Category: জাতীয়

  • ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা

    “প্রথমেই মাফ চাইছি—প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় আজ উপস্থিত হতে পারেননি, কর্মে ব্যস্ত থাকায় তিনি ৩৩২ নম্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)কে পাঠিয়েছেন। আপনাদের সামনে হাজির আছি আমি। আমি চেষ্টা করব তিনি যা বলতে চেয়েছিলেন সেটা যেন আপনাদের কাছে তুলে ধরতে পারি, আশা করি তিনি সন্তুষ্ট হবেন।” — এভাবে শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে পাঠানো বক্তব্য, রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বিসিএফসিসি) এ আজ বুধবার অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে।

    ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেস্টার নাম প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে তিনি উদ্ভাবনী প্রতিভা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন।

    এই আয়োজনটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এক্সপোটি চার দিনব্যাপী চলবে এবং আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ক্রিয়েট হিয়ার, কানেক্ট এভরিহোয়ার’ শিরোনামে ভবিষ্যৎ কেন্দ্রিক একটি আকর্ষণীয় প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রযুক্তিখাতে উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে আকর্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পরে তিনি প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন—তাতে নতুন আইডিয়া ও সম্ভাবনার আলাপচারিতা দেখতে পাওয়া যায়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভার সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামও এতে বক্তব্য দেন।

    চার দিনব্যাপী এই এক্সপোতে উদ্ভাবনী ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল প্রযুক্তি, ই-স্পোর্টসসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রদর্শনী রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড় ও বিশেষ অফার থাকায় ব্যবসায়িক যোগাযোগ সৃষ্টির সুযোগও পাওয়া যাবে। প্রদর্শনীর সময়ে ডিজিটাল রূপান্তর, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ডিপ-টেক এবং উৎপাদন ও রপ্তানির ভিশন নিয়ে মোট পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    অনলাইনে অথবা স্থলীয়ভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দর্শকদের সুবিধার্থে পুরো ভেন্যুতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবকরা এখানে তাদের প্রযুক্তি ও ধারণা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করবেন—যা এই এক্সপোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম করে তুলেছে।

  • ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু

    ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু

    ঢাকা-করাচি রুটে নন-স্টপ ফ্লাইট আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে। ট্রানজিট না থাকার ফলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে এবং খরচও কমবে—বিমান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার—ঢাকা-করাচি-ঢাকা নন-স্টপ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। প্রায় দেড় দশক পর পাকিস্তানে আবারও যাত্রীবাহী বিমানের অবতরণ ঘটছে, যা দুই দেশের আকাশপথ যোগাযোগে নতুন ধাক্কা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    এই রুটে ব্যবহার হবে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ, যা ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত প্রায় ১,৪৭১ মাইল পথ পাড়ি দেবে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি আসনও বুক হয়ে গেছে।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যাত্রীরা তিন ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ট্রানজিটের ঝামেলা না থাকায় ভ্রমণ আরও সচ্ছন্দ ও নিরাপদ হবে।

    এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো পরিবহনেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করবে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নন-স্টপ সংযোগ দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।

    পটভূমি: নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। ততদিন যাত্রীরা প্রায়ই দুবাই, দোহা বা অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে ভ্রমণ করতেন, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন সরাসরি রুট চালু হলে রাউন্ড ট্রিপে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া হিসেবে ৫১ হাজার টাকার আশেপাশে যাতায়াত সম্ভব হতে পারে।

    যাত্রী ও ব্যবসায়িকরা বিমানের অফিস বা ওয়েবসাইট থেকে শিডিউল, টিকিট এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জেনে নেবেন।

  • অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে

    অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আেগনেস কালামার্ড। এই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছেন।

