Author: bangladiganta

  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তানি পেসার উসমান শিনওয়ারি

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তানি পেসার উসমান শিনওয়ারি

    পাকিস্তানের প্রখ্যাত পেসার উসমান শিনওয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। দেশটির জার্সিতে তিনি খেলেছেন একটি টেস্ট, ১৭টি ওয়ানডে ও ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তার বয়স এখন ৩১ বছর।

    শিনওয়ারির আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর, যখন তিনি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুবাইয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে প্রথম ম্যাচে তিনি এক ওভারে বল করে উইকেটশূন্য থাকেন। এরপর তিনি আরও তিনটি টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন। ২০১৭ সালে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ওয়ানডে অভিষেক হয়।

    ২০১৯ সালে ডিসেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষের দিকে আসে। মূলত পিঠের চোটের কারণে তার খেলার সময়কাল বেশি লম্বা হয়নি। নিয়মিত চোটের ফলে তিনি দলে নিয়মিত থাকতে পারেননি।

    ওয়ানডেতে তার সেরা পারফরম্যান্স ছিল অভিষেকের দ্বিতীয় ম্যাচে, ২০১৭ সালে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই ম্যাচে তিনি ২১ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নিয়ে ৩৪ রানে পাঁচ উইকেট শিকার করেন। আবার ২০১৯ সালে করাচিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের শেষ ওয়ানডেতেও তিনি পাঁচ উইকেট নেন।

    মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি আলোচনায় আসেন যখন বিভাগীয় টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে নিজেকে প্রমাণ করেন। মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের বিপক্ষে ৩।১ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন। সেই পারফরম্যান্সের পরই তাকে জাতীয় দলে ডাক দেয়া হয়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স আরও দৃঢ় হলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে টিকিয়ে রাখতে পারেননি। এবার তিনি ক্রিকেটের বিশ্ব থেকে অবসর নিচ্ছেন, এই তার কাঁধে সতেজ এক বিদায়ের গল্প।

  • ফাহমিদুল ও মোরসালিনের গোলে বাংলাদেশ জিতল সিঙ্গাপুরকে

    ফাহমিদুল ও মোরসালিনের গোলে বাংলাদেশ জিতল সিঙ্গাপুরকে

    এএফসি অ-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ দলের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখালো। টানা দুই ম্যাচ হেরে মূল পর্বের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার পর, আজ ভিয়েতনামের মুখোমুখি অবশেষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলতে নামে। এ ম্যাচে জয় পেতে হলে অবশ্যই জয়লাভ করতে হবে, আর সেই লক্ষ্যেই প্রথম থেকে উদ্দীপনাপূর্ণ খেলা শুরু করে বাংলাদেশ।

    ৭০ থেকে ৮২ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশের আক্রমণ যেন ঝড় হয়ে আসে, যেখানে তারা একই সময়ে চারটি গোল করে। এই সময়ে অসাধারণ দুটি গোল করেন ইতালির প্রবাসী ফুটবলার ফাহমিদুল। তিনি প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শট নেন এবং সেই বল সরাসরি গড়িয়ে যায় সিঙ্গাপুরের জালটিতে, যা ছিল তার দেশের হয়ে প্রথম গোল।

    তাঁর এই দুর্দান্ত শটের দুই মিনিট পরই বাংলাদেশ দ্বিগুণ করে ব্যবধান। আল আমিনের জন্য লং পাস দেন, যেখানে তিনি দুর্দান্ত কনট্রোল ও ফিনিশিং করে গোল করতে সক্ষম হন। সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক বক্সের বাইরে থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও সেভ করতে পারেননি।

    ৮২ মিনিটে দলের ক্যাপ্টেন শেখ মোর্শালিন আরও এক গোল করেন। লং বল থেকে দুর্দান্ত এক জোড়া শটে কৌশলগতভাবে তিনি ডিফেন্ডারদের সামনে থেকে বল জালায়। এর কিছুক্ষণ পরে, ইনজুরি সময়ে সিঙ্গাপুরের এক গোল শোধ করে। তবে এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুর খুবই শক্তিশালী ছিল। তারা বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেন এবং দলের রুখে দাঁড়ান। যদি না তিনি সেগুলো পারতেন, হয়তো বাংলাদেশ এই ম্যাচে হারত।

