তৃতীয় দিনের মতোই গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচনের আপিল শুনানি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই দিন সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মোট তিন ঘণ্টায় ৩৬ জন প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি করা হয়। এই শুনানি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অন্যান্য কমিশনারগণও উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই আপিলের মধ্যে, ২৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়, অন্যদিকে ৬ জনের আপিল খারিজ করা হয়। এছাড়াও, চার জন প্রার্থীর আপিলের সিদ্ধান্তের জন্য আরও কিছু প্রমাণপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Category: জাতীয়
-

শাপলা চত্বরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রতিবেদন দাখিলে তিন সপ্তাহ সময় পেলো প্রসিকিউশন
শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের মহা সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও তিন সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আজ ১২ জানুয়ারি সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল থেকে আসেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন সরকারি আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত সময়; তাই তারা তিন সপ্তাহের সময় আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও তিন সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
এদিন সকালে মামলার পাঁচ জন আসামিকে পুলিশ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। তারা হলেন: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা অতি:জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং ১৯৭১ সালের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা শাহরিয়ার কবির।
প্রায় আট বছর আগে, ২০১৩ সালের ৫ মে, শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে ওই মামলার অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। অভিযোগের পক্ষে ছিলেন হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মামুনুল হক। মামলায় মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটি জাতীয়ভাবে আলোচিত এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
-

মিয়ানমার সংঘর্ষে নদীতে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামে এক যুবকের বাম পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই দূর্ঘটনা ঘটে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে সকালে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সংলগ্ন এলাকায়৷
আহত হানিফ কক্সবাজারের হোয়াইক্যং এলাকাভিত্তিক ফজল করিমের ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হানিফ নাফ নদীতে মাছের প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তখন নদীর তীরবর্তী মাটিতে পুঁতে রাখা মাইনের ওপর তাঁর পা পড়ে, এবং তার ফলে দ্রুত বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার বাম পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তারা এই ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, নদীতে মাছের প্রজেক্টে কাজ করার সময় এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরে তারা নজরদারি চালাচ্ছেন এবং স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।
অতিরিক্তভাবে, স্থানীয় জনগণ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নাফ নদী ও এর আশেপাশে হয়তো আরো মাইন পুঁতে রাখা থাকতে পারে, যা যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনগণকে সতর্ক করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় গুলি চালিয়ে দুই বাংলাদেশি আহত হন। এর মধ্যে এক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে থাকলেও অন্য একজনের অবস্থা কতটা গুরুতর সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে, নাইক্ষ্যংছড়ি, ঘুমধুমসহ বেশ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল ও গুলির ঘটনা বাংলাদেশে পড়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে।
-

গত তিন নির্বাচনে কেন ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, জানালেন প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, হাসিনার আমলে তিন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বড় একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে জানিয়েছে ইইউ। এর আগে তারা কোনো পর্যবেক্ষক টিম পাঠায়নি। কারণ তারা মনে করেছে, আগের তিনটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি।
প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। সরকার কোনো দলকে এক্সট্রা সুবিধা দিচ্ছে না।
শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পতিত সরকারের লোকজন নির্বাচনে মিসইনফরমেশন ছড়াতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) মনে করে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভালো আছে। বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে দুয়েকটা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সরকার প্রত্যেকটা ঘটানা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সব ঘটনাতেই আসামি ধরা পড়ছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে গণভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন,
অন্তর্বর্তী সরকার হ্যাঁ ভোট চাইতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা তাদের জানিয়েছেন, ইসিসহ সবাই প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে নরসিংদীর মনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও এটাকে সাম্প্রদায়িক হামলা হলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের আগে এ ধরনের বিবৃতি জেনে বুঝে দেওয়ার আহ্বান জানাই।
-

জাপা ও এনডিএফ প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের নেতৃত্বাধীন) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ), যার নেতৃত্বে আছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, তাদের প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সেটিই জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রুল জারি করা হয়েছে। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল প্রদান করেন। এই মামলা নিস্পত্তির জন্য শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
গত সপ্তাহে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট দায়ের করা হয়। রিটকারী ছিলেন ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, যিনি ২০১৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই রিটের সঙ্গে বিবাদী হিসেবে যুক্ত ছিলেন আইনসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) ২৪৩ আসনের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করে। ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির (আনিসুল ইসলাম) পরিচালনায় নতুন জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে।
আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির তার যুক্তিতে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট মহাজোট হিসেবে পরিচিত। এই মহাজোটের সদস্যরা জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধে যুক্ত। এতে বলা হয়, এই সংগঠনের কিছু অংশ—যেমন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় পার্টি (এরশাদ ও মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন), তরিকত ফেডারেশন—ও অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তাই, সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তারা নির্বাচনের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
অতিরিক্তভাবে, তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন দিয়ে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে। যার অর্থ, আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসংগঠন, এবং এর সহযোগী সংগঠন—যেমন ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি—সবই এই কার্যক্রমে যুক্ত। ভ্রাতৃপ্রতিম হিসেবে পরিচিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ দলগুলো তার নীতি ও আদর্শ সমর্থন করে আসছে। এইসব দলের প্রার্থীরা কিভাবে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বৈধতা পেতে পারে, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-

