Category: অর্থনীতি

  • ডিসেম্বরে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা প্রবাসী আয়ে

    ডিসেম্বরে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা প্রবাসী আয়ে

    দিন দিন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বৈধ পথেঋ মাধ্যমে দেশের জন্য পাঠিয়েছেন যথাক্রমে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এই পরিমাণ দেশে বিপুল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন নজির স্থাপন করেছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। এটি নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড। এর আগে মার্চ মাসে এই পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এসব তথ্য সম্বলিত হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাবার ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। একই সময়ের মধ্যে আগে অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার বা প্রায় ৩১ শতাংশ। চলমান অর্থবছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল সুদৃঢ়, যেখানে বাংলাদেশে এ সময়ের জন্য রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ডলার। এই সময়ে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, নানা প্রণোদনা ও ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো আরও সহজ ও নিরাপদ করেছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল যথাক্রমে জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

    অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। এই প্রবাহ দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকার আশা ব্যক্ত করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আবার কার্যকর

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আবার কার্যকর

    সরকার মাধ্যম্যকালীন সময়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের হারগুলো নিশ্চিত করে দিয়েছে। রোববার এই বিষয়টি জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার আগামী ছয় মাসের জন্যও একই থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়। তবে, এই সিদ্ধান্ত বেশ কয়েকজনের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবার ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যারা তাদের জীবনযাত্রার জন্য এই বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল।

    খবর অনুসারে, রোববার অফিস খোলার পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয় এবং পূর্বের হারে মুনাফা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর, প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন নিয়ে আবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

    বর্তমানে রাষ্ট্রের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম রয়েছে। এসব সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে বিভিন্ন মেয়াদে নির্দিষ্ট হারে সুদ দেওয়া হয়। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কিছুটা কমে যায়। একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ পান। সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর সময়, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা কম পাওয়া যায়। যেখানে মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয়, সে ক্ষেত্রে মূলধন এবং নির্দিষ্ট হারে মুনাফা সমন্বয় করা হয়।

    পরিবার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ। এই হার আগে কমে ১০.৪৪ শতাংশে নেমে এসেছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে এই হার পূর্বের মতো রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে ১০.৪১ শতাংশে নামানো হয়েছিল, কিন্তু এখন সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের জন্য একই হার পুনঃনির্ধারিত হয়েছে।

    গত বছরের জানুয়ারির পর থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বন্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ৬ মাসের বাজার নিলামের ভিত্তিতে ৫ বছর ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদ হার অনুযায়ী এই নিয়ম চালু হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হয় এবং এ জন্য গত বৃহস্পতিবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই হার ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

    সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোই মূল গ্রাহক যারা নানা পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে প্রয়োজনের খরচ চালান বা মাসিক জীবিকার জন্য আয়ের অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করেন। মূল্যস্ফীতির কারণে গত দুই বছরে মোটা দাগে দাম বেড়ে গেছে, যদিও সাম্প্রতিক মাসে সামান্য কমলেও এখনও তা ৮ থেকে ৯ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সরকারের সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই হার কমানো উচিত নয়, বরং তাদের জন্য এই সুবিধা রক্ষা করা জরুরি, যাতে তারা জীবনযাত্রায় সহজ সুবিধা পান।

  • একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দাম বড় লাফ

    একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দাম বড় লাফ

    বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে আবার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি, বাজুস। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আগামী ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হবে। প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ ২৯১৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার ফলে উচ্চমানের সোনার দাম পৌঁছেছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকায়।

