Category: জাতীয়

  • সরকারের ঘোষণা: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

    সরকারের ঘোষণা: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

    বাংলাদেশ সরকার নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে, যা কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণা বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের শক্তিমত্তা বাড়ানো।

    অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা সুদসহ ঋণ পাওয়া গেছে। এই ঋণের মধ্যে মওকুফের আওতায় আসবে অনেক।

    যদি এই ঋণ মওকুফ করা হয়, তাহলে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাবেন, যা তাদের জন্য একটি নতুন উৎসাহের সৃষ্টি করবে। তারা এই অর্থ দিয়ে উন্নত মানের বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার প্রযুক্তি বা অন্যান্য উন্নত উপকরণে বিনিয়োগ করতে পারেন। এর ফলে তারা পরবর্তী মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন এবং তাদের উৎপাদন বাড়বে।

    এছাড়া, ঋণের বোঝা উঠলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড উন্নত হবে এবং তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় কম সুদে ঋণ পেতে পারবেন। এটি তাদের মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদ থেকে রক্ষা করবে এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, ঋণের এই উদ্যোগের ফলে কৃষকরা শস্য, মাছ ও পশুপালন খাতে বেশি উৎসাহিত হবেন। এর ফলে দেশের মোট কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং প্রয়োজনের তুলনায় আমদানি কমে আসবে। এছাড়াও, এই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, গ্রামাঞ্চলে থেকে শহরের দিকে মানুষজনের চলাচল কমবে, এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতিও হ্রাস পাবে।

    প্রতিষ্ঠানিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ১৯৯১-১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময়ও কৃষিঋণের সুদ-আসল ৫ হাজার টাকার মধ্যে মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের জন্য অনেক সহায়ক হয় এবং কৃষির উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এই পুরানো অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়, বর্তমান উদ্যোগও কৃষকদের জন্য স্বস্তি আনবে এবং দেশের কৃষি উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: বইমেলা হোক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের কেন্দ্র

    প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: বইমেলা হোক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের কেন্দ্র

    অমর একুশে বইমেলাকে শুধু বই কেনাবেচার উৎসব হিসেবে না দেখে, বরং এটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের অন্যতম মূল সূতিকাগার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা ও বিশেষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী মুহূর্তে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বললেন, ‘বই শুধু বিদ্যা ও জ্ঞানের উৎস নয়, এটি অবসরের সঙ্গী ও মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যাংক। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আলজাইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায়।’

    তরুণ প্রজন্মের ইন্টারনেটে আসক্তি এবং বইবিমুখতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটে বই পড়া সম্ভব হলেও কাগজের পাতায় কালো অক্ষরের গভীরতা অনন্য। গবেষকেরা বলছেন, অতি ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আগ্রহ হ্রাস করে দেয়। তাই আমাদের অবশ্যই এমন উপায় খুঁজে বের করতে হবে যাতে তরুণরা বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়।’

    এছাড়া, তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপের তথ্য উল্লেখ করে জানান, ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে বই পড়ার প্রবণতা ৯৭তম। দেশে প্রতি বছর গড়ে মাত্র ৩টি বই পড়ে মানুষ। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য অমর একুশে বইমেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে তিনি আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যত পরিকল্পনা হিসেবে ঘোষণা করেন, আগামী বছরগুলোতে অমর একুশে বইমেলাকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসাবে আয়োজনের প্রস্তাব। এতে বিশ্ব সাহিত্যের পরিচিতি ও ভাষা শেখার সুযোগ বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এছাড়াও, বাংলা ভাষার জন্য জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষার স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জবাবদিহি করা সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বইমেলা যেন শুধু বাংলা একাডেমি বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সারা দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, এ জন্য সরকারের ও প্রকাশকদের অবশ্যই উদ্যোগ নিতে হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বাংলা একাডেমি তরুণ লেখকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে অনুবাদ কার্যক্রম জোরদার করছে। তিনি সবাইকে একটি মানবিক, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দল-মত নির্বিশেষে সহযোগিতা কামনা করেন।

    উপসংহারে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে ধারণ করে সব ধরণের অন্ধকার ও পশ্চাৎপদতা নির্মূলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ২০২৬年的 বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

  • নিয়োগ পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় সব প্রার্থী ফেল

    নিয়োগ পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় সব প্রার্থী ফেল

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। কারণ, লিখিত পরীক্ষার সময় বাংলার জাতীয় সংগীতটি শুদ্ধভাবে লিখতে পারেননি কেউই। এই ফলাফলে সবাই ব্যর্থ হন এবং পাসের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই নিয়োগ পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়নের পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এসব পদে দরখাস্ত করেছিলেন মোট ৩৮ জন প্রার্থী।

