Category: অর্থনীতি

  • বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এই খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গভর্নর বলেন, বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • ২৩ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার

    ২৩ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার

    দেশে চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ হাজার ৩৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকায় হিসাব করে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম ২৩ দিনে মোট ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৩৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার, বিশেষত দুই ব্যাংকের মধ্যে একটি কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১০৯ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। পাশাপাশি, বিদেশি ব্যাঙ্কগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। তবে, এ সময়ে ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও রেমিট্যান্স আসেনি। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, আইসিডি ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

    এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তবে, ওই মাসে ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও রেমিট্যান্স আসেনি।

    অতীতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স রেকর্ড হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, ওই অর্থবছর (২০২৪-২৫) প্রবাসী আয়ে এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

    উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা ও প্রবাসীদের জন্য আয়ের সহজ পথ সৃষ্টি করায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে।

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশে; খাবারের জন্য খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশে; খাবারের জন্য খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    তিন বছর আগের তুলনায় দেশের দারিদ্র্য হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), যা জানিয়েছে, ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সম্প্রতি, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান দারিদ্র্য, অতি দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব বিষদভাবে বিশ্লেষণ করেন।

    গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অতি দারিদ্র্যের হারও বাড়ছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়কালে চলমান ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে এই গবেষণা চালানো হয়, যেখানে প্রায় ৩৩ হাজার ব্যক্তির জীবনমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই সংকটগুলোকে আরও জটিল করে তোলে। পিপিআরসি বলেছে, গত আগস্টের আগে মানুষের মধ্যে ঘুষ দেওয়ার প্রবণতা ৮.৫৪ শতাংশ হলেও সে হার এখন কমে ৩.၆৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে, সবচেয়ে বেশি ঘুষের কার্যক্রম হচ্ছে সরকারি অফিসে, এরপর পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।

    অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুসারে, শহরের পরিবারের মাসিক গড় আয় কমে যাচ্ছে, তবে খরচ বাড়ছে। শহরের গড় আয় এখন ৪০,৫৭৮ টাকা, যা ২০২২ সালে ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামে পরিবারগুলোর গড় আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৯,০২০৫ টাকা, খরচ ২৭,১৬২ টাকা। সামগ্রিকভাবে জাতীয় স্তরে, গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২,৬১৫ টাকা, অর্থাৎ সামান্য সঞ্চয় বা অবশিষ্টাংশ থাকছে না।

    উল্লেখ্য, এক পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থ খরচ হয় খাবার পূরণের জন্য। মাসে গড়ে এই পরিবারের খাবারে খরচ হয় ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া শিক্ষায় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা ও আবাসন খাতে ১,০৮৯ টাকা করে খরচ হয়।

    নেতৃত্ববলে, হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপির দিকে তাকিয়ে না থেকে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিকের কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যেমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বৃদ্ধি, নারী প্রধান পরিবারের দুর্বলতা, ঋণের বোঝা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং স্যানিটেশন সংকট।

    বিশেষ করে, দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি বিবেচনায়, বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন পরিকল্পনা ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি উচ্চারণ করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধানে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যেন দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবন মান উন্নত হয়।

  • ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন

    ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্ধ করতে নয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যাতে আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। মূল কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম, লুটপাট এবং অব্যবস্থাপনা জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘অপরিচালনযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ তারা উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধনের ঘাটতি নিয়ে আটকে আছে। তাদের লাইসেন্স বাতিলের এই প্রক্রিয়া আগামী দিনগুলোতে শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অর্থাৎ রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট, ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য কেন্দ্রের গవర্নরের সম্মতিতে পাঠানো হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া, পাশাপাশি তাদের চাকুরির বিষয়েও সকল সুবিধা নিশ্চিত করা।

  • গভর্নর বললেন, ৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্র

    গভর্নর বললেন, ৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্র

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে ক্যাশলেস অর্থনীতির ভিত্তি, জানিয়েছেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাশলেস অর্থনীতি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।

    বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি উন্নয়ন কৌশল সংক্রান্ত সেমিনারে অংশ নিয়ে গভর্নর এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নগদ লেনদেনের প্রবণতা দুর্নীতির উৎসাহ দেয় এবং এতে কর ফাঁকির ঘটনাও বাড়ে। এর ফলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের অব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।

    গভর্নর জানান, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগই অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সচেতনতা ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে এটি সম্ভব হলে সামষ্টিক অর্থনীতি আরও বেশি শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য নতুন ধরনের লেনদেন পদ্ধতি চালু করার পরামর্শ দেন, যাতে সমাজের সর্বস্তরই এই সুবিধা ভোগ করতে পারে।

    বিশেষ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ন্যানো লোনের ধারণা ভবিষ্যতেও বিস্তার পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ড. মনসুর জানান, দৈনিক গড়ে প্রায় চার হাজার মানুষ এই ধরনের ঋণ সুবিধা গ্রহণ করছে, এবং এখন পর্যন্ত এর মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

    গভর্নর জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের ফলাফল ও প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তামুখর একটি স্মারকলিপি জমা দেন গভর্নরের কাছে। সেখানে তারা দাবি করেছেন, শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক আপত্তিকর ভিডিওর জন্ম দিয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক খাতের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

    শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বেশ দ্রুত Spread হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে, গভর্নর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

    বিশেষ করে, সম্প্রতি এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন ও সংঘটিত অপরাধের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। গত বছর নভেম্বরে, এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০ টি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়। তবে চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে, আল-ফালাহ ব্যাংকের চারটি হিসাব সেখানে আর ফ্রিজ না করে সেই টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়, যা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের নিহিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    তদন্তে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন। এ বিষয়ে আদালত ২৭ মে ২০১১২ সালে নির্দেশ দেন বিএফআইইউকে ওই ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করার। কিন্তু জানা গেছে, কার্যত এখন অবধি প্রায় ১০১ কোটি টাকা আসলে ফ্রিজের মধ্যে রয়েছে এবং বাকির অর্থ উত্তোলনের পেছনে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

  • প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা চলমান, ১৭ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলার এসেছে

    প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা চলমান, ১৭ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলার এসেছে

    চলতি আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে দেখা যাচ্ছে একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন। মাসের প্রথম ১৭ দিনের মধ্যে দেশকে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেড় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৯,৬৪২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকার হারে গণনা করে)। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, গত বছরের জুলাই মাসের রেকর্ডের কাছাকাছি বা তারও বেশি রেমিট্যান্স আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে এই অর্থনীতিতে সর্বশেষ রেকর্ড হয়েছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স, যা প্রায় ৩০,০২৩ কোটি টাকা। তবে, আগস্টের এই প্রথম আড়াই সপ্তাহে এসেছে আরও অর্ধশতাধিক কোটি ডলার, যা দেশীয় অর্থনীতিতে স্বস্তি বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, এই সময়ে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মাধ্যমে এসেছে মোট ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। তার মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে চলে এসেছে উল্লেখযোগ্য ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকেও প্রবাসীদের পাঠানো ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে, অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। এই অর্থবছরে মাসভিত্তিক প্রবাহের দিকে নজর দিলে দেখা যায় জুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বরে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বর ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, এবং মার্চে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করার সুবিধা প্রবর্তনের ফলে এই প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সব কারণেই দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ উন্নতি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • ২৩ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে পৌনে ২ বিলিয়ন ডলার

    ২৩ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে পৌনে ২ বিলিয়ন ডলার

    গত আগস্ট মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসীরা বাংলাদেশে মোট ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার বা প্রায় পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি ডলার এর মান নেওয়া হয়েছে ১২২ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগস্টের প্রথম ২৩ দিনে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৩৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার। বিশেষভাবে চালু দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি (কৃষি ব্যাংক) থেকে পাঠানো হয়েছে ২৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই সময়ে পাঠিয়েছে ১০৯ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার ডলার, আর বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সময়ের মধ্যে নয়টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইসিডি), পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। ওই মাসে অবশ্য কোনো ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্স আসেনি।

    অতীতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড। পুরো অর্থবছর (২০২৪-২৫) জুড়ে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের মোট পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি।

    অর্থাৎ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। এর মাসভিত্তিক প্রবাহ ছিল নিম্নরূপ: জুলাই – ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্ট – ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর – ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর – ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর – ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বর – ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারি – ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারি – ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চ – ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিল – ২৭৫ কোটি ডলার, মে – ২৯৭ কোটি ডলার এবং জুন – ২৮২ কোটি ডলার।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ও প্রবাসীদের আয়ের উত্তরণের জন্য নিবন্ধনের সুবিধা দেয়ার ফলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

  • ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধের উদ্যোগ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাবেন

    ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধের উদ্যোগ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্ধ করতে ৯টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যেখানে আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে না পারা, উচ্চ খেলাপি ঋণ থাকা এবং মূলধন ঘাটতির বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হবে এবং তারা অবসায়নের মধ্যে পড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য ব্যাংকের রেজুলেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদের জমা টাকা নিরাপদে ফেরত পান। একইসঙ্গে, কাজের জন্য নিয়োজিত কর্মীদের চাকরি, সুযোগ-সুবিধা যথাযথ নিয়মে নিশ্চিত করা হবে। এ উদ্যোগের আওতায় রয়েছে পিপলস লিজিং ও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স। জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা, যেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টিতে। ইতোমধ্যে ব্যাংকের রেজুলেশন বিভাগ এই অবসায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

  • বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতে চালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি করলো

    বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতে চালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি করলো

    বাংলাদেশের শুল্ক প্রত্যাহারের মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করা। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশে চালের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, যেখানে দেশের দরকার ছিল ১৩ লাখ টন চাল আমদানি। চাল রপ্তানিকারক সংস্থা হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার বলেন, বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ জোগান উদ্বৃত্ত থাকায় এবং ভারতের গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায়, চালের দাম বিশ্ব বাজারে বেশিতেই কম ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারে মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য সহায়ক হবে কারণ এটি বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্য হ্রাসের অর্ধেকটাই এই রপ্তানির মাধ্যমে কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব।’