    আজকের এই অসাধারণ জয়ে বাংলাদেশ অ-২৩ দল কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। যেমন করে কোচ সাইফুল বারী টিটু হোটেলে ফিরে আসলেও সহকারী কোচ হাসান আল মামুন ডাগ আউটে ছিলেন। প্রথমে ফাহমিদুলকে শুরুতে খেলানো হয়নি, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তাকে নামানোর পরই খেলার চিত্র বদলে যায়। ফাহমিদুল ও আল আমিনের গতি ও স্কিলের উপর ভর করে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের ডিফেন্সকে বিভ্রান্ত করে। বিশেষ করে, ঠিক যখন শেষের দিকে আক্রমণ বাড়ে, তখন ইংল্যান্ড প্রবাসী কিউবা মিচেলকেও খেলানো হয়।

    এএফসি অ-২৩ টুর্নামেন্টের গত দুই বছর বাংলাদেশ কোনও ম্যাচে জয় পায়নি, এমনকি গোলও করতে পারেনি। তবে আজকের এই জয় বেশ খুশির বিষয়, যা অনেক দিন পর আসল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রত্যাশা ছিলো, এবারের সরাসরি মূল পর্বে যেতে পারে দল। এর জন্য তারা বাহরাইনে গিয়ে ২৩ দলের মধ্যে থাকার সুযোগ পায় ও দুটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে, কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে পারফরম্যান্স বেশ খারাপ ছিল। তবে আজকের সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় সেই হতাশা কিছুটাই কমিয়ে দিতে পারে।

    প্রায় চার মাস আগে ঢাকায় অ্যাশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের তৎকালীন সেন্টার দল ২-১ গোলে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরেছিল। সেই পর্বে হামজা-সামিতরা কোচের পরিকল্পনায় সফল না হলেও, আজ অ-২৩ দলের তরুণ ফুটবলাররা মনে করছে যে, এই জয়টিই তাদের নতুন স্বপ্ন দেখানোর সূচনা। ভবিষ্যতের জন্য এই জয় একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে দেশের ফুটবল উন্নয়নের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার আশা জাগে।

  • বিশাল জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু আফগানিস্তানের

    বিশাল জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু আফগানিস্তানের

    ২০২৫ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তান যেন অন্যরকম শক্তি দেখিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হংকংকে বিশাল ৯৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে তারা বড় ধরণের মনোবল যোগায়। আবুধাবিতে শুরুতেই ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান ৬ উইকেটে ১৮৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে হংকং نے পুরো ২০ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ৯৪ রানে থেমে যায়। ১৮৯ রান লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করতে নেমে হংকংয়ের শুরুটা খারাপ হয়। ২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা আর রক্ষা পায়নি। চার ব্যাটারের মধ্যে দুজনই রানআউট হন। অন্যদিকে, বাবর হায়াত ৪৩ বলে ৩৯ এবং অধিনায়ক ইয়াসিম মোর্তজাই ২৬ বলে ১৬ রান করে লড়াই চালিয়ে যান। তবে বাকিরা এ ম্যাচে অসহায়ই থেকে যান। আফগান সাধারণ গুলবাদিন নাইব ৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন, ফজলহক ফারুকি ১৬ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। ইনিংসের শুরুতে অতল আলি শেষ পর্যন্ত এক প্রান্ত ধরে খেলতে থাকেন এবং শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এই তারকার ফিফটির মাধ্যমে আফগানিস্তান ৬ উইকেটে ১৮৮ রান তোলায় সক্ষম হয়। আবুধাবিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় আফগানরা। শুরুতেই অতলের ব্যাটে ভালো সূচনা হলেও, দ্রুতই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। প্রথম ওভারে মেইডেন দেন হংকংয়ের পেসার, এরপরই ভেঙে যায় তাদের ভিত। রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং আতিক ইকবাল দ্রুতই ফিরে যান, ফলে প্রথম পাওয়ার প্লে’তে আফগানরা ২৬ রানে ২ উইকেট হারায়। এরপর অতল আলি এবং মোহাম্মদ নবি ৫১ রানের জুটি গড়ে দলের পরিস্থিতি সামলে নেয়। ১০ ওভারে ৭৭ রান নিয়ে অবস্থান করে আফগানিস্তান। ১১তম ওভারে কিনচিত শাহ প্রথম বলেই নবি ও নাইবকে তুলে নেন। অতল আলি তার ফিফটি ৪১ বলে পূরণ করেন। এরপর বড় ঝড় তোলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই, যিনি মাত্র ২০ বলেই ফিফটি করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আফগান ওপেনার অতল আলি ৫২ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন, যার মধ্যে ৬ চার ও ৩ ছক্কা ছিল। হংকংয়ের কিনচিত শাহ ও আয়ুশ শুক্লা দুজনই দুটি করে উইকেট নেন। এই জয়ে আফগানিস্তান তাদের শক্তি প্রমাণ করে যায় এবং টুর্নামেন্টের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

