Category: অর্থনীতি

  • সোনার প্রতি ভরি দাম রেকর্ডে—২২ ক্যারেট ছুঁল ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    সোনার প্রতি ভরি দাম রেকর্ডে—২২ ক্যারেট ছুঁল ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    একদিনের ব্যবধানে আবার দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ালো বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮,৩৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে ২২ ক্যারেটের জন্য প্রতি ভরি ২,৫২,৪৬৭ টাকা পৌঁছেছে—এটি দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বাজুস জানায়, নতুন এই দাম আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সমিতির তরফ থেকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর বাড়ায় স্থানীয় শুল্ক ও মার্কেট রেটে প্রভাব পড়েছে, যার ফলে দেশি বাজারেও মূল্য বাড়ানো প্রয়োজন হয়েছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’র তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৮০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। বিশ্বের বাজারে এ চাপ স্থানীয় দরেও সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে।

    নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী প্রতি ভরির দামগুলো হচ্ছে:

    22 ক্যারেট (ভালো মান) — ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    21 ক্যারেট — ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    18 ক্যারেট — ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি — ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার নতুন দামগুলো হলো:

    22 ক্যারেট প্রতি ভরি — ৬,৮৮২ টাকা

    21 ক্যারেট — ৬,৫৩২ টাকা

    18 ক্যারেট — ৫,৫৯৯ টাকা

    সনাতন পদ্ধতি — ৪,২০০ টাকা

    জুয়েলারি খাতে কার্যত প্রতিদিনের ওঠানামা থাকায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য দাম পরিবর্তনের খবর মুখ্য। বাজুসের ঘোষণায় গহনা ক্রেতা ও বিক্রেতারা আগামীদিনের বাজার মনিটর করার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • সোনার রেকর্ড দর: এক ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৫২ হাজার ছাড়াল

    সোনার রেকর্ড দর: এক ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৫২ হাজার ছাড়াল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ প্রতি ভরিতে ৮ হাজার ৩৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরির দাম ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    বাজুস এই ঘোষণা বুধবার (২১ জানুয়ারি) করেছে এবং নতুন দাম বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও দাম ওঠে।

    বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দর সম্পর্কিত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি দেখাচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৮০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই আন্তর্জাতিক উর্ধ্বগতি স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে আনা হয়েছে।

    নতুন ঘোষণা অনুযায়ী সোনার দামগুলো হলো: ২২ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,৫২,৪৬৭ টাকা; ২১ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,৪০,৯৭৮ টাকা; ১৮ ক্যারেট—প্রতি ভরি ২,০৬,৫৬৯ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা—১,৬৯,৬৫৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়েছে। বাজুস জানিয়েছে, রুপার নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬,৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট—৬,৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট—৫,৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,২০০ টাকা।

    দাম বৃদ্ধির এই ঘোষণা গহনা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে; ক্রেতাদের জন্য খরচ বেড়ে যাবে এবং ব্যবসায়ীদেরও মূল্য নির্ধারণ পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। বাজুসের পরবর্তী আপডেট বা বাজারে প্রতিক্রিয়া গুরুত্বসহকারে নজর রাখার পরামর্শ রয়েছে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬ সালের প্রথম দুই সপ্তাহেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। ২০২৫ সালে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়—এটি বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক এ ফলাফলকে নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ মন্তব্য করেছেন, মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য চীনের এই বিশাল উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি হতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য কেবল উন্নত দেশগুলোর শিল্পকে নয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকেও প্রতিযোগিতায় দুর্বল করে দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে রপ্তানিভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করলে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    অন্যদিকে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন ১৬ জানুয়ারি উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে। তাঁর ভাষ্যে, ‘‘চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক; কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়েই একে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’’ হু আরও যোগ করেন, চীনের রপ্তানি জোরালো হওয়ার পেছনে জোর-জবরদস্তি নয়, বরং পণ্য উৎপাদনে সততা ও পরিশ্রম আছে।

    বাণিজ্য উদ্বৃত্তের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি একপাশে শক্তিশালী রপ্তানি ও অন্যপাশে দুর্বল আমদানি—এই অনুপাত থেকেই এসেছে। ২০২৫ সালে চীন-মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান ও ইইউ-তে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে; আফ্রিকায় তা রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পণ্যের চাহিদা, চীনের উৎপাদনখাতে মুদ্রাসঙ্কোচন ও ইউয়ানের মূল্যহ্রাস মিশে চীনা পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সাশ্রয়ী করে তুলেছে।

    তবে আমদানির দিকটি পুরোটা সঙ্গে নেই। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানি মাত্র ০.৫ শতাংশ বাড়ে—অর্থাৎ রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনীয় নয়। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার স্থবিরতা প্রধান কারণ। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তাসামগ্রীর খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমে—নভেম্বরে তা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে আসে। একই সময় আবাসন খাতে সংকটের ফলে স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগও সংকুচিত হয়েছে; এমনকি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগে পতনের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ফল হিসেবে আমদানির গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

