Category: অর্থনীতি

  • ৩৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কমাল এসেনশিয়াল ড্রাগস, সরকারের সাশ্রয় ১১৬ কোটি টাকা

    ৩৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কমাল এসেনশিয়াল ড্রাগস, সরকারের সাশ্রয় ১১৬ কোটি টাকা

    সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থা এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম কমানোর। এই পদক্ষেপের ফলে সরকারের প্রায় ১১৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

    আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) এক ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামাদ মৃধা এই তথ্য জানান। তিনি জানান, গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩৩ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে, ওষুধের দাম কমে যাওয়ায় সরকারের ওষুধ কেনাকাটায় এই অর্থের সাশ্রয় হবে। ওই ওষুধের মধ্যে রয়েছে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ওরস্যালাইন, ইনজেকশনসহ মোট নয় ধরনের ওষুধ।

    সামাদ মৃধা আরও বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য নানা সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান, দুর্নীতির অবসান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। ভবিষ্যতে নতুন টিকাসহ বায়োলজিক্যাল পণ্য উৎপাদনে নতুন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি জানান, দুইটি নতুন প্ল্যান্টের মধ্যে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য, যেখানে সানতনি পদ্ধতির পাশাপাশি ইনসুলিন ও অন্যান্য বায়োলজিক্যাল পণ্য তৈরি করা হবে।

    প্রতিষ্ঠানটি খরচ কমানোর পাশাপাশি লাভজনক অবস্থানে ফিরে আসতে কাজ করে চলেছে। অপচয় কমানো, সিন্ডিকেট ভেঙে দিচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় ৭০০ কর্মচারী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে, বর্তমানে উৎপাদনে ৫৯ কোটি টাকার বৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি কাঁচামালের কেনাকাটায় টেন্ডার প্রক্রিয়াকে উন্মুক্ত করে খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে, যার ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়।

    সরকারি ওষুধের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিজেদের কারখানায় উৎপাদন বাড়িয়ে টোল ম্যানুফ্যাকচারিং বন্ধ করে সরকারি চাহিদার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সুলভ ও মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

  • বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিল

    বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিল

    বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ভারতের বাজারে চালের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। গত দু’দিনে ভারতের বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৫ লাখ টন চালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বেশ কিছু বড় চাল ব্যবসায়ী সুবিধা নিতে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির ঝুঁকি নিচ্ছেন, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে। ఈ তথ্য জানিয়েছেন ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই জানতেন যে বাংলাদেশ সরকার চালের ওপর থেকে ২০ শতাংশ আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করবে। এই খবর পেয়ে তাঁরা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছাকাছি গুদামে চাল প্রস্তুত রেখেছিলেন। গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের এই শুল্ক প্রত্যাহার ঘোষণার পরই তারা ট্রাকে করে চাল বাংলাদেশে পাঠানো শুরু করেন।

    এ কারণে ভারতের খুচরা বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্বর্ণা চালের দাম কেজি প্রতি ৩৪ রুপি থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেটের দাম ৪৯ থেকে ৫৫ রুপি, রতœা চালের দাম ৩৬-৩৭ থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মাসুরি চালের দাম ৫২ থেকে ৫৬ রুপি প্রতি কেজিতে উঠেছে।

    রাইসভিলা নামের এক চাল রপ্তানিকারক সংস্থার সিইও সুরজ আগরওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক প্রত্যাহার ঘোষণার সাথে সাথেই ভারতে থেকে চাল বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘লজিস্টিক সুবিধা ও খরচের দিক থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চাল রপ্তানি বেশি লাভজনক হওয়ায় উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের মিলাররা এই পথ বেছে নিচ্ছেন।’

    অন্ধ্র প্রদেশের এক চাল মিলার সিকে রাও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালেই আমার ট্রাকগুলো বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছে।’

    বাংলাদেশের এই শুল্ক প্রত্যাহারের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দামের স্থিরতা বজায় রাখা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানো, যাতে ভোক্তারা স্বস্তিতে থাকেন। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশে চালের দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, তখন দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য প্রায় ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করেছিল।

