Category: জাতীয়

  • ১৫৮ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে স্থানান্তর ও বদলি

    ১৫৮ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে স্থানান্তর ও বদলি

    সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন শক্তিশালী করতে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে, লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপার ও ১৬৬ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায়, একদিনে ১৫৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

    বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এসব কর্মকর্তাদের আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিজের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বিদায় নিতে হবে। যদি কোনো কর্মকর্তার নতুন নিয়োগের জন্য বদলি ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তিনি তার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায়, ওই কর্মকর্তাকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তার পুরনো কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি বদলি হওয়া কর্মকর্তার দফতর বা কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তিত হয়ে থাকে, তবে তিনি নতুন দফতরের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে দাখিল করবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অতি শিগগির কার্যকর হবে।

  • ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার অভিযোগ

    ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার অভিযোগ

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, বুধবার (২৬ নভেম্বর) তারা এ বিষয়ে মামলার নথি দাখিল করেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সম্প্রতি একটি টকশোতে ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে বেশ মানহানিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন। গত ২৩ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি, এই কোর্ট আমি মানি না।’ এরপর তিনি আরো বলেন, ‘সবাই জানে, জানবে না কেন? আমার ইউটিউব শুনুন, আমি এই কোর্ট মানি না। এই কোর্টের বিচার আমি মানি না, ইউটিউবে ও টকশোতে বলেছি। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তখন আমি ক্ষমা চাইবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই কোর্টের গঠনপ্রণালীই বিচার বন্ধ করে দিয়েছে। আমি বা আমার মতো অনেকের ধারণা, এই বিচারব্যবস্থা প্রকৃত বিচার প্রদান করতে অক্ষম।’ প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে, ফজলুর রহমান এসব মন্তব্যের মাধ্যমে আদালতকে অবমাননা করেছেন, যা সংবিধান ও আইনের স্পিরিটের পরিপন্থী। তারা আরও জানিয়েছে, গত শনিবার একটি টকশোতে অংশগ্রহণের সময় তিনি এই ধরনের অসৌজন্য ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন। প্রশিক্ষকরা এই বক্তব্যের পূর্ণ রেকর্ড তারা ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছেন, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৯ মিনিট। আগামী রোববার (৩০ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের স্থান ও কার্যকারিতা নির্ধারণ করা হবে।

  • ৬৪ জেলায় তিন ক্যাটাগরিতে লটারি পদ্ধতিতে এসপি নিয়োগ

    ৬৪ জেলায় তিন ক্যাটাগরিতে লটারি পদ্ধতিতে এসপি নিয়োগ

    দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগের জন্য তিন ক্যাটাগরিতে লটারির মাধ্যমে অফিসারদের নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক এডিপি পর্যালোচনা সভার শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘এসপি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনটি ক্যাটাগরি—এ, বি ও সি—তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে আগে থেকে কর্মরত ১৮জন এসপিকে বদলি করে নতুনদের নিয়োগের পাশাপাশি বাকিদের লটারি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জেলায় পদায়ন করা হয়েছে। এতে কোনো মেধাবী কর্মকর্তা বাদ পড়েনি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বিদ্যমান। সমাজ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে সরকার তা কমানোর জন্য বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে এখনো সংগ্রাম চলছে, তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

    উপদেষ্টা আরও জানান, ‘নির্বাচনী সময়ে ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসির ভূমিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও, এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সবাইকে সামনে এনে লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন করা হবে। নির্বাচনের আগে কর্মকর্তাদের স্থান থেকে সরিয়ে নতুন করে বদলি করার জন্য এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।’

    গত ২৪ নভেম্বর ইয়মুনা বাসভবনে অনুষ্ঠিত লটারি মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৬৪ জেলার এসপিদের চূড়ান্ত তালিকা নিশ্চিত করা হয়। এর আগে, ১৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রে লটারির প্রক্রিয়া চালুর দাবী জানিয়েছিল।

  • আশা জার্মান রাষ্ট্রদূতের: বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে

    আশা জার্মান রাষ্ট্রদূতের: বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে

    জার্মান রাষ্ট্রদূত রুদিগার লজ আশা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক হবে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    রাষ্ট্রদূত রুদিগার লজ বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে বোঝায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এটি দেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    তিনি একই সঙ্গে জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ব্যাপারেও তাদের موقف এক।

    বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্যই এই সংস্কার কর্মসূচিতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা উচিত এবং এটি নির্বাচনের পরেও অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদশে সবচেয়ে বড় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জার্মানি আশা করে, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হবে যার ফলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী ও দৃঢ় হবে।

    এছাড়া, রুদিগার লজ রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

    স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুয়া তথ্য বা ভুল আবেদন। এসব কারণে ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ভিসাপ্রাপ্তির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

  • ৩৩ কর্মকর্তা ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশ পুলিশের

    ৩৩ কর্মকর্তা ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশ পুলিশের

    বাংলাদেশ পুলিশের ৩৩ জন কর্মকর্তা একযোগে উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানানো হয়। এসব প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব মো. মাহাবুবুর রহমান। একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে ৩১ জনের এবং অন্যটিতে দুজনের ডিআইজি পদে পদোন্নতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এক প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক ও সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি হুমায়ুন কবীরকে সুপারনিউমারারি উপপুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অন্য আরেকটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট ৩১ জন কর্মকর্তা ডিআইজি পদে উন্নীত হন। এই আদেশগুলো জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তা কার্যকর হবে আজকের তারিখ থেকে। একই দিনে দেশের সব ৬৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

  • বঙ্গোপসাগরে দ্বৈত লঘুচাপ, শীতের আভাস স্পষ্ট হচ্ছে

    বঙ্গোপসাগরে দ্বৈত লঘুচাপ, শীতের আভাস স্পষ্ট হচ্ছে

    বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে দুটি লঘুচাপ সক্রিয় হয়ে অগ্রসরমান অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে একটি মালাজা প্রণালী এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, আর অন্যটি সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও শ্রীলঙ্কা উপকূলীয় অঞ্চলে। এসব কারণে দেশে এখনো কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা না গেলেও, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাব থাকায় আবহাওয়া এখন শুষ্ক। তবে আগাম কয়েক দিনের মধ্যে রাত ও দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পাঁচ দিনব্যাপী পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব তথ্য জানা গেছে।

    আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানান, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি রাতের মধ্যে নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার পথে, যা আজ (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মালাজা প্রণালী এবং তার মাঝারি এলাকায় (অক্ষাংশ ৫.৫ ডিগ্রী উত্তর, দ্রাঘিমাংশ ৯৯.৬ ডিগ্রী পূর্বে) অবস্থান করছিল। এই লঘুচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর এবং শক্তি যোগ করতে পারে। একই সময়ে, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছাকাছি আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা আবার উত্তর বা উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। এর ফলে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় প্রভাব বিস্তার করছে, যা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক।

    আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, আজ সকাল থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সারাদেশে সম্ভবত আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। এছাড়াও, রাত ও দিনের তাপমাত্রা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে থাকবে। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তেও পারে।

    শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ও শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে একই রকম থাকতে পারে, তবে শনিবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

    রোববার (৩০ নভেম্বর) পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো প্রভাবের কারণে পরবর্তী পাঁচ দিনের রাত ও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • আওয়ামী লীগ করার জন্য যেন বিচার না হয়, এই আশঙ্কায় আমির হোসেনের আবেদন