    গত বছর সাত মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে এটা মাত্র একবার ঘটেছিল—এটিই নির্দেশ করে যে এই ভারসাম্যহীনতা আকস্মিক নয়, বরং ধারাবাহিক। বিশ্বপেক্ষায় এই বিশাল রপ্তানিটা একদিকে অর্থনৈতিক শক্তি ও বিশ্বব্যবস্থায় সরবরাহশৃঙ্খলের পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে; এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে এবং উন্নত দেশগুলোর স্তরে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়েছে। অন্যদিকে, অত্যধিক রপ্তানিনির্ভরতা চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতাকে তীব্র করতে পারে—আভ্যন্তরীণ চাহিদি দুর্বল থাকলে দেশের অর্থনীতি বহুদূরপ্রসারি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এছাড়া বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লে প্রতিরোধমূলক কৌশল, শুল্ক বা অন্যান্য বাধা আরোপের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন—চীন যদি রপ্তানিমুখী মডেলের ওপর অনড় থাকে, তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াবে। ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান ইমানুয়েল মাখোঁ ইস্যুতে সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইউরোপের সঙ্গে এই ভারসাম্যহীনতা সমাধান না করে, তাহলে ইইউ অতিরিক্ত শুল্কসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

    এদিকে বেইজিং আনয়াসহ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও দেখা যায়। চলতি মাসের শুরুতে গুয়াংডং পরিদর্শনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেন, দেশে আমদানি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে আরও সুষমতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও জানিয়েছেন, বিশেষ টার্গেট ক্রয়, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ইত্যাদির মাধ্যমে আমদানি বাড়াতে সরকার কাজ করবে। সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যে রিবেট ধাপে ধাপে কমিয়ে ভবিষ্যতে বন্ধ করা হবে। এছাড়া এই মাসে চীন ও ইইউ’র মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পর্কিত একটি সমঝোতা হয়নি—চীনা গাড়ি নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

    চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ—এর উত্তর নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর: রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় দেশীয় চাহিদি ও বিনিয়োগে ফিরছে কি না, রপ্তানি বৃদ্ধিই আমদানিকে ত্বরান্বিত করছে কি না, এবং বাণিজ্যিক নীতিতে কীভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে। হু সিজিনের মতো অনেকে বলেছেন—এটি চীনের শক্তির প্রমাণ; অন্যদিকে ঈশ্বর প্রসাদের মতো অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন—এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।

    চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আর ঝুঁকি—দুইটাই বহন করছে। এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিগত আবেদন ও আন্তঃদেশীয় সমঝোতা, যাতে এই উদ্বৃত্ত বিশ্ব ও চীনের জন্য স্থিতিশীল ও সহায়ক ফল করে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগ বাড়বে

    গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগ বাড়বে

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আবার নতুন দিশা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, যা বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে চলতি অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

    বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, দেশে তারল্য সংকট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আগে যেমন অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্ট হত, তেমনি তারল্যের অভাবও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে এখন সেই চাপ হ্রাস পেতে শুরু করেছে। ব্যাংকগুলো অনেক আগে ঝুঁকি মেনে বেশি মুনাফা করছে, যা এখন পরিবর্তন হওয়া দরকার। এখন ব্যাংকগুলোর জন্য কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক ঋণগ্রহীতা খুঁজে বের করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    আহসান এইচ মনসুর আরো জানান, দেশের বৈদেশিক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্যের দাম কমায় আমদানিতে চাপ কমে এসেছে।

    সুদের হার নিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এটি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। টাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রির পাশাপাশি টাকা প্রবর্তনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার কিনেছে, যা আইএমএফের সহায়তার থেকেও বেশি। এছাড়াও বাজারে ৪৫ বিলিয়ন টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা তারল্য বাড়িয়েছে।

    গভর্নর মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক ধাক্কা কিছুটা প্রভাব ফেলেছে ব্যবসায়-আয়োজনে। তবে যাদের টিকে থাকার ক্ষমতা রয়েছে, তারা সহায়তা পেয়েছে। কোনও গোষ্ঠী বা দল ভিত্তিক বৈষম্য হয় নি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, শিগগিরিই সুদের হার কমানো উচিত নয়, কারণ এতে বৈদেশিক লেনদেন ও বিনিময় হার বিশৃঙ্খল হতে পারে। মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে এবং সেটি ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য কিছু সময় লাগবে। মূল্যস্ফীতি ১ শতাংশ কমলেই নীতিগত সুদের হার কমানো হবে। ইতিমধ্যে বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমানো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা বিশ্লেষণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিময় হার, সুদের হার, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স, এবং আমদানি-রপ্তানির তথ্য। এখন পর্যন্ত গত মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সোমবার তা ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি ডলার। এই বিশ্লেষণ অর্থনীতির তুলনা ও অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ, এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

  • নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশকে উন্নত মানের অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিপ্পন পেইন্টের ডিলার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের আয়-ব্যয়ের তথ্যের রিসিভেবল ম্যানেজমেন্ট শক্তিশালী করা, কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানো এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

    চুক্তির আওতায় নিপ্পন পেইন্ট ব্র্যাক ব্যাংকের ডেভেলপকৃত ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর সাথে এপিআই (API) ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করবে, যা তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবে। এর ফলে, ইতিমধ্যেই সংগৃহীত অর্থের তথ্য দ্রুততার সাথে ২০০টির বেশি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে সংগ্রহ ও উন্নতমানের পরিচালনা সম্ভব হবে। এই ডেটা নিপ্পন পেইন্টের এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ERP) সিস্টেমে রিয়েলটাইম প্রদর্শিত হবে।

    এই প্রযুক্তির সাহায্যে নিপ্পন পেইন্টের নগদ প্রবাহের ট্র্যাকিং আরও সহজ হবে, অর্থের বিনিময় ও রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্ভুল হবে, এবং তাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল সিএফএ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব কর্পোরেট, কমার্শিয়াল ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং আসিফ বিন ইদ্রিস, হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং এ. কে. এম. ফয়সাল হালিম এবং এরিয়া হেড অব রিলেশনশিপ ইউনিট এস এম মুসা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, নিপ্পন পেইন্টের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ সিরকার, সিনিয়র ম্যানেজার সালাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এই অংশীদারিত্বটি ব্র্যাক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা উদ্যোগের বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যা কর্পোরেট গ্রাহকদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করবে। এর মাধ্যমে তারা প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং আত্মবিশ্বাস জোরদার করবে, পাশাপাশি টেকসই ও সফল ব্যবসার জন্য তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এটি ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা তাদের প্রমাণ করে দেশের ব্যবসায়িক দুনিয়াকে আধুনিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে তারা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিপদ না কি সম্ভাবনা?

    চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিপদ না কি সম্ভাবনা?

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহ পার হতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করেছে। ২০২৫ সালজুড়ে চলা শুল্ক যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক হলেও, চীনের রপ্তানি বাড়ছে এবং উদ্বৃত্তের পরিমাণ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। গত বছর চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে বিশাল ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই তথ্যের প্রকাশের পরই নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক নিবন্ধে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটি এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি বলেছেন, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এড়ানো এখন এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, যা ট্রাম্পের ধারার শুল্কের চেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের উচ্চ মানের সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম।

    মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, বাজুসের একটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। উল্লেখ করা হয়, নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের তথ্য প্রমাণ করে, গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি ওয়েবসাইটের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এখন প্রতি আউন্স ৪৭৪৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন দাম অনুসারে, দেশীয় বাজারে উচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরির মূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    সোনার দামে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরির রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৫৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

  • সোনার ভরি দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছাল দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    সোনার ভরি দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছাল দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    এক দিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ স্বর্ণ ও জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, মোটো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম বেড়ে গেছে অসাধারণ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা পর্যন্ত। এর ফলে সাধারণ ভরি মূল্য এখন চলে এসেছে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকার ওপর, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুস এই ঘোষণা দেয় এবং দাম বাড়ানোর বিষয়টি কার্যকর হবে আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে। সংগঠনটি জানায়, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্য প্রসারিত হওয়ার ফলে এই দাম বৃদ্ধি ঘটেছে।

    বিশ্ববাজারের তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দামে দেয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ ডলার। এই মূল্য বাড়ার প্রভাব দেশে পড়েছে।

    নতুন দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য প্রতি ভরি এখন ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হলো ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্যে ভরি লাগছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকায়।

    সোনার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকায়। অন্য ক্যারেটের রুপার দাম হল, ২১ ক্যারেটে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ভরি রুপার দাম এখন ৪ হাজার ২০০ টাকা।

  • সোনার প্রতি ভরির দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    সোনার প্রতি ভরির দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    একদিনের ব্যবধানে আবারও বাড়লো সোনার দাম। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে এক ভরি সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে—ভালো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ৫২ হাজার টাকার ওপরে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নতুন এই দাম আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এতো বড় ধাক্কা এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে; তথ্য অনুসারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম 4,800 ডলারের উপরে উঠেছে, যা স্থানীয় কটকশা মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।

    নতুন নির্ধারিত দামের বিবরণ অনুযায়ী:

