Category: বিনোদন

  • গুলিচালনার অভিযোগে অভিনেতা কামাল আর খান (কেআরকে) গ্রেফতার

    গুলিচালনার অভিযোগে অভিনেতা কামাল আর খান (কেআরকে) গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, পরিচিত কেআরকে—কে মুম্বাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।

    পুলিশ সূত্রে এবং ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওশিওয়ারার একটি আবাসনে চারটি গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে মুম্বাই পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেন যে ওই গুলি তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে ছোড়া হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেছেন, কাউকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। পুলিশের কাছে তাঁর দেওয়া বিবরণে বলা হয়েছে, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করতে তিনি বাড়ির সামনের ম্যানগ্রোভ এলাকার দিকে গুলি ছুঁড়েছিলেন; বাতাসের তীব্র গতিবেগের কারণে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনে লেগে যায়।

    কেআরকে বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত; ২০২২ সালে একটি যৌন হেনস্তার মামলায় তার গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছিল এবং সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের নিয়ে কটাক্ষ ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি অভিযোগ রয়েছে। মুম্বাই পুলিশ এ ঘটনায় আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই, বয়স ৮২

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই, বয়স ৮২

    ঢালিউডের সোনালী সময়ে দাপুটে নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবারসূত্রে জানা যায়, ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে যান, পরে নিয়তি তাকে টেনে আনে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে।

    জাভেদ দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও ছিল। গতবছর এপ্রিল থেকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও ছিলেন। আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির পর নিকটস্থরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেতার স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেছেন, ‘‘আজ সকালে উনার শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন ধরে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স বাসায় এসে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে নার্সরা এসে দেখান, সব শরীর ঠান্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডাকিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’’

    সিনেমার পর্দায় ইলিয়াস জাভেদের ক্যারিয়ার শুরু হয় নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে। নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ থেকে। তবে ব্যাপক পরিচিতি আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে, যেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তার শিল্পনামে ‘জাভেদ’ নামটি দেন।

    এক দরজায় থেমে থাকেননি তিনি; একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা ও নৃত্যাভিনয়ের মাধ্যমে ৭০ ও ৮০-এর দশকের দর্শকদের হৃদয়ে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অটুট জায়গা করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। longues ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    তিনি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক যুগের সমাপ্তি এবং নৃত্য-নাট্যশিল্পে এক গুণী কণ্ঠহীন অধ্যায়ের শূন্যস্থান তৈরি করল। দীর্ঘদিন নিভৃতে চিকিৎসা নিলেও দর্শক ও কল্যাণপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। পরিবারের প্রতি গভীর শোক এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি।

  • তাহসানের আকুতি: আমাকে একটু বাঁচতে সাহায্য করুন

    তাহসানের আকুতি: আমাকে একটু বাঁচতে সাহায্য করুন

    বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদপত্রে তাহসান খান ব্যাপক আলোচনা बने। তার জীবনের এই অধ্যায়ের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিক ও ভক্তদের থেকে ফোন কলের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে, যা তিনি মোটেও উপভোগ করছেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি চাননি যেন সব কিছু এতটা ব্যস্ততার মধ্যে পড়ে যায়, এবং একটু শান্তি পান।

    সংবাদমাধ্যমের সামনে তাহসান বলেন, ‘প্রচুর সংবাদ ও ফোন কল আসছে। আমি এখন শান্তি চাচ্ছি, আমাকে একটু বাঁচতে সাহায্য করুন।’

    এর আগে তিনি জানিয়েছেন, স্ত্রী রোজা আহমেদের সঙ্গে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছিলেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে যাবেন বলে প্রকাশ করেন এবং বলেছিলেন, এই ট্যুরের আগে থেকেই তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি ফেসবুক ও গান থেকে দূরে রয়েছেন এবং একাকী ট্রাভেল করে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াচ্ছি, ঘুরাঘুরি করছি আর বই পড়েই সময় কাটাচ্ছি।’

    তাহসান খান গত ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ে পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রোজা অতীতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাইডাল মেকআপের কাজ করেছেন এবং নিউইয়র্কে তার নিজস্ব মেকআপ স্টুডিও রয়েছে।