    চিঠিটি ২৬ জানুয়ারি লেখা হয় এবং এটি সম্পূর্ণরূপে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আওয়ামী রাষ্ট্রক্ষমতা গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে, এই সময়টি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন সরকার গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অত্যাচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস এবং সাংবাদিকসহ নাগরিক সমাজের ওপর নিপীড়নের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়েছে। এসবের মাধ্যমে নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    অ্যামনেস্টি আজকের বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মনে করে, যখন জাতীয় আস্থা পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সংগঠনটি স্বীকৃতি দেয় যে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যেমন গুম থেকে নিরাপত্তা, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সময় লাগবে এবং অর্জিত মানদণ্ড বাস্তবায়নে নানা বাধা রয়ে গেছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন দেশের জন্য একটি বিকল্পের দ্বারপ্রান্ত। এই নির্বাচন দেশের নতুন পথের সূচনা করতে পারে, যেখানে মানুষ এর অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মাননা জানানো হবে এবং তাদের অধিকারের বিকাশ ঘটবে। যদিও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোর অংশ হয়ে থাকলেও, আইনী প্রক্রিয়া ও বাস্তব প্রয়োগে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সংগঠনের স্বাধীনতা রক্ষায় আরও মনোযোগী হতে হবে। এসব অধিকার অযোগ্যভাবে হস্তক্ষেপ বা বিধিনিষেধ আরোপ হলে, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে।

    অ্যামনেস্টি চায়, অন্তর্বর্তী সরকারতাড়াতাড়ি এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে, যেন অনলাইন ও অফলাইন, দুটো ক্ষেত্রেই মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। সংগঠনটি বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা পরিপন্থী নানা আইন অপব্যবহার বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায়। বিভিন্ন আস্ফালন ও হামলার ঘটনা যেমন ২০২৫ সালে ঘটে, সেটিরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি। এতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে অনেক নিরীহ নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

    সুতরাং, এই নির্বাচনের সময়কালে সরকারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুতর। তাদের দায়িত্ব হলো, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা, বিরোধীদলের স্বচ্ছ অবস্থান নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার করা। এই সময়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মান দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করবে। অ্যামনেস্টি মনে করে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উন্নয়নের জন্য এই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, এমন নেতৃত্ব দেখানো যাতে দেশের সবাই স্বাধীনভাবে, নিরাপদে এবং ভয়হীনভাবে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব পালন করতে পারে, এবং দেশের ভবিষ্যৎ গ democrতিতার পথে এগিয়ে যায়।

  • ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল

    ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল

    নির্বাচনকালীন সময়ে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এটি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। এই রিটটি মূলত পরীক্ষার্থীদের পক্ষে দাখিল করা হয়েছে। আসন্ন ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার।

    পিএসসির পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহর—রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—একযোগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষার হল, আসনের ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সময়মতো সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে (www.bpsc.gov.bd ও http://bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর ২৬ নভেম্বর পিএসসির ওয়েবসাইটে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদন শুরু হয় ৪ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। এখন পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও, চলমান সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে এই পরীক্ষাটি স্থগিতের জন্য একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

    যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস বললেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষেরই সমর্থন দেব না। বাংলাদেশের জনগণ যারাই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, আমরাও সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনও পক্ষের পক্ষ নেয় না। এর মূল কর্তৃত্ব এবং সিদ্ধান্তের অধিকার বাংলাদেশের জনগণের, এবং তাদেরই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকেই সমর্থন জানানো হবে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করবে, তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমি এই নির্বাচন নিয়ে খুবই উৎসাহিত। আমি এই উৎসবমুখর নির্বাচনের ফলাফল দেখতে মুখিয়ে আছি।

    তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানতে পারলাম, তিনি আশাবাদী যে নির্বাচনের দিনটি একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর দিন হবে। আমি আশা করি, ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই আলোচনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, সিইসি যে তথ্যগুলো শেয়ার করেছেন, তাতে আমি খুবই খুশি। আমি আশাবাদী, আপনি এবং আপনার সংস্থার মাধ্যমে একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি এবং নিশ্চিত আছি, এই নির্বাচনটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

  • ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে

    ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে

    আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য নতুন Flug চালু হচ্ছে। এই নতুন পরিষেবাটি ট্রানজিটের প্রয়োজন না থাকায় যাত্রীরা সময় এবং টাকা দুটোই বাঁচাতে পারবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, আপাতত সপ্তাহে দুটি দিন এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