  • বিশ্বকাপে সব ম্যাচ কাউন্সিলই নারী, বাংলাদেশি জেসি রয়েছেন

    বিশ্বকাপে সব ম্যাচ কাউন্সিলই নারী, বাংলাদেশি জেসি রয়েছেন

    ক্রিকেটের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে আইসিসি। এবারের নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপে সব ম্যাচের অফিসিয়াল দলের সদস্যরা সবাই নারী। বাংলাদেশ থেকে একজন নারী ম্যাচ অফিসিয়ালসের মধ্যে রয়েছেন জেসি নামে পরিচিত সাথিরা জাকির। আইসিসি জানিয়েছে, এই প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নারী দলের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করব তারা।

    অতীতে ২০২২ কমনওয়েলথ গেমস এবং শেষ দু’টি আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নারী অফিসিয়ালরা দায়িত্ব পালন করেছিলেন, কিন্তু এবারই প্রথম একসাথে পুরো টিম হিসেবে নারী অফিসিয়ালরা বিশ্বকাপের সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করবেন।

    বিশ্বকাপের জন্য ১৪ জন আম্পায়ারদের মধ্যে বাংলাদেশি আম্পায়ার হিসেবে রয়েছেন সাথিরা জাকির জেসি। তার সঙ্গে রয়েছেন ক্লেয়ার পোলসাক, জ্যাকুলিন উইলিয়ামস এবং সু রেডফার্ন— যারা তৃতীয়বারের মতো নারী বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া লরেন অ্যাগেনবাগ এবং কিম কটন রয়েছেন তাদের দ্বিতীয়বারের জন্য। গত ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসরে তারা অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম শিরোপা জয়ের সময় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    ম্যাচ রেফারির দলে রয়েছেন ট্রুডি অ্যান্ডারসন, শান্দ্রে ফ্রিটজ, জি.এস. লক্ষ্মী এবং মিশেল পেরেইরা। এঁরা ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া নারী বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন।

    আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেছেন, “সম্পূর্ণ নারী অফিসিয়াল প্যানেল নারী ক্রিকেটের জন্য একটি ঐতিহাসিক মূহূর্ত এবং এটি ভবিষ্যতেও আরও সফলতার পথ দেখাবে। এটি লিঙ্গ সমতা অর্জনের এক বড় পদক্ষেপ।” তিনি আরও বলেছিলেন, “এটি নারী ক্রিকেটের যাত্রায় এক মাইলফলকের মুহূর্ত, যা ক্রিকেটের প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। নারী ম্যাচ অফিসিয়ালসদের অন্তর্ভুক্তি কেবল একটি মাইলফলক নয়, এটি আইসিসির লিঙ্গসমতার প্রতিশ্রুতিরও প্রতিফলন।”