    তাহসানের জীবন নিয়ে এই খবরের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, ২০০৬ সালে তিনি অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। দীর্ঘ ১১ বছর চলমান এই দাম্পত্য ২০১৭ সালে সমাপ্ত হয়।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। তিনি মোট ৭৪ বছর বয়সে ১২ জানুয়ারি লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। এই সুখ্যাতি সম্পন্ন শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মামি জয়শ্রী কবির বিখ্যাত নায়িকা, এককালের ‘মিস ক্যালকাটা’, শান্তিপূর্ণ জীবন থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে দীর্ঘদিন লন্ডনে ছিলেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘প্রতিদ্ব›দ্বী’, আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’র মতো সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন।” নায়িকার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন।

  • রাফসান ও জেফার কল্যাণে বিবাহের শুভ খবর

    রাফসান ও জেফার কল্যাণে বিবাহের শুভ খবর

    দীর্ঘ সময় ধরে চলা গুঞ্জন এবং ভক্তদের কৌতূহলের অবসান ঘটল। অবশেষে জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান সাবাব এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেফার রহমান رسمیভাবে একসঙ্গে বসবাসের ঘোষণা দিলেন। এই সংবাদটি শোবিজে এক নতুন সূর্যোদয় যেন। ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত এই তারকা জুটির প্রেম এখন পরিণয় লাভ করল।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের খুশির খবর শেয়ার করে রাফসান সাবাব লিখেছেন, ‘পরিবারের ও প্রিয়জনের মাঝে আমরা আমাদের নতুন জীবন শুরু করছি। আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন, এই কামনাই করি। আজ থেকে আমাদের দুই জীবন এক হয়ে গেছে, নতুন পথে আমাদের শুরু হয়েছে এক সুন্দর পথে চলার গল্প।’

    রাফসান ও জেফার কি করে একে অন্যের প্রেমে পড়লেন—এই বিষয়ে শোবিজ দুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় তাদের একসাথে দেখা যাওয়া ভক্তদের মধ্যে বিভিন্ন কৌতূহল সৃষ্টি করত। তবে তারা সবসময় এই বিষয়ে ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছিলেন।今, এই বিবাহের ঘোষণা দিয়ে সেই সমস্ত গুঞ্জনের সমাপ্তি ঘটল।

    উল্লেখ্য, এই সুখবর প্রকাশের পর থেকেই শোবিজের সহকর্মী, অনুরাগী এবং সাধারণ নেটিজেনরা নবদম্পতিকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাচ্ছেন।

    রাফসান সাবাব বহু দিন ধরে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ইভেন্ট ও শো উপস্থাপন করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, জেফার রহমান তার গানের কেরিয়ার ও ফ্যাশন সেন্সের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। এই দুই সফল ব্যক্তির এই নতুন পথচলা শিল্পাঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

  • অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন। দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে ৮২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পরিবারসহ পাঞ্জাবে স্থানান্তরিত হলেও, নিয়তি তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়ে আসে। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই তার শারীরিক অবনতি হচ্ছিল। হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চলে আসছিল, তবে তার শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে অবশেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

    তার অভিনয় জীবন শুরু ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে। তবে প্রথম বড় সাফল্য পায় ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমায়, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। এই সিনেমার মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। পরিচালক মুস্তাফিজ তাকে জাভেদ নামে ডাকতেন।

    এরপর তিনি অসংখ্য সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

    অংকিতা নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি নৃত্য পরিচালনা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, পরে নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অভিনীত শতাধিক চলচ্চিত্র রয়েছে। ১৯৭০ ও ৮০ শতকের ডিজনি দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন পর্দার উত্তেজনাপূর্ণ নাচ ও অ্যাকশনের সমাদৃত শিল্পী।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের শেষের আলো। দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত এই গুণী শিল্পী নিভৃতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

    তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী, আবদুল্লাহ।

  • বলিউড অভিনেতা গুলিবর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার

    বলিউড অভিনেতা গুলিবর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার

    ভারতের মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউডের অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান ওরফে কেআরকে-কে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলমান।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এই ঘটনা চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ঘটেছে, যেখানে ওশিওয়ারা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে চারটি গুলি ছোড়া হয়। স্থানীয় সিসিটিভি ক্যমেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে- বলেন, গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। নিজেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, বন্দুক পরিষ্কার করার সময় সেটি পরীক্ষা করার জন্য তিনি গুলি ছুড়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, গুলি চালানোর সময় বাতাসের কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিগুলো পাশের এক ভবনে গিয়ে লেগেছে।