জাতীয় পার্টির আশা: আসন্ন নির্বাচনে ৭০ আসনে ভালো ফলের সম্ভাবনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও ন্যায্যভাবে অনুষ্ঠিত হলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফলের প্রত্যাশা করছে। দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী এই আশা ব্যক্ত করেন আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।
শামীম হায়দার জানান, গতকাল তারা ১৩ প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এর মধ্যে ১১ জনের আপিল গ্রহণ করা হয়েছে, দুজনের নথি নামঞ্জুর হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। এছাড়া, কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান ও বগুড়া-২ আসনের মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নার আপিলও গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আজ চারটি এবং আগামীকাল ছয় বা সাতটি আপিলের শুনানি হবে। আপিল ট্রাইব্যুনাল কারিগরি ত্রুটিগুলোর জন্য সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে, ফলে অনেক প্রার্থী নির্বাচনে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন।
শামীম হায়দার বলেন, ১২ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কিছু এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। অতীতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ছোটখাটো ভুলের জন্য সংশোধনের সুযোগ দিলেও এবার তারা তা করেননি। ভয় ও ট্যাগিংয়ের কারণে তারা ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলার মূল সমস্যা ঢাকা ও কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। যদি প্রশাসন দৃঢ়তা না দেখায়, তাহলে নির্বাচনের মান নিচে নামতে পারে। বগুড়া জেলা পার্টি কার্যালয় দখলের ঘটনা নজিরবিহীন, যেখানে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে এবং উল্টো মিথ্যা জিডি করা হয়েছে। এ জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন।
শামীম হায়দার বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা মূলত ঢাকা ও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও, কোথাও কোনো বিরূপ ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তাই ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন ও প্রশাসনের দৃঢ়তা অপরিহার্য, অন্যতায় মানহীন বা অবাধ নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় পার্টির সংগঠনের বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি জানিয়ে বলেছেন, দলটি নানা বিভক্তি সত্ত্বেও মূল অংশটি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে একসঙ্গে থাকায় শক্তিশালী রয়েছে। দলটি ২৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল, এর মধ্যে প্রায় ২০০টি বৈধ হয়েছে। আপিলের পর আরও ২০ থেকে ২৫টি আসনে প্রার্থী যোগ হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর ফলে দলটি ২২০ থেকে ২৪০টি আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মহাসচিব বলেন, ভোটের মাঠ এখন খুবই পরিবর্তনশীল ও গতিশীল। যদি সবদলকে সাম্য ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন সবার জন্য নির্বিঘ্ন হয়, তাহলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফল করতে পারে। এখন রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার সময়। নির্বাচন কমিশন, প্রধান উপদেষ্টা বা বড় রাজনৈতিক দলগুলো উদ্যোগ নিয়ে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করাই এখন মূল লক্ষ্য। অন্যথায়, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
-

দ্বিতীয় দিনের প্রথমার্ধে ২৭ আপিল মঞ্জুর, ৫টি নামঞ্জুর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রার্থীর আপিলের দিকে নজর ছিলো দেশের নির্বাচনী বাতাবরণে। গতকাল থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এই আপিল শুনানি শুরু হয়। আজ রবিবারের প্রথমার্ধে (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা) মোট ৩৫ জন প্রার্থীর আপিল শুনানি সম্পন্ন হলো। এর মধ্যে ২৭ জনের আপিল মঞ্জুর করা হয় এবং ৫ জনের আপিল নামঞ্জুর ঘোষণা করা হয়। এছাড়া, পুরো তালিকায় ৩জনের আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুনানি বিকেল ২টায় শুরু হবে।
এই প্রথম পর্যায়েই মোট ২৭ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর করা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: চাঁদপুর-২ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খন্দকার রুহুল আমীন, টাঙ্গাইল-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের হাসানাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৮ আসনে মো. শহীদুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম তালু, জয়পুরহাট-২ আসনে অ্যাবি পার্টির প্রার্থী এস. এ জাহিদ, রাঙামাটি (২৯৯) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা, ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৬ আসনে বাসদ প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী এবং আরও অনেক প্রার্থী।
অপরদিকে, আপিল নামঞ্জুর করা প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ আসনের মোসা. হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ আসনের মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলার মিজ তাসলিমা বেগম ও রংপুর-৪ আসনের মো. জয়নুল আবেদিন। এছাড়া, ৩ জন প্রার্থীর আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে—কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান, ভোলা-২ আসনের মহিবুল্যাহ খোকন, ফরিদপুর-৪ আসনের আবদুল কাদের মিয়া।
প্রথম দিনের মতো এই দিনেও মনোনয়ন বাছাইয়ের বিভিন্ন আপিলের ব্যাপক সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিলো। মার্চ ১ থেকে ৭২০টির বেশি মনোনয়ন বাতিলের তালিকা প্রকাশের পর, গত ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় আপিল গ্রহণের কার্যক্রম। আপিল শুনানি ৯ জানুয়ারি শেষ হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চলছে ধারাবাহিক বিচার। আজ রবিবার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। পরের দিনগুলোতে আরও বিভিন্ন নম্বরের আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আপিলের নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবেন ২১ জানুয়ারি, এর পর প্রতীক বরাদ্দ হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণের দিন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত।
-