    ম্যাচ অফিসিয়ালসের মধ্যে রয়েছেন:
    – আম্পায়ার: সাথিরা জাকির জেসি, বৃন্দা রাঠি, কান্দেস লা বোর্দে, সুই রেডফার্ন, কেরিন ক্লাস্তে, এলোইস শেরিদান, ক্লেয়ার পোসাক, লরেন অ্যাগেনবাগ, গায়ত্রী ভেনুগোপালান, নারায়ণ জননী, নিমালি পেরেরা, জ্যাকুলিন উইলিয়ামস, কিম কটন ও সারাহ ড্যামনেভানা।
    – ম্যাচ রেফারি: ট্রুডি অ্যান্ডারসন, শান্দ্রে ফ্রিটজ, জি.এস. লক্ষ্মী এবং মিশেল পেরেইরা।

  • ৭ উইকেটে জিতে এশিয়া কাপের সূচনা জানাল বাংলাদেশ

    ৭ উইকেটে জিতে এশিয়া কাপের সূচনা জানাল বাংলাদেশ

    হংকংয়ের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে হারের দুঃস্মৃতি ভুলে এবার পুরোপুরি ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টাইগাররা দুর্দান্ততাকে বজায় রেখেছে এবং বড় ব্যবধানে জয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছে। আবুধাবির আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ছিল ১৪৪ রানের লক্ষ্য। ব্যাট হাতে শুরু করেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন, যিনি প্রথম কিছুটা ঝড় তোলার চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত ১৪ রান করেই আয়ুশ শুকলার শিকার হন। এরপর তানজিদ তামিমকে নিয়ে ইনিংসটি মেরামতের কাজ শুরু করেন লিটন দাস। ১৮ বলে ১৪ রান করে তামিমও ফিরে গেলে চাপ কিছুটা বেড়ে যায়। তবে লিটন ও তাওহীদ হৃদয় পরিস্থিতি সামাল দেন, দুজনের জোড়া জুটিতে দল শতাধিক রান পার করে। অধিনায়ক লিটন ৩৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন, তখন দলের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৪ রান। হৃদয়ও দারুণ সঙ্গে দেন, কিন্তু দলকে জয় নিশ্চিত করার শেষ মুহূর্তে ৫৯ রান করে আউট হন লিটন। দলের জয় তখন বেশ কাছাকাছি, রইলেন ৩৫ রানে অপরাজিত। আগে টসে জিতে বাংলাদেশ শুরু করে বল হাতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। হংকং প্রথমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন নিজাকাত খান। বাংলাদেশ তারকা বোলার তানজিম সাকিব দুটি উইকেট নেন, যেখানে প্রথম উইকেটটি পান তিনি উঠে। এরপরই শুরু হয় হংকংয়ের ঝলক, ওপেনার অংশুমান রাথকে গ্রেফতার করেন তাসকিন আহমেদ। অন্যদিকে, বাবর হায়াতকে ধীরস্থিরভাবে আউট করেন। জিসান আলী ও নিজাকাত খান জুটি গড়লেও এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ইয়াসিম মুরতেরজা আক্রমণাত্মক ইনিংস খেললেও, রান আউট হয়ার পর দল আরও দ্রুত পড়ে যায়। শেষদিকে, রিশাদ হোসেন নিজাকাত খানের উইকেটটি তুলে নেন এবং তাসকিন শেষ ওভারে আইজাজ খানকে আউট করে হংকংয়ের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। আগামী শনিবার বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে।

  • তিন দশকের লুটের বিচার চান নেপালের তরুণরা, নতুন সংবিধান চান তারা

    তিন দশকের লুটের বিচার চান নেপালের তরুণরা, নতুন সংবিধান চান তারা

    নেপালে সহিংস বিক্ষোভের কারণে সরকারের পতনের পর তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ বিশ্লেষণ করছে দেশের ভবিষ্যৎ ও মুক্তির পথ। জেনারেশন জি নামে পরিচিত এই তরুণেরা সরাসরি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, নির্বাহী নেতৃত্বের পরিবর্তন, এবং গত তিন দশক ধরে চলে আসা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লুটের তদন্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছেন।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকারকে সরিয়ে দিয়ে তরুণ আন্দোলনকারীরা ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা শাসনব্যবস্থার সূচনালগ্নে বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানান, সেই সঙ্গে উল্লেখ করেন, গত তিন দশকের অবৈধ সম্পদ লুটের তদন্ত ও অবাধ অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, যেসব ব্যক্তি এই আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হবে। তারা আরও বলেছেন, বেকারত্ব দূর করা, অভিবাসনের হার কমানো, এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ কার্যক্রম চালানো হবে।

    বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এই আন্দোলন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা দলের নয়, বরং পুরো দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রজন্মের জন্য। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন জরুরি, তবে সঠিক পরিবর্তনের জন্য নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ছাড়া কোনও উপায় নেই।” তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনী এই প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে ও দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

    তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো: বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়া, কারণ এটি জনগণের আস্থা হারিয়েছেন; জনগণের, বিশেষজ্ঞ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখন; নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন; এবং সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। জোর দেওয়া হয়েছে, গত তিন দশক ধরে লুট হওয়া সম্পদের তদন্ত এবং অবৈধ আর্থিক সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ করতে হবে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক সংস্কার দাবি করেছেন তারা।

    এদিকে বুধবার ভোর থেকে সেনাবাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে মোতায়েন হয়। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে নানান নির্দেশনা জারি করে। এর আগের দিন সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তবে সরকারের পতনের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে তা জ্বলিয়ে দেয়। সেনাবাহিনী রাতারাতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ও বিভিন্ন শহরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিছু গোষ্ঠী বর্তমান পরিস্থিতির সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে এবং সরকারি সম্পত্তি বিনাশ করছে।

    পূর্বে গত সোমবার ‘জেনারেশন জি’র নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময় অন্তত ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব নিতে গিয়েও আন্দোলনকারীরা সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন। এর ফলেই প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেন এবং বিক্ষোভ শান্ত করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

  • ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহত ৩৫, আহত ১৩১

    ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহত ৩৫, আহত ১৩১

    ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আল-জাওফ প্রদেশে চালানো ইসরায়েলি বিমানহামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩১ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার এ হামলা চালানো হয় বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। এর এক দিন আগে, কাতার রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ভারতীয় হামলা চালায় ইসরায়েল।

    আলজাজিরার খবর অনুযায়ী, ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সানার আল-তাহরির এলাকায় একটি আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আল-জাওফ প্রদেশের রাজধানী আল-হাজমের সরকারি কমপাউন্ডের উপর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভি দাবি করে, এই হামলায় সানার দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি মেডিকেল সেন্টার এবং আল-হাজমের সরকারি কার্যালয় লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

    হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলা প্রতিহত করতে তারা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করেছেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে কিছু ইসরায়েলি বিমান প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তিনি আরো যোগ করেন, কিছু ইসরায়েলি বিমান তাদের অস্ত্র ব্যবহার করার আগেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল নিক্ষেপ করে জায়নবাদী আগ্রাসনের মোকাবিলা করেছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সানা ও আল-জাওফে হুথি গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল হুথিদের সামরিক শিবির, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার।

    প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, রামন বিমানবন্দরে হুথিদের ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতে এই আঘাত চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যারা আমাদের আক্রমণ করবে, তাদের খুঁজে বের করে জবাব দেওয়া হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থি রাজনীতির একজন স্বনামধন্য নেতা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চার্লি কার্ককে এক যুবক প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। এটি ঘটেছে বুধবার উটা ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে, যখন তিনি একটি ভাষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ ওই যুবক তার দিকে গুলিবর্ষণ করে, ঘটনাস্থলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন।