    চাল রপ্তানিকারক সংস্থা হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার জানান, বিশ্বব্যাপী চালের সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম ছিল। তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারকে মন্দা থেকে ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করবে, কারণ זה নতুন চাহিদা সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যহ্রাস হালকা হলেও কিছুটা পুষিয়ে দিচ্ছে।’

  • সরকারি চাকুরিজীবীদের ওপর কর মুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি চাকুরিজীবীদের ওপর কর মুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের আয়ের ওপর তাদের কর দিতে হয় না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য, ৪২ ধরনের আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। এসব আয়ের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ভাতা যেমন চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ও যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ভাতা, প্রেষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ভাতা, জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ডোমেস্টিক এইড অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউয়েন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, আর্মরার অ্যালাউয়েন্স, নিঃশর্ত যাতায়াত ভাতা, টেলিকম অ্যালাউয়েন্স, ক্লিনার ও ড্রাইভার অ্যালাউয়েন্স, মাউন্টেড পুলিশ অ্যালাউয়েন্স, পিবিএক্স অ্যালাউয়েন্স, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার অ্যালাউয়েন্স, নার্সিং অ্যালাউয়েন্স, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউয়েন্স, নিয়োগ ভাতা, আউটফিট ভাতা ও গার্ড পুলিশ ভাতা। মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস অবশ্য করযোগ্য আয়ে গণ্য হবে, যেখানে مخصوص হারে আয়কর দিতে হবে।
    এনবিআর আরও জানায়, ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য গত ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ১০ দিনে, এই প্রক্রিয়ায় ৯৬,৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেশি, যা বলছে যে করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে এবং কর পরিশোধে আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরসহ বেশ কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার হিসাব সংক্রান্ত সব তথ্য ইতিমধ্যেই তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই উদ্যোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে নেওয়া হয়েছে, এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যাদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। উল্লেখ্য, আতিউর রহমান সরকার পতনের পর দেশ ছাড়েন, আর আব্দুর রউফ তালুকদার পলাতক অবস্থায় গত বছর ৭ আগস্ট ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন।

    অপরদিকে, তালিকায় থাকা আরও কিছু সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন এস কে সুর চৌধুরী, মো. মাসুদ বিশ্বাস, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের। উল্লেখ্য, এস কে সুর চৌধুরী ও মাসুদ বিশ্বাস বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারেও আছেন।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ, কেওয়াইসি (Know Your Customer) ফরমসহ সব ধরনের তথ্য তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে থাকে, তারও তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতীতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    চলতি আগস্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে আশাতীত ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মাসের প্রথম ১৭ দিনে মোট দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে, যা বাংলাদেশ মানে প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এটি যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগস্ট মাসটি সম্ভবত গত বছরের জুলাই মাসের রেমিট্যান্সের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে অন্তর্জাতিকভাবে পাঠানো এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬১ কোটি ৯০ হাজার ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। বিশেষ করে দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

    উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তবে, সেপ্টেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কিছু ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ স্থগিত ছিল। এ সময়ের মধ্যে কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও রেমিট্যান্স আসেনি, এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

    অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের রেকর্ড। ওই বছরটি ছিল দেশের জন্য গৌরবময় কারণ, প্রবাসী আয় এই অর্থবছরে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা আগের বছর থেকে ২৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।

    মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের প্রবাহ এইভাবে ছিল: জুলাই ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্ট ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে-তে ২৯৭ কোটি ডলার ও জুনে ২৮২ কোটি ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের প্রদত্ত প্রণোদনা ও প্রবাসী আয়ের সহজের জন্য নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

  • বিদ্যুৎ বিল বাবদ বাংলাদেশ সরকারের কাছে বকেয়া ১৩৫ কোটি টাকা চাইলো ত্রিপুরা সরকার

    বিদ্যুৎ বিল বাবদ বাংলাদেশ সরকারের কাছে বকেয়া ১৩৫ কোটি টাকা চাইলো ত্রিপুরা সরকার

    আদানি গোষ্ঠীর পর এবার বকেয়া ঋণ শোধের জন্য ইউনূস সরকারের উপর চাপ বাড়ালো ত্রিপুরাও। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করেছে অবিলম্বে তারা যেন ১৩৫ কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছিল ত্রিপুরা সরকারের। এই চুক্তির মাধ্যমে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হত বিদ্যুৎ। ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন নাথ বাংলাদেশের বকেয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, নিয়মিত বকেয়া মিটিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘‘যদিও ১৩৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, তবে বাংলাদেশ নিয়মিত ভাবে বকেয়া মেটাচ্ছে।’’

    বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন, বিদ্যুৎ বাবদ প্রতি ইউনিট হিসাবে ছ’টাকা ৬৫ পয়সা করে নেয় ত্রিপুরা সরকার। ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ডকে (বিপিডিবি)। কিন্তু বকেয়া টাকা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যেতেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছিল টিএসইসিএল। চলতি বছরের মে মাসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে গত এক বছর ধরে সময়মতো টাকা শোধ দেয়নি বাংলাদেশ। ফলে বেড়েছে বকেয়া। এর মধ্যে  বাংলাদেশে চলতে থাকা ভারতবিরোধী কার্যকলাপ ও ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনে’র ঘটনার জেরে ইউনূস সরকারকে দ্রুত এই বকেয়া পরিশোধে  অবিহিত করা হয়েছে ত্রিপুরার তরফে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন ‘‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি বকেয়া টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে চিঠিও লিখেছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছি।’’

    এদিকে আদানিদের সঙ্গে বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা চলছে বাংলাদেশ সরকারের। ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার আমলে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎচুক্তির বিষয়ে হাইকোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও আদানিসহ ছ’টি সংস্থার সঙ্গে হওয়া বিদ্যুৎচুক্তি খতিয়ে দেখছে।

    সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

  • আ.লীগ ক্ষমতায় থেকে শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে

    আ.লীগ ক্ষমতায় থেকে শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে

    আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবার দেশের শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও এসব লুটপাটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই ব্যবস্থা নেয়নি।

    সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সুরক্ষায় আগামীর করণীয় বিষয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের কো-অর্ডিনেটর এস এম ইকবাল হোসনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জমান রতন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থনৈতিক সমন্বয়ক দিদারুল আলম ভূঁইয়া প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেয়ারবাজার ধসে পড়ে। আওয়ামী লীগ ও লুটপাট একে অপরের সঙ্গে জড়িত। ১৬ বছরে আমরা দেখেছি কিভাবে সালমান এফ রহমানরা শেয়ারবাজারে লুটপাট করেছে। সাধারণ মানুষ পুঁজি হারিয়ে পথে বসে গেছে।

    বর্তমান অবস্থা থেকে শেয়ারবাজার উত্তরণের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের দাবি করেন বক্তারা।  তারা বলেন, এই কমিশনে যারা থাকবেন তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা চিহ্নিত করবেন এবং সমাধান করবেন।

  • বিনিয়োগ কমায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে

    বিনিয়োগ কমায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে

    চট্টগ্রাম পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নসহ ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯১৫ কোটি ৯৯ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ১ হাজার ৯৫ কোটি ৯৪ লাখ, বৈদেশিক সহায়তা ৪ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

    সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা এবং একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একনেক সভা শেষে এনইসি কমিটি কক্ষ-১-এ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, আইএমইডি সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সচিব) ড. কাউসার আহমদসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

    পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, একদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির। কেননা বর্তমানে অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সুদের হার বৃদ্ধি এবং নানা আন্দোলনের কারণে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। অন্যদিকে যদি সরকারি বিনিয়োগও কমে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক মন্দা হতে পারে। এজন্য আমরা আজ (সোমবার) সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিচ্ছি যে, চলমান প্রকল্পগুলো দুর্নীতিমুক্তভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যাতে উন্নয়নে গতি ফিরে আসে। এছাড়া প্রকল্পে দুর্নীতি হলে এর দায় মন্ত্রণালয়কেও নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রকল্প নিয়ে বিশেষ সতর্কতা আছে। কেননা আমরা রাজনৈতিক প্রকল্প যাতে না পাশ করি। প্রকল্পে অপচয় বন্ধ করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সৃজনশীল এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে এ কথা বলা যায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে যে বরাদ্দ আছে, সংশোধিত এডিপির সময় বেশ ভালোই কমবে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যা লেখা হচ্ছে, এর সবই সঠিক।

