Category: জাতীয়

  • শিক্ষা শুধুই চাকরির জন্য নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার জন্যও: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা নয়, বরং সৃজনশীল, স্বতঃপ্রণোদিত ও উদ্ভাবনী মনোভাবসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা। মানুষ জন্ম থেকেই সৃজনশীল, তবে প্রথাগত শিক্ষাপদ্ধতিগুলি অনেকসময় সেই মনোভাবকে দমন করে শুধু চাকরি পাওয়ার উপায় শেখানোর দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. ইউনূস বলেন, শিক্ষাকে শুধু চাকরি পাওয়ার হাতিয়ার হিসাবে দেখলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হারিয়ে যায়। আসলে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা জাগ্রত করা এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা প্রদান।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরি পাওয়ার প্রার্থী নয়, বরং চাকরি সৃষ্টি করতে সক্ষম একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তা মানসিকতা, কল্পনা ও নতুন কিছু তৈরির সাহস এই গুণগুলো বিকাশের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়া একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন এবং ভুল নীতির কারণে ওই সম্ভাবনাগুলো অনেক সময় কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। শেখার মাধ্যমে এই অঞ্চলের তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজকের খবর / এমকে

  • সেনাবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনা

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে বিএনপি নেতার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি 공식 সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ জানুয়ারি আনুমানিক রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানের সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তিনি তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই ফার্মেসি থেকে একটি ৯ মি. মি. পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটককৃত ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।

    সেনাবাহিনী এই ঘটনার ব্যাপারে গভীর দৃষ্টিতে তদন্ত করছে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, এই কারণে ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী আইনের আওতায় যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই হতদুঃখজনক ঘটনা থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সবকিছুই সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৫৩ জন

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আরও ৫৩ জন তাদের আপিলের মাধ্যমে আবার প্রার্থিতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে মোট ৭০টি আপিলের শুনানি হয়, যার মধ্যে ৫৩টি আপিল মঞ্জুর এবং ১৭টি নামঞ্জুর করা হয়। এভাবেই চার দিনে মোট ২০৪ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেছেন।

    এর আগে, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে মোট ৭১টি আপিল শুনানি হয়। এর মধ্যে ৪১টি আপিল মঞ্জুর হয়, ২৫টি না মঞ্জুর এবং চারটি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এর আগে, রোববার (১১ জানুয়ারি) ৫৮টি আপিলের মধ্যে ৪৫টি আপিল মঞ্জুর হয়, বাকি কিছু আবেদন না-মঞ্জুর বা অপেক্ষমাণ রাখা হয়। প্রথম দিনে, শনিবার (১০ জানুয়ারি), ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫২টি মঞ্জুর এবং ১৫টি বাতিল হয়। এর মধ্যে একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলই মঞ্জুর হয়।

    খেয়াল করতে হবে, ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে, দেশের ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় মোট ২,৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১,৮৪২ জনের মনোনয়ন বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, আবার ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন করা হয়।

    নির্বাচনের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, আপিলের নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারিত ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। এরপর, নির্বাচন প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সন্ধ্যা shalf;ogany তয়া পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

    আজকের খবর/বিএস

  • সুজনের দাবি: নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে ১৫টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব

    সুজনের দাবি: নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে ১৫টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিক সমাজ শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের কথা না বলেই بلکہ রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনের মতে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বিচার, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকা দরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনটি ১৫টি মূল সংস্কার প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক সংলাপে এসব মত প্রকাশ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

    ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বরং, গত ১৫ বছরে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঐতিহাসিকভাবে জনগণের প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের মেরামতের পথ সম্প্রসারিত করবে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে তিনটি মূল উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়— বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করা হয়।

    সংগঠনটি জানায়, এই সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি জনতার দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আত্মোৎসর্গ ও বঞ্চনার পরিপ্রেক্ষিতে এক সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে, রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে এই সনদ ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট ও সক্রিয় অঙ্গীকার রাখতে হবে।

    প্রস্তাবিত ১৫ সংস্কার ও প্রতিশ্রুতি তালিকায় প্রথমে এসেছে এই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা উপযুক্ত স্থানে এর সংযুক্তি। পাশাপাশি, এর বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও আইনি জটিলতা সৃষ্টি না করতে সরকার ও সংসদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। ড. বদিউল আলম বলেন, অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক দমন–পীড়নের সংস্কৃতি রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মানবাধিকারসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের জন্য ইশতেহারে সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।

    সুজন আরও বলেছে, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শক্তিশালী করতেও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

    সংলাপে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, নির্বাহী, সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করা এবং সংসদের কার্যক্রমে কার্যকর নজরদারি হওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

    নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সুজন স্পষ্ট করে বলেছে, সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা বাড়ানো ও সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, নারী নির্যাতন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নারী নেতৃত্বের প্রসার নিশ্চিত করতে হবে।