    কামাল আর খান বলিউডে এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২২ সালে এক যৌন হেনস্তার মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের নিয়ে কটাক্ষমূলক ও উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মানহানি ও আইনি মামলা রয়েছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

    ঢালিউডের সোনালী দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘসময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইন্তেকাল করেন তিনি।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্ম নেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে সপরিবারে পাঞ্জাব চলে গেলেও পরবর্তীকালে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ শুরু করেন।

    জানানো হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ক্যানসারে ভুগছিলেন জাভেদ; পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা চলছিল; হাসপাতালে তখন চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে তাঁর দেখাশোনা করছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হয়। দুই নার্স এসে জানায় শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অভিনয় ও নৃত্যের সাথে শুরু থেকেই নিবিড় সম্পর্ক ছিল জাভেদের। তিনি zunächst নৃত্য পরিচালনায় ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটলেও প্রকৃতভাবে খ্যাতি আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যেখানে বিপরীতে ছিলেন শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করে তোলেন।

    জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক ছবিতে এবং সত্তর-আশির দশকে দর্শকদের মনে তিনি ছিলেন নাচ-অ্যাকশনের এক অনবদ্য মিশ্রণ। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।

    জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্তশপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা-বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের শেষচিহ্ন, অনেকেই তাঁর চলে যাওয়াকে বাংলা সিনেমার ভাণ্ডারের বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন সহশিল্পী ও অনুরাগীরা।

  • লন্ডনে প্রয়াত দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির, বয়স ৭৪

    লন্ডনে প্রয়াত দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির, বয়স ৭৪

    দুই বাংলার পরিচিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির আর নেই। গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন; তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। এই মৃত‍্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ।

    জাভেদ মাহমুদ এক পোস্টে জানান, “আমার মামি জয়শ্রী কবির — একসময়ের ‘মিস ক্যালকাটা’ ও বহুল পরিচিত নায়িকা — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, জয়শ্রী সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ এবং আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’সহ several সিনেমায় কাজ করেছেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে তার অভিনয়ও দর্শকের স্মরণে রয়ে গেছে।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো হয়নি। জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, লন্ডনে বহু দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতে আলোচনায় আসেন। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জীবনে পদার্পণ করেন, যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান এবং আলমগীর কবির পরিচালিত কয়েকটি ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে কাজ করেন।

    ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হলেও এই সংসার বেশি দিন টেকেনি; প্রায় তিন বছরের মধ্যে দাম্পত্যে সমস্যা দেখা দিলে তারা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ করে। এই দাম্পত্য থেকে তাদের এক পুত্রসন্তান লেনিন সৌরভ কবির জন্মগ্রহণ করেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে স্থায়ীভাবে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় একবার এসেছিলেন; তারপর থেকে দেশে দেখা মেলেনি।

    জয়শ্রী কবিরের প্রয়াণে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিজন ও ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

  • ঢালিউডের কিংবদন্তি ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের কিংবদন্তি ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের প্রখ্যাত নায়ক ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ জীবনবোধ থেকে বিদায় করেছেন। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে ভুগে ৮২ বছর বয়সে আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। তথ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস জাভেদ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গতবছরের এপ্রিলেও তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিছু দিন ধরে বাড়িতে শয্যাশায়ীভাবে চিকিৎসা চলছিল।

    সংবাদমাধ্যমকে জানাচ্ছেন তার স্ত্রী ডলি চৌধুরী, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ করেই মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক এবং দুজন নার্স কয়েকদিন ধরে তাঁর পরিচর্যা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানান তাঁর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিনয়ের সূচনা। তবে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ ছবিতে শাবানার সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বড়পর্দায় খ্যাতি পান; পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন।

    জাভেদ নৃত্য পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং পরে নায়ক হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দর্শকের হৃদয়ে তিনি ‘ড্যানসিং হিরো’ হিসেবে বিশেষ স্থান করে নেন—সত্তরের ও আশির দশকে তাঁর নাচ-বলো ও অ্যাকশনের মেশানো অনবদ্য ধরনে কোটি দর্শক মুগ্ধ ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পুরো ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

    ইলিয়াস জাভেদের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো: ‘নয়ী জিন্দেগি’, ‘পায়েল’, ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আব্দুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন কঠোর রোগঝঞ্ঝাটের মধ্যে থেকেও তিনি সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন—তার এই অবদান চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।