বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্ধ করতে ৯টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যেখানে আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে না পারা, উচ্চ খেলাপি ঋণ থাকা এবং মূলধন ঘাটতির বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হবে এবং তারা অবসায়নের মধ্যে পড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য ব্যাংকের রেজুলেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদের জমা টাকা নিরাপদে ফেরত পান। একইসঙ্গে, কাজের জন্য নিয়োজিত কর্মীদের চাকরি, সুযোগ-সুবিধা যথাযথ নিয়মে নিশ্চিত করা হবে। এ উদ্যোগের আওতায় রয়েছে পিপলস লিজিং ও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স। জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা, যেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টিতে। ইতোমধ্যে ব্যাংকের রেজুলেশন বিভাগ এই অবসায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
Category: অর্থনীতি
-

বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতে চালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি করলো
বাংলাদেশের শুল্ক প্রত্যাহারের মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করা। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশে চালের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, যেখানে দেশের দরকার ছিল ১৩ লাখ টন চাল আমদানি। চাল রপ্তানিকারক সংস্থা হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার বলেন, বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ জোগান উদ্বৃত্ত থাকায় এবং ভারতের গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায়, চালের দাম বিশ্ব বাজারে বেশিতেই কম ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারে মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য সহায়ক হবে কারণ এটি বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্য হ্রাসের অর্ধেকটাই এই রপ্তানির মাধ্যমে কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব।’
-

সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য করমুক্ত ৪২ ধরনের আয়ে ঘোষণা
সরকারী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও, তাদের জন্য কিছু আয়ের উপর কর দেয়া থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোট ৪২ ধরনের আয়ের উপর কর আরোপ করা হবে না। এই আয়ের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকৃত ভাতা ও সুবিধা, যার মাধ্যমে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের বিভিন্ন প্রকার সুবিধা পেয়ে থাকেন। উল্লেখযোগ্য এই আয়ের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কর্মভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ও যাতায়াত ভাতা, টিফিন ও পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ও প্রেষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ ও জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ডোমেস্টিক অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউয়েন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, আর্মরার অ্যালাউয়েন্স, নিঃশর্ত যাতায়াত ভাতা, টেলিকম অ্যালাউয়েন্স, ক্লিনার অ্যালাউয়েন্স, ড্রাইভার ভাতা, মাউন্টেড পুলিশ ও পিবিএক্স ভাতা, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার অ্যালাউয়েন্স, নার্সিং অ্যালাউয়েন্স, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউয়েন্স, নিযুক্তি ভাতা, আউটফিট ও গার্ড পুলিশ ভাতা।
তবে, উল্লেখ্য, মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এই আয়ের উপর নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হবে।
এছাড়াও, গত বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায় যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কর বর্ষের জন্য ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ১০ দিনে, ইতিমধ্যে ৯৬,৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবারের ই-রিটার্ন দাখিলের দৈনিক গড় সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এর মাধ্যমে দেশের করদাতাদের জন্য এই প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছি, যা কর আদায় প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
-

বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হলো। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
গভর্নর জানান, তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের ফলাফল বা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া, একইদিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে শাহীনুল ইসলামকে অবিলম্বে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর দাবি জানান। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাংক ও জাতীয় আর্থিক খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিএফআইইউর এই প্রধানের আলোচিত ভিডিওগুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তদন্ত চালু হয়। মঙ্গলবার গভর্নরের কাছে এই বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ঘটনার সময়টিতে উঠে এল আরও এক বড় নাটক — সম্প্রতি এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদনের ঘটনা। এর কারণে শাহীনুল ইসলাম ব্যাপক সমালোচনায় পড়েছেন। গত বছর নভেম্বরে এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০টি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছিল বিএফআইইউ। তবে এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি হিসাব পুনরায় ফ্রিজ না করে ওই ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে আসে।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রত্যক্ষভাবে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন। এ বিষয়ে আদালত ২৭ মে সেই ১২০ কোটি টাকার ফ্রিজের আদেশ দেন। কিন্তু এখন জানা গেছে, এই অংকের মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ১০১ কোটি টাকা রয়েছে, বাকি অর্থ উত্তোলনের জন্য অনৈতিক সুবিধার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে এই ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
-