    পরীক্ষার শুরুতে প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর, নিয়োগ কমিটির নির্দেশনায় মেধারূপে প্রার্থীদের বাংলা ও সাধারণ জ্ঞানের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই পরিক্ষার অংশ হিসেবে তাদের জন্য ১৫ মিনিটের সময় নির্ধারিত করা হয় যেখানে তারা বাংলায় জাতীয় সংগীতের লেখাটি লিখতে পারতেন। কিন্তু সময়ের মধ্যে কেউই শুদ্ধভাবে তা লিখতে সক্ষম হননি। ফলে, কেউই উত্তীর্ণ ঘোষণা করা যায়নি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এমন ঘটনা এই প্রথম। ঘটনাটি জানতে পেয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। কিছু স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গ্রাম পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, কঠোর মেধা পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের প্রশংসা করেছেন নিয়োগ কমিটির সদস্যরা।

    নিয়োগ বাছাই কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা।

    তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতিযে বলেন, ‘শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে যখন প্রার্থীদের মেধা পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল, তখন খুবই দুঃখজনক ভাবে দেখা যায়, কেউই জাতীয় সংগীতের পাণ্ডিত্য দেখাতে পারেননি। চাকরির জন্য সাধারণ জ্ঞান ও দেশের প্রতি প্রেম থাকা অত্যন্ত জরুরি। এমন অজ্ঞতার বিষয়টি আমাদের সবাইকে হতবাক করে দেয়।’

    উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ না হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগের জন্য নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও কঠোর মানদণ্ডে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার উপায় ভাবা হচ্ছে।

  • রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রীয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, সিভিল পোশাকধারীদের সহায়তায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়ার পরে রাতের মধ্যে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় মরদেহ।

    নিহত ছাত্রীটির নাম মাহমুদা আক্তার জেরিন। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের তৃতীয় বছর শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাসিন্দা।

    বসুন্ধরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, নিহতের রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া গেছে। তদন্তের প্রক্রিয়াতে দেখা গেছে, ওই সময়ে তিনি একাই ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ এখনও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে এটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিক ধারণা করছে।

  • টিউলিপ সিদ্দিকের গ্রেপ্তার ও রেড নোটিশের নির্দেশ

    টিউলিপ সিদ্দিকের গ্রেপ্তার ও রেড নোটিশের নির্দেশ

    ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগে শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দেশীয় আদালতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুলিশের সাহায্য চান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন, যেখানে তিনি ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকে আরও জোরদার করা হলো।

    আদালত সূত্র জানিয়েছে, গুলশান-২ এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং মামলার আলামত নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়ে। সেই জন্যই, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয়া হয়।

    ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।

    এর আগে, ১৮ ফেব্রুয়ারি একই ঘটনায় টিউলিপ সিদ্দিক ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সারদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ ওই মুহূর্তে দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আদালত ৮ মার্চ পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

    মামলার নথি অনুসারে, দুর্নীতি দমন কমিশন ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, মোশাররফ হোসেন ও শাহ মো. খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট দখল করেন এবং সেটি তাদের নিজের নামে নিবন্ধন করেন, যেটির জন্য তারা বিলম্বে বা কোনও অর্থ পরিশোধ করেনি।

    দুদকের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, এই মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় এবং তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এই কারণেই, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত রেহাই পাওয়া যায়।

  • দেশে ফের ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়ালো

    দেশে ফের ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়ালো

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আবারও অনুভূত হয়েছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ঘটনা ঘটে মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়, এবং এতে কোনও জানা ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।

    ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ঝুঁকি কেন্দ্র (ইএমএসসি) এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের আঘাত ছিল রিখটার স্কেলে ৩.৭। এর মূল কেন্দ্র ছিল ভারতের সিকিম অঞ্চল, যেখানে ভূমিকম্পটির পক্ষে অবস্থান ছিল ২৭.২১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮.২১৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার, যা সাধারণত কম গভীরতার ভূমিকম্প হিসাবে গণ্য হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে দেশজুড়ে বিভিন্নস্থানে অনুভূত হয় আরও এক ভূমিকম্প। এই ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.১। এর উৎপত্তি ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলে, যেখানে অবস্থান ছিল ২৩.০৪১১ ডিগ্রি উত্তর ও ৯৪.৭২৬৮ ডিগ্রি পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার। এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রের অবস্থান ছিল মিয়ানমারের মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইক শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এই বিভিন্ন ভূমিকম্পের কারণে মানুষ এর বিশাল প্রভাব অনুভব করেছে এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

  • নির্দোষ মানুষ কখনো হয়রানির শিকার হবে না: চিফ প্রসিকিউটর

    নির্দোষ মানুষ কখনো হয়রানির শিকার হবে না: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আমি কখনো আপস করতে শিখিনি। এজন্য আমি নিশ্চিত যে, আমার মাধ্যমে কোনও নির্দোষ মানুষ বিন্দুমাত্র হয়রানির শিকার হবে না। এটি আমাদের জন্য একেবারেই স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা।

