Category: অর্থনীতি
-

পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।দেশের ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশা দেওয়া হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএফআইইউ।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩(১) (গ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সূচনা ফাউন্ডেশনের পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।এতে আরও বলা হয়, সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত সব হিসাবের হিসাব সংক্রান্ত তথ্যাদি (হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ফরম, শুরু হতে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী) সংযোজিত এক্সেল শিট আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে এ ইউনিটে পাঠানোর অনুরোধ করা যাচ্ছে।নির্দেশনার আওতায় লেনদেন স্থগিত করা হিসাবগুলোর ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ -এর বিধি ২৬(২) প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।সূচনা ফাউন্ডেশন মানসিক অক্ষমতা, স্নায়বিক অক্ষমতা, অটিজম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে কাজ করে।পুতুল ফাউন্ডেশনটির ট্রাস্টি।এ ছাড়া মুজহারুল মান্নান ও জয়ন বারী রিজভী নামে আরও দুইজন ট্রাস্টি রয়েছেন। -

৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি
অবশেষে জলবায়ু সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলার দেবে শিল্পোন্নত দেশগুলো। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এ অর্থ দেওয়া হবে। দীর্ঘ দরকষাকষির পর রোববার ভোরে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে এ অর্থায়নের বিষয়ে একমত হন প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা। তবে কার্বনডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর চুক্তিতে ঐকমত্য হলেও সাহায্যের পরিমাণকে অপমানসূচক হিসাবে আখ্যা দিয়েছে সমালোচক আর অনুন্নত দেশগুলো। এছাড়া চুক্তিটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দিহান পরিবেশবাদীরা। এ বছর বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পোষাতে বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৩০ হাজার কোটি) ডলার চেয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনে অন্যতম দায়ী উচ্চ হারে কার্বনডাই অক্সাইড নিঃসরণ। যার ৮০ শতাংশ করে থাকে উন্নত দেশগুলো। তাই প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন থেকে আওয়াজ উঠে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। পরে তহবিল গঠনে একমত হলেও তেমন তোড়জোড় ছিল না অর্থায়নে।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে জাতিসংঘের ২৯তম জলবায়ু সম্মেলনে অগ্রাধিকার ছিল অর্থায়নের বিষয়টি। দুই সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনে বিভিন্ন সেশনে এ নিয়ে চলে নানা বিতর্ক আলোচনা। শুক্রবার আয়োজনের সমাপ্তি টানার কথা থাকলেও সমঝোতা না হওয়ায় দীর্ঘ হয় আলোচনা। ধনী দেশগুলোর গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ হয় জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত বেশকিছু দরিদ্র রাষ্ট্র। দুর্যোগে পর্যুদস্ত এই দরিদ্র দেশগুলো বিশ্বের দূষণের জন্য দায়ী বিত্তবান দেশগুলোর প্রতিশ্রুত এই তহবিলকে ‘অপমানজনক নগণ্য’ হিসাবে অভিহিত করেছে। আলোচনা স্থল থেকে তারা ওয়াকআউট করেন। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর নাটকীয়ভাবে হয় সমঝোতা। একমত হন প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধি। তবে, এতে অসন্তোষ জানায় পানামা, নাইজেরিয়া, কিউবাসহ বেশকিছু স্বল্পোন্নত দেশ। না মানার ঘোষণা দেয় ভারত। কপ-২৯ এর পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোতে প্যারিস চুক্তির বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতায় ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার তহবিলের অর্থ অঙ্গীকার করতে রাজি হচ্ছে না উন্নত দেশগুলো। কপ-২৯ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিকর দেশগুলো কী পেল, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভারত তহবিলের অঙ্ককে নিতান্তই কম বলে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধি চাঁদনি রেইনা কড়া ভাষায় বলেন, ‘এটা খুবই নগণ্য অঙ্ক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নথিপত্র একটি অপটিক্যাল ভুলের চেয়েও বেশি। আমাদের মতামত অনুসারে এই তহবিল যে ঝুঁকি আমরা সবাই মোকাবিলা করছি তা মেটাতে পারবে না।’ বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসাবে বিবেচিত সিয়েরা লিওনের জলবায়ুমন্ত্রী জিও আবদুলাই এই উদ্যোগকে উন্নত দেশগুলোর ‘সদিচ্ছার অভাব’ হিসাবে অভিহিত করে বলেন, ‘ফলাফল হিসাবে যা এসেছে, তা দেখে আমরা খুবই হতাশ।’ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ঝুঁকিতে থাকা ছোট দ্বীপদেশ মার্শাল আইল্যান্ডের জলবায়ু প্রতিনিধি টিনা স্টেজ বলেন, তিনি এই সম্মেলন থেকে লড়াই শেষে সামান্য কিছুই নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এটা পর্যাপ্ত নয়, তবে এটা শুরু হলো।’