    এছাড়া, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বলা হয়, যাতে ক্ষমতা ও আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম জোরদার হয়। নিয়মিত স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন, সংবিধান ও দেশের প্রভাবমুক্ত উন্নয়ন কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হয়।

    স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা, মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন পানি ও বায়ু সংরক্ষণ, পাশাপাশি জাতির স্বার্থে পররাষ্ট্রনীতির পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লিখিত হয়েছে। বাংলাদেশকেঅন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্বাভাবিক স্বাভাবিক ও স্বতন্ত্র মানসিকতা বজায় রাখতে চায় সুজন।

    ড. বদিউল আলম বলেন, দেশের রাজনীতি যে অবক্ষয়ের শিকার, তা শুধরে না নেওয়া হলে গণতন্ত্র আরও দুর্বল হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হওয়া রাজনীতি বন্ধ করতে না পারলে নির্বাচনী সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলতেই থাকবে।

    তিনি পরবর্তীতে বলেন, জনগণ এখন আর কেবল আশ্বাসে বিশ্বাস করে না, তারা দেখতে চায় কাদের কত দ্রুত ও কত কার্যকরভাবে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। এই ইশতেহারই আসল স্পষ্টতা দেয়—কারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।

  • মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মোকে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে দেখা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের দিকে গুলি চালানোর ঘটনায় শিশু আহত হয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, বিনা উস্কানিতে গুলি চালানো আইনগত দিক থেকেও অগ্রহণযোগ্য, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি বন্ধে মিয়ানমারকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ এ জন্য মিয়ানমারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় এবং বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ থাকে।

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন যে, তার সরকার এই ধরনের ঘটনাগুলি বন্ধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এরপর তিনি আহত শিশুটি ও তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

  • আমদানি শুল্ক হ্রাসে স্মার্টফোনের দাম হলে কাঙ্ক্ষিত ৬০ শতাংশ কমবে

    আমদানি শুল্ক হ্রাসে স্মার্টফোনের দাম হলে কাঙ্ক্ষিত ৬০ শতাংশ কমবে

    দেশের সাধারণ মানুষের কাছে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এবং ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার এক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে যাতে কাগজের নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনার ব্যয় বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হয়। এই ব্যয় কমানোর জন্য ক্যাশলেস লেনদেনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করেছে। এর মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে এবং নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া হ্যান্ডসেটের ওপর নজরদারি বাড়বে।

    এসব পদক্ষেপ কার্যকর করার জন্য, সরকার মোবাইল ফোনের দাম আরও নাগালে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোবাইল আমদানিতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এর ফলে, পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের আমদানির ওপর শুল্কের হার প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে, বাজারে আমদানিকৃত ও দেশীয় নির্মিত মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কতটুকু দাম কমবে?
    এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, এই শুল্ক কমানোর ফলে ক্রেতারা সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন। ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের আমদানিকৃত মোবাইলের দাম প্রায় ৫৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে, ও বেশিরভাগ দেশীয় মোবাইলের দাম ১৫۰০ টাকা হ্রাস পাবে।

    দেশীয় মোবাইল কোম্পানির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তারা অন্য কোনো প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে। এনবিআরের দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোবাইলের যন্ত্রাংশ বা উপকরণের আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে, স্থানীয় শিল্পের উপকরণ আমদানির ওপর শুল্কের হার প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

    এনবিআর জানিয়েছে, সরকার মূলত চাইছে স্মার্টফোনের দাম সাধারণ নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার। স্মার্টফোনের দাম কমলে আরো বেশি মানুষ ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, এই শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে বলে সরকারের আশা প্রকাশ করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন দাম কার্যকর হলে মোবাইল বিক্রি বাড়বে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন গতি আসবে।

  • মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নারীসহ ৩ যাত্রী নিহত, যানচলাচল বন্ধ

    মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নারীসহ ৩ যাত্রী নিহত, যানচলাচল বন্ধ

    মাদারীপুরে একটি গুরুতর দুর্ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় এক নারীসহ তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণ যান চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি করে।

    ঘটনাটি ঘটে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ইউনিয়নের এলাকায়। হতাহতদের পরিচয় এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই বলছেন বেড়ানোর বা কাজে যেতে থাকা শ্রমিক বা সাধারণ মানুষ।

    মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাটি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটেছে।

    নিহতরা হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ি এলাকার আব্বাস তালুকদারের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৩৫), একই এলাকার জাকির তালুকদারের স্ত্রী তাসলিমা (৪৬), এবং ডাসার উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার রুহুল হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার (২২)। পাশাপাশি, গুরুতর আহত হয়েছেন সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে রনি খান (৩৩), এবং আহতের আরেকজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কাঁচামরিচ এবং অন্যান্য মালপত্র নিয়ে রাজৈরের টেকেরহাট থেকে বরিশালের দিকে যাচ্ছিল একটি কাভার্ডভ্যান। মাঝপথে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় এসে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই দুই ভ্যানযাত্রী নিহত হন, আহত হন আরও তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, এলাকাবাসী টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে, যানবাহনগুলো আটকা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে থানা, ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

