Category: সারাদেশ

  • খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

    খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

    নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রেরিত “ডিমান্ড ফর জাস্টিস” শীর্ষক নোটিশের প্রেক্ষিতে কেসিসি এই সভার আয়োজন করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেলা ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক (প্রায় ৭৫ টন) এবং ১০ শতাংশ ই-বর্জ্য (প্রায় ৫০ টন) রয়েছে। এছাড়া বলা হয় এই হার বছরে ২০–৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই-বর্জ্য মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের কারণ হয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ই-বর্জ্য পৃথক করে সংগ্রহের ব্যাপারে জনগণকে জানানো হবে, ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রচারপত্র বিতরণ ও বিলবোর্ডে প্রদর্শনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হবে, কেসিসি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে প্রচারে যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হবে এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সভায় ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাস, প্রতিটি পণ্যের সম্ভাব্য আয়ু বাড়ানো ও মেরামত-রিপেয়ার উৎসাহিত করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং-এর সুযোগ রাখা হলে সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলে সুপারিশ করা হয়।

    সভায় বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মহানগরকে ঝুঁকিমুক্ত, সবুজ ও সুস্থ শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এর প্রথম ধাপ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ; বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল অংশধারীকে পরিকল্পনার আওতায় এনে কাজ শুরু করতে হবে, তিনি বলেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ মুজিবুর রহমান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

    বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি’র পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান ড্রেন ব্যবহারের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি নগর সম্প্রসারণ, ময়ূর নদ সংস্কার, রিভারসাইড সড়ক নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    পূর্ত বিভাগের সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, সিসিএইউডি প্রকল্পের টিম লিডার ক্যামেরুন ল।, মেহেদী হাসানসহ সহযোগী প্রকৌশলী ও সহকারীরা।

  • ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া ঢাকায় মারা গেছেন

    ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া ঢাকায় মারা গেছেন

    ঝিনাইদহের মাধবপুরে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বিএনপির কর্মী তরু মিয়া (৪৮) শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হাসপাতাল সূত্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি আলোচনা সভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ মিলিয়ে অন্তত আটজন আহত হন।

    আহতদের প্রথমে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে আনা হয় বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবু কালাম। তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে তরু মিয়া বমি করছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। ঢাকায় এসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ বর্তমানে বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।

    নিহত তরু মিয়ার বাড়ি মাধবপুর গ্রামে। পরিবার বলছে, তিনি প্রায় দুই যুগ বিদেশে ছিলেন এবং পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যেতেন। তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী বলেও জানা গেছে।

    ঘটনাস্থলের একপক্ষ জানতে চাইলে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান দাবি করেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনায়াসে হামলা চালায়, তা সত্ত্বেও হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়।

    অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোর করে তালিমে নিতে চেয়েছিল; বিষয়টি জানতে গেলে আগে থেকেই ওত-পেতে থাকা জামায়াত কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিলাল হোসেন ঘটনায় তরু মিয়ার ঢাকায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাতে শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাসদস্যরা টহল দিচ্ছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপজেলা ও পুলিশ সূত্র মতে, ঘটনার সঠিক কারণ ও হামলার পর্যায়ক্রমিক দায়-দায়িত্ব নির্ণয়ের জন্য তদন্ত চলছে। পুলিশ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

  • রামপালের সড়ক দুর্ঘটনায় বর সাব্বিরসহ একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

    রামপালের সড়ক দুর্ঘটনায় বর সাব্বিরসহ একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

    খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন শুক্রবার (১৩ মার্চ) সম্পন্ন হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

    জুম্মার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত জানাজায় মরদেহগুলো রাখা ও জানাজা শেষে তাদের মোংলা পৌরসভার কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরদেহ সকাল থেকেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে এনে গোসল সম্পন্ন করে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে রাখা হয়েছিল। পরে বর-কনেপক্ষের কয়েকজনকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি কয়রা ও রামপালে দাফন করা হয়।

    নিহতদের মধ্যে ৯ জনই মোংলা পোর্ট পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য। নিহতদের নামসমূহ — আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক কন্যা ঐশী, চার নাতি-নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ এবং পুতুল বেগম। এছাড়া কয়রার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপালের মাইক্রোবাস চালকও দুর্ঘটনায় মারা যান।