    বাজুসের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪৪৪৫ ডলার পৌঁছেছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বিভিন্ন ক্যারেটের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    অন্যদিকে, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান শনিবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গ্যাসের (এলপিজি) এর অপ্রত্যাশিত দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একত্রে একটি কারসাজির মাধ্যমে এই দাম বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু ব্যবসায়ীর প্রত্যাশা ছিল যে এলপিজির দাম আরও বাড়বে, কারণ বিইআরসির মূল্য ৫৩ টাকা বা তার কাছাকাছি বেড়েছে। এ সুযোগ নিয়েই তারা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। উপদেষ্টা আরও জানান, তিনি সরকারের কেবিনেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে প্রতিটি জেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দামের এই অস্বাভাবিকতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটি একটি অপ্রকাশ্য কারসাজির ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা সরকারের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ঠেকানো হবে। তিনি মন্তব্য করেন, গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের মাধ্যমে। উপদেষ্টা বলেন, এই কারসাজির পেছনে মূলত খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা হাত মিলিয়ে এই অপ্রত্যাশিত দাম বাড়িয়েছেন।

  • ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকার বেশি

    ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকার বেশি

    দিন দিন দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এই অর্থের বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকার হার ধরে গণনা করা হয়)। এটি এখন পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ছিল। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার মতো। আর আগের অর্থবছরে একই সময়ের মধ্যে তা ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই সময়ের রেমিট্যান্সে প্রায় ৬৯ কোটি ডলার বা ৩১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে প্রবাসী পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২০ কোটি ডলার। এই সময়ের মধ্যে মোট রেমিট্যান্স বেড়ে গেছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৮ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা, এবং ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নয়ন রেমিট্যান্সের অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেখানো হলো: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

    অপর দিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সর রেকর্ড প্রবাহ দেখা গেছে। ওই অর্থবছর শেষে দেশের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল

    সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের হারগুলি আবারো চালু করেছে। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই পরিবর্তন ঘোষণা করে। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসূত্রে মুনাফা দেওয়া হতো, সেই হারগুলো দুই বছর মেয়াদে আবারো কার্যকর হবে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের সঞ্চয়পত্রের উপর নির্ভরশীল থাকায় এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ও ক্ষতিকর ছিল।

    সূত্রে জানা যায়, রোববার অফিস খোলার পরে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আবারো আগের হারগুলো ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর এ বিষয়ে chief advisor এর অনুমোদন নিয়ে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    বর্তমানে সরকার সঞ্চয়পত্রের চার ধরনের স্কিম চালু রেখেছে, যার মধ্যে পার্সোনাল, পরিবার ও পেনশনভিত্তিক সংকলন রয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত মুনাফা হার ছাড়াও, বৃহৎ বিনিয়োগের জন্য আলাদা হারে মুনাফা দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। এর পাশাপাশি, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হয়, তবে মুনাফা কম পাওয়া সম্ভব।

    পরিবার সঞ্চয়পত্রে, ৫ বছরের মেয়াদে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য পূর্বে ১১.৯৩% মুনাফার হার ছিল, যা কিছু দিন আগে ১০.৪৪% এ নামানো হয়েছিল। তবে প্রজ্ঞাপনে এখন আবার সেটির হার আগের মতো রেখে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার আগের মতোই থাকবে।

    ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদ হার অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে। ৫ ও ২ বছরের মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সর্বশেষ নিলাম ভিত্তিক সুদ হার অনুসরণ করে সেটি নির্ধারণ হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ হার কমায়, ফলে গত বৃহস্পতিবার সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমে এসেছে।

    সাধারণ গ্রাহকরা মূলত: দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, যারা অর্থের অপ্রত্যাশিত প্রয়োজন বা জরুরি সময়ে সঞ্চয়পত্র ভেঙে থাকেন। পাশাপাশি, প্রতিমাসে সংসার চালানোর জন্য টাকা ছাড়াও এই বিনিয়োগ থেকে উপার্জিত মুনাফা তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে দাম বৃদ্ধির হার ৮-৯% এর কাছাকাছি থাকায়, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে বাজে ফেলে। বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই হার না কমানোই উচিত ছিল। প্রাথমিকভাবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এখনও এর স্থিতিশীলতা পুরোপুরি আসেনি, তাই নিয়ে সরকারের সমালোচনা চলছে।