    তিনি আরও বলেন, শিগ্গিরই নির্বাচনি তোড়জোড় শুরু হবে। তখন মানুষের হাতে টাকা আসবে। অপচয় হলেও তো অর্থনৈতিক প্রবাহ ঠিক থাকবে। আগে তো উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি হলেও অর্থের প্রবাহ ঠিক ছিল। এখন তো সে অবস্থা নেই। আমরা দুর্নীতি বন্ধ করছি।

    প্রকল্প পরিচালকরা (পিডি) পালিয়ে যাওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কমেছে বলে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক প্রকল্প পরিচালক ভিসিদের মতো পদত্যাগ করেছেন। আবার অনেকে পালিয়ে গেছেন। তারা এতটাই দুর্নীতি করেছেন যে, পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যেমন- মাতারবাড়ী প্রকল্পের পিডি পালিয়ে গেছেন। যাওয়ার আগে সরকারি অনেক জিনিসপত্র বিক্রি করে গেছেন। এখন নতুন প্রকল্প পরিচালক দিতে হচ্ছে।

    ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মানুষ অতিষ্ঠ, এর সমাধান কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু ছাত্রই নয়, শ্রমিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলন করছে। বহু সংগঠন ঢাকা শহরে আন্দোলন করছে। তারা সড়কের পাশে আবার কখনো সড়ক আটকে এগুলো করছে। এর সমাধান কী করে হবে, আমি তো একা সমাধান করতে পারছি না। এর আগে শিক্ষার্থীদের আহ্বান করেছিলাম, তোমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আমার কাছে এসে কথা বল। তারা কথা বলেছে। অনেক দাবি এরই মধ্যে থেমে গেছে। কারণ আমরা বলেছি ন্যায্য দাবি সমাধান করব। কিন্তু কিছু কিছু দাবি আছে যেগুলো ন্যায্য নয়, এগুলো আমরা কোনো অবস্থায়ই মানব না। ন্যায্য দাবি নয় অথচ রেললাইন অবরোধ করা হচ্ছে। যাত্রীদের আক্রমণ করা হচ্ছে। এগুলো করলে জনগণই তাদের বিরুদ্ধে যাবে, সেদিক থেকে আমরা সুবিধায় আছি। ইতোমধ্যে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া শুরু করেছে।

    একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন ও ক্ষমতাবর্ধন’, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ইউনিভার্সিটিস ইন বাংলাদেশ টু প্রমোট ইয়থ এন্ট্রাপ্রেনারশিপ’ এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (ক্যাচমেন্ট-২ ও ৪), এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইমার্জেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রজেক্ট (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। পাশাপাশি ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ২টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

  • ব্যাংকে আমানত নিম্নমুখী

    ব্যাংকে আমানত নিম্নমুখী

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই ব্যাংক খাতে আমানত ছিল নিম্নমুখী। এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোয় আমানতের স্থিতি কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কমেছে তারল্যের স্থিতি। সঞ্চয়কারীদের ব্যাংকমুখী করতে অনেক ব্যাংকই আমানতের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরও ব্যাংকে আমানত প্রবাহ বাড়ছে না। বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের লুটপাটের চিত্র এখন প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকটি ব্যাংকে সংকট আরও বেড়েছে। ফলে তারা গ্রাহকদের নিয়মিত টাকা দিতে পারছে না।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকে নজিরবিহীন লুটপাট এবং সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতের অস্থিরতার কারণে আমানত প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ব্যাংক খাতের কিছু সূচকের উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে আমানত হ্রাসের প্রবণতাও কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা- আগামী বছর থেকে ব্যাংক খাত স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারবে। তবে খেলাপি ঋণের পারদ আরও উচ্চতায় ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, জুনে ব্যাংকে আমানতের স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আমানত কমেছে ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। গত বছরের জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আমানত বেড়েছিল ২৮ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। চলতি বছরে আমানত তো বাড়েইনি, উলটো আরও কমেছে। এর মধ্যে মেয়াদি আমানত সামান্য বেড়েছে, কমেছে চলতি আমানত। জুনে চলতি আমানতের স্থিতি ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। ওই সময়ে চলতি আমানত কমেছে ১৭ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে কমেছিল ১৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে মেয়াদি আমানত বেড়েছিল ৪১ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের ওই সময়ে বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে মেয়াদি আমানত কম বেড়েছে ২৫ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকে চলতি আমানতের প্রায় পুরোটাই ব্যবসা-বাণিজ্যের টাকা। চলতি আমানত কমা মানেই দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য কম হচ্ছে। ব্যাংকে মেয়াদি আমানত খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মেয়াদি আমানতের কারণেই একটি ব্যাংক সবল থাকে। এ আমানত বেশি হলে তারল্যের প্রবাহ বেশি থাকে।

    সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার বাড়াচ্ছে। আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তিন দফা নীতি সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাবে ঋণ ও আমানতের সুদের হারও বেড়েছে। ব্যাংকগুলোয় এখন আমানতের সুদের হার সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশে উঠেছে। কোনো কোনো ব্যাংক জমা টাকা সাড়ে ৫ বছরে দ্বিগুণ দিচ্ছে। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলো চড়া সুদ দিচ্ছে। কিন্তু আমানতকারীরা আস্থা রাখতে পারছে না বলে আমানত জমা রাখছে না। ব্যাংকে আমানত প্রবাহ কম থাকায় ঋণের প্রবাহেও ভাটা পড়েছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

    এদিকে ব্যাংকগুলোয় তারল্য বেশি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তারা বেশি আমানত জমা রাখে। কারণ, কোনো কারণে সংকট দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সেগুলো তুলে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করে। সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা আমানতের পরিমাণ কমেছে। জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৯৩ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ২৬০ কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে এ খাতে আমানত কমেছে ২৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা আমানতও তুলে নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাচ্ছে।

    জুনে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রেখেছিল ১২ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এ খাতে আমানত কমেছে ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্যও কমেছে।

    জুনে ব্যাংকগুলোয় তারল্য ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে তারল্য কমেছে ২৭ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।

    ব্যাংকে তারল্যের জোগান বাড়াতে সরকার ব্যাংক থেকে এখন কোনো ঋণ নিচ্ছে না। উলটো আগের নেওয়া ঋণ ব্যাংক খাতে ফেরত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে সরকারের ঋণ স্থিতি কমেছিল ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ওই সময়ে তা কমেছে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। জুনে সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকায়। তিন মাসে ঋণের স্থিতি কমেছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে তারল্য বেড়েছে।

    এদিকে রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক অনুদান ছাড় কম হওয়ায় ব্যাংকে সরকারি খাতের আমানত প্রবাহ কমে গেছে। এ কারণে ব্যাংকে তারল্য কমেছে।

    এদিকে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে বাজারে টাকার প্রবাহ কমছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধির হার ছিল নেতিবাচক দশমিক ৫৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা দশমিক ৪০ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা নগদ যেসব অর্থ তুলে নিয়েছিলেন, সেগুলো এখন ফিরতে শুরু করেছে। এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। জুনে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে জনগণের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে মানুষের হাতে থাকা টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ১ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, অক্টোবরে আরও কমে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া টাকা আবার ফেরত এসেছে ৩১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

    ব্যাংকের দুরবস্থার মধ্যে আমানতকারীরা এখন সরকারি সঞ্চয়পত্রমুখী হয়েছেন। তাদের সঞ্চয়পত্র কেনার প্রবণতা বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা।

     

  • পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
    দেশের ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশা দেওয়া হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএফআইইউ।
    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩(১) (গ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সূচনা ফাউন্ডেশনের পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।
    এতে আরও বলা হয়, সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত সব হিসাবের হিসাব সংক্রান্ত তথ্যাদি (হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ফরম, শুরু হতে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী) সংযোজিত এক্সেল শিট আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে এ ইউনিটে পাঠানোর অনুরোধ করা যাচ্ছে।নির্দেশনার আওতায় লেনদেন স্থগিত করা হিসাবগুলোর ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ -এর বিধি ২৬(২) প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
    সূচনা ফাউন্ডেশন মানসিক অক্ষমতা, স্নায়বিক অক্ষমতা, অটিজম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে কাজ করে।পুতুল ফাউন্ডেশনটির ট্রাস্টি।এ ছাড়া মুজহারুল মান্নান ও জয়ন বারী রিজভী নামে আরও দুইজন ট্রাস্টি রয়েছেন।