    মোংলায় মরদেহ পৌঁছালে শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজার নামাজে মোংলা-রামপাল (বাগেরহাট-৩) আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় অর্ধ লাখের মতো মানুষ জানাজায় অংশ নেয়।

    প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনা দুঃখজনক; জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছে; এছাড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকেও সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা দিলে অনুদানগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

    দুর্ঘটনায় নিহত মোট ১৪ জনের মধ্যে কনেপক্ষের মরদেহগুলো খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নিয়ে গিয়ে সেখানে কনের দাদি, নানী, বোন ও কনের দাফন সম্পন্ন করা হয়। মাইক্রোবাস চালককে রামপালের নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

    স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশে যাচ্ছিল একটি স্টাফবাহী বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে; শুরুতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। তদনেৎ তদন্ত করে নির্দিষ্ট কারণ 밝혀 হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য: ই-বর্জ্য ঝুঁকি নিয়ে কেসিসির জরুরি আলোচনা

    খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য: ই-বর্জ্য ঝুঁকি নিয়ে কেসিসির জরুরি আলোচনা

    খুলনা নগরীর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তুলে ধরে কেসিসি আয়োজিত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কাজে মিলিয়ে নেওয়া ‘ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ শীর্ষক নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রস্তাবিত বিষয়ে কেসিসি এ কর্মশালার আয়োজন করে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ মুজিবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। গবেষণায় দেখা গেছে, খুলনায় প্রতি ৫০০ টন নগর বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক (প্রায় ৭৫ টন) এবং ১০ শতাংশ ই-বর্জ্য (প্রায় ৫০ টন) রয়েছে। এ অনুপাতে ই-বর্জ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ২০–৩০ শতাংশ করে বাড়ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    সভায় বলা হয়, নির্দিষ্টভাবে আলাদা করে ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা না হলে মাটি, পানি ও বাতাস দূষণের পাশাপাশি কৃষি জমির উৎপাদন হ্রাস, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। এই কারণেই স্থানীয়ভাবে সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৎপরতা জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর মাঝে ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝাতে প্রচারপত্র বিতরণ, বিলবোর্ড ও পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার, কেসিসি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সচেতনতা কাজে যুক্ত করার অনুরোধ এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

    সভায় আরও সুপারিশ করা হয়—ইলেকট্রনিক পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো, প্রতিটি পণ্য দীর্ঘ সময় ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ই-বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের সুব্যবস্থা রাখার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া।

    সভায় বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মহানগরকে ঝুঁকিমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলা আমাদের মৌলিক দায়িত্ব। গ্রীন, ক্লীন ও হেলদি সিটি গড়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ। বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে এনে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    সভায় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, প্রকৌশলী মোঃ অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি’র পুঙ্খানুপুঙ্খ পূর্ত বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি নগরীতে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখে নির্দেশনা দেন। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বিদ্যমান ড্রেন, নদী পাঠরোধ ও অবকাঠামো ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নগর সম্প্রসারণ, ময়ূর নদী সংস্কার, রিভারসাইড সড়ক নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শহর রক্ষা বাঁধগুলো মেরামতের জন্য পরিপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    অবশেষে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে: ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, একটি কর্মদল গঠন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য রিসাইক্লিং সুবিধা দ্রুত চালু করা। এ উদ্যোগই হবে খুলনাকে একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই নগর ঘোষণা করার পথে প্রথম ধাপ।

  • খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই‑বর্জ্য

    খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই‑বর্জ্য

    নগরীর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই‑বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সভা গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রেরিত “ডিমান্ড ফর জাস্টিস” শীর্ষক নোটিশের প্রেক্ষিতে কেসিসি এই সভার আয়োজন করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় জানানো হয়, গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক (প্রায় ৭৫ টন) এবং ১০ শতাংশ ই‑বর্জ্য (প্রায় ৫০ টন) রয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, এই হার প্রতি বছর ২০–৩০ শতাংশ অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই‑বর্জ্য মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের পাশাপাশি কৃষি ভূমির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত করা, শ্বাস‑প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানো পর্যন্ত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে—এসব বিষয় সভায় বিশেষভাবে উত্থাপিত হয়।