    আওয়ামী লীগ করার জন্য যেন বিচার না হয়, এই আশঙ্কায় আমির হোসেনের আবেদন

    শুধু আওয়ামী লীগ করার কারণেই যেন যেন কোনও ধরনের বিচার না হয়, এমনই আবেদন করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, যিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে এই আবেদন তোলেন। আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) কুষ্টিয়ায় জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানে ছয়জনকে হত্যা ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানি চলাকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রসিকিউশন পক্ষের সূচনামূলক বক্তব্য শেষে এই আবেদন করেন তিনি। ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মন্তব্য শোনেন। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে বিচারকাজ শুরু হলে প্রথমে হনিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে সূচনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন প্রসিকিউটার মিজানুল ইসলাম, যা মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের উল্লেখ সঙ্গে এ অপরাধের দায় মুক্তির কোনও সুযোগ নেই বলেও মনে করছেন তারা। এই মামলায় চারজনের সবাই পলাতক রয়েছেন, তবে আসামিদের অনুপস্থিতিতেও বিচার চলার আইন প্রণয়ন আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটর। তার এই কথায় ট্রাইব্যুনালও সম্পৃক্ত হন এবং জানানো হয় যে, এই বিচার কোনও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিরীহ মানুষকে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে হত্যা করেন হানিফরা—যার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। সেই সঙ্গে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, ‘আমি প্রসিকিউশন পক্ষের কিছু অংশের সাথে একমত, তবে আমরা (আসামিরা) আওয়ামী লীগ করি। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার জন্য যেন বিচার করা হয় না।’ ট্রাইব্যুনাল এই মন্তব্যের জবাবে বলেন, ‘আমরা এখানে ন্যায়বিচার করতে এসেছি, এর জন্য আল্লাহকে সাক্ষী করে বলছি, কোনো নির্দোষ মানুষ যেন অত্যাচারে বিচার না হয় এবং অভিযুক্তরাও তাঁদের ন্যায়বিচারের অধিকার রাখে।’ এ মামলায় মোট ৩৮ জন সাক্ষী রয়েছে, যার মধ্যে শহীদ পরিবারের ৮ জন, প্রত্যক্ষদর্শী ৮ জন, আহত ৮ জন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ৬ জন, পুলিশ ১ জন, সাংবাদিক ১ জন, জব্দ তালিকা ২টি, বিশেষজ্ঞ ২ জন, তদন্তকারী ২ জন। এই সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানি ৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়। হানিফ ছাড়া অন্য তিন আসামির মধ্যে আছেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতা রহমান। আদালত আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অন্যরা। এর আগে, ২৮ অক্টোবর হানিফসহ পলাতক চার আসামির পক্ষে অভিযোগ দাখিলের সময় অভিযোগের ব্যাপারে আলোচনা হয়। সেই সময়, শুরুতে এই বিষয়ে প্রসিকিউটরদের সমালোচনা করা হয়, এরপর আসামির পক্ষ থেকে তিনটি অভিযোগ তুলে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। এর আগে ২৭ অক্টোবর এই শুনানি সম্পন্ন হয়। ২৩ অক্টোবর পলাতক চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও তাদের হাজির করার নির্দেশনা জারি হয়, তবে তারা আদালতে আসেনি বলে তাদের জন্য নোটিশে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যার ফলে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ শহীদ হন। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এই ঘটনাগুলোর কারণেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

  • প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলার রায় নির্ধারিত ১ ডিসেম্বর

    প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলার রায় নির্ধারিত ১ ডিসেম্বর

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দের আন্দোলনে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১ ডিসেম্বর। মামলার যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকা চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এ তারিখ নির্ধারণ করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের আইনজীবীরা জানান, মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে দেখা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ রেহানাকে। এছাড়া মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তার মেয়েও অন্তর্ভুক্ত, মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার সব যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন হয়।

    সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ করেছেন শেখ হাসিনা। এতে মূল আসামিদের জেল মৃত্যুদণ্ডের শঙ্কাও দেখা যাচ্ছে বলে দুদকের আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন।

    পূর্বাচলে শেখ হাসিনা পরিবারের জন্য প্লট চাওয়ার সময়, শেখ রেহানা নিজের জন্যও প্লটের আবেদন করেছিলেন। পরে, ক্ষমতার দৌরাত্ম্য কাজে লাগিয়ে রাজউককে প্লট বরাদ্দের আদেশ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসিনার অস্বচ্ছভাবে হলফনামা দিয়ে ১০ কাঠা সরকারি জমির মালিক হন রেহানা। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করে।

