযোগী বাবর তাকে অজান্তে ধর্ষণ করেন। এরপর রিসোর্টের এক অন্য ব্যক্তির সহযোগিতায় তৃতীয়বারের মতো তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। আক্রান্তের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে বাবর তার মোবাইল আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স ফটো ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়।
তাছলিমা জানান, ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৩:৩০টায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে চিকিৎসা নেন এবং এক পর্যায়ে গর্জর অভিযোগ দায়ের করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বললেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে রিসোর্টের ভেতরে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। যদি প্রমাণ proves হয়, তবে শুধু অভিযুক্তরাই নয়, রিসোর্টের গাফিলতিও খতিয়ে দেখা হবে।’
এদিকে, রিসোর্টের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে প্রতেষ্টিত হলে তারা নিজেদেরকে ‘থার্ড পার্টি’ হিসেবে দাবি করেন। তারা জানান, ‘আমরা শুধু বুকিং দিই; এমন ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।’
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নির্মাতা নাসিরউদ্দিন মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
-

বিতর্কের কারণে মন্দোদরীর চরিত্র থেকে বাদ পুনম
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লির ‘লব কুশ রামলীলা কমিটি’ আজ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অভিনেত্রী পূনম পাণ্ডেকে রামলীলা অনুষ্ঠানে মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বছরের রামলীলা উৎসবে প্রথমের পরিকল্পনা ছিল, জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী পূনমকে রাবণের স্ত্রীর ভূমিকায় নেওয়ার। তবে কিছু গোষ্ঠীর আপত্তির কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘একজন শিল্পীর পরিচয় তার কাজের মধ্যেই। অতীতের কোনও বিষয় দিয়ে কারও বিচার করা উচিত নয়। তবে সমাজের আবেগ ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তারা আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি নারীরই সমাজে অবদান রয়েছে। তাকে অপমান করার কোনও স্থান নেই। প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম, পূনম এই চরিত্রটি ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে পারবেন। কিন্তু অনেক গোষ্ঠীর উষ্মার প্রতিক্রিয়া দেখে ভাবনা পরিবর্তন করতে হয়েছে।’অভিনেত্রী হিসেবে পূনমকে সম্মান জানিয়ে অন্য কাউকে এই চরিত্রে ভাবা হচ্ছিল। আয়োজকদের বক্তব্য, রামচন্দ্রের কাহিনি ও সবার মধ্যে মৈত্রীর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। তারা কোনও বিতর্ক চাচ্ছেন না। এই ‘লব কুশ রামলীলা’ অনুষ্ঠানটি প্রতি বছর দিল্লিতে ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসবের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ইতিপূর্বে বিভিন্ন অভিনেতা ও অভিনেত্রীর মাধ্যমে নানা চরিত্র উপস্থাপন করেছেন তারা। পূনমকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দিল্লির বিজেপি দলও সমর্থন দিয়েছে।
-

সালমানকে ‘নোংরা বাবার নোংরা ছেলে’ বলে তোপ পরিচালকের
বলিউডের megastar সালমান খানকে কেন্দ্র করে আবারও মুখ খুললেন জনপ্রিয় পরিচালক অভিনেতাব কাশ্যপ। কিছু দিন আগে তিনি তার বিস্ফোরক মন্তব্যে সালমান ও তাঁর পরিবারের ব্যাপারে কথা বলেছিলেন, এবারও একই ধরনের সমালোচনা করেছেন।
অভিনব কাশ্যপের তোলা অভিযোগ, সালমানের বাবা সেলিম খানকে বলিউডের শীর্ষ চিত্রনাট্যকার বলা যায় না। তার মতে, সেলিম খান নিজের প্রভাব খাটিয়ে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। এই মন্তব্যের পর তিনি কড়া ভাষায় সালমানকেও সমালোচনা করেন। তার কথায়, ‘সালমানও বাবার মতো প্রভাব খাটিয়ে টিকে আছেন, তবে তাকে সুপারস্টার বলা বিভ্রাট। সে হচ্ছে নোংরা বাবার নোংরা ছেলে, ফুটপাতে বড় হওয়া। এই রুচির কারণেই তাঁর এই আচার-আচরণ।’
অভিনব আরও জানান, সাইয়ারা সিনেমায় নবাগত অভিনেতা আহান পাণ্ডের পারফরম্যান্স দেখে সালমান ক্ষুব্ধ হয়েছেন, হিংসা করেছেন।
এই ক্ষোভের পেছনে তার ব্যক্তিগত কিছু কারণও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘দাবাং’ ছবির সিক্যুয়েল নির্মাণের সময় তার অনুমতি নেওয়া হয়নি। আরও বলেন, সম্প্রতি তার প্রথম সারির একটি চ্যানেলের সিরিজ পরিচালনার দায়িত্ব থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা তিনি মনে করেন সালমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হয়েছে। এই সব কিছু মিলিয়ে অভিনব কাশ্যপের মনোভাব স্পষ্ট, তিনি এখনো বলিউডের বেশ কিছু কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ও বিতর্কে আছেন।