    সভায় ই‑বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপর জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ই‑বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে প্রচারপত্র বিতরণ করা, বিলবোর্ডে প্রচারণা চালানো এবং কেসিসি ছাড়াও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ব্যাপকভাবে প্রচার কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায়েও ব্যাপক প্রচারণা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    সভায় ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং পণ্যের জীবচক্র শেষ হওয়ার পর তাদের সঠিকভাবে সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়—বিশেষত বর্তমানে নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ই‑বর্জ্যের পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা রাখা জরুরি বলে মত প্রকাশ করা হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “মহানগরীকে ঝুঁকিমুক্ত, সবুজ ও স্বাস্থ্যসম্মত শহরে রূপান্তর করা হবে—এর প্রথম ধাপ হলো সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ। বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলকে পরিকল্পনার আওতায় এনে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।”

    সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ মুজিবুর রহমান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কনজারভেন্সি অফিসার ও প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ অহিদুজজামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ।

    বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসির পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক পৃথক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি নগরীতে চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি ও বাস্তব সমস্যা পর্যালোচনা করেন। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিদ্যমান ড্রেন ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার করেই এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে নগর সম্প্রসারণ, ময়ূর নদের সংস্কার, রিভারসাইড সড়ক নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    বিকেলের সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, সিসিএইউডি প্রকল্পের টিম লিডার ক্যামেরুন লে, মেহেদী হাসানসহ সহকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্যকরি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • মাসুম বিল্লাহ হত্যাকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের গ্রেফতার দাবি হন শ্রমিকদের মানববন্ধন

    মাসুম বিল্লাহ হত্যাকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের গ্রেফতার দাবি হন শ্রমিকদের মানববন্ধন

    রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহবায়ক ও রূপসা-বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলার আসামি ও অর্থ যোগানদাতাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তব্যে অংশ নেওয়া নেতারা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের জোরালো呼য় জানান। সভার সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা বসির হায়দার পল্টু। অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ শেখ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ ও জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম-সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান।

    আলী আকবার রাজুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন রূপসা-বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মহিউদ্দিন শেখ, সাবেক ছাত্রনেতা মনজুর আরেফিন, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক মনিরা সুলতানা, থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গাজী, উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক জালাল হাওলাদার, যুগ্ম-আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তরিক ও যুগ্ম-আহবায়ক লাভলু শেখ।

    অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম, বাবুল শেখ, জাকির হোসেন, বাগমারা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসাইন, সাবেক সভাপতি হুমায়ুন শেখ, ট্রলার মাঝি শ্রমিক ইউনিয়নের আলী শিকদার ও নিহত মাসুম বিল্লাহর ছেলে আবিদ হুসাইন। বক্তারা সবাই মিলিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, হত্যাকারী ও অর্থদাতাদের গ্রেফতার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে আরোপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

  • বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় জানা গেছে

    বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় জানা গেছে

    খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জন। দুর্ঘটনায় বর–কনে ও জমজ শিশুসহ বহু যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন, পাশাপাশি several severalজন আহত হন।

    দূর্ঘটনা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ (গুনাই ব্রিজ) এলাকায় ঘটে। ঘটনাস্থলেই যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হলে তাদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে মোট ১৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মোংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক (৬২), আহাদুর রহমান সাব্বির (৩০), আব্দুল্লাহ সানি (৩০), ঐশি (২৮), ফাহিম শিকারি (১), ফারহানা সিদ্দিকা (৩৩), আলিফ (১৩), আরফা (৭), আয়রা (২), আনোয়ারা বেগম (৫৮), মার্জিয়া আক্তার মিতু (২৫), মিনারুল আলম সবুজ (৪২) এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. নাইম হোসাইন (২৭)। নিহতদের পরিচয় জানায় স্থানীয়রা এবং মৃতদের নাম মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ১৪ জন ধরা হয়েছে। নববধূ মিতু কয়রার নাকসা গ্রামের ছালাম মোরলের কন্যা বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতেই নাকসা গ্রামের মিতুর বিয়ে হয় রামপাল এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের পর পরদিন নববধূ ও তার স্বজনরা মাইক্রোবাসে করে শ্বশুরবাড়ি মংলার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    পথিমধ্যে মাইক্রোবাসটি রামপালের গুনাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কয়েকজন ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে একে একে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

    দুর্ঘটনা সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম ও কারণ তদন্তের জন্য পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করছে।