    প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর দেড়টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং যানচলাচল পুনরায় শুরু হয়। এই দুর্ঘটনা এখন তদন্তাধীন ও নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য কাজ চলছে।

  • বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যু: সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যু: সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর অমানুষিক নির্যাতনে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য তিনি সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

    মির্জা ফখরুল এক বিবৃতিতে বলেন, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে জীবননগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে ধরে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক অমানুষিক নির্যাতন চালান। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই ধরনের ঘটনায় দেশের জন্য শুভ兆 নয় এবং বিচারবহির্ভূতভাবে একজন নগর নেতা কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা দেশের আইনের প্রতি অবমাননা।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা বিচারবহির্ভূতভাবে সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কোনও অপরাধের জন্য দোষীদের বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় শামসুজ্জামান ডাবলুকে অস্ত্র উদ্ধারের নামে আটক করা ও vervolgens তাকে নির্যাতন করে হত্যা অনভিপ্রেত এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

    ফখরুল অনুরোধ করেন, এই লোমহর্ষক কল্পনাতীত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানান।

  • বনশ্রীর স্কুলছাত্রী ফাতেমাকে প্রেমের জেরে হত্যার রহস্য

    বনশ্রীর স্কুলছাত্রী ফাতেমাকে প্রেমের জেরে হত্যার রহস্য

    রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর দক্ষিণ অংশে অবস্থিত একটি বাসা থেকে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী হিসেবে রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গ্রেফতারের পর সে স্বীকার করেছে যে, ফাতেমার সঙ্গে তার প্রেম ছিল, এবং এই প্রেমের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাদের। সেই দিন ফাতেমার বাবা বাড়িতে থাকছেন না জানলে মিলন বাসায় প্রবেশ করে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ফাতেমা রাজি হয়নি। তার কারণ ছিল, সে জানিয়েছিল, মিলন তার বাবার রেস্তোরাঁর কর্মচারী আর সে মালিকের মেয়ে। সে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে চায়নি। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিলন তার গলাকেটে হত্যা করে। এরপর তিনি পালিয়ে যান।

    পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে মিলন জানায়, হত্যার আগের রাতে ফাতেমা তাকে কথা দেয়, পরিবার গ্রামে গেলে তারা পালিয়ে যাবে। সেই অনুযায়ী, ঐ দিন সে বাসায় হাজির হয়। কালি সে তাকে তার সঙ্গে যেতে বলে, কিন্তু ফাতেমা রাজি হয়নি। তখন সে তাকে কটাক্ষ করে, জানিয়েছিল যে সে মালিকের মেয়ে, আর সে তার সাথে পালিয়ে যাবেনা। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মিলন এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটানো হয়। পরে সে পালিয়ে যান বাগেরহাট জেলার বড় সিংগা এলাকায়। তবে শেষ পর্যন্ত তার রক্ষা হয়নি।

    অভিযোগে বলা হয়, শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীয়ের এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে স্কুলছাত্রী ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই রামপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।

    ফাতেমা আক্তার ছিলেন বনশ্রী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার পরিবারের সাথে থাকতেন সেই বাসায়—মা, বাবা, ভাই ও বোন। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে এলপি গ্যাস আমদানিকারের সুখবর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে এলপি গ্যাস আমদানিকারের সুখবর

    দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরে গৃহস্থালী ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডারে বোতলজাত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় আমদানিকারকদের অনেক সময় লাগবে, কারণ সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বেশ সময় লাগতে পারে।

    এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এলপিজি আমদানিকে এখন শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর অর্থ এই যে, এলপিজি আমদানির জন্য সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ব্যবহারের শর্তে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। এতে করে আমদানিকারকরা দীর্ঘ সময়ের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন।

    আরও বলা হয়, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ট্রেড ক্রেডিট গ্রহণের পাশাপাশি, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রা বিধি ও বিচক্ষণ ঋণনীতির আওতায় বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেডিট সুবিধা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে। একই সঙ্গে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা সম্ভব।

    এর আগে, ২৯ ডিসেম্বর জারি করা এক সার্কুলারে শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে ২৭০ দিনের ইউজান্স পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিকারকরাও এই সুবিধার গ্রহণ করতে পারবেন।

    সংক্রান্ত এই নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব অনুমোদিত ডিলারদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। এতে করে এলপিজি আমদানিতে সহজতা এবং খরচ কমানোর উপায় আরও সুদৃঢ় হবে।