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক ছোট তাঁবুর নিচে বসে আছেন চার্লি। হঠাৎই গুলির বিকট শব্দ হয় এবং তিনি চেয়ার থেকে ছিটকে পড়েন। ঘটনাটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে উপস্থিত দর্শকদের এক বড় অংশ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের সময় চার্লির গলায় গুলি লেগেছে। বিবিসির রিপোর্টে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    অথচ এখনো দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পরে উটার সিনেটর মাইক লি টুইট করে বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। সবাই অনুরোধ, চার্লি কার্ক এবং সেখানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের জন্য দয়া করে প্রার্থনা করুন।” এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    চার্লির মৃত্যু নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লিখেছেন, “কিংবদন্তি চার্লি কার্ক আর নেই। তিনি একজন বিশিষ্ট তরুণ নেতা ছিলেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুবকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। তাঁর অবদান ও অনুভূতি কোনদিন ভুলবার নয়।” তিনি আরো লিখেছেন, “আমার বউ মেলানিয়া এবং আমি তার স্ত্রী এরিকা ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। চার্লি, তোমাকে আমরা ভালোবাসি।”

    চার্লি কার্ক একজন ডানপন্থী নেতাকর্মী এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় এক ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত। একজন স্পষ্ট ভাষার বক্তা হিসেবে তিনি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেন। মূলত, মার্কিন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতেন তিনি। তার ‘Prove Me Wrong’ শোটি আমেরিকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে যে কেউ তার সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে পারেন। তার বিভিন্ন বিতর্কের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

  • ইসরায়েল ৭২ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে

    ইসরায়েল ৭২ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে

    গত ৭২ ঘণ্টায় ইসরায়েল বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ছয়টি দেশে হামলা চালিয়েছে। সবার আগে, মঙ্গলবার দোহার বিমান হামলায় দেশটি এক নজির গড়ে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল দোহায় শান্তিপূর্ণ বৈঠকরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে, যেখানে গাজার অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হায়ার ও তার ডিরেক্টর, তিন দেহরক্ষী এবং কাতারীয় নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। তবে শীর্ষ নেতাদের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের বর্তমান উগ্রবাদী সরকারের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা সীমান্তের বাইরে আরও বিস্তৃত এলাকা লক্ষ্য করে। এই ৭২ ঘণ্টায় কাতারকে ছাড়াও আরো পাঁচটি দেশকে নিশানা করে হামলা করা হয়েছে, কোন এক বছরে এটি সপ্তম দেশ।

    গাজায় চলমান যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যেখানে ৫৪০ জনের ও বেশি আহত হয়েছেন। সোমবারের হামলায় ৬৭ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ত্রাণ সহায়তা নিতে গিয়ে মারা যান বা আহত হন। মঙ্গলবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, যেখানে ৮৩ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। গাজার বিভিন্ন ভবন ধ্বংস ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে অসংখ্য মানুষ আশ্রয় হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। চলমান এই হামলায় এখন পর্যন্ত আট মাসের মধ্যে প্রায় ৬৪,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে অনেকেই উপোস থাকার কারণে মারা গেছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকছে।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, লেবাননে সোমবার হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা একটায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননের পূর্বাঞ্চলে বেকা ও হারমেল জেলায় হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার ও সামরিক স্থাপনাগুলোর উপর আঘাত করেছে। যদিও এই বিষয়ক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং হিজবুল্লাহ এর কোন মন্তব্য করেনি। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে, তবে তারা প্রতিদিন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে এবং সীমান্তের পাঁচটি পোস্ট দখল করে রেখেছে। মঙ্গলবার বিপরীতভাবে, বৈরুতের দক্ষিণে বারজা গ্রামে ইসরায়েল ড্রোন হামলায় হিজবুল্লাহর একজন সদস্য আহত হন।

    সিরিয়ায়ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার গভীর রাতে হোমসের বিমান ঘাঁটি ও লাতাকিয়ার কাছে একটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানা যায়। হামলার পর তাড়াহুড়ো করে জরুরি উদ্ধারকর্ম ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। হতাহত না হলেও, সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। জানাতে গেলে, ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে সিরিয়ায় বহু হামলা চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে দখল করা গোলান মালভূমি থেকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, শুধুমাত্র এ বছর ইসরায়েল সিরিয়ায় প্রায় ১০০ বার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বিমান হামলা ৮৬ বার ও স্থল হামলা ১১ বার। এসব হামলায় অন্তত ১৩৫টি স্থাপনাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে এবং ৬১ জন নিহত হয়েছেন।