    ঘটনার পর নিহতদের ঘর ও এলাকায় শোক ও সন্ত্রস্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। বিয়ের আনন্দ যে মুহূর্তে পরিবারে এসেছে, মুহূর্তের মধ্যে তা বিশাল শোকের আড়ালে হারিয়ে গেছে; স্বজনদের কান্না ও আহাজারি ছায়া ফেলেছে পুরো আশপাশে। স্থানীয়রা বলছেন, একই পরিবারের এত মানুষ একসঙ্গে হারানো সত্যিই মর্মান্তিক এবং তারা এই দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি করছেন।

  • রামপালে মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ১২ জন নিহত

    রামপালে মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ১২ জন নিহত

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর তিনটার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ১২ জন মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।

    সংঘর্ষের পর আটজনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বাকি চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছুকালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা ঘটনাস্থল ও আহতদের অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন।

    প্রতক্ষদর্শীরা জানান, যে সময়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে যানবাহন দুটির গতিবেগ খুব বেশি ছিল। দ্রুত গতিতে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন যাত্রী নিহত হন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সহ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের মধ্যে অনেককেই রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, আদি হিসাব অনুযায়ী চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে; তবে হাসপাতালে আরও মরদেহ আসায় মোট নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানিয়েছেন, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতলে আটজনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী এবং দুইজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার চিকিৎসা চলছে।

    স্থানীয়রা বলছেন, হতাহত ও আহতদের পরিবারের খোঁজ নেয়া হচ্ছে, তবে অনেকের নাম-ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এক স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু জানান, তার পরিবারের বড় ছেলে জনি ফোন করে বলেছিল—‘আমি ছাড়া পরিবারের সবাই একই গাড়িতে ছিল, তারা সবাই মারা গেছে। আমি রামপাল হাসপাতালে যাচ্ছি, তোমরা খুলনা মেডিকেলে চলো।’ মিঠু বলেন, তারা হাসপাতালে এসে কাউকে জীবিত পাননি, সবাই মারা গেছে।

    বর্ধমান তদন্ত চলছে; পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ শনাক্ত করতে চেষ্টা করছে।

  • খুলনায় মানববন্ধন: শ্রমিকদল নেতা মাসুম বিল্লাহ হত্যাকারী ও অর্থদাতাদের গ্রেফতারের দাবি

    খুলনায় মানববন্ধন: শ্রমিকদল নেতা মাসুম বিল্লাহ হত্যাকারী ও অর্থদাতাদের গ্রেফতারের দাবি

    রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলে সাবেক আহ্বায়ক ও রূপসা‑বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়কপরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ হত্যাকারী ও অর্থযোগানদাতাদের দ্রুত গ্রেফতা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টায় খুলনার পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানবন্ধনটি সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা বসির হায়দার পল্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ শেখ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ ও জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম-সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান।

    আলী আকবর রাজুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন রূপসা-বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মহিউদ্দিন শেখ, সাবেক ছাত্রনেতা মনজুর আরেফিন, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক মনিরা সুলতানা, থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গাজী, উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল হাওলাদার, যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তরিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু শেখ।

    এছাড়া বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম, বাবুল শেখ, জাকির হোসেন, বাগমারা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসাইন, সাবেক সভাপতি হুমায়ুন শেখ, ট্রলার মাঝি শ্রমিক ইউনিয়নের আলী শিকদারও বিভিন্ন বক্তব্যে হত্যাকারী ও অর্থদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও কড়া শাস্তির ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে নিহত মাসুম বিল্লাহর ছেলে আবিদ হুসাইনও উপস্থিত ছিলেন।

  • অস্ত্র-গুলিসহ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ওসমান গণি আটক

    অস্ত্র-গুলিসহ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ওসমান গণি আটক

    কোস্ট গার্ড বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের শেলা নদীর মূর্তির খাল থেকে কুখ্যাত জলদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ওসমান গণিকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করেছে।

    কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা শেলা নদী সংলগ্ন ওই এলাকায় অবস্থান করছে। সে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা সকাল ছয়টার দিকে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান শুরু করে।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দস্যুরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের মধ্যে থেকে ওসমান গণিকে গ্রেফতার করা হয়। ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

    আটককৃত ওসমান গণি (৩৮) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করে আসছিলেন এবং দস্যু দলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জোগায়।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লে. কমান্ডার আবরার হাসান জানান, জব্দকৃত অস্ত্র ও আটককৃত দস্যুকে নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাতে ওসমান গণি মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হবে।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।