    আদালতে ৩২ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দির পাশাপাশি, অবৈধ নির্দেশনামা ও ভুয়া হলফনামাসহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করেন দুদকের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ১ ডিসেম্বর দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করার জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

    সাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে আসে, শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দের জন্য সেদের ওপর চাপ দেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। এতে, যদিও তিনি নিজে প্লট পাননি, আদালত এই মামলার মূল আসামি হিসেবে তার নামও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। দুদকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ে হাসিনা-রেহানা ছাড়াও টিউলিপেরও যাবজ্জীবনের শাস্তি হতে পারে।

    অভিযুক্ত একমাত্র গ্রেফতার আসামি হিসেবে রায়ে রাজউকের সাবেক কর্মকর্তা খুরশিদ আলমের আইনজীবীরা বলেন, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে উচ্চতর কর্তব্য পালন করছিলেন।

    অভিযুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিরা হলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াখি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, তদন্তের সঙ্গে যুক্ত দুই আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদও এই মামলার আসামি।

  • রামগঞ্জে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীর হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রেপ্তারী অভিযানে পুলিশ

    রামগঞ্জে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীর হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রেপ্তারী অভিযানে পুলিশ

    লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর ওপর জোড়পূর্বক হামলা চালিয়ে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগমুদ বাজারে। কথাকাটাকাটির জেরে স্থানীয় এক যুবক ওই ব্যবসায়ীককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    নিহত আনোয়ার হোসেন (৫০) ভোলাকোট ইউনিয়নের সাহারপাড়া গ্রামের আলী রেজা বেপারীর ছেলে। অপরাধী ইউছুফ একই গ্রামের মাইঝের বাড়ির এরশাদ মিয়ার ছেলে, যা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে দোকানে বসেছিলেন আনোয়ার। এসময় হঠাৎ ইউছুফ সেখানে এসে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর ইউছুফ তাকে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানেই ধারালো চাকু দিয়ে বুক ও পেটে আঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আনোয়ারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আনোয়ার ও ইউছুফের মধ্যে কী কারণে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    নিহত আনোয়ারের স্ত্রী জান্নাত আক্তার সাথি বলেন, তার স্বামীকে কেন হত্যা করা হলো, সেটার কারণ তিনি জানেন না। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আমির ফয়সাল জানান, নিহতের বুক ও পেটে বেশ কয়েকটি ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটায়।

    রামগঞ্জ থানা ওসি আব্দুল বারী বলেন, কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ইউছুফ নামে একজন আনোয়ার হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থল থেকে সে পালিয়ে গেছে। তার খোঁজে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচন তপশিল ঘোষণা করবে ইসি: সানাউল্লাহ

    ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচন তপশিল ঘোষণা করবে ইসি: সানাউল্লাহ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনের সময়সূচী ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।

    নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য কোনও ধরনের ব্যত্যয় বা অনিয়মের চেষ্টা কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। তিনি আরও জানান, আগামী সংসদ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, এতে ভোটার উপস্থিতি ব্যাপক হবে।

    তিনি নিশ্চিত করে বলেন, কোনও পর্যবেক্ষক বা সংস্থা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করতে পারবে না। পর্যবেক্ষকদের তালিকা দশ দিন আগে, অর্থাৎ তপশিল ঘোষণার দশদিন আগে নির্বাচন কমিশন জমা দেবে। মানহীন বা অভিজ্ঞতা ও সুনির্দিষ্টতা না থাকা পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন মাথায় নেয়ার দরকার নেই। हम শুধু যোগ্য ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের চাই। বিদেশি নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যবেক্ষক হতে পারবে। তাদের আবেদন অবশ্যই দেশের আইন-নীতি অনুযায়ী করতে হবে।

    কমিশনার জানান, নির্বাচনের আগের দিন, দিনকাল ও পরের দিন—এই তিন দিন পর্যবেক্ষকরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, ভুয়া বা অবৈধ পর্যবেক্ষকদের চিহ্নিতকরণ ও নিষিদ্ধ করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্রে যোগ হবে কিউআর কোড (QR Code), যা জালিয়াতি রোধে সহায়ক হবে।