    একই সময়ে, তিউনিসিয়ার উপকূলে গাজা ত্রাণবহর লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। সোমবার রাতে তিউনিসিয়ার সিদি বোউ সাইদে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ প্রধান জাহাজ ফ্যামিলি বোটে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা হয়, যার ফলে জাহাজে আগুন লাগে। তবে আশার কথা, এই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যাত্রীরা সবাই নিরাপদে থাকেন। এই বহরের বেশ কয়েকটি জাহাজের মধ্যে এটি অন্যতম বলে জানা যায়। এর আগে ২০১০ সাল থেকেই এই ধরনের তস্য বহর বিভিন্ন সময় গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক জলসীমায় এগুলো আটক বা আক্রমণ করে।

    অবশেষে, প্রথমবারের মতো ইসরায়েল কাতারে আঘাত হেনেছে। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে সংঘটিত এই হামলায় দোহায় ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। ইসরায়েল পরে দাবি করে, তারা ওয়েস্ট বে লাগুন এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে বিদেশি দূতাবাস, স্কুল ও বিভিন্ন আবাসিক ভবন রয়েছে। বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে হামাসের নেতারা কাতারে অবস্থান করছেন, যেখানে বিএইর সেন্টকম নামে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা হামলার স্থান থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে।

    একই সময়ে, বুধবার ইসরায়েল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে ইসরায়েল দাবি করছে। এতে সানার বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে মে মাসে এই বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছিল। ২৮ আগস্টের হামলায় হুতি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও নিহত হন। এসব হামলা ও সংকটের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় অস্থিরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

  • নেপালে বিক্ষোভের কারণে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি ক্ষতি

    নেপালে বিক্ষোভের কারণে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি ক্ষতি

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুইদিনের ব্যাপক গণবিক্ষোভে নেপালজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, এই বিক্ষোভে কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি মূল্যের সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন ভবন ধবংসের পাশাপাশি ঐতিহাসিক দলিলপত্র ও নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম খবরহাব।

    সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সিংহ দরবার, পার্লামেন্ট ভবন ও সুপ্রিম কোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

    নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বলছে, ‘এই স্থাপনাগুলোর বেশিরভাগই সংস্কারের অযোগ্য। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো মেরামত করা সম্ভব হলেও এগুলো পুনর্নির্মাণ করতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন রুপি খরচ হবে। এই হিসেব মাত্র ভবনগুলোর জন্য নির্ধারিত, অন্য আনুষঙ্গিক খরচগুলোও এতে যোগ হয়েছে।’

    নেপালে বিক্ষোভকারীরা শুধু রাজধানী কাঠমান্ডুতে নয়, বিভিন্ন প্রদেশেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। তারা বিধানসভা ভবন, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, কারাগার, পুলিশ স্টেশন, জমির ও রাজস্ব অফিস এবং বিভিন্ন পৌর ওয়ার্ডের সরকারি ভবন পুড়িয়ে দিয়েছেন।

    নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডুতে। তবে পোখারা, ইতাহারি, জনকপুর, ধানগড়ি ও বিরাটনগরসহ অন্যান্য বড় শহরেও সরকারি অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

    তাছাড়া, মঙ্গলবারের গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানই নয়, ব্যক্তিগত সম্পদকেও লক্ষ্যবস্তু করে। তারা রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা, পর্যটন প্রতিষ্ঠান, গাড়ির শোরুম, গণমাধ্যমের অফিসেও আগুন দিয়েছেন।

    গণবিক্ষোভের সময় পুলিশ গুলি চালানোর পর সোমবার ১৯ জন নিহত হয়। এরপর থেকে আন্দোলন আরও সহিংস হয়ে উঠেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনে আগুন দিতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৪ জন, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

    সরকারি অবকাঠামোতে ভাঙচুরের কারণে সরকারি কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ভবন পুড়ে যাওয়ায় এখন অন্যত্র কাজ চালাতে হচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন রুপি বলে জানিয়েছেন সরকার, তবে এটি আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে নিশ্চিত করে নেপালের নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। বরাবরের মতো, এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও দুর্বল করছে।