    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম: ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেটের এক ভরি: ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেটের এক ভরি: ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা: ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার (চাঁদা) দামও বেড়েছে। নতুন হারের তালিকায় রুপার দামগুলো হলো:

    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা: ৬,৮৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৬,৫৩২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৫,৫৯৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা: ৪,২০০ টাকা

    বাজুসের এ ঘোষণার ফলে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সর্তকতা দেখা যাচ্ছে। অলঙ্কার ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্যই নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় আগামী কয়েক দিনে স্বর্ণবাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাবে কি না তা দেখা হবে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির নজর কাড়ে। ২০২৫ সালে চলমান শুল্ক যুদ্ধের মধ্যেও চীনের রপ্তানি কমেনি—বরং বাড়েছে। ফলে বছর শেষে দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    এই তথ্য প্রকাশের পরই অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ জাগে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে সতর্ক করেছেন যে, মুক্ত বাণিজ্য রক্ষা করতে চীনের এত বড় উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, নিম্ন এবং মধ্যআয়ের দেশগুলোর শিল্পগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। এতে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার শৃঙ্খলাও ঝুঁকিতে পড়ে।

    অন্যদিকে গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে’। তাঁর ভাষ্য, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং শুধুমাত্র বাণিজ্য-নীতির মাধ্যমেই একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না; চীনের পণ্য রপ্তানি জোরে নয়, বাজারের চাহিদা ও প্রতিস্পর্ধার মাধ্যমে হচ্ছে।

    বিশাল রেকর্ড উদ্বৃত্তের পিছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক দিকে শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ, অন্য দিকে আমদানির দুর্বল গতি। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানির বৃদ্ধি মাত্র ০.৫ শতাংশ—যা রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে উদ্বৃত্তের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা, ভোক্তা বিক্রির ধীরগতিঃ বিশেষ করে নভেম্বর মাসে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। একই সঙ্গে আবাসন খাতের সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার কারণে আমদানির ওপর চাপ পড়েছে; ধারণা করা হচ্ছে ১৯৯৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর প্রথমবার বার্ষিক বিনিয়োগে পতন দেখা দিতে পারে।

    আঞ্চলিক বাজার পরিবর্তনও দেখা যায়—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি শুল্কের কারণে ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আষিয়ান ও ইইউ-র বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউয়েনের বহুমাসিক মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া এবং মুদ্রানীতির ফলে চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি সুসংহত হয়েছে। ফলত ২০২৫ সালের সাতটি মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—যা পূর্বের বছরের মাত্র একবারের তুলনায় অনেক বেশি।

    এই পুরো চিত্রটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ইঙ্গিত করে যে—চীনের রপ্তানি-নির্ভরতা গভীর এবং তা দীর্ঘমেয়াদে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি করতে পারে। যদি বৈশ্বিক চাহিদা খারাপ হয়ে যায়, চীন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চতুর্ভুজে আটকে যেতে পারে: শক্তিশালী রপ্তানি থাকলেও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বিনিয়োগ। ফলে বাণিজ্য অংশীদাররাও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার প্ররোচনা পেতে পারে—শুল্ক, অ্যান্টি-সাবসিডি বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আভাস বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কবার্তাও এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, যদি চীন একঘেয়েমি রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি মডেলে অনড় থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে ইইউ চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।

    চীনের অভ্যন্তরে নীতিনির্ধারকরা বিষয়টিকে লক্ষ করেছেন। গুয়াংডং পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং জানিয়েছেন, আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষমতা রাখাই এখন সরকারী অগ্রাধিকার। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির দ্রুত বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

    একই সঙ্গে বেইজিংয়ের কিছু বাস্তব পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসে ঘোষণা করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট (কর ফেরত) বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যের ক্ষেত্রে রিবেট ধীরে ধীরে কমিয়ে আগামী বছরে পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন ও ইইউয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে এক সমঝোতা হয়েছে—চীনা গাড়ি নির্মাতারা এখন অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার দায়িত্ব নিয়ে বাজার প্রবেশ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টাও বলা যায়।

    শেষ কথা: চীনের এই বৃহৎ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে আশীর্বাদ এবং উদ্বেগ উভয়ই। চীনের উৎপাদনশক্তি ও সাশ্রয়ী পণ্যের সরবরাহ বিশ্বের মূল্যচাদরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে; কিন্তু অতিরিক্ত রপ্তানি-নির্ভরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা যদি টেকসইভাবে সমাধান না করা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে নীতিগত উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক প্রতিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যে প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করবে উত্তরটি—রপ্তানি আয় কি অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরছে, রপ্তানির আয় আমদানিকে ত্বরান্বিত করতে পারছে কি না, এবং বাজারগুলি কতটা আরও উন্মুক্ত হচ্ছে।

    সূত্র: বিজনেস টাইমস।