এ ঘোষণার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার খসড়া চুক্তিতে বছরে ২৫০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করায় বাংলাদেশ গভীর হতাশা প্রকাশ করে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান একে খুবই হতাশাজনক একটি প্যাকেজ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর আগে শুক্রবার সম্মেলনে খসড়া চুক্তিতে বছরে ২৫০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেয় দরিদ্র দেশগুলো।
চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেবে উন্নত দেশগুলো। জলবায়ু তহবিলে জমা দেওয়া এই অর্থ দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতিকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে এবং দেশগুলোয় জলবায়ু সংকটের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় খরচ করা হবে। বর্তমানে এই তহবিলে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জমা দিচ্ছে ধনী দেশগুলো। এ প্রস্তাবেও অসন্তোষ ছিল দরিদ্র দেশগুলোর। তাদের অভিযোগ, এই বরাদ্দও অপ্রতুল।
এই জলবায়ু চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ওপকে হোয়েকস্ট্রা। তিনি একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের নতুন যুগের সূচনা হিসাবে কপ-২৯ সম্মেলনকে বিশ্ব স্মরণে রাখবে। অন্যদিকে চুক্তির সমালোচনা করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার শিফট আফ্রিকার পরিচালক মোহামেদ আদোউ বলেছেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য এই কপ একটি বিপর্যয়। ধনী দেশগুলো যারা জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করে, তারাই পৃথিবী ও এর বাসিন্দাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
-

৬ বছরে মুজিববর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যয় ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার গত ছয় বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয় এবং সরকারি সংস্থাগুলো উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ব্যয়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে।
উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে মুজিববর্ষ উদ্যাপনের জন্য সম্পর্কিত বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার অফিসের জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তৎকালীন সরকার ২০২০–২১ বছরকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছিল। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এই বর্ষ উদ্যাপিত হয় (১৭ মার্চ ২০২১ থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এক বছর বাড়ানো হয়েছিল)।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন।
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি নামে দুটি কমিটি গঠন করে।
রাজনীতিক, আমলা, সেনা সদস্য, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০২ সদস্যের জাতীয় কমিটির প্রধান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ‘মুজিব বর্ষ’-শুরু হয়। এ উপলক্ষে জাতীয় উদ্যাপন কমিটির উদ্যোগে সরকারের সকল দপ্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো আলাদা আলাদাভাবেও উদ্যাপন করে।
কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনেক অনুষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। শেখ মুজিবের ওপর ডিজিটাল ভিডিও ও ছবি সম্বলিত প্রামাণ্যচিত্র বানানো হয়। এর পাশাপাশি তাকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ, সংকলনগ্রন্থ, স্যুভেনিয়র প্রকাশ করা হয়।
এছাড়াও, ‘মুক্তির মহানায়ক’- শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ‘মুজিব চিরন্তন’- নামের ১০ দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া মুজিববর্ষের বিশেষ ওয়েবসাইট চালু, স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ, ১০০ দিনব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ‘শতবর্ষ’ নামে বিশেষ মোবাইল প্যাকেজ সংযোগ বিনামূল্যে প্রদান এবং নামমাত্র মূল্যে বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজ ঘোষণা এবং যোগাযোগ অ্যাপ ‘আলাপ’ চালু করা হয়। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করে।