বাংলাদেশ আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে: গভর্নর
বাংলাদেশে ক্যাশলেস অর্থনীতির ভিত্তি ন فقط শক্তিশালী হয়ে উঠছে, বরং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার পথে এখনই দৃশ্যমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মন্তব্য করেন, বলেছেন, আগামী সাত থেকে আট বছর内 দেশটি ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি উন্নয়ন কৌশল বিষয়ক সেমিনারে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন। গভর্নর উল্লেখ করেন, নগদ লেনদেনের কারণে দুর্নীতি বেড়ে যায় এবং এর ফলে নানা ধরনের অর্হনৈতিক সুবিধা হাতের বাইরে চলে যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের অর্থ লেনদেনের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে, যাতে দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়।
গভর্নর আরও বলেন, অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, এটি সফল হলে সমগ্র অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, নতুন ধরনের অর্থলেনদেনের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া দরকার যাতে সমাজের সব স্তর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ড. আহসান মনসুর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ‘ন্যানো লোন’ বা ক্ষুদ্র ঋণের কথা উল্লেখ করে বলেন, দিনদিন এই সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ঋণ সুবিধা নিচ্ছে। এ ধরনের ঋণের মোট পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
-

প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলার অর্জন
চলতি আগস্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে এক সমৃদ্ধিশালী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশ জুড়ে প্রবাসীরা বিভিন্ন মাধ্যমে মোট দেড় বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার) পাঠিয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যেখানে প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকার হার ধরানো হয়েছে। এই ধারাটি অব্যাহত থাকলে আগস্ট মাসটি গত জুলাই মাসের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। জুলাই মাসে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা এক অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। বর্তমানে অ্যানালিস্টরা বলছেন, সরকার কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের জন্য সহজ প্রবাসী আয়ের পথ তৈরি করায় দেশের এই অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে সরকারি ব্যাংকগুলো মোট ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছে। এর মধ্যে কৃষি ব্যাংক সহ দুইটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার পাঠানো হয়েছে। এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে উঠে আসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার, যা ছিল এ বছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে প্রবাসীর আয় ছিল প্রায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের সামগ্রীিক অর্থনীতি এই ইতিবাচক প্রবাহের ফলে কিছুটা সুরোধায়। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রণোদনা এবং সহজতর প্রবাসী আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই প্রবাহ আরও জোরদার হতে পারে।
-

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সকল তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নর ও তাদের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত সব অবস্থা জানতে চেয়ে তা তলব করেছে। এই তথ্যের জন্য পূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।
আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এই খবর নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আতিউর রহমান দেশত্যাগ করেন। অন্যদিকে, আব্দুর রউফ তালুকদার গত বছরের ৭ আগস্ট পলাতক অবস্থায় ই-মেইলে তার পদত্যাগের খবর দিয়েছেন।
অপরদিকে, ব্যাংক হিসাব তলবের এই লিস্টে থাকা অন্য সাবেক ডেপুটি গভর্নররা হলেন এস কে সুর চৌধুরী, সাবেক বিএফআইইউর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের। তাঁদের মধ্যে উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী।
চিঠিতে আরও বলাহয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ, কেওয়াইসি (Know Your Customer) ফরমসহ সব প্রয়োজনীয় তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে। যদি কোনো হিসাব বন্ধ হয়ে থাকে, সেটিরও তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, সরকারের পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অন্তর্ভুক্ত। এ কারনে ব্যাংকের হিসাবের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-

বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফইউ প্রধান
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার (১৯ আগস্ট) এ বিষয়ে সচেতন করে জানায়, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গভর্নর বলেছেন, তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের শেষ পর্যায়ের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তাঁকে অবিলম্বে বাধ্যতামূলক ছুটিতে বসানোর দাবি জানানো হয়। এই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিজনক ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক খাতের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ এফ এম শাহীনুল ইসলামের আপত্তিকর কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এই ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে তাদের রিপোর্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এসেছে যখন সম্প্রতি এনায়েত উল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়। এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের মোট ৫০টি ব্যাংক হিসাব গত বছর নভেম্বরে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করে দেয় বিএফআইইউ। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে, ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি হিসাব পুনরায় সক্রিয় করে ১৯ কোটি টাকার উত্তোলনের অনুমতি দেয়। তার এই অনিয়মের পেছনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
দুদকের তদন্তে জানা যায়, এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন। ২৭ মে আদালত এই অর্থের উপর আরও নজরদারি ও ফ্রিজের নির্দেশ দেয়। তবে এখন জানা গেছে, এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ১০১ কোটি টাকার মতো অর্থ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ সুবিধার পেছনে নানা অনৈতিক সুবিধার আয়োজন করা হয়েছে।
-

প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার
চলতি আগস্ট মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন দেখা গেছে। বছরের প্রথম ১৭ দিনে দেশি বৈদেশিক উপার্জন এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার), যা এর আগে কোনও মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এই পরিমাণ অর্থ স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার সমান, যেখানে প্রতি ডলার ধরা হয়েছে ১২২ টাকা। এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, সম্ভবত আগস্ট মাসটি পূর্বের মাস জুলাইকে ছাড়িয়ে যাবে প্রবাসী আয়ে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের ১৭ দিনে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এই সংখ্যা ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া, বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকেও এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুতে জুলাই মাসে রেকর্ড ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছিল, যা প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার সমান। তবে, এই মাসে কোনওরকম রেমিট্যান্স আসে নি আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। অন্যদিকে, কেবল বিশিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি, ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। গত বছরের মার্চ মাসে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ছিল সবার أعلى। সার্বিকভাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই আয় ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: জুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বর ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে’তে ২৯৭ কোটি ডলার এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের প্রণোদনা ও প্রবাসী আয়ের সহজতর সুযোগের কারণে এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
-

বাংলাদেশের শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে
বাংলাদেশের সদ্য ঘোষিত শুল্কমুক্ত চাল আমদানির সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বাজারে চালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দিনে ভারতে চালের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর আগে বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫ লাখ টন চালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বড় বড় চাল ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় বাংলাদেশে চাল রপ্তানি শুরু করেছেন। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে একটি সাময়িক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে, যা ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও অন্যান্য দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা এর আগে খবর পেয়েছিলেন যে বাংলাদেশ সরকার চালের ওপর থেকে ২০ শতাংশ আমদানির শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করবে। তারা তাই পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছেই চালের গুদাম প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা আসার পর থেকে ভারত থেকে ট্রাকে করে চাল বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু হয়।
এই শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে ভারতের খুচরা বাজারে চালের দাম এই মুহূর্তে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। স্বর্ণা চালের দাম প্রতি কেজি ৩৪ থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেটের দাম ৪৯ থেকে ৫৫ রুপি, রতœা চালের দাম ৩৬-৩৭ থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মাসুরি চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৬ রুপি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাইসভিলা নামে এক চাল রপ্তানিকারক সংস্থার সিইও সুরজ আগরওয়াল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক প্রত্যাহারের খবর পেয়েই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রাকগুলো বাংলাদেশে চালানোর জন্য রওনা দিয়েছে। তিনি জানান, লজিস্টিক সুবিধা ও খরচ কমানোর জন্য পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের মাধ্যমে চাল রপ্তানি লাভজনক, ফলে উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের মিলাররা এই পথ ব্যবহার করছেন।
অন্ধ্রপ্রদেশের চাল মিলার সিকে রাও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালেই আমার ট্রাকগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।’
বাংলাদেশের এই শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) দেশে চালের দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, তখন বাংলাদেশে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল।
চাল রপ্তানিকারক সংস্থার হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার বলেন, বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকায় আমদানির জন্য বিভিন্ন দেশের গুদামজাত মজুত পর্যাপ্ত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারকে মন্দা থেকে তুলতে সাহায্য করবে, কারণ এটি নতুন চাহিদা সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যহ্রাসকে আংশিকভাবে পুষিয়ে দিচ্ছে।’