ইইউ ২ মাসের মধ্যে প্রকাশ করবে পূর্ণাঙ্গ ভোটের প্রতিবেদন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার দু’ মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। এটি নির্বাচন শেষে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করা হবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউর প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক ড. ইভারস আইজাবস এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিন দেশের মোট দুইশ’ পর্যবেক্ষক এই নিরীক্ষায় অংশ নেবেন। হাজার শ্রেণির বিভাগীয় শহরসহ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল আজ ঢাকায় এসে কাজে যুক্ত হবেন এবং সেখান থেকে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।
আইজাবস জানান, তারা গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচনের বিষয়ক আলোচনা মনিটরিং করবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ইইউ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব ধরনের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে। ইইউর এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের ফলাফল ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে। এরপর দু’ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ মনে করে, জনগণের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তা নিশ্চিত করতে হলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইইউর আলোচনা ও মতবিনিময় চলমান রয়েছে এবং তারা আশা করে, বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে একটি সত্যিকারের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে।
অতিরিক্তভাবে, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চিহ্নিত ও প্রতিরোধে ইইউর নিজস্ব ফ্যাক্ট চেকিং ইউনিট কাজ করছে।
আইজাবস আরও বলেন, একসঙ্গে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে ইইউ কোনো অস্বাভাবিকতা দেখে না এবং নির্বাচন সময়কালে সহিংসতার বিষয়টিও তারা পর্যবেক্ষণে রাখবে। দেশের ৬৪ জেলায় অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে নারী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের বিষয়েও নজরদারি চলবে।
অবশেষে, ইইউর এই পর্যবেক্ষক দল জানান, নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান কেনার বিষয়টি যতক্ষণ পর্যন্ত ভোট বা নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলবে না, ততক্ষণ তারা কোনও মন্তব্য করবে না।
-

চিন্তা করে ভোট দিন, পরে পস্তাবেন না: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) গুলশান-২ এর নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট দিতে হবে। একদিকে সংসদ নির্বাচন, যেখানে আমাদের সবাইকে ভাবতে হবে কাকে ভোট দেবেন যেন পরে আফসোস না হয়। আর অন্যদিকে ওই দিনই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট, যা বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্ব পূর্ণ সিদ্ধান্ত।
সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য এই ভোটগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা সত্যিই পরিবর্তন চাই, তাহলে আমাদের ‘হ্যাঁ’ বলতেই হবে। এই সুযোগকে হারিয়ে গেলে দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার স্থগিত হতে পারে অনেক বছর।” তিনি আরও বলে থাকেন, সরকারের দেয়া তথ্যগুলো মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যেভাবে তরুণরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এগিয়ে এসেছিল, তাদের অর্জন বৃথা যেতে দেবেন না। আমাদের সকলেরই সচেতন হতে হবে যেন ইতিহাসের সেই সংগ্রাম অব্যাহত থাকে।
তিনি উৎসাহ দেন ভয়কে জয় করতে—কারণ বাংলাদেশ বারবার ভয়কে জয় করেছে। তরুণ প্রজন্মের নানা আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে, সেটি আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রমাণ করব।
এছাড়াও, এই অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ প্রদান করে মর্যাদা দেয়, যারা নগর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
-

ইসিতে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন তাসনিম জারা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় দফার জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। গত ৩ জানুয়ারি তার মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা দেয় রিটার্নিং অফিসার। তবে তিনি এর বিরুদ্ধেঅভিযোগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করেন। চলতি মাসের ১০ জানুয়ারি, শনিবার, নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন কমিশন। অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ৫ জানুয়ারি বিকেলে তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নিজের মনোনয়নপত্রের বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এর ফলে, ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনে তার প্রার্থিতা পুনরায় নিশ্চিত হলো। এই আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে, আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে যাতে সকল প্রার্থীর জন্য সহজে আবেদন করতে পারেন, সেজন্য অঞ্চল ভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে এই আপিল করতে পারবেন। এই ধাপে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