২ দিনব্যাপী ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান এবং ‘টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি’-শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
২০২২ সালের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিব বর্ষ সমাপ্ত হয়।
প্রথম ঘোষণা অনুযায়ী, ‘মুজিববর্ষ’ ২০২০ সালের ১৭ই মার্চে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ই মার্চ পর্যন্ত পালন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে এর সময় ২০২১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। পরে সরকার পুনরায় মুজিব বর্ষের সময়কাল ও ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় কমিটি’ ও ‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র মেয়াদ ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করে।
মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক সময় গণনা শুরু হয় ২০২০ সালের ১০ই জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে। মুজিববর্ষের লোগোর নকশা করেন সব্যসাচী হাজরা। ‘তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর আকাশে-বাতাসে বজ্রকণ্ঠ, তোমার কণ্ঠস্বর’-এই ছিল মুজিববর্ষের আবহ সঙ্গীত।
এ বিষয়ে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বুধবার রাতে টেলিফোনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে দেশের জন্য শেখ মুজিবের যে অবদান সেটাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তার দল আওয়ামী লীগ ও তার মেয়ের কর্তৃত্ববাদী সরকার। মুজিব বর্ষের ব্যয় হয়েছে একক বা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। জবাবদিহিহীনভাবে রাষ্ট্রের সম্পদ পরিবার ও দলের স্বার্থে অপব্যবহার করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ও জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী সেটা রাজনীতিক, আমলা, মুজিব বর্ষের কাজের ঠিকাদার, ভেন্ডরদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার আর না হয়।’
-

সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মেঘনা পাল্প এন্ড পেপার মিলস লিমিটেড ফ্যাক্টরির ৬ তলা একটি ভবনে সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে টিস্যু তৈরির মেশিনারিজ সামগ্রী, কাঁচামাল, গোডাউনে মজুদ রাখা মালামাল, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের দাবি, আগুনে তাদের ছয় তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকলবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুরো ভবনে থাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ টিস্যু পেপার ফ্যাক্টরির গোডাউনে সোমবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কিভাবে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা একে একে ফ্যাক্টরির বিভিন্ন ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সোনারগাঁ, গজারিয়া, গজারিয়া বিসিক ফায়ার স্টেশন, বন্দর, কাঁচপুর ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে।
এছাড়া মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ৬ তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যায়।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জিএম (কোম্পানি এ্যাফেয়ার্স) খন্দকার শফিকুল আলম জানান, আগুনে টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ফ্লোরের সব মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করতে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, আগুনে তাদের ফ্যাক্টরির মেশিনারিজ সামগ্রী ও মালামাল পুড়ে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুদ্দিন জানান, সকাল সোয়া ৫ টার দিকে ফ্রেশ টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে সাড়ে ৫ টার মধ্যে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে।
-

এস আলমের শেয়ার বিক্রি করে টাকা আদায় করবে ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংক পিএলসির যেসব শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংক জব্দ করেছে, সেগুলো বিক্রির পরিকল্পনা করছে ইসলামী ব্যাংক। এই শেয়ার বিক্রি করে ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে চায় ব্যাংকটি। এই শেয়ারগুলোর বেশিরভাগ ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পাচার করা টাকা পুনরুদ্ধার কৌশলের অংশ হিসেবে এসব শেয়ার বিক্রি করা হবে।
ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ ও আমানতের মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার ব্যবধান রয়েছে। এস আলম গ্রুপের শেয়ার বিক্রি এবং নতুন শেয়ার ইস্যু করে এই ঘাটতি কমানো হবে।
এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন শেয়ারের ফেস ভ্যালু (অভিহিত মূল্য) ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬০ টাকা হিসেবে এওবস শেয়ারের বর্তমান মোট বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা নতুন শেয়ার ইস্যু করে সংগ্রহ করা হবে বলে জানান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি আইএফসি ও সৌদি আরবের বিনিয়োগকারী আল রাজি গ্রুপের মতো পুরনো বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে তাদেরকে আবার বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, আগের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফিরে এলে ইসলামী ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।
-

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়লো
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন করদাতারা। রবিবার (১৭ নভেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত ছিল ৩০ নভেম্বর। ব্যবসায়ী ও করদাতাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের জন্য কোম্পানি ছাড়া সব শ্রেণীর করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন ছিল আগামী ৩০ নভেম্বর। আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পেশার করদাতাদের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়। করদাতাদের সুবিধার্থে কোম্পানি ছাড়া সব করদাতার অনলাইনে ই-রিটার্ন ও অফলাইনে কাগজের রিটার্ন দাখিল উভয় ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি আদেশ জারী করেছে। আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির ফলে অনলাইন ও অফলাইন উভয় প্রকার রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোম্পানি ছাড়া সব করদাতার জন্য জরিমানা ছাড়া রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অবস্থিত সব সরকারি কর্মচারী, সারা দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সারা দেশের সব মোবাইল টেলিকম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ওই আদেশে উল্লিখিত বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৭৫ হাজার করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। এ বছর করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের অভিজ্ঞতা ঝঞ্জাটমুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
-

২৮ সাংবাদিকের ব্যাংক লেনদেনের খোঁজ নিচ্ছে বিএফআইইউ
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিএফআইইউ ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে যে সব সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে, সেই তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিএফআইইউর কর্মকর্তারা বলছেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে অনেকের লেনদেনের খোঁজ নেওয়া হয়। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো তালিকাকেও আমলে নেওয়া হয়।
তালিকায় থাকা সাংবাদিকেরা হলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ডিবিসি নিউজের হেড অব নিউজ জায়েদুল হাসান পিন্টু, এবিনিউজ২৪ ডটকমের প্রধান সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, এটিএনের জ ই মামুন, বাংলা ইনসাইডারের সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীর, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিটি এডিটর মির্জা মেহেদী তমাল ও চিফ রিপোর্টার জুলকারনাইন রনো, সমকালের সম্পাদক আলমগীর হোসেন, বাসসের মধুসূদন মণ্ডল, ডিবিসির মাসুদ আইয়ুব কার্জন, আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সাংবাদিক ফরাজী আজমল হোসেন, বৈশাখী টিভির অশোক চৌধুরী ও ইডির এক্সিকিউটিভ এডিটর রাহুল রাহা।
এ তালিকায় আরও আছেন, ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, নিউজ টোয়েন্টিফোরের ডেপুটি চিফ নিউজ এডিটর আশিকুর রহমান শ্রাবণ, যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি (সাবেক) আবদুল্লাহ আল মামুন, স্বদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন, দৈনিক মুখপাত্রের সম্পাদক শেখ জামাল হোসেন, ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি আদিত্য আরাফাত, এটিএন নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি তাওহিদুল ইসলাম সৌরভ, যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক শ্যামল সরকার, দৈনিক ইত্তেফাকের নগর সম্পাদক আবুল খায়ের এবং দৈনিক কালবেলার সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা।
বিএফআইইউ তালিকা থাকা সাংবাদিকদের নামে কোনও ব্যাংকের লকার, সঞ্চয়পত্র, ক্রেডিট কার্ডসহ অন্যান্য কোনও আর্থিক উপকরণ রয়েছে কি না বা টাকাপয়সার লেনদেন হয়েছে কি না, এসব তথ্য জানতে চেয়েছে।
-

ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানি: গ্রাহক পর্যায়ে সুবিধা মিলবে?