    প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর আবারও পাকিস্তানে নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান চালু হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই নন-স্টপ ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকা থেকে করাচি যাত্রা এখনও খুবই সহজ ও দ্রুত হবে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও অনেক বাস্তবমুখী হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

    ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব ১৪৭১ মাইল, যেখানে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার হবে। এই ফ্লাইটটি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার পরিচালিত হবে। প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশ আসন বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমান কর্তৃপক্ষ।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে যাত্রীরা তিন ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ট্রানজিটের জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন, যা ভ্রমণকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।

    এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রুট চালুর ফলে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো পরিবহনেও নতুন দিগন্ত খুলবে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, এই পরিষেবা দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

    উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এতদিন যাত্রীরা দোহা, দুবাই অথবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে আসছিলেন, যা সময় ও খরচ বাড়ায়। এখন থেকে রাউন্ড ট্রিপের খরচ হবে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকা, যা আগে থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এতে করে যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী দামে যাতায়াত করতে পারবেন।

  • আজ কোথায় হবে বৃষ্টি? জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

    আজ কোথায় হবে বৃষ্টি? জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

    মাঘ মাস এখনও বিদায় নেয়নি, তবে এবার শীতের তীব্রতা কমে এসেছে। আজ বুধবার ১৪ জানুয়ারি, আর এই মাসে শীতের স্বাভাবিক কমতি ছিল লক্ষ্যণীয়। সকালে ঠাণ্ডার পর দুপুরের দিকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে আজ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখা গেছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাত দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টায় বলেছে যে, স্বাভাবিকভাবেই দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে আকাশ হালকা থেকে আংশিক মেঘঢাকা থাকতে পারে, তবে রংপুরসহ কিছু কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাত থেকে ভোর সময়ের মধ্যে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে আর দিনের তাপমাত্রা পূর্বের মতই থাকতে পারে।

    আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আসলেও, পরিস্থিতি একই রকম থাকতে পারে। তবে ৩০ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন অংশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধারণা। এরপর ৩১ জানুয়ারি সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমবে। ১ ফেব্রুয়ারির দিকে তাকিয়ে থাকলে দেখা যাবে, সেই দিনেও তাপমাত্রা খুব বেশি পরিবর্তন হবে না।

    অবশেষে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এবং চুয়াডাঙ্গায় — ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ১৫.৮ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ১১.৫ ডিগ্রি, রংপুরে ১৪ ডিগ্রি, ময়মনসিংহে ১৩.৫ ডিগ্রি, সিলেটে ১৪.২ ডিগ্রি, বরিশালে ১২.৬ ডিগ্রি, চট্টগ্রামে ১৫.৯ ডিগ্রি এবং খুলনায় ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ

    টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ওই ইউনিয়নের কেউড়া বাগান।

    আহতরা হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কানজরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সোহেল (১৩) ও মোঃ ওবাইদ উলাহ (১৫)। স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে তারা দুইজন কেউড়া বাগানে লাকড়ি কুড়াতে যায়। এতে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে সেখান থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশে এসে তাদের দাগে।

    বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে নেয়। বর্তমানে দুই কিশোরই ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোহেলের মামা মোঃ ইসমাইল জানান, এক কিশোরের পা ও বুকে এবং আরেকজনের বুকে গুলি লেগেছে; তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকা আতঙ্ক-grস্থ হয়ে পড়েছে।

    ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, সকালে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, তদন্ত চলছে—প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই দুইজন সীমান্তের কাছাকাছি গেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সীমান্তে বিজিবির চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

    এটির আগে গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। এরপরের দিন একই এলাকায় স্থল মাইন বিস্ফোরণে জেলে আবু হানিফের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী বসবাসকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ভয়-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ, মর্টার শেল ও বিস্ফোরণের ঘটনা চলছেই। সরকারি জাঁতা বাহিনী মংডু টাউনশিপের আশপাশে আরাকান আর্মি (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে। আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীও সংঘর্ষে জড়িয়েছে—ফলত: সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে।