    তিনি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এই আশ্বাস দেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রসিকিউটর দলের ওপর বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ আসছে, তবে আমি যতদিন এই দায়িত্বে থাকব, এসব অভিযোগের কোনও প্রভাব বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে না। আমি কখনো আপস করিনি, এবং আমার মাধ্যমে কোনও নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার হবে না—এটাই আমাদের মূল বার্তা। বিপরীতে, যদি অপরাধী পার পেয়ে যায়, সেটাও আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    আमিনুল ইসলাম আরো বলেন, এখানে বিচারপ্রক্রিয়া থেমে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি আমাদের পারিবারিক পরিবেশের মতো, যেখানে অনেক কিছুই ঘটে। তবে এর মানে এই নয় যে সিদ্ধান্ত বা বিচার বন্ধ থাকবে। আমরা সবাই এখানকার সদস্য, এবং আমরা জানি এই পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে। আমাদের সামনের দিনগুলো নিশ্চয়ই সুস্থ ও স্বাভাবিক হবে।

  • জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক এমপি বদির জামিন অনুমোদন

    জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক এমপি বদির জামিন অনুমোদন

    জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজারের উখিয়া–টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বেঞ্চ তার জন্য জামিনের আদেশ দেন। আদালত শুনানির শেষে নির্দিষ্ট শর্তে তাকে জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন আবদুর রহমান বদি। তার বিরুদ্ধে জুলাই ও আগস্ট মাসের আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের হয়।

    ধর্মপ্রাণজনসহ বিভিন্ন মহলে এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে দেশজুড়ে একাধিক মামলা করা হয়। এসব মামলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ অনেককে আসামি করা হয়। বিশেষ করে আবদুর রহমান বদিকে এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।

    হাইকোর্টের এই জামিনের আদেশের ফলে বর্তমানে কারাগারে থাকা বদির মুক্তিতে আর কোন বাধা রইল না। তবে, মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, আবদুর রহমান বদি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের শুন্যপ্রার্থী হিসেবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে ছিলেন।

  • শফিক রেহমানকে লাল গোলাপ উপহার দিলেন তারেক রহমান

    শফিক রেহমানকে লাল গোলাপ উপহার দিলেন তারেক রহমান

    একুশে পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রতি তারেক রহমানের হাতে একটি লাল গোলাপ তুলে দেন বিশেষ অতিথি ও সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান। এ বিশিষ্ট সাংবাদিকটি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, যেখানে তিনি সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য সন্মাননা পদক গ্রহণ করেছিলেন। পকেট থেকে একটি লাল গোলাপ বের করে তিনি তা প্রধানমন্ত্রীর হাতে উপহার দেন। অনুষ্ঠানে হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিকভাবে তা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শফিক রেহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও সমাজের জন্য কাজ করে যেতে উৎসাহ দেন তিনি। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চমৎকার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ৯ জন গুণী ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক দেওয়া হয়। এদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন ফরিদা আক্তার ববিতা (চলচ্চিত্র), অধ্যাপক আবদুস সাত্তার (চারুকলা), মেরিনা তাবাশ্যুম (স্থাপত্য), আইয়ুব বাচ্চু (সংগীত, মরনোত্তর), ইসলাম উদ্দিন পালাকার (নাট্যকলায়), শফিক রেহমান (সাংবাদিকতা), অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার (শিক্ষা), তেজস হালদার (ভাস্কর্য), অর্থী আহমেদ (নৃত্য) এবং ব্যান্ড ওয়ারফেজ দল একুশে পদক পেয়েছেন সংগীত ক্ষেত্রে। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শফিক রেহমানের উপস্থাপনায় শুরু হয় জনপ্রিয় ও বিনোদনমূলক ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘লাল গোলাপ’, যা তখন ব্যাপক প্রশংসা ও জনপ্রিয়তা লাভ করে।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানে সফর করার আমন্ত্রণ জানালো জাপান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানে সফর করার আমন্ত্রণ জানালো জাপান

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানে সফর করার জন্য জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এই আমন্ত্রণটি পৌঁছে দেন জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দফতরে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপানে আসার আমন্ত্রণ জানান। এই সাক্ষাৎকালে তারা দুজনই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার বিষয়, মেট্রো রেলের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে একে অপরের সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের এই ধরণের উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা ও দেশের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা প্রশংসা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা এমপ্লয়মেন্ট স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য জাপানে কাজের সুযোগ বৃদ্ধি ও ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।

    এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিতের জন্য একটি ‘ডিজিটাল ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম’ নির্মাণের প্রস্তাব দেন, যা জাপানিদের জন্য দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করে তুলবে।

    অতিরিক্তভাবে, এই দিনেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও জাপানের রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের উন্নয়নে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সহ বিভিন্ন বিষয়েও জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা প্রশংসা করেন।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান দ্রুত স্বীকৃতি দেয় এবং দুই দেশের সম্পর্ক দিন দিন জোরদার হচ্ছে। এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সহযোগিতার প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।