ভারতের পর নেপাল থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। নেপাল থেকে যে বিদ্যুৎ আনা হচ্ছে তা প্রতি ইউনিটের দাম ৬ দশমিক ৪ সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৭ টাকা। কিন্তু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি খরচ শূন্য হওয়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়ে ৩০ পয়সা থেকে ১ টাকার মধ্যে। কিন্তু সেই বিদ্যুৎই নেপাল থেকে সাড়ে ৭ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানিতে বুঝে-শুনে এগোনো উচিত।
নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রতিক্রিয়ায় এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন তারা। তাদের মতে, ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের পর নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। উপমহাদেশে বাংলাদেশই প্রথম কোনও দেশ— যারা একসঙ্গে ভারত এবং নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই নীতি অনুসরণ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরস্পর সহযোগী হলে এই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে রাষ্টগুলোর পরস্পর সহযোগী মনোভাব প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিড লাইন দিয়ে বাংলাদেশে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রবেশ করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে এদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে নেপাল। দেশটি থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি করা হয়েছিল। তবে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৩৮ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর বিষয়টি ছিল পরীক্ষামূলক। সব কিছু ঠিক আছে কিনা, যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে সহসাই বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু করবে নেপাল।
ভারতের সঙ্গে নেপালের গ্রিড লাইন রয়েছে। সেই লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ ভারতে প্রবেশ করছে। সেখান থেকে ভারতীয় গ্রিড লাইন ব্যবহার করে ভেড়ামারা দিয়ে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন— জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘এর আগে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানি আমাদের সঙ্গে একপক্ষীয় চুক্তি করেছে। এই চুক্তিগুলোতে আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎও বাড়তি দামে কেনা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কমদামে বিদ্যুৎ দেওয়ার যে চিন্তা, তা এই চুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হবে না।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখি। আমাদের দেশে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে; যেগুলো অলস পড়ে আছে। সেখানে কেন আমাদের অন্য একটি দেশ থেকে এত অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে হবে?’
তিনি বলেন, ‘সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হলে আমাদের জন্য লাভজনক হতো। কিন্তু ভারত হয়ে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসায় সেখানে আমাদের বিরাট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।’ ফলে বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নেপাল এবং ভুটানে প্রায় ১ লাখ মেগাওয়াট জলবিদ্যুতের উৎস রয়েছে। এসব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে প্রতিবেশীরা ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ভারত তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় কোনও দেশকে গ্রিড লাইন নির্মাণ করতে দিতে চায় না। এ বিষয়ে আগে আইন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দেশটির সরকার। বর্তমানে আইনটি বাতিল করা হলেও তাদের অবস্থান একই রয়েছে। ভারত তাদের দেশের কোনও কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির কাজ করে দিতে চায়। সরাসরি বিদ্যুৎ আমদানি করলে যে সুবিধা পাওয়া যেতো ভারতীয় কোম্পানির মাধ্যমে আসলে তা পাওয়া সম্ভব না।
সম্প্রতি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে দক্ষিণ এশিয়াতে একটি কমন গ্রিডলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
-

রাজনৈতিক ঝুঁকি ও অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের ঋণমান কমাল মুডিস
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান আবার কমিয়েছে মুডিস রেটিংস। সরকারের ইস্যুয়ার ও সিনিয়র আনসিকিউরড রেটিংস ‘বি১’ থেকে ‘বি২’–এ নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির পূর্বাভাসে পরিবর্তন এনে ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘ঋণাত্মক’ করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ঋণমান যাচাইকারী কোম্পানি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে মুডিস।
সিঙ্গাপুর থেকে আজ সোমবার প্রকাশিত রেটিংস প্রতিবেদনে মুডিস আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিংস ‘নট প্রাইম’ বা শ্রেষ্ঠ গুণসম্পন্ন নয় হিসেবে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিশ্বের প্রধান তিনটি ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের একটি মুডিস। গত ৩১ মে প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষবার বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছিল। সেবার তারা ঋণমান এক ধাপ কমিয়ে বিএ৩ থেকে বি১-এ নামায়। এর কারণ হিসেবে মুডিস জানিয়েছিল, বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উঁচু মাত্রার দুর্বলতা ও তারল্যের ঝুঁকি রয়েছে।