  • ভোট উপলক্ষে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: মোটরসাইকেল ৭২ ঘণ্টা বন্ধ, ট্যাক্সি-ট্রাক একদিন নিষিদ্ধ

    ভোট উপলক্ষে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: মোটরসাইকেল ৭২ ঘণ্টা বন্ধ, ট্যাক্সি-ট্রাক একদিন নিষিদ্ধ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, মোটরসাইকেল চলাচল আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।

    আর ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।

    নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে। চিঠি ইসির উপ-সচিব মনির হোসেন সই করেছেন।

    তবে সব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা একইরকমভাবে কঠোর হবে না—কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে শিথিলতা থাকবে। ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে যে নিম্নোক্ত যানবাহন ও কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে বা অনুমতি সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে:

    – আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের যানবাহন।

    – অনুমোদিত পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের পরিবহন।

    – জরুরি সেবা নিয়ে নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রীর পরিবহন।

    – সংবাদপত্রবাহী সকল ধরনের যানবাহন।

    – বিমানবন্দরে যাওয়া বা বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার জন্য আত্মীয়স্বজনসহ যাত্রীবাহী যানবাহন (টিকিট বা প্রযোজ্য প্রমাণ দেখাতে হবে)।

    – প্রতিদ্বন্দ্বী প্রত каждой প্রার্থীর জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি যানবাহন এবং প্রতিটি নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে) জন্য একটি যানবাহন, সব কিছুর জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

    – নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ইসি বা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে চলতে পারবে।

    – টেলিযোগাযোগ সেবা জরুরি সেবার আওতায় গণ্য করা হবে; তাই বিটিআরসি ও বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন চলাচলে ছাড় পাবে।

    – জাতীয় মহাসড়ক, বন্দরসংলগ্ন সড়ক এবং আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রাস্তাগুলোতেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হবে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, এসব ব্যতিক্রম এবং চলাচলের অনুমোদন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ফেরি-অফিসার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের মাধ্যমে কড়াকড়িভাবে পরিচালিত হবে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্নে ও আইনগতভাবে সম্পন্ন করা যায়।

  • কোনো কারাবন্দিকে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    কোনো কারাবন্দিকে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    কারাবন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মৌলিক মানবাধিকারও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে—এটাই জরুরি। এমন আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

    তিনি বলেন, ‘‘আধুনিক বিশ্বে কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরস্পরের পরিপূরক। কারাগারে বন্দিদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে তাদের সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল আইনগত নির্দেশনা নয়—এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার পরিস্ফুটন।’’

    উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘‘এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অপরিসীম। কারাগার হলো স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠান এবং এটি অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন ও সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে যুক্তব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’’

    তিনি বললেন, বৈষম্যহীন, ন্যায্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের সততা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেমের মননে নতুন প্রশিক্ষণার্থীরা এই আদর্শগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই তার আশা প্রকাশ করেন।

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘‘দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি কেবল আর্থিক ক্ষতি করেনা, বরং প্রতিষ্ঠানের ভিত নষ্ট করে এবং জনগণের প্রতি আস্থাকে ধ্বংস করে।’’ তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করে, তাহলে সে শুধু আইন ভাঙে না—সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও আঘাত হানায়। কারার প্রতি সংযুক্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জনকল্যাণকেই সর্বোচ্চ ব্রত ধরে কাজ করবেন।

    অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। সেখানে প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত, ড্রিল ও প্রদর্শনী ক্যাপনেস দেখান।

    ৬৩তম ব্যাচের কৃতিত্ব তালিকায় ড্রিলে প্রথম স্থান অধিকার করেন লিজা খাতুন, পিটিতে (শারীরিক ফিটনেস) প্রথম হয়েছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আন-আর্মড কমব্যাটে প্রথম স্থান পেয়েছেন জুথি পারভীন এবং ফায়ারিংয়ে প্রথম হয়েছেন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ববিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।

    অনুষ্ঠানটি কারা প্রশাসনে মানবিকতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে সামনে রেখে আয়োজিত হয়—যা ভবিষ্যতে কারারক্ষীদের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।