  • বছরের প্রথম দিনেই সোনার ভরির দাম কমে ১৪৫৮ টাকায়

    বছরের প্রথম দিনেই সোনার ভরির দাম কমে ১৪৫৮ টাকায়

    নতুন বছরের প্রথম দিনেই দেশের বাজারে আবারো সোনার মূল্য কমানো হয়েছে। সর্বোচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা, যার ফলে এখন একটি ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।

  • একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় লাফ

    একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় লাফ

    বাংলাদেশে একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এ ঘোষণা দিয়েছে যে, দেশের বাজারে প্রতি ভরির সোনার মূল্য সর্বোচ্চ দুই হাজার ৯১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, উচ্চমানের সোনার দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

    বাজুসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। সংগঠনটির মতে, বিশ্ববাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্যও বেড়েছে।

    বিশ্ববাজারের ধাপগুনে স্বর্ণ ও রুপার দামের পরিবর্তন অনুযায়ী জানা যায়, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এখন ৪ হাজার ৪৪৫ ডলার। এই দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরির স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। অন্য কেরেটের স্বর্ণের দাম হলো— ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    অন্যদিকে, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য পূর্বের তুলনায় বাড়ে ৫ হাজার ৯২৫ টাকায়। তদ্ব্যতীত, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য হয় ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা যোগসাজশে এলপিজির (সংকোচে লিপিজি) দাম বাড়িয়েছেন। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

    উপদেষ্টা বলেন, কিছু ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির জন্য সুযোগ নিচ্ছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেট্রোবাংলার মূল্য সূচক অনুযায়ী বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) ৫৩ টাকার পরিবর্তে আরো বেশি দামে বিক্রি করছে। এ অবস্থায় তারা দামের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এই কারসাজি বন্ধ করতে উদ্যোগ করবেন।

    তিনি আরও জানান, গতকাল অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বিষয়টি উঠে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই সরকার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ এই অপ্রয়োজনীয় দামের অস্বাভাবিকতা বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    এ বিষয়ে তিনি বললেন, মূলত খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে এই কারসাজির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমল

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমল

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় পরিকল্পনার মুনাফার হার আবারও কমিয়ে আনছে সরকার। নতুন এই হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০.৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮.৭৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার হ্রাসের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তিত হচ্ছে। বিনিয়োগের পরিমাণ যত কম, ততই বেশি মুনাফার হার পাবেন বিনিয়োগকারীরা; আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার কিছুটা কমে যাবে। বিনিয়োগের সীমা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই সীমার নিচে বা সমান পরিমাণ বিনিয়োগে মুনাফার হার বেশি হবে, আর এর বেশি হলে কমে যাবে।

    নতুন মুনাফার হার অনুযায়ী, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে চলতি নিয়মে ৫ বছরের মেয়াদ শেষে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ; এখন তা কমিয়ে ১০.৫৪ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ, সেটাও কমে ১০.৪১ শতাংশ হয়েছে।

    পেনশনধারী ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, ৫ বছর পর বিনিয়োগের মুনাফা ছিল ১১.৯৮ শতাংশ; এখন তা ১০.৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে, যাদের ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের জন্য মুনাফার হার এখন ১০.৪১ শতাংশ।

    বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ৫ বছরের মেয়াদের জন্যও মুনাফার হার কমানো হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে এই হার ছিল ১১.৮৩ শতাংশ, এখন তা ১০.৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পাশাপাশি, এই বিনিয়োগের জন্য আগের হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ, এখন তা ১০.৪১ শতাংশে উন্নীত।

    তথাপि, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে আগের তুলনায় মুনাফার হার কমে গেছে। ওই সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য মুনাফার হার আগে ১১.৮২ শতাংশ ছিল, এখন তা ১০.৪৮ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, আগে হার ছিল ১১.৭৭ শতাংশ, এখন কমে ১০.৪৩ শতাংশ হয়েছে।

    এছাড়াও, ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু করা সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের জন্য, ইস্যুকালীন মেয়াদে তখনকার মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, নতুন হার ওই তারিখের হারই কার্যকর থাকবে। তবে, ছয় মাস পর পর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারিত হবে।