মুডিস জানিয়েছে, তাদের ঋণমানের সিদ্ধান্ত মূলত বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি ও নিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রতিফলিত করছে। এই বিষয়গুলো এসেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে, যার ফলে দেশটিতে একটি সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে। এসব বিষয় সরকারের নগদ অর্থপ্রবাহের ঝুঁকি, বহিঃস্থ দুর্বলতা ও ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশকে ঘাটতি পূরণে আরও বেশি স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে বলে মনে করে মুডিস। এ ছাড়া সম্পদের গুণগত মানের ঝুঁকির কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থার পুঁজি ও তারল্যসংক্রান্ত দুর্বলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের দায়সংক্রান্ত ঝুঁকিও বেড়েছে।
মুডিস বলছে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা আরও বেশি ঋণ দিলেও বহিঃস্থ দুর্বলতাসংক্রান্ত ঝুঁকি আগের মতই রয়েছে। এর কারণ গত কয়েক বছর ধরেই দেশের রিজার্ভ কমছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক ঝুঁকি বৃদ্ধি, একটি পরিষ্কার পথনির্দশকের অনুপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং জনগোষ্ঠীভিত্তিক উত্তেজনার পুনঃআবির্ভাবের কারণে রাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক করার কারণ হিসেবে মুডিস জানিয়েছে, তাদের প্রত্যাশার চেয়েও এবার কম প্রবৃদ্ধি হবে। ফলে তা দেশটির দুর্বল রাজস্ব পরিস্থিতি ও বহিঃস্থ খাতের চাপ আরও বাড়াতে পারে। এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার কারণে পণ্য সরবরাহের সমস্যার কারণে। এর ফলে রপ্তানি ও তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে।
মুডিস বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিস্তৃত সংস্থার কর্মসূচি পরিচালনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদি অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরা ও উচ্চ বেকারত্ব কমানোসহ দ্রুত ফলাফল না দিতে পারে, তাহলে সংস্কারের পেছনে যে রাজনৈতিক পুঁজি রয়েছে তা দ্রুতই চলে যেতে পারে।
মুডিস আরও জানিয়েছে, ঋণমান কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় মুদ্রা (এলসি) ও বিদেশি মুদ্রার (এফসি) ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলসির জন্য ঊর্ধ্বসীমা বিএ২ থেকে বিএ৩ এবং এফসির ঊর্ধ্বসীমা বি১ থেকে বি২–তে নামানো হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বিশ্বের প্রধান তিনটি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি বা ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন দেখে কোনো দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ তাদের রেটিং প্রতিবেদন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। মুডিসের মতো প্রভাবশালী বাকি দুটো প্রতিষ্ঠান হলো ফিচ রেটিংস এবং এসঅ্যান্ডপি।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মুডিসের মতো প্রতিষ্ঠান ঋণমান কমালে তা ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ ও বিদেশি ঋণের সুদের হার বাড়তে দিতে পারে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে, কারণ খরচ বেশি হলে বিদেশিরা এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন না। সাধারণত এ ধরনের ঋণমানের প্রভাব বাণিজ্যিক ঋণের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
-

আগামী বছর ব্যাংক বন্ধ থাকবে ২৭ দিন
২০২৫ সালে বিভিন্ন সরকারি ছুটি উপলক্ষে দেশের ব্যাংকগুলো মোট ২৭ দিন বন্ধ থাকবে। তবে এই ২৭ দিনের মধ্যে আট দিন শুক্র ও শনিবার।
সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর জন্য আগামী বছরের ছুটির এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ (রোববার) এ ছুটির তালিকা সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছর ব্যাংকে ছুটি ছিল মোট ২৪ দিন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর প্রথম সরকারি ছুটির দিনটি হবে শবে বরাতে। এ উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার এক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ওই মাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এরপর স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ বুধবার, জুমাতুল বিদা ও শবে কদর উপলক্ষে ২৮ মার্চ শুক্রবার ছুটি থাকবে।
আগামী বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে এক দিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে। ঈদুল ফিতরের আগের দুই দিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দুই দিন ব্যাংক বন্ধ রাখা হবে। এরপর নববর্ষ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল সোমবার, মে দিবস উপলক্ষে ১ মে বৃহস্পতিবার ও বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে ১১ মে রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
বছরের ৫ থেকে ১০ জুন এ ছয় দিন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে।
এ ছাড়া ১ জুলাই মঙ্গলবার ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে এক দিন, আশুরা উপলক্ষে ৬ জুলাই রোববার, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ১৬ আগস্ট শনিবার, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১ ও ২ অক্টোবর (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দুই দিন, বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার, বড়দিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ও ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
গত বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস উপলক্ষে ১৭ মার্চ ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট ছুটি ছিল। এসব ছুটি সরকারের নির্বাহী আদেশে সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শবে বরাত, শবে কদর, ঈদুল ফিতর, বুদ্ধপূর্ণিমা, ঈদুল আজহা, আশুরা ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ছুটি নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর।